বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১২


বন্ধক 

অল্প সময়ের পরিচয়, যুগের ঘনিষ্টতা ! সম্ভব 
ছিল না, তাই শুধালাম এই ভাবে
জীবনের বিসর্জন, অবাক 
করে সে তাকিয়ে 
রইলো কিছু 
ক্ষণ, 
আমায় ও অপর পার্শ্বের মেঘ বিহীন আকাশ !
তখন বিকেলের ফেকাশে আলো তার 
অর্ধ মুখমণ্ডলে খুঁজে চলেছে কিছু 
মুহুর্তের আস্তানা, বিসর্জন !
কিসের, কিছু নিজস্ব 
থাকলে ত,আহত 
সারসের ভাঙা
পালক,
তার ব্যথিত উত্তরে ভেসে উড়ে চলেছে, জানি 
না কোথায়, নিষিক্ত নিঃশ্বাসের স্পর্শের 
অনুভূতি ভিজিয়ে গেছে অন্তর, 
নির্বাক চেয়ে রইলাম আমি,
বন্ধক জীবন অনেক 
সময় বিচ্ছিন্ন 
পড়ে থাকে 
একান্তে,
কেউ মনে রাখে না ফিরিয়ে আনতে তাকে, 
ভোরের আলোর সঙ্গী, কোনো জরুরি 
নয় পথ চেয়ে রবে, নিঝুম সাঁঝে !
এই সকাল ও সন্ধ্যার মধ্যে 
কত যুগ যায় গড়িয়ে, 
কত জন যে, তা 
মনে রাখে,
ভাবতে চায় না মন, সংক্ষিপ্ত জীবন ও দীর্ঘ 
বন্ধকীয় ভালবাসা - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




তখন মুক্ত হতে চায় না মন - -

দমকা হাওয়ার শিহরণে, সাগরমুখী জানালা 
খুলে গেছে নিজে নিজেই, খুব দূরে নয়,
চেয়ে আছি নীল সাগরের সেই 
উত্তাপ দেহে, জোছনার 
উন্মুক্ত ভাবে
 নেমে  
আসা, বেলোর্মির আসক্তিভরা  প্রাচীন খেলা !
প্রেম ও রোমাঞ্চপূর্ণ, মিহি সুরে তার 
আবেগময় গুঞ্জন, ফিরিয়ে 
আনতে চায় যাযাবর  
ভালবাসা, পোষ
মানানোর 
প্রক্রিয়া চলে সারা রাত, সে এখন রিং মাস্টার ! 
আগ্নেয় বাণ দিয়ে এঁকেছে অভিলাষের 
বৃত্ত, তার একাধিপত্য এখন 
নিরঙ্কুশ, ক্রমশঃ চরম 
বিন্দুর নিকটতম,
 হিংস ভাবনারা, অস্থি, মাংস পেশী, মজ্জা, স্নায়ু 
ছাড়িয়ে উঠে চলেছে মস্তিষ্ককোষে, তার 
নয়নের চাবুকে সম্মোহিত পুরুষত্ব,
যেন নিরীহ শিশু, আস্তে আস্তে
পূর্ণ ব্যক্তিত্ব যান্ত্রিক ভাবে 
এখন তার নিয়ন্ত্রণে,
শিরায় শিরায়,
দংশ করে গেছে ইন্দ্রজালিক সুধা, বিচিত্র 
সরীসৃপে তার রূপান্তর, মুগ্ধ করে 
রাখে  জীবনের ঊষর ভূভাগ,
তাই মন চায় স্বপ্ন দেখতে, 
কবিতা লিখতে, 
জলরং ছবি 
আঁকতে !
তার প্রভাবে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১২


পুনরায় সেই বিন্দু 

জীবনের সেই সন্ধিক্ষণে তুমি ছিলে অপেক্ষক কার 
জন্যে, সেটা মন চায় না জানতে, কুসুমিত 
প্রণত শাখায় হাত দিলেই, হয় ত ঝরে
যাবে, অবিকশিত স্বপ্নের লাজুক 
কুঁড়ি, শুধুই মনে আছে 
সেই প্রথম মিলনের 
দিন,  জিজ্ঞাসু 
চোখের 
কিছু 
অপ্রকাশিত কবিতা গুচ্ছ, ক্ষণিক আবেগের 
স্থিরতা, হারানো প্রাপ্তির মাঝের খুশি, 
উদ্বেলিত নিরবতার শব্দ ফিরে 
পাওয়া, নিশিগন্ধা -কন্দের 
ভেজা মাটির ভিতরে  
অধীরতা, হঠাৎ
জীবন 
সেই মুহুর্তে চেয়ে ছিল ছুঁতে উড়ন্ত রুপালি মেঘ !
জানি না কত দূর সেই বাঁকটি গেছে সরে 
এখন কি তুমি নিরাপদ এখন কি 
আমি হেঁটে চলেছি উপত্যকার 
প্রান্তে, খালি পা স্ফটিক 
শিলার কন্টকে, কে 
জানে, আবার 
হয় ত ফিরে 
এসেছি 
সেই বিন্দুর উপরে যেখানে এক দিন হারিয়ে
 গেছে জীবনের অমূল্য কিছু - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - valley - Kathryn Joseph 






