সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১১


কোন কুলের ঘাট, তুমি ?
ক্রম বিকাশের শৃঙ্খলায় মানুষের পদবি
ধারণ করা সহজ ছিল, মানুষ কত দূর 
যে হলাম, নিরিবিলি তে বসে ভাববো 
আর এক দিন, মাটি, নদী, ফুল, পাখি -
সব কিছুই ত আছে, তবে কি যে অমন 
 হারিয়ে গেল, অবুঝ মন বুঝে উঠে না,
ওই গর্ভের আঁধার কাটে না, ঘিরে রয় 
দিবা নিশি, বুড়ো শিব মন্দির, মজার 
ঘেসে বহে যায় ময়লা, মরা -পচা খাল,
সেই নিয়ে মিছে মিছে, আকাশ পাতাল !
সাঁকোর কাঠ ভাঙে নি, বৈষ্ণবী, ফকির 
বিরাট বিরাট, দ্বিজ মুরবি গেছে ওপার,
প্রতিশ্রুতি ভাঙার ভয়ে দাঁড়িয়ে রইলে কি 
কিনারায় সটান, নৌকা ডুবির  পরে কে 
কোথায়,কবরের মাটি কি জ্বলন্ত শ্বশান !
--- শান্তনু সান্যাল 
  

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১


কদাচিত আমি দেখেছি !
কোঁচকানো রেখায় সে খুঁজে জীবনের
অতীত,উঁচু নিচু ধরাতলের মাঝে ফাটল,
বৃশ্চিকের পিঠ,ভগ্ন মেরুদণ্ডের চিহ্ন,
জীর্ণ পাতার কঙ্কাল, হেমন্তের শেষ দিন !
মোতিবিন্দুর চোখে আবছা সকাল, 
দূরে বহুদূরে নবজাত শিশুর সরু ক্রন্দন,
রঙ্গীন মাছের ছটফটানি, কড়া নাড়ার 
বিভ্রান্তি, ঝুলন্ত আরামকেদারা,ডুবন্ত -
সূর্যের ক্ষীণ আলো, রং হীন, ছেঁড়া ছাতা,
বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ভাগ, কালার পেন্সিল,
স্লেটে ভুল বানান, মুছে যাওয়া কাহিনী, 
ভিড় করে আসে ভালবাসা, মরিচিকার 
আভাসে মন খুঁজে পবিত্র সাঁঝের হাসি ও 
শঙ্খ ধ্বনি, ভুল ভাঙিয়ে যেতে চায় এমন 
ভাবে মন, যেন উলের বল খুলে গড়িয়ে চলেছে 
নদী, পাহাড়, উপত্যকা পার করে, শেষে 
 বেড়ালছানা হাতে, জীবনের খেলা - 
অপূর্ণ, দর্শক ক্রমশঃ উঠে চলেছে মুখ্য দ্বারে,
নয়নের ছানি চিনতে পারে না কোনো 
কিছু, ফিসফিসানি ছাড়া কানে কিছুই শোনা
যায় না, হয় ত তারা ভাঙা দর্পণ, ফেলে 
দিয়ে স্বস্থি পেয়েছে  অনেক দিন আগে !
-- শান্তনু সান্যাল 



   


শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১১

কাহিনী নয় কিন্তু
সে দিন তুমি দ্বার খুল নি, ছিলাম দাড়িয়ে
অনেক ক্ষণ, হয় ত ক্লিপ জড়ানো চটি -
ময়লা টি শার্ট, সস্তা দামের হাত ঘড়ি,
মুখ ভরা কচি দাড়ি, কুহক হীন চেহারা,
 কোথায় যেন অদৃশ্য রেখায় হাঁপিয়ে
উঠেছিলে তুমি, আমিও জোর দিতে পারি
নি, দামী আতরের শিশি যেন সে দিন
হাত খসকে পড়ে গিয়েছিল, সিঁড়ির ধাপে
বুঝেছিলাম জীবন গড়ানোর  মর্ম,
ধরতে গিয়ে দেখি সকল পাপড়ি গুলো গেছে
 ঝরে, নিশি গন্ধার বৃন্ত, প্রায় সুকনো -
ডাঁটা, বিশ্রী, দুর্গন্ধময়, আঠালো, হয় ত
পচা ধরেছিল, বহু চেষ্টায়, ফেলতে পারি নি,
বুকের অজানা বন্দিগৃহে রইলো সে
অভিশপ্ত, মুক্তির পথ খুঁজে পাই নি ভীরু হৃদয়,
পলে পলে মৃত্যুর আলিঙ্গনে এগিয়ে এসেছি
তাকে, তার এই ভাবে মরণের পদক্ষেপ -
কোথায় যেন আত্মঘাতী করে তুলে, জীবনের
দুরারোহ পথ ফুরাতে চায় না কোনো রূপে,
নিরব অবহেলনার অর্থ খুঁজে মন,তবু ও ভুলতে
চায় না আপন জন, তথা কথিত ভালবাসা !
বন্দ দ্বারের আত্মীয়তা, অনেক অব্যক্ত সম্পর্ক,
মৌন প্রতারণা, বিষাক্ত হাসির মায়া !
ক্রমশঃ পা এগিয়ে যায়, যেন কিছুই ত ঘটে নি,
সহজ ভাবনায়, জীবন ঢাকতে চায় হাত -
দু খানি রেখে, জীর্ণ জামার অদৃশ্য ছিদ্রময় জগৎ,
-- শান্তনু সান্যাল










