মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১২

তার আসার আগে

অধরা তার দেশান্তরী অপগমন, চোখের কোণে
রেখে  যায় মেঘের মিহি বিন্দু, হাসির 
ধুম্র ছড়িয়ে আকাশ পথে, মুহুর্তে 
একাকার যেন সুনীল 
শুন্যে, তার 
আসার 
আগে দোলায়মান জীবনের বাঁধা – ধরা, ওই 
মিলনের ক্ষণে কি যে হয় জানে না মন,
থেমে রয় অন্তরিক্ষের সমস্ত
জ্যোতির্ময়  পিণ্ড, যেন 
ছুঁয়ে গেছে কার 
মোহিনী 
হাত, স্তম্ভিত সৃষ্টির তত্ববিদ্যা, অবাক নিসর্গ,
সেই সময়ে জীবন খুঁজে পায়  নিরাপদ 
আশ্রয় স্থল, হারানো উচ্ছ্বাস, 
স্বপ্নের বাস্তববাদ, 
দীর্ঘস্থায়ী 
ব্যথার উদ্ধার, ধরে রাখতে চায় বুকে তার 
উন্মুক্ত ভালবাসা, সংখ্যাত মুহূর্ত -
ভরে যায় ব্যক্তিত্বে অভিনব 
পুনর্জাগরণের মন্ত্র,
দূর ঝিলের 
তীরে 
অনাম পাখির ঝাঁক ডুব দিয়ে ঝাঁকিয়ে চলেছে 
ভিজা পালক, সূর্যের গায়ে ভেসে 
যেতে চায় পাতলা সাদা 
মেঘের স্তর, 
তার আসার বেলায় যেন অসময়ের বৃষ্টি না 
ঝরে, বসে বসে একাকী ভেবে যায় 
হৃদয় - - - 

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 
source : man in a tweed suit was waiting for her.poi d’improvviso venivo dal

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২


মাঝির প্রত্যাশা 

অনিঃশেষ বাহ্য অন্ধকার, দমকা বাতাস 
অন্তঃকরণে জ্বলে তবু ও অজ্ঞাত 
উদ্ভাস, ওই তীরে যেখানে 
সরিয়ে গেছ নৌকা 
ধরার হাত, 
অদৃশ্য 
মাঝি অপ্রত্যাশিত ভাবে জড়িয়ে ধরেছে 
কম্পির কাঁধ, টেনে বুকে দেখিয়ে 
গেছে এঁদো গলির সন্ধান, 
ওই ফিনিক আলোয় 
খুঁজে পেয়েছি 
আত্ম 
বোধ, ভুলে গেছি মনের প্রতিশোধ !
তোমার নৌকা বয়ে চলেছে 
মন্থর বেগে দূর দেশ, 
ব্যথিত হৃদয়ের 
নিয়ে সঙ্গে 
মঙ্গল কামনা অশেষ, জীবনের যাত্রা 
অন্তহীন, একাকী পাড়ি দেওয়া 
ছাড়া কি আছে উপায়,  
নিয়তির খাতায়
হয় ত ছিল 
সীমিত 
পৃষ্ঠ, তাই ভুলে গেছে বিধাতা লিখতে কিছু 
অতিরিক্ত বরদান, এখানেই ভেসে 
উঠে ডুবন্ত তারকের কিছু 
স্বরচিত নীল আলো, 
সুপ্ত বিবেক 
জেগে 
উঠে হঠাৎ, এই জাগরণে জীবন বেয়ে যায় 
ভাঙা তরী, উজান যেন এগিয়ে 
নিজেই আসে কাছে, ঝরে 
যায় আকাশ হতে 
দিব্য জোছনা, 
ফিরে 
আসে হারানো  অনুরণন তোমার প্রেমের 
হাত ধরে, ভরে যায় জীবনে পুষ্পিত 
নিঃশ্বাস, ক্ষিপ্ত  নদীর  দেউ 
থেমে রয় কিছু ক্ষণ, 
তটের মাটি 
জড়িয়ে 
রাখে স্বপ্নের শিকড় জোরে, আকাশে হালকা 
হয় উঠেছে মেঘের যবনিকা - - 

