সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২


প্রেমের পরশ 

তার মনের চিলেকোঠায়, হয় ত আছে কাচের
সিন্দুকটি, কিছু পাট করা কচি ভাবনা,
কিছু রঙ্গীন পুঁতির মাঝে গাঁথা 
স্বপ্নের মণিমালা প্রায়ঃ 
দেখি তার 
হাসির মধ্যে ঝলকিয়ে আসে  অদৃশ্য চমক, 
সেই উদ্ভাসে জীবন যায় ঢেকে, সব 
মর্মঘাতের ব্যথা, চোখের 
সজলতা শুকিয়ে 
দেখতে 
পায় স্পষ্ট, উদ্দীপ্ত পৃথিবী ভেসে উঠছে 
শান্ত মহাসাগরের   বুকে , বহে 
চলেছে রামধনু রঙ্গী 
সপ্ত ধারা ওই 
ক্ষিতিজ 
রেখার উপরে, অজানা ফুলের অর্ঘ্য ঝরে 
এমন সময় হৃদয়ের ধরাতলে, তার 
এই অপরুপের মায়া ঘিরে,
নেমে আসে মোহিনী 
সন্ধ্যা, ছড়িয়ে 
যায় 
তপ্ত বসুধার দেহে শীতল রাতের লেপ, 
রেখে যায় নিশি পুষ্পের বৃন্ত 
গুছিয়ে, খুব যত্নে 
সাজিয়ে যায় 
নয়নের 
তলে ভালবাসার অঞ্জন, করে যায় ঘুমের 
অভিনন্দন - - - 

- শান্তনু সান্যাল
balcony - Original Painting by Diane Millsap



আগুনের দরিয়া

জানতাম তুমি ওই আতশী রেখার বাইরে আসবে 
না  কোনো দিন, বরঞ্চ টেনে নিয়ে যাবে 
আমার অস্তিত্ব  নিজের কাছে, 
তাই হলো, বিস্ময়ের 
এর মধ্যে
কিছুই  ছিল না, পতঙ্গের ভাগ্য লিখন বদলানো
কি সহজ, তাই জন্মের সঙ্গেই ইচ্ছাপত্র
বিধি জড়িয়ে দিয়েছে পারদর্শী 
পাখায়, বৃষ্টি হলো মুক্তি -
স্নানের জন্য উই 
ঢিপির  গায়ে,
অগ্নিপথের যাত্রীদের মিছিল উড়ে  চলেছে সুদুর, 
চিতাভষ্ম হবার জন্য তীব্র বেগে, এক 
রাত্রির জীবন, প্রাণ  দিয়ে নব 
প্রজন্মের আহ্বান, তাই 
নিসর্গের নিয়ম 
তোমার ও আমার জন্য আলাদা হবে কি ভাবে, 
হয় ত স্বরূপ টা ভিন্ন, কিন্তু সারাংশ,
শাশ্বত – প্রেমের পরিভাষা, 
দুঃখের মাঝে সুখের 
অনুভূতি!

