বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১


উড়ন্ত মধুমাস 

সংবেশিত মূহূর্তে সে ছুঁয়ে গেছে নিস্তব্ধ, 
স্তর প্রতি স্তর, বহিঃস্থ অঙ্গ হতে 
মনের বহু বক্রতা, কিন্তু 
তবু ও যেন ছুঁতে 
পারি নি 
তলদেশের গভীরতা, যদি ও আমি 
খুলে বসে ছিলাম বুকের 
আবরণ, পারদর্শী 
জানালা, সে 
ধরতে 
পারি নি সুগন্ধিত চাঁদের আলো, উড়ে 
গেছে অন্তরঙ্গের জোনাকি, 
ভোরের আলতো 
অন্ধকারে, 
যখন উঁকি দিল প্রথম সূর্যের কিরণ 
জীবনের  ক্লোরোফিল গেছে 
শুকিয়ে, পাতার গায়ে 
সালোকসংশ্লেষণ
অর্থহীন,
ভালবাসা  হয়ে উঠেছে  বাধ্যবাধকতা !
আবেশহীন সাগরে ভাসন্ত হিমশৈল,
তবু ও মন চায় উড়ন্ত মধুমাস 
পল্লব বিহীন শিমুলের 
গায়ে গন্ধহীন 
রক্তিম ফুল.

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
  

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০১১


ফুলের কঙ্কাল 

ধুলিধুসর বইর মাঝে ছিল লুকিয়ে সেই 
ফুলের কঙ্কাল, বইর তাক গোছাবার
সময় হটাত দেখি অতীত 
মুখোমুখি, চোরকাঁটা
বিঁধে  চলেছে বাহ্য 
আবরণ, শুষ্ক 
শিরা সমূহ
হয়ে 
উঠেছে আস্তে আস্তে মাংসল শরীর,
পার্শ্ববর্তী বর্তমানের ডাক আর 
শুনতে চায় না বধির মন, 
সে দেখে চলেছে এখন 
দিবা স্বপ্ন, স্বজ্ঞার 
পুনর্জন্ম কিংবা
জীবাশ্মের 
জীবিত 
হয়ে ওঠা, দশক চার  ফিরে যাওয়া, দেহে 
জড়িয়ে সেই নীল রেশমি শাল, পুষ্প 
দাড়িয়ে আছে, নিঝুম  শীতের 
সাঁঝে, কাশী বিশ্বনাথের 
কাছে, বিছিন্ন পাতার 
বোর্ড ঝুলে রয়েছে 
থিয়েটারের 
গায়ে, 
পাঁচমাথার দিকে ট্রাম এই মাত্র যেন গেল,
"কত ক্ষণ " আমার প্রশ্নের উত্তরে সে 
মুচকি হেসে বলল - যুগ যুগান্তর 
ধরে, রাস্তার আলো তখন 
পূর্ণ বিকশিত, ঝলমল 
মালঞ্চে বসে দেখি 
তার  ক্লান্ত 
মুখে 
ভেসে উঠছে  অসময়ের মেঘের সঘন ছায়া,
কালান্তরে সে ঝরে গেছে মরুভূমির 
বৃষ্টি সম, বলা মুশকিল কি ভাবে 
সে রয়ে গেল বইর পৃষ্টে 
চাপানো গোলাপ, 
আঙ্গুলের 
ডগায় প্রজাপতির পরিত্যক্ত রঙের ছাপ.

-- শান্তনু সান্যাল 
 painting by ELEXIS BARANCK
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

  

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১


আরোহী 

আরোহণের পূর্বে হয় ত আমি বাঁধি নি 
কটিবন্ধে দড়ি, শীর্ষে উঠতে গিয়ে 
নেমে এসেছি ঠিক যেখানে 
ছিল আরভমানের
প্রস্তর চিহ্ন, 
তোমার হাসির গন্ধে ছিল অবহেলার 
প্রবণতা, এখানে কিন্তু জীবন 
পুনরায় প্রস্তুত, অবাধ্য 
ভাবে উঠে যেতে 
চায় অধর 
ছাড়িয়ে 
হৃতপিন্ডের বোধাতীত জগতে, তুমি 
থামাতে পারো নি আমার 
অনুপ্রবেশ, অসহায় 
ভাবে মেনে 
নিয়েছ, 
দৈহিক, অদৈহিক, সর্ব অপ্রত্যাশিত আধিপত্য,
সমর্পণের মুহূর্তে তুমি এখন কেবল 
জলবিহীন মাছ, দিঘির বাইরে 
তোমার নিঃশ্বাস, একমাত্র 
আমার হাতে, নিয়তির 
চক্রে আরোহী তুমি 
যদি পারো ধরে 
রাখো 
পাষাণী বুকের জোরাল, শুষ্ক পাঁজরের অগ্রভাগ.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১১


