সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩

জলমগ্ন সমারোহ

সূর্য ডুবেছে গহন অন্ধ খাদের মাঝে,
রাত্রি ভূগর্ভস্থ পথের যাত্রী, ঠিক
অবগাহন বিন্দু থেকে ভেসে
উঠবে সারা গায়ে মেখে
জোনাকির আলো,
আমি অতলে
গিয়ে খুঁজি
প্রাণবায়ু,
তুমি
কিনারায় বসে দেখছো ভেসে উঠা
নিঃশ্বাসের বুদবুদ, আস্তে আস্তে
সারা বিবস্ত্র দেহে জলছবির
অঙ্কন, অথৈ জগতের
এখন আমরা অন্ধ
মাছ, বিবর্তনের
সিদ্ধান্ত এই
মহূর্তে
অর্থহীন, সারা শরীরে চকচকে স্পর্শ
আঁশ, তুমি যে পথ দিয়ে নেমেছো
আমার ভেতরে, ওই পথের
কোনও প্রস্থানের দরজা
নেই, শুধুই একমুখী
রাস্তা, এখন
জলের ধরাতলে সব কিছুই অধরা, না
কোনো ঘূর্ণি, না ভেসে উঠা বুদবুদ,
সূর্যোদয় পর্যন্ত সব কিছুই
নিঃস্তব্ধ, কিন্তু অতলে
জলমগ্ন বসন্তের
সমারোহ |
– শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩

জীবন্ত সমাধি

অনেকটা পথ হাঁটার পরে ফিরে
তাকিয়ে দেখি সব পিছুটান
আবছা, পুরাতন ঘড়ির
কাঁটা থেমে আছে
কুয়াশা ভরা
আকাশের
গায়ে,
এই
শহরের সীমান্তে, নিভু নিভু আলোর
মাঝে, নদীর বুকে জোনাকিরা
করে অদ্ভুত নীলাভ খেলা,
আর কিনার রেখায়
চলে সারা রাত
মুখাগ্নির
মেলা,
ঝুলন্ত পুলের নীচে বহে যায় শতাব্দীর
আবর্জনা, আধপোড়া সোনার দেহ,
কত কিছু , অগণিত গলন পচনের
পরেও সেই জলেই দেউলের
জলাভিষেক, নদী তখন
দিব্য জলধারা সংজ্ঞা
বিহীন জীবন
দায়িনী
মাতৃ রূপা, মহানগরের বুকেও আছে
এক বিস্তৃত মরা নদীর চড়, ভাঙা
দেউলের গায়ে লেখা আছে
তার ইতিহাস, ব্যস্ত রাস্তার
দুই পাশে রয়েছে কত
হারানো গোঙানি,
চাঁপা কান্নার
মাঝে এক
ঘেয়ে
জীবনযাপন, শেওলা ধরা ছাদে দাঁড়িয়ে
দেখি সুদূর নদীর গায়ে জোছনার
রুপালি চাদর, আর নিথর
দেহে রজনীগন্ধার
আতর - -
* *
- - শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ৯ জুন, ২০২৩

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন

 রঙ্গ মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা, তুমি আর আমি শুধুই নয়,
রয়েছে মহা মিছিল, অদৃশ্য দর্শক ও শ্রোতা,
এই অন্তরিক্ষ জড়িত যবনিকায়
অগণিত প্রকাশপুঞ্জ মায়াবী নিহারিকা,
ভেসে যায় শূন্যে, গতিময় জন্ম মৃত্যুর ভেলা,
বৃহতম সেই কালজয়ী মহাচক্র
দুলে যায় তীব্র বেগে সময়ের অজস্র নাগরদোলা,
জানি তুমি বিশ্ব বিজয়ী নিজের ভুবনে,
তবুও পরাজিত অন্তঃ দাহের সমরে,
রাজন ও ভিক্ষু চলেছে এক পথে অনাম সন্ধি বেলা,
এখানে উদিত ভালবাসার শতদল পূর্ণ রূপে
সরসির বক্ষে, আবার লুপ্ত মহা অগ্নিশিখা নিমিষে,
পাস কাটিয়ে যাওয়া অসহজ ও মুশকিল,
সব কিছুই পঞ্জিবদ্ধ রয়েছে অপরিচিত অদৃশ্য খাতায়,
সময়ের বুকে সব কিছু পূর্ব মুদ্রিত, অনন্ত প্রেম অথবা বিন্দু বিন্দু অবহেলা,
রঙ্গ মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা।
-- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ৭ জুন, ২০২৩

