শুক্রবার, ৯ মার্চ, ২০১২


কল্পনার বাহিরের চাহিদা 

এই উচ্ছাসের কোনো সীমাবদ্ধতা নাই অসীম 
প্রবাহে গড়িয়ে যেতে চায় ভাবনার ধারা, 
দুই স্রোতের মিলন বিন্দুর আগে ও 
আছে বিস্তীর্ণ এক জলাধার,
সে বিশ্বাস করে না, 
তার গন্তব্য 
শুধুই 
বহিরাগত সংযুক্তি, চার পাঁচিলের মধ্যে -
শ্বাস বিনিময়, নির্জীব পাথর হয় 
স্থির পড়ে থাকা, অনুপায়
পরস্পর কে সহ্য 
করা, 
জীবনের মূল্য যেন বৃষ্টি ছায়ার অবাঞ্ছিত 
প্রান্তর চেয়ে থাকে উদাস চোখে,
জানালার বাইরে জলভরা 
মেঘের দেশান্তরী  
পলায়ন, 
পার্থিব দেহ চায় অবিরত বৃষ্টি, অতিরিক্ত 
চাহিদা জাগিয়ে  যায় মায়াবী তৃষ্ণা, 
অস্তিত্ব তখন আদিকালীন 
অগ্নিশিখা, হাজার 
হাজার বর্ষার 
পথ 
চেয়ে বসে থাকে, ভুমিকম্পিত ফাটলের  -
মাঝখানে অসহায় একাকী,

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২


অভ্যন্তরীণ শক্তি 

খণ্ডিত বিগ্রহ বলে দূর করা যায় না জীবনের 
সত্যতা, ভাঙনের সঙ্গেও জড়িত  থাকে,
অনেক  গোপন  সৃজনের  সম্ভাবনা, 
সুতরাং সমস্ত  বিশৃঙ্খল  
অনুভূতি নিয়ে নব 
উপাসনা, 
হৃদয় গড়ে চলেছে দুঃখের মাঝে সুখের নবীন 
গাঁথন, উদ্ভাবনীর  কল্পনা, উপেক্ষিত 
ভূমির বুকে যেন ফসল 
ফলানোর চেষ্টা, 
গেরণের
অনুভাবে ও রাত হয় নি কুত্সিত, ক্ষণিক
অবহেলার পরে আকাশ যেন হয় 
উঠেছে বেশি সুন্দর, উজ্জ্বল,
ভরে চলেছে ঐশ্বরিক 
আলো, যারা 
করে 
গেছে তিরস্কৃত, ঘৃণা, তারাই দেখি খুলে 
চলেছে সমীহের লৌহ কপাট,
অন্তর্মনের শক্তি অপার,
ভরে যায় অজ্ঞাত 
ভাবে জীবনে 
প্রাণ 
সঞ্চার, খণ্ডিত প্রতিমা ফিরে  পায় পূজার 
বেদি, লুপ্ত মূল্যদান - - 

- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

নিরীহ প্রেমের  উত্পত্তি 

নিরীহ চোখের অভিলাষ, ভাঙা রঙিন খড়ি,
কালো স্লেটে লেখা কিছু ভুল বর্ণমালা, 
পাঁচিলে বসে রয় শৈশবের দিন 
গুলি, স্মৃতিরা খেলে 
নদী পাহাড়, 
চড়ই পাখির উড়ন্ত শিমুল তুলো তুলে ধরা, 
কোথা হতে হঠাৎ বয়ঃ সন্ধির  বাজ  -
পাখির  যেন  উড়ে আসা, 
সুখের  শালিকের 
মুহুর্তে 
নিরবতা, সন্ধ্যার  মুখে  মেঘের  আনাগোনা,
পলাশ রঙ্গী আকাশ জাগিয়ে যায় 
মনের মাঝে সুপ্ত আন্দোলন ,
ভেসে আসে দূর  হতে 
বন তুলসীর  
গন্ধ,
কে যেন উস্কিয়ে গেছে গুপ্ত আঁখির ভাষায় ,
দেহ ও প্রাণ, দৌড়িয়ে রয় ঘুম 
সারা রাত যেন বাউল 
পাড়ায়, সেই 
অশ্বত্থ 
গাছের ভূতের ভয় যেন সরে গেছে বহু দূরে,
খালের পাড়ে বসে  থাকে একাকী 
মন  কার  যেন  অপেক্ষায়ে, 
প্রেম  যেন  মহা  ভিতু 
ভাবনার  সাঁকো
পার  করতে 
রাত 
যায় পোহায়ে, জুয়ার  নেমে  চলেছে  নিশীথে,
সে দূর  থেকে  হেসে যায়  আঁচল 
মুখে  চেপে  - - 

