রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১১

মধ্যেখানি


 মধ্যেখানি 
যত টুক খুশি ছিল ভাগ্যে আমার 
ভাগ করে গেলাম, এই ভাগ ভাগির 
মধ্যেখানি রাখি নি কখনো হিসাব 
এই পলাস্তার ঝরা দেয়ালে,
 ঝুলে রয়েছে তবু কিছু জল রং ছবি 
রং যত ছিল গেছে ঝরে বিন্দু বিন্দু 
জলের ছাপ রয়ে গেছে শুধু 
ছবি গুলো তো আমারই আঁকা 
মায়ার ফ্রেমে জড়ানো তোমার অমূল্য 
হাসি, সেই বাঁকানো হাসির এক কোণে
জীবনের কিছু রহস্য রোমাঞ্চ খেলা করে 
এক ধুর্বে তুমি আছ ধরে স্বপ্ন দড়ি 
অন্য অন্তে আমি টেনে রাখার ভান করি 
আসলে আমি চির পরাজিত 
হয় তো হারিয়ে যাওয়াটাই ভালোবাসি 
ভাঙা আইনা না কী অশুভ, কই কিছুই ত 
হয় নি,চেহেরা আসলে বদলিয়ে গেছে 
আজও তুমি আমায় ভালোবাসো সেই 
এক অনুসন্ধান হারানো প্রাপ্তি  
ওই কোনায় যে ঝুলন্ত দেউল 
সান্ধ্য প্রদীপ নিজস্ব জ্বলে উঠে 
ধুপের গন্ধে ভেসে যায় হাসির গীতাঞ্জলি 
বিস্তারিত সিঁথির মুহানায় 
সূর্য্য ভুলে যায় পথ, হয়ে উঠে চন্দ্র 
জেগে রয়ে হৃদয়ের মাঝে সারা রাত /
 -------
সিড়ি ভেঙ্গে তেতলায় উঠে ছিলাম 
ফিরিয়ে দিতে তোমার দেওয়া কিছু গোপন 
অতীতের ছিন্ন পাতা, দিশাহীন রাত্রি 
মাতাল সাঁঝের ঝিমুনি, ক্লান্ত সকাল
দেহে লিপ্ত প্রবাল শৈবালের ছায়াকৃতি 
উঠেতে গিয়ে দেখি প্রতি সোপানে
ফেলানো ছিল মৃদু স্বপ্ন পালক মর্মাহত 
তুলে নিয়েছি সব কটা তোমার 
অবহেলিত প্রণয় পৃষ্ঠ 
সপথের মিথ্যে আয়ুর দলীল 
ভাঙা শব্দের চাঁপা কান্না 
উড়ন্ত সেতু সম চুম্বন 
ছদ্মময় বিষাক্ত আলিঙ্গন
 আর অনেক কিছু, তবু ও 
চেয়ে ছিল মন জানতে -
তুমি কী সত্যি আমায় ভালবাসতে 
নিঃশব্দ পায়ে উঠে ছিলাম 
সেই তারক প্রজ্বলিত নীলিমার 
মায়াবী জগতে, 
হাসির জুয়ারে দেখি তুমি বিকরাল 
রূপে, উঠে চলেছ চক্রবাতে
অচম্ভিত হৃদয়ে আমি কাঁদতে চেয়ে 
ছিলাম, যেন তুমি নেমে এস !
সেই লৌকিক বা অলৌকিক তোমার 
রূপ দেখে আমি ঘৃণা করি নি 
আমি হাত বাড়িয়ে ছিলাম 
আমি যে তোমায় ভালোবাসি 
নিরুত্তর  তোমার সজল নয়নে 
জীবন দেখতে চেয়েছিলাম 
আজও মন বলে তুমি ফিরে আসবে 
এই কাব্যময় বক্ষে হৃস্বই দীর্ঘই আকারে 
যেখানে আজও শান্ত গভীর 
লুপ্ত বালুময় নদী বহে যায় অবিরাম ---
--- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১১

