মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

পুনর্জীবিত অভিলাষ - -


সেই কুয়াশায় ডুবো ডুবো, রাত্রি শেষের -
দূরগামী ট্রেনের, বহুদূরে সরে
যাওয়া শব্দগুলো হঠাৎ
যেন বুকের খুব
কাছে এসে,
জীবনের নিঝুম চত্বরে, হাত ধরে তোমায়
নিয়ে আসে হৃদয়ের শূন্য ঘরে। তখন
হাসনুহানা কুঞ্জে ওঠে অলৌকিক
সুরভি তরঙ্গ, আর উন্মুক্ত
আকশের বুক হতে
ঝরে বিন্দু
বিন্দু হিমের কণা, আমার নিঃশ্বাসে এমন
সময়ে তুমি ঢেলে যাও প্রেম সুধা, আমি
হয় ওঠি সেই মুহূর্তে  দ্বিজ মানব
করি তোমার অন্তহীন
উপাসনা।
* *
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ১ মে, ২০২৩

বিস্মৃত ইতিকথা

 ঝাউ বনের সেই অর্ধ উত্খনিত ঢিবি জ্যোত্স্না রাতে খুলে উন্মুক্ত বুক খানি 

চাতক কি কোন অপরিচিত নিশাচর পাখি 

হটাত তির্যক ঝাপটা মেরে, ধরে নিয়ে যায় 

সুক্ষ্ম কীট, পতঙ্গ, তৃণ ও শিখর 

ডানার শব্দে কেঁপে উঠে প্রাচ্য ইতিবৃত 

পোড়া মাটির ভাঙা অশ্ব,পুতুল, কলশি

মাটির ফুল, পাতা, শ্যাওলা মাখা স্বপ্নগুলো 

বাষ্পময় আলোয় খেলে দুই আকৃতি 

ফিসফিস কথায় জোনাকিরা হাসে, ফাঁস করে 

গোপন মর্ম, উড়ন্ত ছায়াকৃতি কিছু ক্ষণ 

স্থির থেমে রয় শ্বেত চাঁপার বৃন্তে 

ধুম্র বলয়ের রূপে দোল খেলে, হারায় 

আবার প্রগট সর্পাকার উর্দ্ধমুখী -

তারা লৌহ যুগের প্রান্তরে যায় উড়ে 

পরিতৃপ্ত করে দেহ ও প্রাণ, সারি সারি আধজ্বলা

কাঠের অঙ্গারে খুঁজে প্রেমের আলেয়া 

পর্ণ বস্ত্র চ্যুত করে মৃগচর্ম করে ধারণ 

মনের অরণ্যে হিংস ভাবের উত্পত্তি উতুঙ্গে

মৃগয়ার বেশে উলঙ্গ ভাবনার পুনর্জন্ম 

সে করে যায় চিত্কার, সভ্যতার সঙ্গে চাঁপানো

আদিমতার উদয়, তারা নিরন্তর হেসে যায় 

তামসিক রাত্রি ঢেলে রয় রহস্য রোমাঞ্চ 

ক্রন্দন ও হাসির মাঝখানে আকৃতি ফিরে পায় 

লাজুক সকাল, তুলে থাকে অমূল্য ইতিহাস 

ডিবির বক্ষে নখের দাগ কিংবা পাখির পদচিহ্ন

এঁকে যায় জীবনের বাস্তবিকতা, শিশির ভেজা তুলিকায় !

--- শান্তনু সান্যাল      

শব্দহীনতা - -

বিহান ও সাঁঝের মাঝে বহে গেছে এক
জীবন ধারা, এখন শব্দহীনতার
সাথে কথা বলে অন্ধকার,
প্রস্রব মর্মঘাতে
রেখে
চলেছে রাত্রি আলতো হাতের সজল
তুলো, মৌন উড়াল সেতুর
নিচে, শীত কাতর
স্বপ্নগুলি
খুঁজে অজ্ঞাত বুকের পান্থশালা, এক
জামিনদার কি সকালের
প্রতিনিধি চায়
কিছু
মূল্যবান বিনিময়, বন্ধকের সামগ্রী !
দিগন্তের অদৃশ্য আলোর জন্যে
জীবন করে যেতে চায়
ফাঁকা কাগজে
কম্পিত
হাতের এলোমেলো স্বাক্ষর, দেহের
মৃত্যুর পরে প্রাণের পলায়ন,
যতই জড়িয়ে যেতে
চায় হৃদয়
তার
প্রণয়ের পুষ্পাঙ্কিত শাল, ততই সরে
যায় সুদূরে পলাতক অনুরাগী
কুটুম্বিতা, জামিন
দিতে কেউ
দেখি
আর এগিয়ে আসে না, জীবন শুধুই
এক মূল্যহীন ছায়া হারিয়ে
যায় শুন্যের গভীরে,
* *
- শান্তনু সান্যাল




রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩

শ্রাবণের শেষ বৃষ্টি - -

অনেক সময়ে দেহের খাঁচা হটাৎ যেন মনে
 হয় এক ফাঁপা প্রাসাদ, নিঃশ্বাসের
 ঝাড়বাতি নিভু নিভু, আর
 স্মৃতিরা করে যায়
 অট্টহাস, ওই
 বিবর্ণ
 দেয়ালের গায়ে সারা রাত জীবন করে যায়
 ছায়া নৃত্য, তবুও জানি না কেন, হৃদয়ে
 জেগে রয় সকালের কচি আলো,
 কিংবা তোমার নিঃশর্ত
 ভালোবাসা, অথবা
 বেঁচে থাকার
 স্পৃহা।
আসলে, অভিলাষের ফর্দ খুবই দীর্ঘ ! তাই -
আঙ্গুল ধরতে গিয়ে দেখি কনুই যেন
প্রলুব্ধ করে যায় সাঙ্ঘাতিক
ভাবে, আর দেহ তখন
সদ্য  বিস্ফোরিত
আগ্নেয়গিরি,
ধরে
রাখতে চায় বুকের মাঝে শ্রাবণের শেষ বৃষ্টি।

* *
- শান্তনু সান্যাল  


   

  

বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩

চির জ্যোতির্ময় !

শীতকালের শেষে যখন মহুয়ার গাছে
ফুলের শঙ্কু ধরে, পাতা ঝরার
মৌসুমে অরণ্য নদী গুটিয়ে
বহে যায় সুদুর অঞ্চলে,
ওই মন্থর ধারায়
জীবন খুঁজে,
তার বুকে লুকানো ভালবাসার গুপ্ত -
জলধারা, কখনো শিলা খণ্ডের
নিচে, কখনো ভূগর্ভস্থ
স্রোতের রূপে
ভেসে ওঠে
সিক্ত ভাবনার অর্ঘ্য তার ভাসা ভাসা
চোখের তীরে, কোন পাষাণযুগীন
মন্দিরের ভগ্নাবশেষ তার
প্রণয়ের টেকসইতা,
উৎসন্ন হওয়ার
পরেও যেন
খুলে হাসে জোছনাভরা রাতে, আজও
তার হৃদয়ে ভেসে ওঠে এক অমূল্য
উদ্ভাসন, বাস্তব প্রেম তখন
সুবর্ণ উপলব্ধি, চির
জ্যোতির্ময় !

* *
- শান্তনু সান্যাল



 

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৩

বিযুক্ত সাথীর বুকে - -

সে সহযাত্রী ছিল ঠিকই, কিন্তু কোথায় - -
 
যেন তার অনুরাগে নিশ্চই ছিল
ঘাটতি, আলো – ছায়ার
ওই খেলায়, কখনো
সে ছিল অন্তিম
কুঠরিতে
হাত বাড়িয়ে আকাঙ্ক্ষিত, আবার অনেক
সময়ে আমি ছিলাম একাকী দাঁড়ানো,
শীতের মধ্য রাতে, জন শূন্য
স্টেশন চত্বরে, বিনিদ্র
চোখে চেয়ে
আছি সুদুর সুড়ঙ্গ পথে, যেখানে গেছে যেন
হারিয়ে, শেষ প্রহরের কাচিক স্বপ্নের
দেশ, বিরোধিতা কি অবহেলা
অথবা অনুক্ত ভালবাসা,
সব কিছুই ছিল
তার মধ্যে,
বিশ্বাসঘাতকতা একটুও ছিল না ওই বিযুক্ত
সাথীর বুকে - -
* *
- শান্তনু সান্যাল


বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩

পড়ন্ত বেলার নরম রোদ্দুর - -

তুমি আজও শীতকালীন, পড়ন্ত বেলার
নরম রোদ্দুর, লুকিয়ে গায়ে মেখে
রাখতে চায় এ জীবন, তাই
কখনো সখনো দেখি
স্মৃতির অলিন্দে,
সন্ধ্যার
পরেও কী

যেন চিক চিক করে, পড়ে -
রয় আপন মনে অনেক ক্ষণ, তুমি
আজও যেন শিউলির চাপা
জাফরান গন্ধ, পাতা
ঝরার মৌসুমেও
জড়িয়ে
থাকো সারাটা শরীরে, কোনো মসৃণ
কাশ্মীরি শালের রূপে ! যাকে
বলে বহির্গামী শীতের
গোলাপী আভাস,
আশ্চর্য্য
বৈকি ! বারংবার মধুমাস এলো গেলো,
নিসর্গের নিয়ম চিরস্থায়ী, নিজের
জায়গায় সময়ের হাতে সঠিক
বাঁধা, তবুও তুমি দেখি
একটুও বদলাও
নি, বুকের
মাঝে, যথারীতি আগের যেমন ছিলে -
রোদ ছায়ার মিলন বিন্দু তে, হাসি
কান্নার মাঝে এক তির্যক
রেখার সমরুপে
উপস্থিত !
অদৃশ্য থেকেও, তুমি করে যাও অদ্ভুত
অধিকরণ - -

* *
- শান্তনু সান্যাল