মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১০

প্রেমের মায়া

নীলাভ তিমিরে সাঁঝের আলেয়া, ভেসে উঠে অসংখ্য 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য  প্রেমের মায়া,
মন্থর গতি লয়ে বহে যায়, দুই নদীর সুপ্তময়  কিনারা 
বহু দূর ক্ষিতিজে মিশে একাকার,স্নিগ্ধ দুটি মূর্ত ছায়া ,
মালবিকা বনে চন্দ্রিমা ঢেলে যায় অবিরল প্রণয় সুধা,
অনন্ত কালে পরিণিত মুক্ত ছন্দ, আজ যেন একান্ত কায়া,
অজ্ঞাত বৃক্ষে রয়েছে,স্বপ্নময়ী কৃষ্ণচুড়ার অগনিত কুড়ি
 মধুমাস পলাশের সন্ধানে, আজি বেয়ে যায় জীবন খেয়া,
সুদূরে জোনাকিদের দ্বীপে, বাউলের লেগেছে মস্ত  মেলা,
একতারায় মহামিলনের গান, হৃদয়ের শুধু নেয়া দেয়া, 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য প্রেমের মায়া //
---- শান্তনু সান্যাল  

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১০

সুপ্রভাত

সুপ্রভাত
কাঁচা হলুদ রঙ্গে, ভোরের আলো
শুভ্র চন্দ্রমল্লিকার বুকে সজল কম্পন,
তুমি কী ঘুমিয়ে আছো এখনো
হৃদয় দিয়ে যায় সমানে ডাক, শুনো নি,
শরত সকালে মিলনের প্রতিশ্রুতি  ?
শ্রাবনের মেঘ নিশ্চই জানিয়েছে!
প্রেমের আমন্ত্রণ, সঘন আকাশে
লিখে যায় নি সৌদামিনী স্বরলিপিকা!
স্মরণে দোলা দিয়ে যায় না
মালতি গন্ধে ভরা প্রথম যুগ্ম অধর
নিশ্বাস বিনিময় শিহরিত আলিঙ্গন,
সাড়া দিয়ে যায় অবশ্যই
দেহের বিশ্রঙ্খলিত আবেগ, উন্মুক্ত চেতনা,
কই  বেলা গড়িয়ে গেল তুমি দ্বার  যে
খুলতে ভুলেই গেছ, মনে হয় বিহানের
স্বপ্ন এখনো তোমায় বুকে জড়িয়ে রয়েছে,
গলিয়ে গেলাম দরজার নিচে দিয়ে কিছু
অশ্রু ভেজা পুষ্প গুচ্ছ -- শুভেচ্ছা সহ /
--- শান্তনু সান্যাল
photo - Nkhilesh Sanyal - Dacca

শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১০

ডুবে গেছে ভালবাসা

ডুবে গেছে ভালবাসা 
১ -অসময় কড়া নাড়ার শব্দ 
    শব্দে মনে হলো শুনেছি সে 
    বহু কাল আগে, রহস্য ও 
    কৌতুহলের মাঝে, দরজা 
    খুলে দিলাম, গাল ভরা দাড়ি 
    কঙ্কাল দেহে রয়েছে কিছু 
    ক্ষত, ঘায়ের অমিট দাগ 
    কলিঙ্গ বিজয়ী যেন মহা যোদ্ধা 
    নিরস্ত্র দাড়ায়ে আছে সম্মুখে 
    নিখোঁজ আমার প্রতিচ্ছায়া 
     ফিরে পেলাম কোন অরণ্য পথে,
     আজ আমি নিজেই নিহত 
     বাহিরে উল্লসিত বৃন্দ গান 
     জানি না কোন পন্থের অনুযায়ী 
      আগে তো আর তাদের দেখি নাই, 
      সমানে গেয়ে চলেছে অজানা 
      ভাষায় অবিরাম একসুরে,
      আত্ম উত্থানের বিস্মৃত গান 
      আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন 
      কে জানে কোথায় বয়ে যায় 
      আনন্দ ধারা --------------
২  এই কোলাহলের মাঝে প্রতিধ্বনি বিলুপ্ত 
     শিশুরা খেলছে নদীর চরে
      লিখছে কিছু হারিয়ে যাওয়ার কবিতা 
     ওই মাঠের শেষে কিছু ছায়া 
      সহসা উধাত যেন অজ্ঞাত মায়াজালে 
      বহু দূরে মনে হয় তাহারা খেলে 
      লুকুচুরি, 
      চেয়ে ছিলাম থামাতে ঢেউর অশান্তি 
      সাগর সৈকতে তুমি আর পথ 
       চাও নি, উদাস মনে ফিরে গেছি,
       জানি তুমি আর সে তুমি নও 
       প্রতিধ্বনির পথে হয় তো 
       জেগে উঠেছে ঘুমন্ত পাহাড় কিংবা 
       রমনীয় পর্যটক স্থল
       এক ঝিলিক রোদে ডুবে গেছে 
       ভালবাসা 
     -- শান্তনু সান্যাল  
      