নায়ক নায়িকা

নায়ক নায়িকা 
ময়ুর পঙ্খী মেঘের পাট
ভাঙি নি এখনো  রয়েছে কোন 
অদৃশ্য সিন্দুকে 
জানি না কোথায় হইতে ঝরে আসে 
লেবু ফুলের ঝির ঝির সুগন্ধ 
ভরে যায় রিক্ত হৃদয় বারে বারে 
তুমি কি দাড়িয়ে আছ এখনো 
অজানা কোন অরণ্য বিথিকায় 
মৃগ নয়নে লয়ে স্বপ্ন মধুর 
অর্ধ নিশীথে শুনেছি তোমায় 
সারঙ্গের মর্ম স্পর্শী ডাকে 
ঝিলের উচ্ছ্স্বাসে জেগে উঠে যেন 
কুমুদীর সুপ্ত অভিলাষা
চেয়ে দেখি জানালার পারে 
অর্ধ নীল চন্দ্র ভেসে যায় 
তোমার সোনালী উত্তরিযর মাঝে 
ছুঁয়ে যায় দেহ ও প্রাণ 
উন্মাদিত তোমার কবিতার যবনিকা 
ঢেলে যায় আঁচলে 
অগনিত আকাশ গঙ্গা
আমি চেয়ে রই নিষ্পলক 
সেই শুভ্র অশ্বারোহী উড়ে যায় 
সুদূর আকাশ পথে 
সেই সোনালী উত্তরীয় বুকে জড়িয়ে আমি 
পাট করে যাই ইন্দ্র ধনুর গড়ানো রঙ্গ 
বারে বারে ---
 ---------------------------------------
অন্য জানা পথে হাঁটা যায় না 
ওই এক ঘেয়েমি মানুষের মধ্যে 
হা করে যেন গিলে যাবে, অসভ্য 
যত সব পরিচিত মুখ 
আর ভালো লাগে না চার দিগে যেন 
অদৃশ্য দহন দিবা নিশি 
তোমার সেই কথায় আমি হাসি নি 
কিন্তু আমি চেয়ে ছিলাম স্বপ্ন দেখতে 
প্রশ্নের মাঝখানে উঁকি দিয়ে ছিল 
অতৃপ্ত তোমার হৃদয়ের মরুভূমি 
শুন্য  স্থানে রং ভরতে পারি নি 
নিয়নের আলো তে ওই বড় বড় চোখে 
ছিল বাঁচার অদম্য বাধ্যতা কিংবা ইচ্ছা 
আমি চেয়ে ছিলাম দুই হাত সহজে ধরে বলি 
আমি আছি ত ! কিন্তু পারি নি 
আমার নিরবতা তুমি বুঝতে পারো নি 
হয়ত বুঝতে ই চাও নি সেই শ্রাবণ সন্ধ্যায় 
উলহানা দিয়ে তীব্র ঝড়ের মত তুমি গেছ চলে 
ফিরে আর যে দেখো নি 
একাকী আমি এখনো পথ চেয়ে থাকি 
কত শ্রাবণ বয়ে গেছে এই লেম্প পোস্টের নিচে 
নিজের ছায়া চিনতে চায় না আমায় 
হয় তো গেছ তুমি ও এই ভিড়ের প্রবাহে 
আর চিনেও চিনতে চাও নি 
ঠিকই ত বেদনা, চিরদিনের যুক্ত সন্ধি নয় 
বিগ্রহ ঘটে গেছে অনেক আগে 
ভালো টা আমার হৃদয়ে, বাসা হয় তো 
তুমি অনন্য কোথায় বেঁধে নিয়েছ //
---- শান্তনু সান্যাল  

