মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১


মন চায় যখন 

ভিজিয়ে গেছে মন, বর্ষণ মুখর, শেষ রাতের 
সেই দমকা মৃদু সমীরণ, তুলে রেখেছি 
জীবনের কিছু ফেকাসে ঝরা ফুল,
তার শপথের আগুন গেছে 
নিভে, দেহের চত্বরে 
রয়েছে কিছু 
ফোসকা, 
স্মৃতি গুলো ঘর পোষা, সব সময়  চায় গা 
ঘেঁষে যেতে, চেয়ে থাকে বেড়াল চোখে, 
জীবন যায় আলতো হাত বুলিয়ে, 
আশকারা দিয়ে চলেছে চাঁদ 
আকাশগঙ্গার সেই 
আলোকিত 
প্রলোভন,
ফেলে যায় সমানে, জোছনার রহস্যময়ী -
ফাঁদ, হৃদয় নামিয়ে রাখতে চায় ছদ্ম 
আবরণ, ফেলতে ইচ্ছুক  সব 
ভাবনা পুরাতন, সাবলীল 
ভাবে খুঁজতে চায় ভিন্ন 
নদীর কিনারা,
অনন্য 
গভীরতা, ভাসন্ত কোনো অভিনব দ্বীপ,
করতে চায় মন নতুন রহস্য -
উদঘাটন, উড়ে যেতে 
চায় প্রজাপতিদের  
আঁকা পথে, 
দূর 
বহু দূর, বর্ষাবনের পিচ্ছিল পথে, রাস্না
ভরা শামিয়ানায়, হারিয়ে যেতে 
চায় জীবন তার দুই 
অনাহূত চোখের
 প্রণয় 
গন্ধে, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
  PAINTING BY - Julie Gilbert Pollard 


শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১


পুংজাতীয় পুষ্প 

তার স্থিতিমাপে আমার অস্তিত্ব যেন ছিল 
এক দ্যুত খেলা, সে খেলে গেছে 
সহজ ভাবে উঠিয়ে কখনো
সৈকতের ফেনা, আবার 
অনেক সময় ফেলে 
দিয়েছে ভাঙা
শম্বুকের
খোল ভেবে দুঃস্বপ্নের কিছু মর্মস্পর্শী মুহূর্ত,
ওই বিক্ষিপ্ত শ্রাবণের সাঁঝে যখন 
ইন্দ্রধনু মচকিয়ে গেল ভেঙে
রং ছড়িয়ে একাকার,
সেই প্রলোভনীয় 
ক্ষণে, তার
দুর্বোধ্য ভালবাসা করেছে আমায় প্রজ্বলনের 
শিখা, দাহের গভীরতায় খুঁজে পাই 
নি মন নিষ্ক্রমণের পথ, তার 
বহু কুঞ্চিত আবেগের 
গিঁটে ছিল অগ্নি
গহ্বর,
সক্রিয় মায়াবী গ্রন্থী, জীবন্ত আগ্নেয়গিরি,
সেই গহন নিঃশ্বাসে আমি করেছি
আত্মসাত তার প্রগাঢ়
অভিলাষ, বুকের
মাঝে দিয়েছি
আশ্রয়,
হয়ে উঠেছি ক্রমশঃ দ্রবীভূত পূর্ণ পুরুষ,
পাষাণী রুক্ষতা, কালান্তরে হয় 
উঠবে মনে করি এক দিন,
পুংজাতীয় কোনো 
বন্য কুসুম. 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
PAINTING BY EDWARD MUNCH 