- শান্তনু  সান্যাল 
art - Wooden Bridge Print by T. C. Chiu

বুধবার, ৭ মার্চ, ২০১২

স্বপ্নের আত্মীয়তা

তৃষিত ধরা, আকাশ নিমগ্ন আলোর জগতে,
উত্থাপিত হাত চায় মেঘের ছায়া, 
মাটির বুকে স্বপ্নের বীজ 
যায় শুকায়ে, ওই 
অন্ধ গলির 
মোড়ে
মাড়িয়ে গেছে, বিজয়ী মিছিল সহস্ত্র পায়ে, 
ফুলের তোড়ার শ্বাসরোধের সাক্ষী 
ছিল শুধুই এক নিখোঁজ শিশু,
মধুমাস ও যাবে তার 
প্রেমের মুখোশের 
সঙ্গে খসে, 
তার আশ্বাসনে গেছে জীবন ফুরায়ে, না 
আসি নি, তার আবছা প্রতিশ্রুতি 
সকাল, তাই বসে আছি 
পথের  ধারে এঁকে 
জীবনের পথ -
চিত্রাঙ্কন,
যদি কিছু করুণার খুচরো, ক্ষুধিত পেটের 
আগুন নিভায়ে, তাকে নিয়ে আর 
পারি না, লিখে যায় শুধুই 
মিছে মিছে দেয়ালের 
গায়ে বৃষ্টির 
খবর, 
জানা সত্তেও যে মরুভূমির বুকে স্পন্দন 
গেছে থেমে, কিন্তু কি বা করা যায় 
স্বপ্নের কাছে আপন কিংবা 
পরকীয় বলে কেউ 
নয়, তাই 
নিশীথ রাতে চাপা পায়ে কিছু জীবন্ত আলো
চোখের পাতায়, নিঃশব্দ যায় 
সাজায়ে - - - 

- শান্তনু সান্যাল
painting  by SANATAN DINDA - India 


মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১২

তার আসার আগে

অধরা তার দেশান্তরী অপগমন, চোখের কোণে
রেখে  যায় মেঘের মিহি বিন্দু, হাসির 
ধুম্র ছড়িয়ে আকাশ পথে, মুহুর্তে 
একাকার যেন সুনীল 
শুন্যে, তার 
আসার 
আগে দোলায়মান জীবনের বাঁধা – ধরা, ওই 
মিলনের ক্ষণে কি যে হয় জানে না মন,
থেমে রয় অন্তরিক্ষের সমস্ত
জ্যোতির্ময়  পিণ্ড, যেন 
ছুঁয়ে গেছে কার 
মোহিনী 
হাত, স্তম্ভিত সৃষ্টির তত্ববিদ্যা, অবাক নিসর্গ,
সেই সময়ে জীবন খুঁজে পায়  নিরাপদ 
আশ্রয় স্থল, হারানো উচ্ছ্বাস, 
স্বপ্নের বাস্তববাদ, 
দীর্ঘস্থায়ী 
ব্যথার উদ্ধার, ধরে রাখতে চায় বুকে তার 
উন্মুক্ত ভালবাসা, সংখ্যাত মুহূর্ত -
ভরে যায় ব্যক্তিত্বে অভিনব 
পুনর্জাগরণের মন্ত্র,
দূর ঝিলের 
তীরে 
অনাম পাখির ঝাঁক ডুব দিয়ে ঝাঁকিয়ে চলেছে 
ভিজা পালক, সূর্যের গায়ে ভেসে 
যেতে চায় পাতলা সাদা 
মেঘের স্তর, 
তার আসার বেলায় যেন অসময়ের বৃষ্টি না 
ঝরে, বসে বসে একাকী ভেবে যায় 
হৃদয় - - - 

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 
source : man in a tweed suit was waiting for her.poi d’improvviso venivo dal