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০

ইচ্ছা মৃত্যু

ইচ্ছা মৃত্যু 

সেই কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকাল
গায়ে জড়ানো সাধারণ শাল
হেদুয়ার সেই বিবেকানন্দ রোডে
তুমি পথ চেয়ে ছিলে, সেই নীম গাছ,
অমলতাস কী শিরীষ কিংবা হয় ত 
কৃষ্ণচূড়া,পার্কের বেঁচে বসে অনেক ক্ষণ 
গল্পের মাঝে জেনেছিলাম যে 
তুমি আমায় ভালবাসতে, 
ট্রাম বাসের চলাচল সে দিন ছিল কম
মনে হয় সে দিন ছিল রবিবার,
ঢেউ খেলানো চুলের মাঝে 
কিছু অতীতের পৃষ্ঠে ছিল 
লুকানো রজনীগন্ধা, মেঘবিহীন
নযনাকাশে সে দিন ও ছিল প্রেমাঞ্জন,
আমি চেয়ে ছিলাম  পড়তে বহু দিন পরে 
পুরাতন অভিলেখের ভাষা,
তুমি নিস্তেজ চোখে চেয়ে ছিলে শুন্যে, 
ধুম্র্ময় আকাশে সূর্য্য তখন ও  অস্পষ্ট
ভাস্যমান, কী হলো কোথায় যে হারিয়ে গেলে?
অপ্রত্যাশিত তোমার উত্তরে আমি খুঁজেছিলাম 
প্রণয়ের লুপ্তপ্রায় বিশাল উপত্যকা 
যুগে যুগান্তর ধরে যথাবত 
যেন পরিপূর্ণ স্থির গভীরতম জলরাশি,
অনন্ত সলিলা,কিন্তু সচক্ষে কেও সে দেখি নি 
নীচে গড়ানো শাল, হাতে তুলে আমি শুধুই 
তোমার মৃতপ্রায় দেহে আসতে জড়াতে গিয়ে 
নিজেকেই মৌন প্রশ্ন করলাম -
প্রেমের কী ইচ্ছা মৃত্যু সম্ভব !
-- শান্তনু সান্যাল 
 painting - kanchanmala ghosh     

বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১০

ভালই ছিলাম

বেশ ভালই ছিলাম 
পুকুর পারে কলমির গন্ধে 
টিয়া রঙের কদলী পাতায় 
শালিকের আপন মনে, চাতালে 
বসে একাকী ভিন্ন ভাষী গল্পের মাঝে,
বাজের মত ধুসর ডানায়
কে যেন ঢিল ছুড়ল, শান্ত মনে -
দ্বিপ্রহরের ঘুমে ওই ছিঁটে ফোঁটা
বর্ষায়, হটাত তোমার প্রেমের চিরকুট 
উড়ে আসে ভেজা দালানের গায়ে, 
আমি পড়তে চাই নি এটাও মিথ্যে 
কিন্তু ভিজতে দিতে চাই নি ওটাও সত্যি 
আদ্র সাঁঝের সঙ্গে বৃষ্টি ও কেঁপে উঠলো 
অর্ধ উলঙ্গ যেন কোনো বৈরাগী, 
মিষ্টি অনুভূতির সেই চিঠির নৌকা 
না চেয়ে ও ভাসিয়ে দিলাম
অজানা নদীর ধারে,
কবে যে ভিজে গেছি মনে নাই 
নৌকা ভাসানোর ব্যথা নিয়ে বুকে 
আজ ও বসে আছি সেই শঙ্খ ঝিলের তীরে 
বর্ষা থেমে গেছে বহু দিন আগে, 
আকাশের গায়ে রঙ্গ ধনু যেন আবছা 
ধুয়ে গেছে ভালবাসা //
---- শান্তনু সান্যাল  

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১০

প্রেমের মায়া

নীলাভ তিমিরে সাঁঝের আলেয়া, ভেসে উঠে অসংখ্য 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য  প্রেমের মায়া,
মন্থর গতি লয়ে বহে যায়, দুই নদীর সুপ্তময়  কিনারা 
বহু দূর ক্ষিতিজে মিশে একাকার,স্নিগ্ধ দুটি মূর্ত ছায়া ,
মালবিকা বনে চন্দ্রিমা ঢেলে যায় অবিরল প্রণয় সুধা,
অনন্ত কালে পরিণিত মুক্ত ছন্দ, আজ যেন একান্ত কায়া,
অজ্ঞাত বৃক্ষে রয়েছে,স্বপ্নময়ী কৃষ্ণচুড়ার অগনিত কুড়ি
 মধুমাস পলাশের সন্ধানে, আজি বেয়ে যায় জীবন খেয়া,
সুদূরে জোনাকিদের দ্বীপে, বাউলের লেগেছে মস্ত  মেলা,
একতারায় মহামিলনের গান, হৃদয়ের শুধু নেয়া দেয়া, 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য প্রেমের মায়া //
---- শান্তনু সান্যাল  

