শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩

বৃদ্ধ যাত্রী

চিনার গাছের দীর্ঘ ছায়া, সূর্যের অস্থায়ী চুক্তি,
ক্লান্ত পথিকের চিঠি মেঘ কিন্তু পাই নি,
তাই পূর্বাভাস হলেও বৃষ্টি কিন্তু
হয় নি, ছায়াময় স্নেহের
ধারা গড়িয়ে গেছে
অনেক আগে,
আঁধার
নামার পরে দেখি, কড়া নাড়ার শব্দে সে ঠিক
খুলেছে দরজা, কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে
সেই মুহুর্তে ভুল ঠিকানা, তার
মুখের ভঙ্গিমায়ে যেন
গুটিয়ে গেছে তরু
 ছায়া,
তার কথার ছন্দে ছিল নিরব এক অনভিজ্ঞতা,
অথবা দুরে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি, চিনেও
না চেনার ভান করা, মৌন বিদায় !
যেন পরজীবী ভাবনা চায়
সূর্যের আলো ধরতে,
লতিয়ে জড়িয়ে
বিরাট
বৃক্ষের শ্বাসরোধ, নিজস্ব সত্তা গড়া, আপন আর
পর অর্থহীন, যে যেমন করে দখল করতে
পারে উচ্চ শামিয়ানা, ফিরে এসেছে
মন রিক্ত হাতে, যা কিছু ছিল
কাছে রেখে দিয়েছে ছদ্ম
ভালবাসার দ্বারে,
এখন মুক্তির
পথে
ধেয়ে চলেছে জীবন, একাকী অবশ্যই, সঙ্গী বা
কেউ ছিল কোনদিন, শুধুই এক নির্মম
রাত্রি এবং পুরাতন যাত্রী, সকাল
যেন শুষ্ক নদী, বুকে নিয়ে
হাহাকার, চেয়ে রয় আকাশ পানে - - -
- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩

অসীম শূন্যতা - -

পায়ের নীচে ছিল চিরদিন শূন্য স্থান, তবুও
গুনে গেছি মাইলের পাথর, জনমের
পরেই কে যেন লিখে গেছে
ঠিক মাথার উপরে  
দুঃখের মহা -
কাব্য,
চিত্রকর হতে পারি নি, অবস্থা ছিল বর্ণান্ধ !
বিহানের সঙ্গেই যেন সূর্য্যের অবসান,
পায়ের নীচে ছিল চিরদিন শূন্য -
স্থান। প্রেমিক হতে খুব
একটা অর্থের ছিল
না প্রয়োজন,
তাই
সারাটা জীবন অপেক্ষায় রইলাম কেউ যেন
ভালোবাসে, শুধুই খুঁজেছি চেহারার মাঝে
আসল চেহারা, ভালোবাসার মুখোশ
জমে আছে জং ধরা স্মৃতির
সন্দুকে, অপরাধ জানি
না সবাই বলে আমি
এক অভিশপ্ত
পাষাণ,
পায়ের নীচে ছিল চিরদিন শূন্য স্থান - - -
* *
- - শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩

নয়নের ভাষা

নিষ্পলক শুধুই চেয়ে থাকা ওই তোমার দুই নয়নের ভাষা,

অভিভূত করে যেত ক্ষণে ক্ষণে সেই অপ্রতিম ভালবাসা,

আজ ও মনে হয় তোমার, বিভোর কন্ঠের মৃদু হিল্লোল,

পাহাড়ি নদী যেন শ্রাবণের আগেই, উস্কিয়েছে সুপ্ত প্রত্যাশা,

উদ্বেলিত করে যেত, মন ও প্রাণ সেই অসীম ভালবাসা,

শান্ত ঝিলের গায়ে ভাসানো, প্রেমের কবিতা গুচ্ছ, মনে আছে,

নিঝুম মধু সন্ধায়, ঝির ঝির আঁধারে লুকিয়ে দুজনের আসা,

আন্দোলিত করে যেত, লেবুফুল গন্ধে সেই মধুরীম ভালবাসা,

অভিভূত করে যেত ক্ষণে ক্ষণে সেই অপ্রতিম ভালবাসা ।

 শান্তনু সান্যাল


বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩

সন্ধান - -

 

ফুল বিহীন ফুলদানি কেমন যেন চেয়ে
থাকে ভাঙা কাঁচের জানালা, তীক্ষ্ণ
কিনারে বিঁধে আছে পাখির
ডানা, বৃহৎ শব্দকোষ
খুলে রাত খেলে
শব্দ সন্ধানের
খেলা, নির্ঘুম
চোখে
জীবন খুঁজে বেঁচে থাকার ঠিকানা, এই
ভাবেই রোজ রাতে আমি পরি কাঁচের
পোষাক, নগ্ন দেহে আঁকি স্বপ্নিল
ট্যাটু, দাঁড়িয়ে থাকি অন্ধকার
গুহার মুখে, জোনাকির
টোপ দিয়ে সকালের
শিকার করি, পদে
পদে খুঁজি বেঁচে
থাকার এক
নতুন
বাহানা ।
* *
- - শান্তনু সান্যাল


রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

পলাশময় নাহি জীবন - -

মনের গভীরতায়, নীলোত্পল জেগে উঠে
সহস্ত্র পরাগ নিয়ে কুসুমিত আকুল নিশ্বাসে,
 
নাভির বাহিরে সৃষ্টি করে এক অন্য জগত,
ব্যাকুল হরিণ ধেয়ে যায়, অবিরাম প্রবাসে,

অশেষ তৃষা বুকে লয়ে, এখনো জেগে আছো,
নিজেকে উজাড় করে কেউ অমন ভালবাসে,
 
চাঁদের রুপালি বন্যা, ভিজে যায় দেহ  প্রাণ,
নিমিষে কিন্তু আঁধার নামে অসময়ের গ্রাসে,

অফুরন্ত ঢেউ নিয়ে ছিলেম তটিনীর সম্মুখে,
বিলীনতা পরে ছিল মহাশুন্যতা আসেপাসে,

স্বপ্ন কিংবা কুয়াশা, ছুঁয়েছি বোধ হয় আমি,
এই মধুর ক্ষণে আজ থাক, ভাবব অবকাশে,
 
নয়নের স্পর্শে লিখো, কিছু নব কাব্য রচনা,
কে যেন এঁকে গেছে মায়াবী ছবি নীলাকাশে,
 
মাটির চন্দন মেখেছি, গভীরতম  অন্তঃস্থলে,
পৃথিবী জুড়ে মাটি, তবু তারা কেন যে হাসে,
 
পলাশময় নাহি জীবন, দেখা হবে মধুমাসে ।
- - শান্তনু সান্যাল  


শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

অন্তিম প্রহরের জোছনা - -

তার দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ছিল অদ্ভুত আবেগর প্রসার !
দেহের নৌকো গেছে নিমেষে নঙ্গরাবদ্ধ,
হিল্লোলিত মাংস পেশী, উচ্চ তরঙ্গে
হৃদয় তখন ভেসে চলেছে ছুঁতে,
তার তরলিত স্পৃহার
 হিমবাহ, জীবন
তার আঁখির
তীরে
এখন মাত্র, স্থির ঘাটের সোপান, উঠে চলেছে
অন্তরের দেউল অভিমুখ, সেই নিরাকার
 প্রেমের প্রলয়ে, ফিরে পেয়েছি পুনঃ
আরোহণপথ, করেছি ধারণ
পূর্ণ সামরিক পোশাক,
কিন্তু তার অধর
সীমান্তে
পৌঁছতেই যেন যুদ্ধ বিরাম, থেমে রয়েছে
মরুপ্রান্তরে যেন শত শত বছরের,
মহাতৃষ্ণা, সামুদ্রিক গভীরতা !
চেয়ে আছে সান্দ্র লবণতা,
চায় প্রগাঢ় মধুরতা,
বিপুল বৃষ্টি,
বুকের
উন্মুক্ত ভূখণ্ডে এখন তপ্ত আবেগের বিগলন !
আমি হয় উঠেছি রূপকার, ছাঁচকার,
ঘামন্ত দেহে খেলে চলেছি তার
চরম উষ্ণতার শিল্প খেলা,
লিখে চলেছি কবিতা
তার অপ্রতিম
দ্রবীভূত
রূপে !
সে জড়িয়ে চলেছে ক্রমশঃ আমার অস্তিত্বের
কাঠামো, বক্ষঃস্থলের ফ্রেমে সে গেছে
মিশে, শুধুই এখন মিশ্রিত ঘামের
গন্ধ, নিঃশ্বাসের যমজ  ধুম্র -
বলয় কি সুরভিত বৃত্ত !
দুজনের অতিরিক্ত
কেউ জানে
না,
সঘন কুয়াশা ঢেকে চলেছে শেষ প্রহরের - -
জোছনা ।

- -  শান্তনু সান্যাল

   



আন্তরিক স্রাব

রাতের শেষ প্রহর, জোয়ার নেমে ক্রমশঃ -
ভাটার অভিমুখ, ফেনিল আবরণ 
এলোমেলো ভাবে পড়ে রয়েছে
বালুকাবেলায়, খালি 
পায়ের  চিহ্ন
ফেলে
গেছে আহত রাত একাকী অগোচর দিগন্তে  !
জলোচ্ছ্বাস বুকে টেনে চেয়ে আছি 
পৃথিবীর মুখখানি, সে এখন 
সংকুচিত গন্ধ কোষ, 
গুটিয়ে চলেছে 
পাপড়ির 
আবর্ত, 
প্রেম ও দেহের  দুই প্রান্তের, আলোক স্তম্ভের 
মধ্যে টানা দড়ি, হাতে রোদ ছায়ার 
প্রতিমান লাঠি, শুন্যে হেঁটে 
চলেছে জীবন সযত্নে 
ধাপে ধাপে, শ্বাস 
বেঁধে ক্রমে 
ক্রমে,
ডঙ্কার আওয়াজের ছাড়া জীবন কিছুই জানে 
না, যখন হাত তালি গেছে থেমে, জীবন 
নেমেছে সহজে, বেঁচে থাকার বাধ্য -
বাধকতা ছাড়িয়ে যায় সব 
ভয় বিপদ, এখন শান্ত 
মন খুঁজে ক একটা 
মুদ্রা ও তোমার 
ভালবাসা,
আঁধার, 
নির্জন বাস, আন্তরিক সুরভির অনন্ত স্রাব !
-- শান্তনু সান্যাল