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১১

অগ্নিকোণের ভালবাসা

সৃষ্টির সেই খমধ্য বিন্দুর খুব নিকট 
যখন সজল বারিদ যায় ছুঁয়ে 
অন্তর্মন, আমি রাখি 
জ্বলন্ত অধর 
তার 
গলবন্ধ বুকের সন্ধিস্থানে, পরিত্রাণের
আশায়, তাপদগ্ধ ঊষর ভূমি 
ভেসে উঠে বহু লুপ্ত চিড় 
নিয়ে, হটাত 
বসুধার 
দেহে, এমন ক্ষণে মন চায় হয় যেতে 
মুষলধার বৃষ্টি, অবিরাম, 
একরাশ শুধুই ঝরে 
যাওয়া, যেন 
ক্ষিপ্ত 
অভিলাষ, অগ্নিমুখে কৃতিম সরসীর 
সৃজন, আগ্নেয়গিরির অন্তরে 
যাওয়া, ভস্মীকরণের 
আবেশ, সমন্বয়ের 
তীব্র আবেগ, 
হৃদয়ের 
অমত্র্য রূপান্তর, এমন সময় জীবন 
চায় তার অনাবৃত প্রণয়ের 
স্পৃহা, পূর্ণ উজ্জ্বলমুখী 
অর্চির সৌন্দর্য্য,
উন্মুক্ত রুপি 
সমর্পণ,
যেন এক দর্পণের মাঝে অন্য আরশির 
বহুমুখী প্রতিফলন, বিশুদ্ধ মনের 
গন্ধে সিক্ত জীবনের স্বপ্নিল 
পাপড়ি, দেহের গভীরে 
হতে প্রেমের বাহির 
আসা, দিব্য 
আলোর 
উদ্ভাসন - - - 

--- শান্তনু সান্যাল
 

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১


আলোর আড়ালে 

আলোর উত্সবে, মনে পড়ে
আঁধারের কিছু চেনা 
মুখ, চেয়ে আছে 
যেন আজ ও 
ঝিলমিল আকাশপানে, 
ফুলঝুরির ছুটন্ত 
ঝিকিমিকির মাঝে কিছু 
জোনাকির কোমল
পালক, লুটিয়ে আছে পথের 
দুই ধারে, আতশবাজির 
জ্বলিত অগ্নিশিখার 
তাপে ঝরে চলেছে অর্ধ 
উন্মেষিত কুঁড়ির বহু গুচ্ছ,
নেকড়া সংগ্রহকারী 
যেন আমার মন খুঁজে কিছু 
অবিস্ফোরিত স্বপ্ন,
অলিন্দের আকাশদীপ যদি 
দিত, কিছু আলেয়া 
পথের শিশু যেন ভাবনা,
একদৃষ্ট চেয়ে রয়েছে 
উচ্চ তোরণের মণি মালা,
ভেঙে ছড়িয়ে যেত 
অপ্রত্যাশিত রূপে নিজের 
ভাগের কিছু আলোক 
বিন্দু, কিছু খুশির মুহূর্ত.

-- শান্তনু সান্যাল



  

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১১

গোঙানির রহস্য

সেই শ্রাবণের কোন এক রাত্রি, সাবেকী
আমলের ওই বাড়ির কাছাকাছি,
উত্তর কলকাতার সেই ঘিঞ্জি
গলির মোড়ে, সত্যি সে
দাড়িয়ে ছিল, তখন
বৃষ্টি গেছে অল্প
বিরতির
জন্য,
আটপৌরে ভাষায়, পরিষ্কার ভাবে সে -
তার মনের গ্রন্থী খুলে বললে," তুমি
জানো প্রেম কি হয় " না, এস
ভিতরে এস, ভেজানো
দরজা ঠেলে, কম
ভোল্টেজের
বাল্ব
জ্বালিয়ে, ওই ধোঁয়াটে ঘরে, ভাঙা চেয়ার
টেনে সে বসতে বলল, পাসের রুমে
গোঙানির শব্দ ক্রমশঃ মুখর,
আমি থ হয়ে চেয়ে রয়েছি
বর্ণহীন দেয়ালের
অপূর্ণ ছবি
হয় ত
শিল্পী আনমনা ভাবে বাদ দিয়েছে, যেমন -
অনেক সময় শ্বেত কুষ্ঠ লুকোবার
জন্য ব্যথিত মন, সম্পূর্ণ
দেহের ত্বক পুড়িয়ে
দিতে চায়, সে
সাদা হোক
কিংবা
ছাই রং,আরশির গায়ে এক রঙিয় প্রতিবিম্ব
ভালো লাগে, গোঙানির তরঙ্গ উচ্চতর,
তার ভাবশুন্য আঁখির কোণে
কিসের ঝিলিক, বুঝে
উঠতে গিয়ে
দেখি,
রাত গড়িয়ে গেছে বহু দূরে, তাহলে উঠি -
ওই গোঙানির শব্দ এখন ভাটার
দেশে, খুঁজে হয় ত স্বপ্নের
ভাঙা ঝিনুক, শামুক
তার উদাস মুখে
এখন প্রেমের
ছায়া
কি না,জানি না, কিন্তু তার নিঃশব্দ চোখের 
কবিতা স্পষ্ট ভাবে বলে গেছে দীর্ঘ
কাহিনী, প্রেম ও মৃত্যুর মাঝের
সেই খালে সাঁকো হবার
প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে
এসেছি বহুবার
একাকী.


