রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

অন্তর্মনের বীথিকায়

এখানে ক্ষিতিজ জানে  না নুয়ে যাওয়ার ভাষা শুধুই 
হাসে নিয়ে দেহে আরুণিক আলো, ব্যথিত  রাত্রি 
গুছিয়ে চলেছে, এলোমেলো আঁধারের ধর্ষিত,
শোষিত স্বপ্নের কাহিনী, জনশূন্য পথের 
সেই পান্থ পথিক, হয় ত কিছু ক্ষণে 
হারিয়ে যাবে উড়ান সেতুর 
নীচে, মহানগরের নভে 
এখন ভেসে চলেছে 
ফেকাসে রং 
দর্শক বিহীন রঙ্গমঞ্চে ছড়িয়ে ছিটকিয়ে আছে যেন 
মুখোশ, ফেলানো অন্তর্বাস কিংবা ছদ্মবেশ, 
ক্রমশঃ নিষ্ঠুর পরিচালকের দল মেখে 
মুখে উজ্জ্বল কান্তি, দাঁড়িয়ে আছে 
নিয়ে হাতে খবরের কাগজ, 
পড়ে চলেছে নিজের 
গৌরব গাথা !
কিছুই ত 
ঘটে নি সনাতন জীবনের ধারা যথারীতি প্রবাহী, 
দেউলের মুখে দাঁড়ানো যাযাবর ষাঁড় চিবিয়ে
চলেছে উচ্ছিষ্ট আর্বজনা, পাস কেটে 
গেছে নগরপাল, ফুটপাথের কুষ্ঠ 
রুগীর সামনে কিছু খুচরো 
পয়সা, কে যেন 
জানিয়ে গেছে অস্পষ্ট ভাষায়, দয়া মায়া নাকি 
এখন আছে জীবিত, অন্ধকারে যদি 
মাড়িয়ে গেছে মানবতা সে না 
কি পাপ নয়, রাস্তার ধারে 
ফেলানো অস্তিত্বের 
সমাপ্তি ঘটে 
এই ভাবে, মানুষ হোক কিংবা নেড়ি কুত্তা !
জীবনের আকলন বুদ্ধিজীবির কাজ,
লিখে যাও নিজের ভাষায় 
চান্যকীয় পরিভাষা,
আজ নাকি 
নন্দনে 
জীবন নিয়ে বিরাট আলোচনা সভা, যদি সময় 
থাকে এস, আনন্দ ভোগ কর, কিছু 
নামকরা শিল্পীর উলঙ্গ দেহের 
চিত্রাঙ্কন রয়েছে ঝুলে,
কিছু যুদ্ধ পীড়িত
মানুষের 
ছিন্ন  বিছিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আলোকচিত্র, কিছু 
আমার তোমার জীবনের চিরকুট, 
হয় ত পেয়ে যাবে রাজপথের 
দুই  ধারে, পচে গলে 
ছড়িয়ে রয়েছে 
অন্তর্তমের 
কলা বিথিকায়, যদি পারো খুঁজে নিও আমায় 
বিলুপ্ত ঠিকানা - - - 

- - শান্তনু সান্যাল   


শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


মৃগয়ার মুখোমুখি 

শুধুই সে চায় বহির্ভাগের ভঙ্গুর স্তর, ছুঁতে কিংবা
আঘাত দিতে, কি যা আছে তার মনে, হয় 
ত সেই জানে, তার এই ভাবে ধরে 
রাখার প্রবৃত্তি দিয়ে যায় কিছু 
ছেঁড়া প্রজাপতির ডানা, 
কম্পিত অনুভূতি, 
ধ্বসে যাওয়া 
কিনারা, 
অভ্যন্তরীণ জীবন পড়ে রয় খারিজ বন্ধ্যা ভূমির 
কোলে, যদিও অভিহত ভাবনা রাতের 
নিরবতা ভেঙে, খুঁড়িয়ে ধেয়ে 
যায় সেই স্বপ্নের পিছে, 
বহু দূর যেখানে 
আকাশ 
ঢেলে রয় বৃষ্টির মরিচিকা, দিগন্তের দগ্ধ দেহে তখন 
সকালের ছায়া, জীবন অবাক, বিস্মিত রূপে 
চেয়ে থাকে তার শিশির ধোয়া মুখ, 
তার চোখের পরশে এখন 
আততায়ী ভাব কেটে 
চলেছে ক্রমশঃ,
আবার 
দেখি নিরীহ ভালবাসা, খুলে কাচিক  বুক এগিয়ে 
চলেছে তার দিকে, অদৃশ্য আঘাতের 
সম্মুখীন - - 