- - শান্তনু সান্যাল
 

রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১২


অগোচর নায়ক 

পার্ক বলতে ওই ক একটা ফুলের গাছ, চার দিকে 
বুনো মেহেদীর বেড়া, দু চারটি জং ধরা 
বেঞ্চ, ভাঙা লোহার মুখ্য দ্বার,
পার্ক কম কবরখানা যেন 
বেশি, পরিত্যক্ত সেই 
পুরাতন বাগানে 
প্রায়ঃ দেখেছি তাকে একাকী বসে থাকতে, কি 
যেন চেয়ে রয় তার স্বনিলীন চোখ 
আকাশপানে, মনে হয় সে 
যেন অন্বেষক সতত 
অনুসন্ধানে 
ব্যস্ত, কিংবা অপ্রকাশিত কবি খুঁজে কবিতার 
ঝরা পালক, কখন আবার মনে হয় 
সে যেন পলাতক বিপ্লবী 
ছুঁতে চায় দেয়ালের 
নতুন রঙ্গে 
ঢাকা পড়া ক্রান্তির শ্লোগান, এ ও হতে পারে 
সে এক বিফল প্রেমিক, জনম জনমের 
অপেক্ষা চাপিয়ে বুকে  বসে আছে 
বিজনে, তার নিস্তেজ 
চোখের নিচের 
কালিমা,
শুধায়, হয় ত সে কোনো সাধক অনিদ্রা 
রোগে সংক্রান্ত মানুষ, ঘুমোয় নি 
এক মুহূর্ত, সৃষ্টি হতে আজ 
পর্যন্ত, কিসের সন্ধান 
কোন পথের সে 
পথিক, 
গায়ে উঠে চলেছে বন্য লতা, ধরে আছে দেহে 
শেওলার পরত  কি পাখির বিষ্টা, বলা 
মুশকিল, বৃষ্টি রোদে একান্ত লয়ে 
সে কি গায় মুক্তির মৌন
গান, কিংবা হারিয়ে 
গেছে সংবেদনা, 
তার মুখের 
খসে পড়া পলাস্তরে, অশ্বত্থ গাছের  চারা  উঁকি 
দিয়ে জানিয়ে দিতে চায় তার মোক্ষের 
বৃতান্ত, তার পরাভবের কাহিনী, 
সংস্কৃতির মৃত্যু, স্বপ্নের 
অসময়ে প্রয়াণ,
মানব ও 
পাষাণের বিভেদ, তার আস্তে আস্তে মান্ধাতার 
আমলে সরে যাওয়া, হয় ত অজানায় 
কিংবা জ্ঞাতে প্রেমী যুগল থুথু 
ও ফেলে যায় তার পায়ে, 
তার বিষয়ে কেউ 
কিছু জানে না 
সে এক 
বিলুপ্ত আত্মা, অগোচর নায়ক ইতিহাস তাকে 
ভুলিয়ে দিয়েছে অনেক আগে, তা সত্তেও
সে বসে থাকে, অবহেলিত, নিঃসঙ্গ,
নিয়ে হাতে অতীতের ছেঁড়া 
পৃষ্ঠ, লিখতে চায় 
আবার 
পুনর্জাগরণের কবিতা, নব যুগের উপক্রমণিকা,

- শান্তনু সান্যাল 
painting by Caspar David Friedrich 

শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১২


অজানা মূলবিন্দু

ওই বাঁকের বাগ্বাহুল্য কৃষ্ণচূড়া গাছের ঠিক উপরে 
চাঁদ থেমে রয় কিছু ক্ষণ, নিশুতি রাতে 
চাতকের করুণ সুরে প্রেম জেগে 
রয় জোছনার সাথে, করে 
অনশ্বর কলতান, 
ভরে যায় 
জীবনের  শুন্যতা আপ্রাণ, তার হৃদয়ের পরতে,
হয় ত ঝরে বিন্দু বিন্দু নিহার কণা, 
নিদ্রার পলকা মেঘ উড়ে চলেছে 
সুদুর ভিন্ন দেশে, দেহে 
ধরিয়ে অদৃশ্য 
বহ্নিশিখা, 
অন্যমনস্ক মন সহসা চঞ্চল, কে যেন ছুঁড়ে 
গেছে শান্ত ঝিলে ঢিল, ধীর সমীরণ 
কিন্তু উঠে চলেছে বুকের 
মাঝে অপ্রত্যাশিত 
হিল্লোল.