 

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

জীবনের দ্বীপ
আলোক পথের যাত্রী ছিল সবাই, মনে
রাখি নি তাই আঁধারের ঠিকানা,
নিভলো যখন প্রদীপ্ত মশাল চার দিকে
ছিলাম আমি নিঃসঙ্গ, অজানা,
বস্ত্র হরণে দায়ী শুধুই কি এক দুঃশাসন
অট্টহাসে ছিল শামিল পূর্ণ ঘরানা,
যখন ভস্মিভূত প্রায় আমার খড়ের ঘর
হটাত পুরোধা করেছে তীব্র মানা,
নদী পার, ভালই করিয়েছ হে প্রিয় মাঝি
কোথায় রক্ত আর কোথায় ডানা,
ওই শুন্য পিঞ্জরে,ভরেছ কি নতুন ময়না
ঝাপটিয়ে যাও কি দাও প্রবল হানা,
কোন গানের অন্তরায়ে ভিজলো হৃদয়
পাগল বাউল গায়ে এক সুরটানা,
অম্বরে জেগে আছে কিছু জীবনের দ্বীপ
তরী ভাসে, সুদূরে আছে জানি মুহানা !
-- শান্তনু সান্যাল
 

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

দুরন্ত ধারা

শাপিত গন্ধর্ব  ছিল হৃদয় আমার
গেয়ে যায় সেই অপূর্ণ জীবনের গান,
রুদ্র বীণার তারে খেলে, জল বিন্দু
বৃষ্টির স্বরলিপি, মানে না অভিধান !
বাঁধতে পারি নি, তার দুরুন্ত হাসি
গেছে বিঁধে প্রতি ক্ষণে, দেহ ও প্রাণ,
ক্ষুদ্রনদীর জলস্ফীতি,আবেগের স্রোত
অফুরন্ত অনন্ত  পথে, কেবল বহমান,
খুলে দিও পালের আকাশ, মাঝি মন
জীবনের লহর সহসা,আজ বেগবান,
কি যে মায়া, তার দুই সজল নয়নে
জানি না ভালই লাগে ভাঙন, ভাসান !
উদ্বিগ্ন নৌকা, নোঙর ছুঁতে চায় না
খেলে যায় তরঙ্গে, দূরে দিবা অবসান,
-- শান্তনু সান্যাল



বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১১


অসময়ের মধুমাস 
উঠিয়ে গেছে কে যেন, বিস্ফারিত রাতের আকাশ,
কুটোর শিখা নিভু নিভু,জীবন শুধুই দীর্ঘ্য নিঃশ্বাস !
ডুবন্ত তারকের পথে, আছে এখনো আবছা নীলাভ 
সিক্ত প্রতিধ্বনির আবেগে, ঘুমন্ত সর্ব হাস পরিহাস,
আদ্র বুকের বেষ্টনী, ঝরেছে অঝর বৃষ্টি সারা রাত -
ভরে গেছে কে যেন রিক্ত হৃদয়, হটাত, অনায়াস ?
ক্লান্ত দেহে র পরিমণ্ডলে কে লিখে গেছে, অভিলেখ -
জেগে উঠেছে অজস্র কাচের স্বপ্ন,জীবনের আসপাস !
গভীর স্পন্দনে,বহে যায় অগণিত প্রণয়ের কণিকা
ফিরে ফিরে আসে, যেতে যেতে অসময়ের মধুমাস,
-- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১১


অন্তরঙ্গ ভুবন  
ওই শুন্য বলয়ে কিছুই ছিল না
তুমি যে বললে স্বপ্ন জেগে উঠে,
সারি সারি শতদল না কি ফুটে 
সেখানে ঝরে সুধাময় জোছনা !
ঝিলের বুকে লিখে যায় সমীরণ 
দিব্য প্রেমের কবিতা,প্রবুদ্ধ হয় 
যায় জীবনের তমস ঘন রাত্রি !
অবসাদ নিয়ে মনে ফিরে এলাম 
দেখি নি, কোনো অলৌকিক ছবি, 
চতুর্দিকে শুধুই আচ্ছন্ন নিরবতা,
আহত মনে ফিরে আসার পথে -
খুঁজেছি শিশুর মুখের হাসি,ধানের
ক্ষেতে কৃষাণীর সৌম্য চেহারা,
ডিঙ্গার গায়ে লহরের প্রতিবিম্ব -
উড়ন্ত গাঙ চিলের আবর্তনে পূর্ণ 
আকাশের গুটিয়ে যাওয়া, নদীর 
তরঙ্গায়িত বুকে তোমার প্রণয়ের 
পালতোলা নৌকা, মাঝি বিহীন 
বহে চলেছে উজানের পথে, বিস্মিত 
নয়নে চেয়ে রই ক্লান্ত সাঁঝের নিস্তেজ 
ভালবাসা, ক্রমশঃ সূর্য্য যেন হয় 
উঠে পঞ্চ ধাতুর কলসি, ডুব দিয়ে 
ভরে আনি জীবনের অজ্ঞাতপূর্ব জল 
রাশি,কিছু ক্ষণ আগেই মায়াবী রাত 
পা ফেলেছে ঘাটের সোপানে, আমি -
ও ফিরে চলেছি অন্তরঙ্গ ভুবনে !
--- শান্তনু সান্যাল