- শান্তনু সান্যাল
Panting by Anita Stanhope 


ঠিক ভোরের আগে 

কত ক্ষণ এই ভাবে নিঃসঙ্গ বসে রবে বালির স্তূপে,
আঁধার ঘনিয়ে আসবে যখন, ছায়া ও যাবে 
দূর সরে, স্বপ্ন কভু মরে না, তাই বলি 
এই একাকী ক্রন্দনের সাক্ষী 
যারা, ঠিক ভোরের 
আবছা
আলোর সঙ্গে কেটে পড়বে, ওই গোঙানির ব্যথা 
বুঝবে না কেউ, কিংবা বুঝতে চাইবে 
না, সুদুর রাস্তার বাঁকে এখনো 
সেই ভাঙা মাইল স্টোন
জেগে আছে, নিয়ে 
বুকে কিছু 
অপ্রত্যাশিত আলোর কণিকা, জীবনের কিছু 
মার্গ নির্দেশ, ওই ঢালের গায়ে নিজেকে 
ভাসানো মন্দ নয়, তার পরে 
নিয়তির হাতে সময় -
চক্র, ঘুরুক 
বা থেমে 
যাক, উপত্যকার সর্পিল পথে ঝুলন্ত ফলকে 
জানি লেখা আছে পূর্ণ মন্থর বেগ, 
এক দিকে অরণ্য ঘাট অন্য 
পাশে গহ্বর, তাই বলে 
যাত্রা কি বাতিল, 
এখানেই 
অদৃশ্য প্রেমিক ফটকা খেলা চায় দেখতে, জীত 
হারের বাহিরের অনুভূতি, মৃত্যু কে 
বলে এখন সময় আছে, গুটাব 
না আকাশের শামিয়ানা,
ঝরুক নিহারিকা 
কিছু অন্তর্মনে, 
এখনো 
রাত বাকি অনেকটা, সকালের আগে দেখতে 
চায় মন  ভাঙা স্বপ্নের পুনর্জীবন, ওই 
নির্জন স্তূপে জোনাকির মেলা, 
কাঁকুরে পথে কিছু ঝরা 
নিশি পুষ্প, সিক্ত 
চোখের তলে 
লাজুক 
আঙ্গুলের ছাপ, বুকের বিস্তৃত অঞ্চলে নীল আলোর 
তরঙ্গ, এক রাশ ভালবাসা  - - 

- শান্তনু সান্যাল

art creation by George Grie

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১২


নিরবতার চুক্তি 

কলরবের মাঝে খুঁজে পেয়ে  ছিলাম তার আর্তনাদ 
তাই খরতার আন্দাজ করতে পারি নি, বুকে 
টানি নি, শুধুই বিষন্ন তারের মত চুলে 
হাত বুলিয়ে বলেছিলাম - আমি
তো আছি, চিন্তা কিসের, 
জীবন তখন এক 
হারানো 
শিশু, সরল মনে ধরে ছিল  মধ্যমাঙ্গুলি, হয় ত 
বুঝতে পারি নি কত মুশকিল ধোঁয়া 
ভরা পথে হাঁটা, ওই বোতাম 
ভাঙ্গা শার্ট টেনে সে 
দুই ভাঙা
দাঁতের মাঝে হেসে ছিল মিষ্টি হাসি, দুই ছোট্ট
চোখে দেখি জোনাকির ঝিলিক, 
উড়তে চেয়ে ছিল সে 
তখন, আমার 
অস্তিত্ব 
ডিঙিয়ে বহুদূর, যেন গাঙ চিলের ডিগবাজি 
হাতছানি দিয়ে ছিল তাকে, কিন্তু 
সে কোনো দিনই হাত 
ছাড়িয়ে যেতে 
পারি নি, 
সরে যাওয়া কি এতই সহজ, সে আজ ও করে 
ছটপট, ধরতে চায় প্রজাপতির রং,
ছুঁতে চায় স্বপ্নের গন্ধ, বায়ুর 
রূপ, জলের অণিমা, 
জানতে চায় 
ফোঁকলা মুখের দুগ্ধদাত্রী গন্ধের ভবিষ্যত,জানি 
না কে যেন অদৃশ্য হাতে মনের আঁচলে 
বেঁধে রাখে দিবা নিশি, সে যেন 
চেয়ে ও হতে পারে না 
গৌতম, সে জানে 
তার সঙ্গে 
জড়িত আছে কোলাহলের নিরব থাকার চুক্তি, 

-- শান্তনু সান্যাল
lonely_boy -painting by  Juan Lopetegui


  