সে যখন আরণ্যক ভালবাসা

কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটে যায় জীবনে, নিঃশব্দ, অনেক সময় মনে হয় যেন নিজের
ছায়া অনুধাবন করে চলেছে,
তখন অস্তিত্ব নিয়ে ভয়
পায় মন, নির্লজ্জ
আয়না চেয়ে
রয়, লোম
প্রতি
লোমের প্রতিক্রিয়া, জানালার ভাঙা কাচের
কপাটে তখন জোছনার চঞ্চল কণা স্থির,
বন্য বেড়ালের মতন ঢুকতে চায়
চাঁদের আলো, গুটিয়ে গুপ্ত
সব নখর, তার
অতৃপ্ত মন
কি দেহ !
বুঝতে গিয়ে হৃদয় হয় উঠে আরণ্যক মৃগয়া,
সে এখন অরণ্য নদী গ্রীষ্ম কালের, রুক্ষ,
শুষ্ক, নির্জলা, নিষ্প্রাণ পড়ে রয়েছে,
বুকের পাঁজর ধরে, তার
অভিলাষের সীমানা,
বৃহত ! আকাশ
কুসুম তুলে
আনার
বাহিরে, তবু আমি সরিয়ে যাই তার কটিবন্ধের
পাথর, শেওলা, জলজ কন্টকের লতা বৃন্ত,
দিবা নিশি ঝুঁকে রয়েছি তার উপরে,
যদি হটাৎ কোনো ভূগর্ভস্থ
স্রোত চমৎকৃত করে
যায় ঊষর ভূমি,
স্বপ্ন গুলোর
বীজাণু
এখনো অভিনব, কাঁচা হলুদের রঙে ডুবানো,
 প্রাণ পণে করে চলেছি খনন, অবিরাম
নিরন্তর, পরিশ্রান্ত মুখে মাঝে মাঝে
তার অধরের কম্পনে খুঁজি
স্পর্শমণি, তার চোখের
ছায়ায় যেন বসে
আছে বিহান,
হাঁটুর উপরে মুখ রেখে, ক্লান্ত, নিদ্রালু চোখে -
চেয়ে আছে তার শ্রাবণী রূপ, মাংসল
শরীর, বীজের মাঝের পথে দেখি
সবুজ রং, কচি পাতার উঁকি,
নদী এখন তীর দ্রোহী,
বহুগামিনি, দুঃখের
দিন মনে করতে
চায় না, শুধু
বহে যেতে
চায়, বহিয়ে নিয়ে যেতে চায় পাথর, অরণ্য,
লৌকিক পরলৌকিক, সমস্ত স্বপ্নের নৌকা
উজানের দেশে।
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/







মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩

কাগজের ফুল হলেও - -

শহরের ওই শেষ প্রান্তে দেখেছি তাকে

শুকনো লাল মাটির বুকে, বেশ
হাত পা ছড়িয়ে, জীর্ণ শীর্ণ
দেউলের গায়ে হেলান
দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
একরাশ ফুলের
সাথে, সে
যেন বুঝিয়ে দিতে চায় বেঁচে থাকার
মন্ত্র উপেক্ষিত প্রান্তরে, সে নিজের
বুনো দাপট নিয়ে পর্যটক কে 
জানিয়ে দিতে চায় তার
উপস্থিতি। তারা
হার মানে
না, হয়'ত তাদের চাহিদা খুবই কম -
তাই সারাটা বছর শাখা প্রশাখায়
ফুটে রয় অজস্র ফুল, আসলে
তাদের অভ্যন্তরীণ বুকে
জমে থাকে গভীর
জলস্রোত !
তারা শুকতে জানে না । শুধুই লুটিয়ে
যায় অন্তহীন প্রেমের কুহক ! তারা
কোনো ভাবেই ভাঙ্গা দেউলের
প্রাচীর ছেড়ে যেতে চায়
না, আকড়িয়ে
রাখতে
চায় উপাসনার ওই পবিত্র মাটিকে -
চিরকালের জন্য - -
* *
- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩

জীবনের সার্থকতা

পৃথিবী জুড়ে রয়েছে শোক, বিলাপ,
বিষন্নতা, জীবনের এই উধ্বস্ত
পরিমন্ডলে কিছু ক্ষণ যদি
তার সমীপে স্বপ্ন ঝিনুক
কুড়িয়ে যাওয়া, ক্ষতি
কী? জানি প্রেম
ও নিয়ে যায়
অদৃশ্য
ধ্বংসের মুখে, কিন্তু অবুঝ হৃদয়
মরিচিকার ভাষা বুঝে না,
ব্যাধের তীরে গরল
আছে কি সুধা,
মায়া মৃগ,
সুকরাত
কিংবা
সিদ্ধার্থের পরিচয় জানে না, সে - -
নিসর্গের সাথী, শ্রাবণের ধারায়,
মধুমাসের মৌন আমন্ত্রণে,
পলাশের রক্তিম প্রবাহে
কেবল ভাসতে জানে,
অরণ্য বীথিকায়
কস্তুরীময়
গন্ধে
নিজের জীবন হারিয়ে দিতে চায়,
এই চরম উৎসর্গ বিন্দুই ত
প্রেম, প্রণয়ের পথের
যাত্রি, কখনো
রাধার
অশ্রু
ধারা, আবার যাযাবর সম
বাউলের ওই একতারা !
কান্না ও হাসির মাঝে,
অনাবৃষ্টি ও বর্ষণের
মধ্যে তার দুই
চোখের
বৃষ্টিছায়ার ভূমিতে, হৃদয় দেখে যায়
বেঁচে থাকার স্বপ্ন, পুঁতে যায় নব
পুষ্প চারা !

 -  শান্তনু সান্যাল     



রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩

নিঃসন্দেহে তোমায় - -

নির্মোহী রাত ফিরে গেছে ঝরা ফুলের

পথে, নিভিয়ে তারকের ঝাড়বাতি,
আবছা আলোয় দেখি, নব
প্রভাত করে চলেছে
পুনশ্চ আহ্বান,
জীবনের
সৌন্দর্য্য চিরস্থায়ী, যেখানে ছিল শেষ
পদক্ষেপ, সেখান থেকেই আবার
অভিনব যাত্রার প্রারব্ধ,
পরিচিত চেহারা
বা পান্থ -
নিবাস, সব কিছুই এই জগতে নীহার
বিন্দু, শুধুই ক্ষণিক মুহূর্তের
কাহিনী, যথারীতি
আসা যাওয়া
এবং
অস্থায়ী ঠিকানা, তবুও ভালবাসতে -
চায় এই  হৃদয় চিরকাল, পৃথিবী,
আকাশ, মহাসাগর হতে
সুদুর চিরহরিৎ
অরণ্য -
প্রদেশ এবং নিঃসন্দেহে তোমায় - - - -

* *
- শান্তনু সান্যাল

 

http://sanyalsplanet.blogspot.in/