-- শান্তনু সান্যাল 


সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১১


নীল শুন্যের আবেগ 

ওই উন্মত্ত পথের অন্ত ছিল না, ঘুরে চলেছে 
তন্তুময় জালে, বহুবিধ ভাঁজে, অনেক 
বিন্দুর নিজস্ব যেন রয়েছে অখণ্ড 
গ্রহ , উপগ্রহ  -এক প্রবাল 
প্রাচীরের বৃহৎ জমি , 
ওই চোখের 
তোরণ 
খুলে না বারংবার ,জীবনে এক  বা দুই বার, 
আবেগময় তরঙ্গ খুবই উপাদেয় , উঁচু 
নিচু লেখ যেন প্রাণ ভরা 
রজনীগন্ধা র বিক্ষিপ্ত 
সুবাস, জঙ্গলময় 
বুকের ভূদৃশ্য
 এবং
 জোছনাময় অধর ,রাত তখন  বিগলিত 
রুপালি বন্যা, দেহ ও আত্মার দিব্য
 মিশ্রণ, চরম আসক্তির সেই 
ক্ষিতিজ রেখায়, পরিপূর্ণ 
 নৈবদ্য , উন্মুক্ত 
সমর্পণ,
 নিশীথ বৃষ্টি ভরে চলেছে প্রণয়ের উপত্যকা, 
নবজাতক  ব্রততী  যেন  খুঁজে চলেছে 
কামনার উত্স, সৃজনের গর্ভ 
দ্বার, নিঃশ্বাস লযবদ্ধ 
ধরে রাখতে চায় 
পরমানন্দ,
বৃষ্টির 
উন্মান্দ তুঙ্গে , রাত্রি অশেষ , রাতজাগা 
আকাশগঙ্গা ঝিমিয়ে চলেছে নীল শুন্যে - 

-- শান্তনু সান্যাল  
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

Merging Souls | Paintings by Rika Turel

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

অপর পার্শ্বের গন্তব্যস্থান

বিঁধিয়ে গেছে অন্তরতর তার ওই ভাবে 
উজাড় করে চাওয়া, চোখের তীরে 
দেখেছি যেন উঠে আসছে  
ডুবন্ত ময়ুরপঙ্খী 
নৌকা, 
অমন
তাকানির অর্থ, প্রাণপণে খুঁজেছি গ্রন্থের 
পাতায় পাতায়, হিসাবনিকাশের  
খাতায়, বন্ধ দেউলের দ্বারে 
উন্মুক্ত মনের জানালায়,
তার মুক কৌতুহলে 
ছিল জীবনের 
 সারাংশ,
সে যেন স্পষ্ট জানিয়ে গেছে সিঁড়ি ছাড়াও 
উপরে ওঠা যায়, স্বপ্ন ছোঁয়া যায়,
সুরুভিত বিহানের নাই কোন 
জাতি বিচার, সে ছড়ায় 
আলোর ঝরনা, 
সিক্ত করে 
মনের অন্ধকার, সেই আলোকিত আদ্রতায় 
দেখেছি তার অলৌকিক ইচ্ছাশক্তি 
প্রেরিত করে যায় অন্তর্মনের 
গভীরতা -ভীষণ ভাবে, 
উচ্চ তরঙ্গে যেন
ভিড়িয়ে 
চলেছে সে জীবনের উড়ন্ত পাল নৌকা -

-- শান্তনু সান্যাল