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১০

সুপ্রভাত

সুপ্রভাত
কাঁচা হলুদ রঙ্গে, ভোরের আলো
শুভ্র চন্দ্রমল্লিকার বুকে সজল কম্পন,
তুমি কী ঘুমিয়ে আছো এখনো
হৃদয় দিয়ে যায় সমানে ডাক, শুনো নি,
শরত সকালে মিলনের প্রতিশ্রুতি  ?
শ্রাবনের মেঘ নিশ্চই জানিয়েছে!
প্রেমের আমন্ত্রণ, সঘন আকাশে
লিখে যায় নি সৌদামিনী স্বরলিপিকা!
স্মরণে দোলা দিয়ে যায় না
মালতি গন্ধে ভরা প্রথম যুগ্ম অধর
নিশ্বাস বিনিময় শিহরিত আলিঙ্গন,
সাড়া দিয়ে যায় অবশ্যই
দেহের বিশ্রঙ্খলিত আবেগ, উন্মুক্ত চেতনা,
কই  বেলা গড়িয়ে গেল তুমি দ্বার  যে
খুলতে ভুলেই গেছ, মনে হয় বিহানের
স্বপ্ন এখনো তোমায় বুকে জড়িয়ে রয়েছে,
গলিয়ে গেলাম দরজার নিচে দিয়ে কিছু
অশ্রু ভেজা পুষ্প গুচ্ছ -- শুভেচ্ছা সহ /
--- শান্তনু সান্যাল
photo - Nkhilesh Sanyal - Dacca

শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১০

ডুবে গেছে ভালবাসা

ডুবে গেছে ভালবাসা 
১ -অসময় কড়া নাড়ার শব্দ 
    শব্দে মনে হলো শুনেছি সে 
    বহু কাল আগে, রহস্য ও 
    কৌতুহলের মাঝে, দরজা 
    খুলে দিলাম, গাল ভরা দাড়ি 
    কঙ্কাল দেহে রয়েছে কিছু 
    ক্ষত, ঘায়ের অমিট দাগ 
    কলিঙ্গ বিজয়ী যেন মহা যোদ্ধা 
    নিরস্ত্র দাড়ায়ে আছে সম্মুখে 
    নিখোঁজ আমার প্রতিচ্ছায়া 
     ফিরে পেলাম কোন অরণ্য পথে,
     আজ আমি নিজেই নিহত 
     বাহিরে উল্লসিত বৃন্দ গান 
     জানি না কোন পন্থের অনুযায়ী 
      আগে তো আর তাদের দেখি নাই, 
      সমানে গেয়ে চলেছে অজানা 
      ভাষায় অবিরাম একসুরে,
      আত্ম উত্থানের বিস্মৃত গান 
      আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন 
      কে জানে কোথায় বয়ে যায় 
      আনন্দ ধারা --------------
২  এই কোলাহলের মাঝে প্রতিধ্বনি বিলুপ্ত 
     শিশুরা খেলছে নদীর চরে
      লিখছে কিছু হারিয়ে যাওয়ার কবিতা 
     ওই মাঠের শেষে কিছু ছায়া 
      সহসা উধাত যেন অজ্ঞাত মায়াজালে 
      বহু দূরে মনে হয় তাহারা খেলে 
      লুকুচুরি, 
      চেয়ে ছিলাম থামাতে ঢেউর অশান্তি 
      সাগর সৈকতে তুমি আর পথ 
       চাও নি, উদাস মনে ফিরে গেছি,
       জানি তুমি আর সে তুমি নও 
       প্রতিধ্বনির পথে হয় তো 
       জেগে উঠেছে ঘুমন্ত পাহাড় কিংবা 
       রমনীয় পর্যটক স্থল
       এক ঝিলিক রোদে ডুবে গেছে 
       ভালবাসা 
     -- শান্তনু সান্যাল