আধিপত্য 

হৃদয়ের মৌন আন্দোলন, উঠে নেমে, বহে 
গেছে স্বপ্ন নদীর অস্থির জলতরঙ্গে,
অনেক কিছু বলার বাসনা 
নিয়ে সান্ধ্য তারক 
থেমে ছিল 
কিছু 
ক্ষণ পশ্চিমস্থ গগনে, দ্বার খুলতে হয় ত 
বিলম্ব হলো, মান করে ফিরে গেছে,
নিশি পুষ্পে গন্ধিত নিরীহ, ভীরু 
ভালবাসা, খুবই যত্নে রেখে -
ছিলাম তার তিন শব্দের 
চিঠিখানি, অথবা 
অপূর্ণ কবিতার 
প্রারব্ধ !
অস্বীকৃতি তে তার ছিল লুকানো মধুর 
অভিমান, ডুবন্ত সেই  তারকার 
নিস্তেজ আলোর রূপে, সে 
দেখি ক্রমশঃ গেছে 
 হারিয়ে 
নীলিমার জগতে, শুন্যে অন্যমনস্ক ভাবে 
চেয়ে সে জানিয়ে গেছে তার 
উদাসীনতা, অনভিজ্ঞতা,
অভিনয়ের বাজি, 
প্রলোভনের 
সূত্রপাত,
 জানি 
না ফেলে গেছে স্বপ্নের ভিতরে স্বপ্নের জাল, 
সে অবিরাম ধরে আছে মায়াবী 
রাতের যবনিকার রেশমি 
দড়ি, আমি শুধুই এই 
মুহুর্তে কাঠের 
পুতুল,
যেন সহস্ত্র  শতাব্দী ধরে পড়ে আছি তার আঙ্গুলের 
ডগায়, খেলে চলেছি তার দেহের কম্পনে,
জীবনের এই প্রদর্শনী - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
PAINTING  BY ANAND GOPAL ROY 

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২


আলোর নির্ঝরিণী

মনের তুলিকা শুকাই  নি কোন দিন,
ভিজিয়ে  গেছে মধু ঋতু বহু বার,
নদীর সেই  বাঁকে  ছিল 
ঘূর্ণি স্রোত, তবুও 
চেয়েছে 
দেখতে জীবন, গহন তরঙ্গিত উপত্যকা !
অনেক কিছু পাওয়ার আশায় 
অনেক সময় যা থাকে 
সেও যায় সহজে 
হারায়ে, 
তার  প্রেমের সার্থকতা ছিল বলেই, মনের 
উপবনে ফুটে রয় বিরল, দুর্লভ,
 কুসুমের  বীথিকা, মুচকি 
হাসির সুরভি, প্লাবিত 
করে  অন্তরতম 
অনন্ত বোধ,
তুলে বুকে টেনে রাখে আহত আবেগ, পাওয়া 
না পাওয়ার আকলন ছিল নিরর্থক,
পলাতক স্বপ্ন খুঁজে অভয় 
আঁখির পান্থশালা,
দিগন্ত রেখায় 
মেঘেরা, 
এঁকে গেছে রঙ্গীন আল্পনা, সূর্যের প্রাঙ্গণে খেলে 
এখন শিশু অগ্নিশিখা, অঞ্জলি দিয়ে 
চলেছে নিসর্গ, অদৃশ্য দেবতার 
পদতলে,তার পরশে ছিল 
অভিমন্ত্রিত দিব্য 
বশীকরণ  !
তাই 
দেহ ও প্রাণে অকস্মাত জাগিয়ে গেছে আত্ম মন্থন,
এখন জীবন ঝরে যেতে চায় শিউলির 
 মত নিরব পৃথিবীর বুকে, নিয়ে 
মনের শিশির বিন্দুর আর্দ্রতা,
গন্ধ গুলো যাক ছড়িয়ে 
বৃহৎ ভাবে  বায়ু -
মণ্ডলে, 
রচুক মেরুপ্রভা প্রণয়ের শাশ্বত, চিরন্তন 
আলোর নির্ঝরিণী - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১২