অগ্নি বলয়ের ওপারে 

সন্ধ্যা নামার পূর্বে কপিন্জলের ডাকে 
ঝিলের তরঙ্গ সহসা যেন অস্থির -
কিছু ক্ষণেই বোধ হয় বৃষ্টির 
ঝাঁপ ভিজিয়ে যাবে অন্তর্মনের দহন, 
মেঘেরা ভিড় করে আছে,
মালভূমির উপরে, সুদুর পাহাড়ে কি 
রাত অসময়ে ঘিরে আসে ?
তোমার এই প্রশ্নের মধ্যে আমি  দেখি 
সহসা হয় উঠেছি ক্রুর  আলফা 
নেকড়ে, সিগারেটের ধোঁয়া মুক্ত করে 
মন চেয়েছিল তোমার অস্তিত্ব 
সম্পূর্ণ ভাবে গিলে নিতে, ঘোরের -
সান্দ্রতা তখন আঠাল, তুমি 
ফেলে চলেছ টোপের অপর  টোপ -  
দুজনই নিজের জগতের স্বামী,
স্বয়ংভূ, বিশৃঙ্খল দুই উন্মুক্ত চরিত্র !
অভয়ারন্যে বর্ষা তখন চূড়ান্ত 
ভাবে ঠেলে চলেছে শুকনো নদীর -
বালু, পাথর, তীরের অশক্ত  
ঝোপ যেন নিজেই ভেসে যেতে চায়,
নুয়ে পড়ছে একের পরে এক,
তখন তুমি কিছুই শুনতে রাজি না,
আমি চাই নি বিশ্বাস কর এই 
ভাবে তোমায় উধ্বস্ত করতে, কিন্তু 
তুমি নিজেই চাও নিজেকে 
উজাড় করতে, তাই করে গেছ সেই 
মনের খুব নরম ভাগে ঘাত -
প্রতিঘাত, জাগিয়ে গেছ সুপ্ত পৌরুষ,  
সেই পান্থশালায় তোমার পৃথিবী 
অন্ধকার, কেড়ে নিয়েছি  আনুগত্য !
জানালার কাচে তোমার আগামী 
সকাল, ভিজে কাঁপছে একাকী,
আমি এখন গর্বিত পুরুষ দাঁড়িয়ে 
দর্পণের মুখে নির্লজ্জ ভাবে 
পরে চলেছি অধোবস্ত্র, তুমি খুঁজে 
চলেছ এমন সময় বিছিন্ন 
সিঁদুরের কৌটো, বিবর্ণ  কাজলদানী,
মরিচিকার পথে মমতাময়ী 
মরুদ্যান, আমি নিজগৃহে এখন আর্য 
সুপুরুষ, ভদ্র এক জন, তুমি 
শুধুই এক রাত্রির প্রহসনের অংশ -
আমার কাছে তোমার এই 
পরিচয়, যবনিকা ফেলার পরে কে 
তুমি, কে আমি, অনুবন্ধের 
খেলা তুমি নিজেই খেলতে চাইলে এখন 
বলার কিছুই নাই, মৌন অনন্ত,

-- শান্তনু সান্যাল 
painting self reflection - source unknown
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১১