কিছুই ব্যতিক্রমী নয় 

প্রত্যাশা বিহীন ভালবাসার কাহিনী সে শুরুতেই 
বাতিল করে দিয়েছে, যেন ভুল ঠিকানার 
চিঠি ফিরে এসেছে আবার মূল 
বিন্দুর কাছে, লাল রঙ্গে 
বক্ররেখা টি  
বুঝিয়ে
দিয়েছে পরিষ্কারভাবে ওই অমুক দুর্লভ বস্তুর 
অস্তিত্ব নাই, কল্পনা, সম্ভাবনার  জায়গা 
শুধুই স্বপ্নের মাঝে, দুই জৈবিক 
রসায়নের সম্মিলনে 
কবিতা কি 
জন্মায়, 
ওই যুক্তির আগে বলার কিছু ছিল না সুতরাং 
বাস্তবিকতা কে গ্রহণ করে গেছে মন,
তার প্রয়োজনের ফর্দে যুক্ত করে 
এসেছে, প্রেমের স্থানে দেহের 
নামকরণ, হয় ত পরে 
সময় অন্তরে 
যখন 
ওই লেখাটি হয় উঠবে ফেকাশে, চুপটি করে 
লিখে দেবে শাশ্বত প্রেমের নিখুঁত  বানান, 
কৃষ্ণচুড়ার  ফুল  ভরলো শাখার  প্রতি 
বৃন্তে, পাতার মাঝে যেন অগ্নি -
শিখার মধুরিম দহন, 
সাময়িক প্রজ্বলন
মৌসুমী 
মেজাজের সঙ্গে কবে যে গেছে নিভে কেউ টের
পাই নি, যখন  ঝরে গেছে সমস্ত ফুল ও 
মিহি পাতার শামিয়ানা, দেহের 
বানান হয় উঠেছে  পল্লব 
বিহীন বৃক্ষ, হাড়
মাংসের এক 
স্থুল 
ফলক, কুত্সিত  ঝুলন্ত  চামড়ার  মানবীয় গঠন,
যেন ঝুলে রয়েছে, শুধু শুকনো শিমের
সহস্ত্র  গুচ্ছ সারা অঙ্গ জুড়িয়ে, 

- শান্তনু সান্যাল
broken glass - sherry c. nelson





শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১২


বন্য আবেগ

কে জানে কোথায়, কোন প্রান্তে উড়িয়ে নিয়ে যাবে 
বাসন্তী সমীরণ, জীবনের  ঝামর পৃষ্ঠ গুলো 
ঝরে  চলেছে একে -একে, কার 
ছোঁয়া আবেগের পাতায়,
সবুজ  বোঁটা এখনো 
রয়েছে দাপটে 
ধরে শ্বাস তন্তু, জানি না কার অনুরাগে  ঘিরে 
থাকে  উদ্ভট সুরুভি, যদ্যপি কবে যে 
ঝরে গেছে  বীথির নিশিগন্ধা, 
কে গেছে ভরে ভাবনার 
মঞ্জরি, ঝঞ্জার 
আঘাতে ও 
যেন স্বপ্নের আকাশ ঝলমলিয়ে রয় নয়নে, ঝরে 
নীল আলোর সুধা সারা রাত, ঘুরু ঘুরু 
করে ঘুমের মেঘ উড়ে যায় বুক 
হতে অধর পার, থেমে
রয় চোখের ওই 
পান্থশালায়, 
কার পলাশরঙ্গী ভালবাসা রাঙিয়ে যায় দেহ প্রাণ.

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Carea arborea 

শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২


পুষ্পদানির সাধ 

শেয়াকুল, আকন্দ, গুয়েতুলসীর সেই ঝোপঝাড়
পেরিয়ে, স্বর্ণলতার শ্বাসরোধী জাল সরিয়ে 
এক দিন পৌঁছিয়ে ছিলাম তার অনেক 
কাছে, অলৌকিক কিছু পাওয়ার 
সন্ধানে, আদিগন্ত শুন্যতা 
নিয়ে যখন ফিরলাম, 
জীবন দাঁড়িয়ে 
আছে 
তখন দেখি অনন্য ভাবমূর্তি নিয়ে দ্বারে, সে 
হাসছে কি কাঁদছে ধরা মুশকিল, ঘালময়  
দেহের উপরে, সময়ের  অদৃশ্য হাত 
বুলিয়ে গেছে হয় ত, ক্রমশঃ 
ভরে  উঠেছে  সুক্ষ্ম  
কুহর, প্রেমের 
সেই 
অনুভূতি কিন্তু পুরতে পারি নি হৃদয়ের সরু 
ফাটল, যেন কাচের আধ ভাঙা 
নান্দনিক পুষ্পদানি আজ ও 
চেয়ে থাকে জানালার 
বাহিরে নিয়ে 
বুকে 
বিচিত্র সাধ, কিছু সদ্য কুসুমিত লাল গোলাপ, 
কিছু সংগ্রহিত শিশির বিন্দু পল্লব প্রান্তে,
কাচা হলুদরঙ্গী সকালের লাজুক 
আলো, কাঁধের উপরে কিছু 
অন্তরঙ্গী হাতের 
স্পর্শ, 
সূর্যের অলস বেগে আকাশের পথে যাওয়া - - - 

- শান্তনু সান্যাল 
Painting by Thomas Kinkade