শনিবার, ৬ মে, ২০২৩

নিয়তির আঁচল - -

সাদা ও কালোর ওই চিরন্তন সত্য, -
চিরদিনই রইলো অজানা, বহু
বার আমি, ছকের শেষ -
প্রান্তে দাঁড়িয়ে, খুঁজেছি
জীবনের বিলুপ্ত
প্রতিশব্দ !
আর শূন্য হাতে ফিরে এসেছি নিজের
বৃত্তে। দেখি সমস্ত আন্তঃসম্পর্ক
কেমন যেন গুটিয়ে নিতে
চায় নিজেদেরকে
এক নির্দিষ্ট
সীমানায়, তখন আমি কিছু আশাহীন
বৈকি, তবুও হাল ছাড়তে চাই নি।
পুনরায় শিখতে চাই হৃদয়
জেতার শিল্প, জীবন
সেই মুহূর্তে খুবই
অনুগ্রহী,
মৌন ভাবে যেন আমায় উস্কিয়ে যায়,
আর আমি, আবার সমস্ত মনের
ফাটল লুকিয়ে নিতে চাই,
এখানে হয়ত আমি
একটু স্বার্থপর,
আমিই
কেন, সবাই এই দুনিয়ায় প্রত্যক্ষ বা -
পরোক্ষভাবে আত্মকেন্দ্রিত, সবাই
চায় নিজের ভাগের খুশির
উপভোগ, কেউ পায়
অল্প আর কেউ
একরাশ,
যার যত বড় নিয়তির আঁচল - - - !

* *
- শান্তনু সান্যাল   

শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩

অন্তর্মনের অনুনাদ - -

 জীবন শুধুই নয় সীমাবদ্ধ সোনালী ফ্রেমের
চতুষ্কোণে, কিছু আগাছার গায়ও ফুটে
রয় অদ্ভুত সুন্দর ফুল ! অনেক
সময়ে আপন মানুষ ভুলে
যায় আপন জনের
ঠিকানা - -
আবার অনেক সময়ে, পরকীয় মানুষ হয়ে -
ওঠে অনাহূত মসীহের প্রতিরূপ ! তুলে
ধরে পড়ন্ত মানুষের রক্তঝরিত
দেহ খানি । ওই  অদৃশ্য
আত্মীয়তা বেঁধে
রাখে নিজের
বুকে মানবিকতার চির ভাবনা, তাই এখনো
পৃথিবীর সৌন্দর্য ক্ষয়ে যায় নি, এখনো
বহু মানুষের বুকে সংবেদনার লহর
আছে বাকি, এখনো বহু
মানুষের চোখে
ধর্মের ওই
রঙ্গীন চশমা অর্থহীন, তারা বিচার করে শুধুই
অন্তর্মনের অনুনাদে।

* *
- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

সুজন মানুষ গেল যে কোথায়

বুকে জড়িয়ে সেই বোবা বিগ্রহ, কে তুমি হে !
বিষন্ন বৈষ্ণবী, ঘাটের চাতালে বসে 
কার লাগি পথ চেয়ে আছো, 
ডুমুর ফুল ফুটে ছিল না 
কি, কেউ ত দেখি 
নি, জানি না 
কেন 
নিঝুম রঙ্গীন সাঁঝে ফেলে চলেছ আঁখি জল,
তার প্রেমে ছিল দৈহিক গন্ধ, তাই 
সহজে ফুরিয়ে গেল, নদীর 
এক ডুব জলে, হৃদির 
সেই শূন্যে  ভরতে 
পারি নি,
অনন্ত উপাসনার মর্ম , শুধুই মধুকর হয়ে 
ঘুরে গেছে ফুলে ফুলে, গন্ধে গন্ধে 
ভরা শ্রাবণে যেন রইলো সে 
তৃষিত, অতৃপ্ত, তথাপি 
অন্তরে ছিল  সুধা 
প্লাবিত ভুবন, 
বাহিরে 
খুঁজে গেল সে আজন্ম, সুজনের প্রেমে অন্ধ 
লুটিয়ে গেছে দেহ ও প্রাণ, মনের 
গুপ্ত গর্ভ গৃহে সে পাই নি তার 
দেখা, বহুধা সোহাগ 
ঢেকে অন্ধকারে 
সে ফিরে 
এসেছে উদাস মনে, রাধা ও মীরার মাঝে 
খুঁজেছে সে তার হারানো পরিচয়,
অলৌকিক ও লৌকিক জালে 
জলবিহীন মাছের যেন 
নিয়তি, প্রাণ প্রতিষ্ঠা 
সদাই রইলো 
অপূর্ণ, 
বৃথা গেল দেহের উষ্মা, নিবন্ত অষ্ট প্রহর 
জ্বলে নি মনের প্রদীপ, ভাসন্ত সুখ 
গেছে উড়ে যেন এক শাপিত
স্বর্গ,  হাতছাড়া জীবন 
এখন খুঁজে বেরোয়
 খাঁটি প্রণয়ের 
হদিস, বিক্ষিপ্ত ভাবনা নিয়ে উড়ে যায়  শুষ্ক 
মেঘ, আকাশ পথে জানি না 
কোথায়  - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 

বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

নেপথ্যের প্রাণী - -

কাল ও আজের মাঝে কিছুই বদলায় নি,-
ওই সকাল ও সন্ধ্যার সমীকরণ, 
যথাবত নিজের জায়গায় 
আছে দাঁড়ানো, হয় 
ত কিছু স্বপ্ন 
তুমিও 
বুনেছ একান্ত মনে, হয় ত কিছু অব্যক্ত - - 
ভাবনা, আমিও চাই তোমায় বলতে, 
মৌন বিনিময়ের এই ক্রমে, 
ভালবাসা যেন এক 
পলাতক শিশু
খুঁজে -
চলেছে এক স্থায়ী আশ্রয়, অন্ধকার এবং - 
আলোর ওই চিরন্তন গ্রাসের খেলায়,
কখনো তুমি পূর্ণিমার চাঁদ,
আর আমি পৃথিবীর 
ছায়া, এক 
নীরব 
দ্বন্দের মাঝে জীবন চক্র ঘুরে চলেছে - - 
অবিরাম বেগে, দিন ও রাতের 
মাঝে কিছুই পরিবর্তন 
ঘটে নি, কেবল 
যবনিকার 
রংগুলি
অস্থায়ীভাবে গেছে বদলিয়ে, নেপথ্যে - -
এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে আস্থা - 
নামক প্রাণী, বুকে নিয়ে 
কাচিক ভাবনার 
খেলনা !
* * 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Winter-Morning-oil-painting

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

পুনর্জীবিত অভিলাষ - -


সেই কুয়াশায় ডুবো ডুবো, রাত্রি শেষের -
দূরগামী ট্রেনের, বহুদূরে সরে
যাওয়া শব্দগুলো হঠাৎ
যেন বুকের খুব
কাছে এসে,
জীবনের নিঝুম চত্বরে, হাত ধরে তোমায়
নিয়ে আসে হৃদয়ের শূন্য ঘরে। তখন
হাসনুহানা কুঞ্জে ওঠে অলৌকিক
সুরভি তরঙ্গ, আর উন্মুক্ত
আকশের বুক হতে
ঝরে বিন্দু
বিন্দু হিমের কণা, আমার নিঃশ্বাসে এমন
সময়ে তুমি ঢেলে যাও প্রেম সুধা, আমি
হয় ওঠি সেই মুহূর্তে  দ্বিজ মানব
করি তোমার অন্তহীন
উপাসনা।
* *
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ১ মে, ২০২৩

বিস্মৃত ইতিকথা

 ঝাউ বনের সেই অর্ধ উত্খনিত ঢিবি জ্যোত্স্না রাতে খুলে উন্মুক্ত বুক খানি 

চাতক কি কোন অপরিচিত নিশাচর পাখি 

হটাত তির্যক ঝাপটা মেরে, ধরে নিয়ে যায় 

সুক্ষ্ম কীট, পতঙ্গ, তৃণ ও শিখর 

ডানার শব্দে কেঁপে উঠে প্রাচ্য ইতিবৃত 

পোড়া মাটির ভাঙা অশ্ব,পুতুল, কলশি

মাটির ফুল, পাতা, শ্যাওলা মাখা স্বপ্নগুলো 

বাষ্পময় আলোয় খেলে দুই আকৃতি 

ফিসফিস কথায় জোনাকিরা হাসে, ফাঁস করে 

গোপন মর্ম, উড়ন্ত ছায়াকৃতি কিছু ক্ষণ 

স্থির থেমে রয় শ্বেত চাঁপার বৃন্তে 

ধুম্র বলয়ের রূপে দোল খেলে, হারায় 

আবার প্রগট সর্পাকার উর্দ্ধমুখী -

তারা লৌহ যুগের প্রান্তরে যায় উড়ে 

পরিতৃপ্ত করে দেহ ও প্রাণ, সারি সারি আধজ্বলা

কাঠের অঙ্গারে খুঁজে প্রেমের আলেয়া 

পর্ণ বস্ত্র চ্যুত করে মৃগচর্ম করে ধারণ 

মনের অরণ্যে হিংস ভাবের উত্পত্তি উতুঙ্গে

মৃগয়ার বেশে উলঙ্গ ভাবনার পুনর্জন্ম 

সে করে যায় চিত্কার, সভ্যতার সঙ্গে চাঁপানো

আদিমতার উদয়, তারা নিরন্তর হেসে যায় 

তামসিক রাত্রি ঢেলে রয় রহস্য রোমাঞ্চ 

ক্রন্দন ও হাসির মাঝখানে আকৃতি ফিরে পায় 

লাজুক সকাল, তুলে থাকে অমূল্য ইতিহাস 

ডিবির বক্ষে নখের দাগ কিংবা পাখির পদচিহ্ন

এঁকে যায় জীবনের বাস্তবিকতা, শিশির ভেজা তুলিকায় !

--- শান্তনু সান্যাল      

শব্দহীনতা - -

বিহান ও সাঁঝের মাঝে বহে গেছে এক
জীবন ধারা, এখন শব্দহীনতার
সাথে কথা বলে অন্ধকার,
প্রস্রব মর্মঘাতে
রেখে
চলেছে রাত্রি আলতো হাতের সজল
তুলো, মৌন উড়াল সেতুর
নিচে, শীত কাতর
স্বপ্নগুলি
খুঁজে অজ্ঞাত বুকের পান্থশালা, এক
জামিনদার কি সকালের
প্রতিনিধি চায়
কিছু
মূল্যবান বিনিময়, বন্ধকের সামগ্রী !
দিগন্তের অদৃশ্য আলোর জন্যে
জীবন করে যেতে চায়
ফাঁকা কাগজে
কম্পিত
হাতের এলোমেলো স্বাক্ষর, দেহের
মৃত্যুর পরে প্রাণের পলায়ন,
যতই জড়িয়ে যেতে
চায় হৃদয়
তার
প্রণয়ের পুষ্পাঙ্কিত শাল, ততই সরে
যায় সুদূরে পলাতক অনুরাগী
কুটুম্বিতা, জামিন
দিতে কেউ
দেখি
আর এগিয়ে আসে না, জীবন শুধুই
এক মূল্যহীন ছায়া হারিয়ে
যায় শুন্যের গভীরে,
* *
- শান্তনু সান্যাল