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by Artist Jeanine Malaney 


শুক্রবার, ৯ মার্চ, ২০১২


কল্পনার বাহিরের চাহিদা 

এই উচ্ছাসের কোনো সীমাবদ্ধতা নাই অসীম 
প্রবাহে গড়িয়ে যেতে চায় ভাবনার ধারা, 
দুই স্রোতের মিলন বিন্দুর আগে ও 
আছে বিস্তীর্ণ এক জলাধার,
সে বিশ্বাস করে না, 
তার গন্তব্য 
শুধুই 
বহিরাগত সংযুক্তি, চার পাঁচিলের মধ্যে -
শ্বাস বিনিময়, নির্জীব পাথর হয় 
স্থির পড়ে থাকা, অনুপায়
পরস্পর কে সহ্য 
করা, 
জীবনের মূল্য যেন বৃষ্টি ছায়ার অবাঞ্ছিত 
প্রান্তর চেয়ে থাকে উদাস চোখে,
জানালার বাইরে জলভরা 
মেঘের দেশান্তরী  
পলায়ন, 
পার্থিব দেহ চায় অবিরত বৃষ্টি, অতিরিক্ত 
চাহিদা জাগিয়ে  যায় মায়াবী তৃষ্ণা, 
অস্তিত্ব তখন আদিকালীন 
অগ্নিশিখা, হাজার 
হাজার বর্ষার 
পথ 
চেয়ে বসে থাকে, ভুমিকম্পিত ফাটলের  -
মাঝখানে অসহায় একাকী,

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২


অভ্যন্তরীণ শক্তি 

খণ্ডিত বিগ্রহ বলে দূর করা যায় না জীবনের 
সত্যতা, ভাঙনের সঙ্গেও জড়িত  থাকে,
অনেক  গোপন  সৃজনের  সম্ভাবনা, 
সুতরাং সমস্ত  বিশৃঙ্খল  
অনুভূতি নিয়ে নব 
উপাসনা, 
হৃদয় গড়ে চলেছে দুঃখের মাঝে সুখের নবীন 
গাঁথন, উদ্ভাবনীর  কল্পনা, উপেক্ষিত 
ভূমির বুকে যেন ফসল 
ফলানোর চেষ্টা, 
গেরণের
অনুভাবে ও রাত হয় নি কুত্সিত, ক্ষণিক
অবহেলার পরে আকাশ যেন হয় 
উঠেছে বেশি সুন্দর, উজ্জ্বল,
ভরে চলেছে ঐশ্বরিক 
আলো, যারা 
করে 
গেছে তিরস্কৃত, ঘৃণা, তারাই দেখি খুলে 
চলেছে সমীহের লৌহ কপাট,
অন্তর্মনের শক্তি অপার,
ভরে যায় অজ্ঞাত 
ভাবে জীবনে 
প্রাণ 
সঞ্চার, খণ্ডিত প্রতিমা ফিরে  পায় পূজার 
বেদি, লুপ্ত মূল্যদান - - 

- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

নিরীহ প্রেমের  উত্পত্তি 

নিরীহ চোখের অভিলাষ, ভাঙা রঙিন খড়ি,
কালো স্লেটে লেখা কিছু ভুল বর্ণমালা, 
পাঁচিলে বসে রয় শৈশবের দিন 
গুলি, স্মৃতিরা খেলে 
নদী পাহাড়, 
চড়ই পাখির উড়ন্ত শিমুল তুলো তুলে ধরা, 
কোথা হতে হঠাৎ বয়ঃ সন্ধির  বাজ  -
পাখির  যেন  উড়ে আসা, 
সুখের  শালিকের 
মুহুর্তে 
নিরবতা, সন্ধ্যার  মুখে  মেঘের  আনাগোনা,
পলাশ রঙ্গী আকাশ জাগিয়ে যায় 
মনের মাঝে সুপ্ত আন্দোলন ,
ভেসে আসে দূর  হতে 
বন তুলসীর  
গন্ধ,
কে যেন উস্কিয়ে গেছে গুপ্ত আঁখির ভাষায় ,
দেহ ও প্রাণ, দৌড়িয়ে রয় ঘুম 
সারা রাত যেন বাউল 
পাড়ায়, সেই 
অশ্বত্থ 
গাছের ভূতের ভয় যেন সরে গেছে বহু দূরে,
খালের পাড়ে বসে  থাকে একাকী 
মন  কার  যেন  অপেক্ষায়ে, 
প্রেম  যেন  মহা  ভিতু 
ভাবনার  সাঁকো
পার  করতে 
রাত 
যায় পোহায়ে, জুয়ার  নেমে  চলেছে  নিশীথে,
সে দূর  থেকে  হেসে যায়  আঁচল 
মুখে  চেপে  - - 

- শান্তনু  সান্যাল 
art - Wooden Bridge Print by T. C. Chiu