রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২


জীবনের লয়ে 

কতটুকু যে পরিচয়, আর জীবন মরণের 
জামিন, গড়ে চলেছ নিজের মনে 
অনন্ত কালের  সহাবস্থান, 
জানি না কত দূরের 
অনুযায়ী তুমি!
ফিরে 
চেয়েছি যখন ও দেখি  সাঁঝের বুকে আছো
একাকী দাঁড়ায়ে, ডুবন্ত সূর্যের  দিকে
 চেয়ে রয়েছো এক লয়ে, 
জানি না  কীসের 
অভিলাষ, 
মৌন ব্যথা বুকে লয়ে ফিরে ফিরে আসো,
ঠিক আঁধারের পিছনে, গঙ্গার 
তীর হতে জনারন্যে, 
উঠছো মন্থর 
পায়ে 
মধ্যযুগীন শিলালেখা ডিঙিয়ে  সমাধি স্তম্ভে,
থেমে রয়েছো কিছু ক্ষণ দুয়ারের 
মুখে, যেন হারিয়ে এসেছো
সিম সিম খুলে যার 
মন্ত্র কিংবা
অন্ধকার বাদ দিয়ে ঢুকতে চাও স্বপ্নের ঘরে,  
তোমায় দেখে মনে মায়া জড়ায় 
অদ্ভুত ভাবে, অনিচ্ছায় 
ভালোবেসে যাই 
হে জীবন 
তোমায়, তাছাড়া বিকল্প নাই, তাই খুলে 
রাখি বিষন্নতার আবরণ, জীর্ণ 
আলনা, ভাঙা আয়না 
চেয়ে রয়ে নির্লজ্জ 
ভাবে,
নির্বস্ত্র জীবনের বিচ্ছিন্ন হাত পা, হৃত্পিণ্ড 
ভাবনার গোঙানি, নিঃশ্বাসের
বিগলন, নিরুপায় 
কিন্তু আবার 
জুড়তে 
বসি সারা রাত, একের পরে এক স্বপ্নের 
ক্ষত বিক্ষত টুকরো, চেয়ে থাকি 
দিগন্তের উদ্ভাসিত 
সরু রেখা.

- শান্তনু সান্যাল 
painting by Stephen Heigh - alone 




প্রতিবিম্বিত  মনের  অর্ঘ্য 

জানতাম  তুমি আবার ফিরে আসবে ভরে
আঁচলে সদ্য ঝরা  ফুলের  বাহার, 
হয় ত  গাঁথবে সিক্ত  মনের 
বরণ  মালা, আঁকবে 
উঠোনের  গায়ে
প্রথম বৃষ্টির  আল্পনা, তাই দেখি হৃদয়ের 
দেউলে ভেসে চলেছে  দিব্য  সুবাস, 
স্বপ্রকাশিত যেন  জীবনের 
গহিন  তমসা, অনাম
স্বরে  তরঙ্গিত 
ভৈরব  রাগের আলাপ, সূর্যের  আহ্বান, উঠে 
চলেছে নদীর বুকে  বাষ্পিত  নিঃশ্বাস, 
নৌকার  নিঃস্তব্ধ  দোলন, ঝরে 
চলেছে  আঙ্গুলের  ফাঁক 
হতে  জলের  অর্ঘ্য, 
বিন্দু বিন্দু প্রতিফলিত  প্রণয়ের  অবদান.

- শান্তনু সান্যাল  
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Mallikarjuna Temple

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২


পুনরায় চাই  - - - 

সাত সকালে রেখে গেছে কে যেন, প্রবাসী 
কোকিলের কুহুক, অনাম বন্য 
কুসুমের গন্ধ, কিছু নীল 
আলোর দপদপানি, 
অজ্ঞাত 
মধুর শিহরণ, বিলিয়ে গেছে আঁটা দরজা 
হতে এক চিরকুট, প্রতিশ্রুতির 
অভিজ্ঞান, খুলে চলেছে 
হৃদয় 
প্রণয়ের পাট করা অমূল্য রেশমী উত্তরীয়, 
সাজতে চায় জীবন আবার 
গুছিয়ে এলোমেলো 
শয়নকক্ষ, 
একটানা সুরে গেয়ে চলেছে ভিন দেশী এক 
সবুজ পাখি, দূর ধুসর পাহাড়ে 
ধুম্র বলয় গেছে থেমে,
কিংবা সূর্য্য 
চুসে নিয়েছে অবশেষের সজলতা, দিনের 
ভব্য প্রকাশে, জীবনের আঁধার 
সহসা দেদীপ্যমান, 
লিখতে চায় 
আবার বিফল কবি অভিনব কবিতা - - - 

- শান্তনু সান্যাল
painting by  - flowers - Paul De Longpre 



শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২


বিহানের আহ্বান 

আকাশপ্রান্তের ওই অগ্নি বলয়ের সঙ্গে ভাসে 
ঋগ্বেদের ঋচা, অথবা অজ্ঞাত  প্রণয়ী
মনের ব্যথা, বিহানের গায়ে কে 
লিখে গেছে বিলুপ্ত ভাষায় 
অগ্নিহোত্রিয় গান, 

নদীর 
সুবর্ণ তরঙ্গে জেগে উঠে অলৌকিক শ্রুতি, 
প্রশান্ত দেবালয়ের দ্বারে শঙ্খধ্বনি 
সরিয়ে চলেছে বিষন্নতার 
আঁধার, অভিনব 
জীবনের 
অভিযান, এগিয়ে যেতে যায় মন  সুদূরে 
যেন প্রতিক্ষারত জ্যোতির্ময় 
উজান - - 

- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 
Paint Scotland - Jess Rogerson - Bob Ross Painting 

বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২


পরিভাষার বাহিরে 

দেবদূত সম ঝর হে আকাশ, উপেক্ষিত 
শোষিত, নির্বস্ত্র  বুক খুলে বসে 
আছে মরু প্রান্তর, 
নির্লজ্জতার 
পরিভাষা বুঝে না জঠরাগ্নি, খুলে যাও 
ছদ্ম সভ্যতার শিকল, সরিয়ে 
দিও তত্ব বিদ্যার 
যবনিকা, 
সাকার নিরাকারের উপরে আছে সে এক 
উত্তরজীবিতা, জীবন্ত এক 
বাস্তবিকতা, সে
পঞ্চ তত্বের 
গোলকধাঁধা বোঝে না, শুধুই জানে -
সকাল সাঁঝে জীবনের 
অবিরাম যুদ্ধ, 
বাঁচনের 
উপায়, যে ভাবেই  হোক উদ্বর্তনের -
সন্ধান, বিধ্বস্ত, শাপিত
লুন্ঠিত, উচ্ছিন্ন, 
জীবন 
লড়ে যায় অন্তিম নিঃশ্বাসের সঙ্গে দিবা 
নিশি, মূর্ত অমূর্ত, নাস্তিক 
আস্তিকের বাহিরে 
সে যেন 
শাশ্বত সত্য, ধর্ম অধর্মের দর্শন বুঝে 
না,  ক্রমাগত ধেয়ে যায় 
জীবন যাপনের 
পথে,
তবু স্বপ্ন দেখা ছাড়ে না অন্তর্মনের আঁখি,
শ্রাবণ আসুক বা না আসুক 
বৃষ্টি ঝরুক বা না 
ঝরুক 
সে লাঙ্গল বাদ দিতে পারে না, সে নিজের 
সাথে প্রবঞ্চনা করে না  - - 

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 

বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১২


অপরিচিত অক্ষর 

যা কিছু বলার  ছিল তার সে বলে গেছে অনর্গল,
শুনে গেছি আমি ও নির্বাক, বোধ হয় 
সে বুঝে গিয়েছিল চোখের 
মৌন অভিব্যক্তি 
তাই  ফিরে 
যাবার বেলায় ফেলে গেছে এক ফোঁটা অশ্রু, 
সেই আঁখির জলে দেখেছি জীবনের 
বিম্ব, নদীর ক্ষণে ক্ষণে মরে 
যাওয়া, তীরের বয়স্ক 
গাছের তিলে 
তিলে
শুকিয়ে নুয়ে যাওয়া, হয় ত শিখিয়ে গেছে 
তার সিক্ত অবহেলা, নিঃশব্দ ব্যথার 
সহনশীলতা, কিংবা শুধিয়ে 
গেছে আত্ম পরিচয়, 
আমি আর 
খুঁজতে 
চাই নি তার ঠিকানা, ভুলে গেছি কখন তার 
শেষ দেখা, সমুদ্র সৈকতে  আবার হয় ত 
উঠেছে সূর্য্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা,
আঁধারে চিরদিন থাকে না 
ঢাকা ভালবাসার 
উপত্যকা,
নিসর্গের নিজের এক নিয়ম আছে, সব কিছু 
যায় বদলিয়ে, বিরহের শাখায় ভরে 
উঠে ফুল স্বাভাবিক ভাবে, 
গাছ টের ও পায় না ,
 সেই 
অবাঞ্ছিত শৃঙ্গার, ভুলিয়ে রাখে মনের 
পরিত্যক্ত যাজকপল্লী, গড়ে উঠে
 জীবনে উচ্চ অট্টালিকা,
উড়ে  রয়  নব 
স্বপ্নের 
উড়ানসেতু, আকাশের গায়ে গজিয়ে উঠে 
তারকের আসর, আলোর সমারোহ,
ওই সতত পরিবর্তনের খেলায় 
পিছিয়ে পড়া ধাবকের 
দিকে দেখে না 
দর্শক, 
যখন সে পৌঁছয় স্পর্শ বিন্দুর  কাছে একাকী,
হাত তালির শব্দ যায় থেমে, দর্শক 
বিহীন রঙ্গভূমি আর তার 
হাঁপানির ভাঙন,
হারিয়ে যায় 
অজ্ঞাতে, 
জীবনের দৌড় কিন্তু থামে না, সে তুলে রাখে 
আবার স্বপ্নের ছড়ানো টুকরো, ঘাম 
ভেজা দেহের ওই মৌন হৃদয়ের 
কোণে, চেয়ে থাকে প্রস্থান 
দ্বারে ফিরে যাওয়া 
চেনা অচেনা 
ভিড়, 

- শান্তনু সান্যাল
old palace India 




মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১২


ফিরে যাও বন্ধু 

ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
যেখানে ঘুম ভাঙলো ওখানেই 
সকাল, দুঃস্বপ্নের মাঝে 
ভাসিও না 
জীবন, 
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
ঝুলন্ত ভবিষ্যত, অপরিচ্ছন্ন 
অতীত তুমি পাবে না 
ত্রাণ, 
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
এখানে ঘুরে অতৃপ্ত আত্মা 
কুহেলির মাঝে খুঁজ 
না প্রাণ, 
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
গহন আঁধারে হারিয়ে 
আছে স্বপ্নিল 
বিহান, 
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
প্রারব্ধের আগুন খেলা 
প্রেমের এখানেই 
অবসান,
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে, 
যতটুকু হাঁটলে সঙ্গে 
রেখে যেও সেই 
অবদান,
ফিরে যাও নিজের ঘরে সন্ধ্যার আগে,

-- শান্তনু সান্যাল
PAINTING  SOURCE ; SINOORIGIN