পার্শ্বপথের যাত্রী 

ক্রমশঃ অন্তরণের ভাব নিয়ে তার দূরে সরে 
যাওয়া, হয় ত ইঙ্গিত করে গেছে 
বহু আগেই, টের পাই নি 
মনের কিনারা, যখন 
সে এক শীর্ণ জল -
ধারা, বৃষ্টি 
যাযাবর,
উড়ে চলেছে উদ্দেশ্যহীন এখানে সেখানে -
জানার সত্তেও যে সে আর ভালবাসে 
না, আমি খনন করেই চলেছি 
বুকে লুকানো বালির 
ধ্বসে যাওয়া 
জল কূপ,
সেই সকাল থেকে সন্ধে, নন্দন থেকে 
পুরোনো বইর পাড়া, খুঁজেছি সেই
শুকনো ফুলের শিরায়
ঘনীভূত ক একটা 
শিশির ফোঁটার 
ঠিকানা,
জন অরণ্যের মাঝে সাঁঝের আলোয়, এখন 
রঙ্গীন চিরকুট, টুকরো টুকরো 
উড়ে চলেছে ধুসর জামীরা
আকাশে, ছুঁতে চায় 
দূরগামী 
উড়োজাহাজের লাল সবুজ আলোর ফুলকি,
স্বপ্ন দেশান্তরী, নিশীথরাতে নাকি 
গান করে, নাচ করে,
মূর্চ্ছিত বুকে প্রাণ
ভরে, সাগর 
পারে,
আমি হেঁটে চলেছি একাকী ফাঁকা পথে বহু দূর,
শহর এখন অমূর্ত অবুঝ চিত্রবীথি,দর্শক
বলতে আকাশের জগত, চেয়ে 
আছে উন্মুক্ত বক্ষের
সমাধিস্তম্ভের 
দুর্বোধ্য 
লিপি.

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
source - pinoy exchange 


সিক্ত ঝরা পাতা 

না, আমি চাই নি সে দিন তোমাকে ভালোবাসতে,
শুধুই চেয়েছিলাম একান্ত পুতুল খেলা খেলতে, 
তোমার শ্যামবর্ণ দেহে কিছুই এমন ছিল 
না, যে অনায়াসে করে যেত উদ্বেলিত
প্রসুপ্ত পৌরুষ গ্রন্থী, জানি না 
কোন মুহূর্তে কেন যে 
এমন হলো, হঠাত
দেখি তুমি 
ভেসে চলেছ স্নায়ুর ভিতরে, রক্ত কণিকার রূপে, 
সন্ধে ঘিরে যখন নামল ছিঁটে ফোঁটা বৃষ্টি,
জানালার ধারে দেখি লুকিয়ে চলেছে 
অচেনা কোন এক পাখি, আমি 
চেয়ে ও জানালা দিতে 
পারি নি, কোথায় 
যেন তোমার 
নিরীহ 
চোখ, নীড় বেঁধে চলেছে তখন হৃদয়ের মাঝে,
আবার এক দিন ভিজা পাখির মত
দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছ 
দরজায়, ঘামিয়ে 
একাকার, 
মন 
হয়ে উঠলো সহজে অশ্বত্থ গাছ, ছায়াচ্ছন্ন তোমার 
শ্যামলা শরীর হয়ে উঠেছে সেই ক্ষণে 
অঙ্কুরিত নব কিশলয়, বুকের 
আশ্রয়ে তুমি তখন পূর্ণ 
নারী, সৃজনের পথে 
অগ্রগামী,
তুলনার চিত্রলেখে তুমি শীর্ষ বিন্দু, আমি খুঁজে 
চলেছি অধোবিন্দুর সমাপ্তি, সেই অক্ষের 
ধরাতলে বহু বার  তুলে নিয়েছ 
আমায়, আমি তখন ঝরা 
পাতা চেয়ে আছি 
শিশির বিন্দু.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

আলোর রুমাল

প্রণত নয়নে তার বালুকা বেলায়
অঙ্গীকারের কবিতা, প্রায়
রেখে যায় কিছু ম্লান
অস্পষ্ট শব্দের
খোল,

কুজনের রহস্য রোমাঞ্চ, সাঁঝের -
ক্লান্ত নিঃশ্বাস তুলে রাখে
তার পরিত্যক্ত
শল্কের কিছু
রঙ্গীন

টুকরো, মন চায় ফিরে পাওয়া অবেলার
 জোয়ার, দেহের জোছনা,
জীবনের আঁধার এই
মুহূর্তে চায় পূর্ণ
পরিত্রাণ,

সম্ভবত  সে এখন ঝুলন্ত নাগরদোলা,
ফেলে চলেছে আলোর রুমাল,
তারকের ভিড়ে খুঁজে
হৃদয়ে তার ভেঙে
পড়ার পথ,

চেয়ে রয় স্থির দৃষ্টে মন, বিস্তীর্ণ আকাশ !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

creator of painting -IRENE FRANKEL