বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০১০

পাষাণী স্রোত

কহিতে পারি নি, মনেই ভস্মিভূত রইলো প্রণয়ের অগ্নিশিখা,

দিও না পুনরায় আভাস, দক্ষিনা বাতাস মম  সুপ্তান্তরে   /

হারানো সুর খুঁজে স্বরলিপি, আহত  সর্ব প্রেমানুভূতি,

দু দিগে বহে নীল জলধারা, মৌন বেদনা মধ্যান্তরে /

জীবনের প্রতিচ্ছবি অঙ্কিত ছিল বহু খন্ডিত প্রাচীরে,

খসে পড়েছে প্রস্তর রঙহীন, বিলুপ্ত ভিত্তি  ও কালান্তরে /

প্রাচীন একাকী দেউল রয়েছে কী এখন অরণ্যের মাঝে,

শুনেছি অতৃপ্ত পাষাণী স্রোত, বহে যায় তাহার সমানান্তরে /

পলাশময় ছিল মনের বাতায়ন, বন্য কুসুমিত ভালবাসা ,

ভুলে গেছি রহস্যময় সে বন পথ, ক্রমশ সময়ান্তরে //

-- শান্তনু সান্যাল

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০১০

শশিবিম্ব

নির্ঝর হাসির সঙ্গে ছিল, কিছু মিলিত পুরাতন  অশ্রু বিন্দু 

ধুম্র উঠে ছিল বহু কাল আগে, আজ ও কেন সজল আঁখি /

ভুলিতে গিয়ে জড়িয়ে এলে, যেন বন বল্লরী কেতকী অঙ্গে

অবাক চেয়ে রয় শশিবিম্ব, কি ভাবে হৃদ কম্পন ঢাখি /

মেঘবিহীন আকাশ, বিস্তৃত নীলাঞ্চল যেন মহা জলধি

মনের পৃথিবী উধ্বস্ত, দিবা নিশি বয়ে যায় কালবৈশাখী //

-- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০১০

মোহভঙ্গ,

অন্তহীন অন্তর্দ্বন্দের মাঝে পেয়েছি তোমায় 

ফিরে যাওয়া সমস্ত উচ্চ নিম্ন ঢেউর গায়ে 

লেখা ছিল প্রেমের ইতিকথা তীরের পৃষ্ঠে ,

এখনো রয়েছে চাবুকের দাগ, দিয়ে গেছ -

পরিপূর্ণ দংশ সুন্দর ভাবে নিরন্তর ছোবলে, 

তটের সীমাবর্তী, অনাম চারা গজিয়ে উঠেছে

হয় তো পুষ্প ও ফুটবে একদিন, ভ্রুণ গুলো

হয়েছে স্বপ্ন, তোমার গর্ভের বাইরে ও নিশ্বাস

নিতে পারে তারা, তুমি নিশ্চই তা জানো,

পুনঃ সমর্পনের জন্য তোমার আসতে ই হবে

পুর্ণিমা নিশা আর মোহভঙ্গ, প্রতিদংশ অবশেষে

ফিরে যেতে পারবে কি মাঝ দরিয়ায় ?

-- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১০

কোন অভিসারে

হাস্নুহানার গন্ধে মিলিত তোমার সেই গভীর নিশ্বাস,


কম্পিত অধরে আজ ও সুপ্ত, নিমগ্ন রয়েছে -

অনুত্তরিত চোখের কিছু প্রশ্ন খুবই জটিল রহস্যময়ী,

হৃদয়ের লাজুক পাতায় গুপ্ত, সংলগ্ন রয়েছে -

প্রথম মিলনের রোমাঞ্চ ভরা, মধুর অনুভূতি

থম থমে আকাশের গায়ে মুক্ত, ভগ্ন রয়েছে -

সাঁঝের বাউল মন উড়ে যায় যেন কোন অভিসারে

স্মৃতির অমূল্য মেঘদল বুকে যুক্ত, মগ্ন রয়েছে //

-- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আর লজ্জা দিও না

কলঙ্ক যখন বয়ে চলেছি মাথায়, আর লজ্জা দিও না ,


এখানে সবাই নির্বস্ত্র, বরঞ্চ আবরণ মুক্ত করে নিও /

মুখোসের আড়ালে কত দিন, দিয়ে যাবে সতত ফাঁকি,

দর্পণ জানে ভালই ভাবে, লোম-প্রতিলোম রহস্য

মানুষ ছিলে কী এত দিন? অবশেষে গন্ধ ভরে নিও /

সুগন্ধে না কী ,কুত্সিত ভাবনায় পবিত্রতা আনে,

চন্দন বৃক্ষ বিষ মুক্ত, বিষধর লতিয়ে থাকার সত্তেও

সুতরাং কালরাত্রির পুর্বে, সহস্ত্র পুষ্পে মন ভরে নিও /

পাপ পুন্যে, দেয়া নেওয়া দুই জনের মাঝে- গুপ্ত সন্ধি,

নির্ভয়ে চরিত্রবান সেজে, ভিড় সরিয়ে মন্দিরে যেও //

-- শান্তনু সান্যাল

প্রেমের বৃতে

দেখেছি ত্বম রূপ, পূর্ণ শশি সম, শরতের নীলাম্বরে -


ডানপিঠে শিশুর উন্মুক্ত হাসির মাঝে খুঁজেছি

হারানো কিছু জীবনের পৃষ্ঠ, নিরুদেশ্য পথের ধারে,

শুনেছি ত্বম প্রণয়গান, জলপ্রপাতের বিহঙ্গম প্রবাহে

মহুয়া বনে শুনেছি, চেনা নিশি ডাক বহু বারে,

প্রতিচ্ছায়া মম, শুন্য নিয়ে করে কত আলোচনা,

আহত কবিতার অংশ, জেগে উঠে মৃদুল প্রহারে,

প্রেমের বৃতে ছিল অসংখ্য বিন্দু অবহেলিত -

বুকে লিপ্ত রয়েছে স্বপ্ন, , নগ্ন দেহ যেন আঁধারে,

- shantanu sanyal

সমস্ত পৃথিবী আক্রান্ত

ওরা আছে দেবতা কিম্বা দানব তারাই জানে


হাড় মাংসর শরীরে মানুষ থাকে এটাই সত্য,

চলন্ত জীবনে শুধুই দুই বেলার ক্ষুধার ছাড়া

অনেক কিছু দরকার, শ্বানসম জীবন বৃথা,

সহস্ত্র শতাব্দীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির হ্বাসের পথে

ওরা এখন ও মুখোস নিয়ে কথা কয়,

চন্ডিমন্ডপে কর বদ্ধ প্রণাম করে, আবার

বিধর্মীর সম্মেলনে নিজেকে নাস্তিক বলে,

গাঙ্গেয় স্রোতের মাঝে সহস্ত্র হাত উঠে রয়েছে

তারা শান্তি চায়, অতৃপ্ত আত্মা পরিত্রাণ চায়,

শুধুই দেউলের বুকে অগ্নি, সমস্ত পৃথিবী আক্রান্ত !

তারা দানব কি মানব সময়ের হাতে,

অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্য চাই

যদি বাঁচতে চাও, মানবতা বাঁচাতে চাও,

হিংস মানুষ কিম্বা দানবের অস্তিত্ব

এই ধরা হইতে অভিশাপ মুক্ত কর --

জন অবতার দরকার, এক কৃষ্ণ, এক অর্জুন

না, কোটি কোটি অভিমন্যুর দরকার এই পথে //

-- শান্তনু সান্যাল