জীবন খেলা 

অনেক স্বপ্নের প্রতিফলন থাকে লুকিয়ে 
গভীর, অন্ধকারের বুকে, সঠিক 
সময়ে ফুটে জীবনের বৃন্তে,
অপ্রত্যাশিত শতদলের 
কুঁড়ি, যুগ ভুলে 
যায় তার 
অশ্রু জল, পাষাণের কৌটোতে  সেই বেদনা 
কালান্তরে হয় উঠে কেলাস নীলা,
যারা সরিয়ে দিয়ে ছিল এক 
দিন উঠন্ত হাতের অর্ঘ্য 
সেই হাতের ছায়া 
চায় জীবনের 
মরুভূমি,
সে খুলি নি দ্বার, সন্ধ্যা আরতির বেলা 
গড়িয়ে গেল, তার  কম্পিত
 হাতের প্রদীপ গেছে 
ফসকে পড়ে
 দেউলের সোপানে, যখন বাড়ন্ত হাতে 
সে দেখল মৃত্যুর দিনাঙ্ক, বন্ধ 
গৃহে আরশির সম্মুখে সে 
করেছে আত্মস্বীকৃতি,
ভুলের 
স্বীকারোক্তি, একান্তে কেঁদেছে প্রাণ খুলে,
নিরবতায় ছিল সান্ত্বনা, প্রতি 
কড়া নাড়ার শব্দে শিহরে 
উঠেছে হৃদয়, ভয় 
আতঙ্কে ঘুম 
যেন 
গেছে পাড়ি দিতে সাত সাগর পারে, 
দাঁড়িয়ে তখন আত্মা অশোক 
সম্রাট, প্রণত গ্রীবা, 
ঝুলন্ত  স্কন্ধ  !
একাকী 
অস্ত্র বিহীন শুন্যে চোখে খুঁজছে মৃত আহত 
আপন জন, চার দিকে অতৃপ্ত দুঃখী 
ছায়া, চাপা কান্না, গোঙানি, 
এখানে ধর্ম পরিবর্তন 
অর্থহীন, বৃথা 
 শুধুই 
পলায়নের ছাড়া কিছুই নয়, রাত্রি শেষে 
পুজারী খুলে দিয়েছে সমস্ত জ্ঞাত 
অজ্ঞাত প্রবেশ কপাট, 
নামিয়ে ছদ্ম 
আবরণ,
অর্ধ উলঙ্গ দেহে মাখতে চায় সে এখন 
চিতা ভস্ম, চায় মুক্তি স্নান, ডুব
দিতে গিয়ে দেখে, নদীর 
জলধার গেছে সরে 
দূরাঞ্চলে, 
যেখানে পরিত্যক্ত  নিয়তি করে বসবাস,
জীবন অপরিভাষিত এখানে, বর্ণ 
রং, রূপ, গন্ধ বিহীন , শুধুই 
গাহে  অহর্নিশ প্রণয়ের 
গান, দুঃখ বেদনার 
মাঝেও তারা 
চায় না 
পরিত্রাণ, শুধুই করে যায় যুদ্ধ অগোচর !  
এই জীবন সংগ্রামে, প্রচলিত 
দর্শন কেবল ভূমিকা 
হীন পাত্র, নিয়ে 
হাতে অদৃশ্য 
যবনিকা, 
চেয়ে রয় আকাশপানে, কিন্তু জীবনের খেলা 
অগ্রসর সকালের অভিমুখ ---

- - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২


সরাসরিভাবে মনের কথা - - 

সহসা যখন জীবন হয় উঠে বেখাপ্পা, নিরস 
ভুলে যেতে চায় মন নিয়তির অসম 
বন্টন, তখন আঁখি কোণে উঁকি 
দিয়ে যায়  চঞ্চল চমক,
পলকের ছায়া ঘিরে 
নেমে আসে 
রাত্রি, 
অরণ্য পথে ধীরে ধীরে বন্য কুসুমের 
বাড়াবাড়ি, আঁধারে যেন 
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগরিত,
এই জাগরণের 
ঘোরে 
জীবন এখন কৃষ্ণ মৃগ, মৃত্যুঞ্জয়, দৌড়িয়ে 
ডিঙিয়ে চলেছে নিরন্তর 
অনিশ্চয়তার  পথে,
সুদুর শুন্যে 
ঝুলছে 
প্রদীপ্ত বৃত্ত, পরিধির গায়ে আগুনের লহর,
এই জ্বলিত বলয়ের পারে যে গেছে 
সে না কি পরিপূর্ণ অমরত্বের 
অধিকারী, জন্ম মরণের 
মায়াজাল হতে সে 
মুক্ত জীব,
মনের দুনিয়া ওই পেঁচানো লিপি পড়তে চায় 
না, যা কিছু চোখের আগে সাকার 
সেটাই খাঁটি সেটাই আসল, 
তার আড়ালে, মোহের 
কুয়াশা ছাড়া 
কিছুই নাই, 
এক শ্বাসরোধিত গুহা হতে অন্য গুপ্ত পথের 
আঁধারে পাড়ি দেওয়া, প্রশ্ন চিন্হের 
ভিড়ে, বাস্তবিক অর্থের সন্ধান 
সহজ ছিল না, অথচ তার 
অনুপম, নিশ্ছল 
হাসির মাঝে 
ছিল 
সমস্ত অন্তরিক্ষ, শশী সূর্য্য, পুচ্ছল তারক কি 
ধুমকেতু, জ্যোতিপুঞ্জের জগত, যখন 
তার বিশুদ্ধ প্রেমের জোছনা 
ঝরেছে, উন্মুক্ত হৃদয়ে 
আমি করে গেছি 
 উপাসনা,
সেই 
পবিত্র ক্ষণে পাষাণী জীবন হয়েছে শাপমুক্ত ! 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/