- - শান্তনু সান্যাল 
by  Thomas Cole -  Kaaterskill Falls Painting


শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


সমুদ্র তীরে এক সাঁঝে 

সেই ভিড় ভরা নগর চত্বর, ঝলমলে  আলোর 
জুয়ার, সেঁতসেঁতে  মেঘলা সাঁঝের খপ্পর 
থেকে বেরিয়ে এক দিন সাগর
 সৈকতে আগমন, তার 
উন্মুক্ত উর্মিমালায় 
রূপান্তর!করে 
গেছে 
বিস্মিত, সে যেন ভেসে চলেছে উন্মত্ত তরঙ্গে,
অবাক তখন চেয়ে আছে চেতনার সর্ব 
বহিরংশ, তার উন্মেষিত আত্ম -
সংকোচন করে গেছে ভাব 
বিভোর, ছড়িয়ে 
গেছে কস্তুরী 
গন্ধিত 
বাতাস অর্ণব সমীরণে, সিক্ত বালুচরে তখন 
জোছনার সঞ্চার, ঝাউ বনে চাঁদের 
প্রগাঢ় প্রণয়ের ছায়া, ঘনিয়ে 
আনে আঁধার হারিয়ে 
পাওয়ার অমূল্য 
মুহূর্ত খানি, 
সুদুর 
ঘুণ ভরা মহানগরে এখন হয় ত হাঁপানির 
রাত, ক্লান্তিময় ধোঁয়ার সঙ্গে উঠে 
চলেছে ব্যথিত নিঃশ্বাস, 
জীবন এখানে কিছু 
ক্ষণের জন্য 
হয় 
উঠেছে যাযাবর পাখির ঝাঁক, উড়ে চলেছে 
দেশবিহীন, সীমা হীন আকাশে এক 
রাশ, দিক দিগন্তের অনুসন্ধান !
স্বপ্নের পরের সেই উপগ্রহ,
যেখানে শুধুই আছে 
স্নিগ্ধ তরলতা, 
মহা প্রবাহে 
বহে চলেছে মনের সব দুঃখের তলানি অবিরাম !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


ফিরে আসা 

যখন পরকীয় হয় উঠে  মনের মানুষ, বাঁধন
কাজ করে না, ওই এক ঘেয়েমির ভাব 
সরিয়ে নিয়ে যায় উত্তরোত্তর বুক 
থেকে দূর  কোন অজানা 
প্রান্তরে, এখানে 
স্বপ্নের 
পিছনে ধেয়ে যায় অতিরিক্ত বাসনা, পাওয়া 
না পাওয়ার দ্বন্দ্বে ঝুলে রয় জীবনের 
ছেঁড়া ঘুড়ি, শঙ্খ চিলের ক্ষণিক
নিরবতা বাঁচিয়ে রাখে 
মীনের নিঃশ্বাস, 
অভিলাষী 
মনের মহাবিশ্বে মায়াবী নিহারিকা ঝরে 
একরাশ, অতৃপ্ত দেহ ও প্রাণ চেয়ে 
রয় আকাশের অগ্নি বর্ষণ, 
অখণ্ড রাত খুলে রাখে
হিমায়ত বক্ষস্থল,
তুষারনদীর 
সমতুল্য 
ভালবাসার গলন ঘনিয়ে আনে জোছনার বান, 
কে কখন কি ভাবে গেল অপর পারে,
হারানো মুহুর্তের ইতিহাস কেউ 
মনে রাখে না, প্রণয় নদীর 
নৌকাডুবির ঘটনা 
সর্ব বিদিত !
আগুনের সেই জ্বলন্ত প্রবাহে জীবন ভেসে 
যায় দেহান্তরের সেই কল্প ভূমির 
দিকে, নিরন্তর প্রলম্বিত 
বেগে, মুক্তিস্নানের 
ঘাটে, দেহে 
ছড়িয়ে অবিনাশী প্রায়শ্চিতের ভস্ম, ছুঁতে চায় 
ফিরে মনের মানুষ, মোহ ভঙ্গের এই 
পথে জীবন হয় উঠে উদ্ভাসিত,
কান্তিময়, এখানেই কোথায় 
যেন সাড়া দিয়ে যায় 
অন্তর্মনের ধ্বনি,
নব চেতনার  
উপলব্ধি, লৌকিক থেকে অলৌকিক পথে যাওয়া,
সন্দিহান প্রেমের অন্ত, বাস্তববাদের
প্রারম্ভ - - -

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
PAINTING BY -Self Reflection - BAINES ANDREW


বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


বিমুক্ত নভশ্চর

প্রাণ বায়ুর রূপে তার প্রাণের মাঝে অদৃশ্য আধিপত্য
লাল শোণিত কণায় ভেসে রয় জীবনের কত 
অনুচ্চারিত  অভিজ্ঞতা, বহু স্বপ্নের 
মৃত্যু পরে সে একটি রক্তিম 
সকাল, ঝরিয়ে গেছে 
সদ্য কুসুমিত 
শিউলির 
অসংখ্য ফুলের পাপড়ি, চুষে নিয়েছে অন্তরতমের 
গন্ধ, নিংড়িয়ে  ভালবাসার অন্তিম বিন্দু সে 
বলে - প্রেম সীমাবিহীন অনুভূতি !
কেমন করে বোঝাই বল, ওই 
প্রান্তের অতিক্রমে ও আছে, 
নামহীন অগোচর 
অন্তঃকরণের
জগৎ, 
এখানেই শেষ নয়, দেহ ও প্রাণের উপরে উঠে 
যদি কোনো দিন ভালবাসতে, সেই 
অলৌকিক প্রণয়ের পিপাসা 
চিরস্থায়ী, অনুক্ষণ 
জ্বলন্ত বহ্নি -
শিখা,
জীবনের সেই শৃঙ্গারের বেলায় সাজিও যত 
পারো এই মাটির শরীর  কিংবা যদি 
ভাব কাঞ্চন কায়া, যাবে পুড়ে
যত সব সুবর্ণ মায়া, 
শুধুই ধোঁয়ার 
বাদল 
উঠে ভাসবে আকাশমুখী, ফিরবে না কোনো 
দিন, যতই ডাক যতই বুকে জড়িয়ে 
রাখো, সে এক বিমুক্ত পাখি 
উড়ে কি ভাসে বলা 
মুশকিল, 
অন্তরিক্ষের মহাশূন্যে সে যায় মিলে মিশে - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - cage - artist Do Duy Tuan 

মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


অদৃশ্য ফাটাল 

সে জানি না কি ভাবে এখনো জড়িয়ে আছে
হৃদয়ের উচ্ছন্ন শহরে, যদি ও ফিরে 
যাবার মুহুর্তে দেখিনি নিজের 
প্রতিফলন তার ভাসন্ত 
চোখে, খুবই সহজ 
ভাবে সে দেখি 
ফিরিয়ে দিল, প্রগাঢ় যন্ত্রণাময় মুহূর্ত, কিছু 
অপূর্ণাঙ্গ লিখন, কিছু উচ্ছিষ্ট দেহের 
স্পর্শ, ফাটাল ধরা সম্পর্ক, তবু 
ও সে যেন নিশুতি রাতে 
দাঁড়িয়ে থাকে ওই 
লেম্প পোস্টের 
নিচে, চেয়ে রয় এক দৃষ্ট পতঙ্গের ঝরা ডানা,
হয় তো ধরতে চায় সে মাটির গন্ধ 
প্রথম বৃষ্টির বাতাসে, কিংবা 
সাঁঝের ওই হারানো 
ঘামের লবণতা,
আবছা 
কাচের জানালায় খুঁজতে চায় বাষ্পিত ছায়া,
সে আজ ও চেয়ে থাকে কিছু প্রাপ্তির 
আশায় অথবা তার অধরের 
কম্পন গেছে হারিয়ে 
পুরাতন গানের 
অন্তরায়, 
সে বুঝে উঠতে পারে না যে আমার দেহে 
আর লেবু ফুলের গন্ধ নাই, ওই 
প্রাচীন প্রণয়ের দেউলে আর 
প্রদীপ জ্বলে না, শুধুই 
স্মৃতিরা পরস্পর 
কথা বলে, 
ওই কয়লার কলমে লেখা অস্পষ্ট আমাদের 
নাম, দেয়ালের গায়ে মাকড়সার জালে,
খুঁজতে কিন্তু কষ্ট হয়, কিংবা 
হয় ত ধুয়ে গেছে ক্রমশঃ 
গুপ্ত ছাতের চুযানে,
ভালবাসা কেবল 
এখন শেওলা, জলজ উদ্ভিজ, লুকিয়ে আছে 
অদৃশ্য ফাটালে - - - 

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Tree-strangled Temple – Angkor Wat

সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


মৌলিকতার হরণ 

ততক্ষণ তার  স্পৃহার ঘোর ভাঙি নি, সে অবিরাম
চোখের পরশে করে চলেছে উদ্বেলিত দেহের 
বহ্নিকুণ্ড, বলিষ্ট মাংসপেশির আদ্যন্তে 
ক্রমশঃ আগ্নেয় গিরির লাভা
স্রাব, সে হাতে না ছুঁয়ে 
করে যেতে চায় 
ইন্দ্রজাল, 
রাতের গভীরতার সঙ্গে ওই সম্মোহনের আবহ !
উন্মাদের পথে অগ্রসর, অদৃশ্য অনুভাবে
মনের শুচি গন্ধ বদলিয়ে চলেছে 
মৌলিকতা, মধ্য রাতে 
মহুয়ার অসময়ের 
ঝরণ, বুকে
বিন্দু বিন্দু আর্দ্রতা, দ্রাবনের  ব্যাপক অনুভূতি,
সুদুর বন প্রান্তরে, বোধ হয় ঝরেছে বৃষ্টি,
মেঘেদের পাগলামি ভিজিয়ে গেছে 
পাংশুল বাউণ্ডুলে বাতাস, 
মাটির গন্ধে মিশ্রিত 
তার ভালবাসা 
জড়িয়ে চলেছে শিরায় শিরায় প্রমত্ততা, রাত 
এখনো অনেক বাকি - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/