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১০

অহম অনন্ত স্বপ্ন পশ্যামি

অদ্ভুত নীলাভ ওই দৃষ্টি 
শুন্য নিয়ে উঠে আসে অন্তরীক্ষে 
জীবনের অবুঝ প্রহর
গতিমান, চিরস্থায়ী, চিরন্তন 
প্রশ্নের আলো ছায়ার মাঝে 
নিয়তির ধুম্র বলয় নিমিষে নিজের 
খেলা নিঃশব্দে দেখিয়ে যায় 
শুধু রয়ে যায় এক শ্বেত দীর্ঘ রেখা 
উর্ধমুখী বিলীনতার দিগে 
আকাশ অবাক যেন বুঝতে চায় 
মিসরের অজ্ঞাত চিত্র লিপি 
কিংবা ভাগ্য লিখন গভীর ভাবে 
এখানে জীবনের উদ্গম এখানেই 
মৃত্যুর মহাপ্রস্থান ও শেষে 
অহম অনন্ত স্বপ্ন পশ্যামি -
--- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১০

হিন্দী গজলের বাংলা অনুবাদ


হিন্দী গজলের বাংলা অনুবাদ

মেঘ দল বর্ষণ করে কবে যে হারিয়ে গেছে , জানি না
মন যেন এখন তৃপ্ত
পাহাড়ের গায়ে উঠছে কুহাসা
মনের কোলাহল থেমে গেছে যেন
তৃষিত হৃদয় খুবই অশান্ত ছিল
অশ্রু ঝরার আগে,
আদ্র নয়ন পাতে, ঝরিত জল বিন্দু
আজ সুন্দর মখমলি সন্ধ্যা লাগে
সুকনো ফুলের অবশেষ, এখন রয়েছে
জীবন নিখুঁত নয় বন্ধু
আলোর শহরে হারিয়ে গেছে
সে যে আমার আঁধারের বন্ধু
আইনা প্রমাণ চাহে
আমার মুখ অনাম, অচেনা লাগে
চিঠি এখন ও রয়েছে
অবশ্যই লিখন মিটে গেছে
স্পর্শ করলে যেন এক মিষ্টি ভাব
মনের নিকটে সেই নাম রয়ে গেছে
ওই আসরে বহুবার নিজের ছায়া কে
আমি বাঁচিয়েছি
প্রেয়সী পূজক, আরো জানি না কত
অভিযোগ তাহারা দিয়েছে
বিক্ষিপ্ত দশায় মরা ও মুশকিল
আবার বাঁচার উত্কন্ঠা মনে জাগে
প্রারন্ভ আর মনে নেই
শেষের তীক্ষ্ণ তীব্রতার, আর ভয় নাই /
-- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১০

মোহভঙ্গ


মোহভঙ্গ

অন্তহীন অন্তর্দ্বন্দের মাঝে পেয়েছি তোমায়
ফিরে যাওয়া সমস্ত উচ্চ নিম্ন ঢেউর গায়ে
লেখা ছিল প্রেমের ইতিকথা তীরের পৃষ্ঠে ,
এখনো রয়েছে চাবুকের দাগ, দিয়ে গেছ -
পরিপূর্ণ দংশ সুন্দর ভাবে নিরন্তর ছোবলে,
তটের সীমাবর্তী, অনাম চারা গজিয়ে উঠেছে
হয় তো পুষ্প ও ফুটবে একদিন, ভ্রুণ গুলো
হয়েছে স্বপ্ন, তোমার গর্ভের বাইরে ও নিশ্বাস
নিতে পারে তারা, তুমি নিশ্চই তা জানো,
পুনঃ সমর্পনের জন্য তোমার আসতে ই হবে
পুর্ণিমা নিশা আর মোহভঙ্গ, প্রতিদংশ অবশেষে
ফিরে যেতে পারবে কি মাঝ দরিয়ায় ?
-- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১০

হলুদ রাঙ্গা পাখি


হলুদ রাঙ্গা পাখি
পাহাড়ের গায়ে, শ্রাবনী মেঘদল যখন ভেসে যেত
সেই আঁকা বাঁকা অরণ্য ফুলের বীথি
বউ কথা কও- ডাকে ভরে উঠত বন প্রান্তর
ঠিক তোমার মধুরিম হাসি সম
স্মৃতির কাঁচঘরে যেন মুখরিত মৌনপ্রনয়
আন্দোলিত হৃদয় ছুঁয়ে যেতে চায়
মহানগরের আকাশী রহস্য, কিছু চিরকুট মেঘ
আজ ও হলুদ রাঙ্গা পাখির কাতর ডাক
মাঝে মধ্যে বেদনা ছড়িয়ে, জানি না কোন
দিগন্তে উড়ে যায় নিমিষে
রামধনু আজ ও উঠে ধুম্রময় আকাশে
সপ্তরঙ্গ মনে হয় আবছা আবছা
বর্ষার জলে যেন ভিজে উঠেছে প্রেমপত্র
-- শান্তনু সান্যাল