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১২


মাঝির প্রত্যাশা 

অনিঃশেষ বাহ্য অন্ধকার, দমকা বাতাস 
অন্তঃকরণে জ্বলে তবু ও অজ্ঞাত 
উদ্ভাস, ওই তীরে যেখানে 
সরিয়ে গেছ নৌকা 
ধরার হাত, 
অদৃশ্য 
মাঝি অপ্রত্যাশিত ভাবে জড়িয়ে ধরেছে 
কম্পির কাঁধ, টেনে বুকে দেখিয়ে 
গেছে এঁদো গলির সন্ধান, 
ওই ফিনিক আলোয় 
খুঁজে পেয়েছি 
আত্ম 
বোধ, ভুলে গেছি মনের প্রতিশোধ !
তোমার নৌকা বয়ে চলেছে 
মন্থর বেগে দূর দেশ, 
ব্যথিত হৃদয়ের 
নিয়ে সঙ্গে 
মঙ্গল কামনা অশেষ, জীবনের যাত্রা 
অন্তহীন, একাকী পাড়ি দেওয়া 
ছাড়া কি আছে উপায়,  
নিয়তির খাতায়
হয় ত ছিল 
সীমিত 
পৃষ্ঠ, তাই ভুলে গেছে বিধাতা লিখতে কিছু 
অতিরিক্ত বরদান, এখানেই ভেসে 
উঠে ডুবন্ত তারকের কিছু 
স্বরচিত নীল আলো, 
সুপ্ত বিবেক 
জেগে 
উঠে হঠাৎ, এই জাগরণে জীবন বেয়ে যায় 
ভাঙা তরী, উজান যেন এগিয়ে 
নিজেই আসে কাছে, ঝরে 
যায় আকাশ হতে 
দিব্য জোছনা, 
ফিরে 
আসে হারানো  অনুরণন তোমার প্রেমের 
হাত ধরে, ভরে যায় জীবনে পুষ্পিত 
নিঃশ্বাস, ক্ষিপ্ত  নদীর  দেউ 
থেমে রয় কিছু ক্ষণ, 
তটের মাটি 
জড়িয়ে 
রাখে স্বপ্নের শিকড় জোরে, আকাশে হালকা 
হয় উঠেছে মেঘের যবনিকা - - 

- শান্তনু সান্যাল
Panting by Anita Stanhope 


ঠিক ভোরের আগে 

কত ক্ষণ এই ভাবে নিঃসঙ্গ বসে রবে বালির স্তূপে,
আঁধার ঘনিয়ে আসবে যখন, ছায়া ও যাবে 
দূর সরে, স্বপ্ন কভু মরে না, তাই বলি 
এই একাকী ক্রন্দনের সাক্ষী 
যারা, ঠিক ভোরের 
আবছা
আলোর সঙ্গে কেটে পড়বে, ওই গোঙানির ব্যথা 
বুঝবে না কেউ, কিংবা বুঝতে চাইবে 
না, সুদুর রাস্তার বাঁকে এখনো 
সেই ভাঙা মাইল স্টোন
জেগে আছে, নিয়ে 
বুকে কিছু 
অপ্রত্যাশিত আলোর কণিকা, জীবনের কিছু 
মার্গ নির্দেশ, ওই ঢালের গায়ে নিজেকে 
ভাসানো মন্দ নয়, তার পরে 
নিয়তির হাতে সময় -
চক্র, ঘুরুক 
বা থেমে 
যাক, উপত্যকার সর্পিল পথে ঝুলন্ত ফলকে 
জানি লেখা আছে পূর্ণ মন্থর বেগ, 
এক দিকে অরণ্য ঘাট অন্য 
পাশে গহ্বর, তাই বলে 
যাত্রা কি বাতিল, 
এখানেই 
অদৃশ্য প্রেমিক ফটকা খেলা চায় দেখতে, জীত 
হারের বাহিরের অনুভূতি, মৃত্যু কে 
বলে এখন সময় আছে, গুটাব 
না আকাশের শামিয়ানা,
ঝরুক নিহারিকা 
কিছু অন্তর্মনে, 
এখনো 
রাত বাকি অনেকটা, সকালের আগে দেখতে 
চায় মন  ভাঙা স্বপ্নের পুনর্জীবন, ওই 
নির্জন স্তূপে জোনাকির মেলা, 
কাঁকুরে পথে কিছু ঝরা 
নিশি পুষ্প, সিক্ত 
চোখের তলে 
লাজুক 
আঙ্গুলের ছাপ, বুকের বিস্তৃত অঞ্চলে নীল আলোর 
তরঙ্গ, এক রাশ ভালবাসা  - - 

- শান্তনু সান্যাল

art creation by George Grie