রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

যখন সারা শহর মূর্ছনায় - -

জানি না কারা এরা, নাগা সাধু কী 

সরকারের মরচে পড়া চাটুকার,

 উলঙ্গ ভাষায়

যেখানে ওখানে 

দিচ্ছে ষাঁড় 

হুঙ্কার, 

কোন জুতোর কারখানায় এরা

চাকরী করে, যে মানুষের

চামড়ায় জুতো বানায়,

কে আছে এদের

সম্রাজ্ঞী, এ

কেমন

অহংকার, কোন মহিষাসুরের

রাজত্বে লোক বাস করছে,

এ কেমন রক্ত পিপাসু

চিৎকার, এরা কারা

মোমবাতি হাতে

নিযে শান্তির

মুখোশ

পরে

করছে নিরীহ মানুষের সংহার,

এরা কারা জোকারের দল

সেজে গরিবের পেটে

মারছে লাথি, আর

সাজাচ্ছে নিজের

অট্টালিকায়

টাকার

পাহাড়, মূর্ছনায় যখন সারা

শহর, তখন অর্থহীন

 শব্দের হাহাকার ।

- - শান্তনু সান্যাল


সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

সব কিছু হারায় না - -

পড়ন্ত বেলার ছায়া ছিল হারিয়ে
গেছে অন্ধকারের মাঝে,
সহজ নয় অকারণে
সঙ্গে বহু দূর
হেঁটে যাওয়া,
ওই সাপ
সিঁড়ির
খেলা,
ধেয়ে যায় দুরন্ত বেগে, কখন যে
হাতের বন্ধ ভাঙলো টেরই
পাই নি,যখন কুয়াশার
মেঘ সরল, নিজেকে
কুড়িয়ে পেয়েছি
বিধ্বস্ত
সংসারের মাঝে,পড়ন্ত বেলার
ছায়া ছিল, হারিয়ে গেছে
অন্ধকারের মাঝে।
নিশি ডাক
হয়ে
ঘুরে বেড়ায় জীবনের যাযাবর
স্বপ্নগুলো, বুকের মাঝে বহে
যায় অদৃশ্য মরু নদী,
সব কিছু শুকিয়ে
যাওয়ার
পরেও
আশ্চর্য, তোমার চোখে খুঁজে
পাই আমি নতুন ধানের
গন্ধ,পলকের শীষে
কিছু শিশির
বিন্দু,
অন্তিম প্রহরে তাই তুমি লুকিয়ে
থাকো হিমনদের জলধারের
মাঝে, পড়ন্ত বেলার ছায়া
ছিল হারিয়ে গেছে
অন্ধকারের
মাঝে ।
- - শান্তনু সান্যাল

   

বুধবার, ৫ মে, ২০২১

পৈচাশিক পুরোধা - -

এ কেমন রক্ত অভিষেকের খেলা, কোন 

বর্বর দেবীর জন্য নিরীহ মানুষের

অবিরত খুনের 

মেলা, এরা 

কোন

দেশের অধিবাসী নিজের সত্তার জন্যে 

নিজের লোকের করে

যায় হত্যা,

ধিক্কার

করি

এমন রক্ত পিপাসু সমাজ যে

গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে

গরিব মানুষের সঙ্গে

করে প্রতিহিংসা,

দুঃখিত যে

আমার

পূর্ব

পুরুষরা প্রাণ হারিয়ে ছিল এক দিন এই 

বঙ্গ ভূমির জন্য, মনে রেখো

আসন্ন প্রজন্ম

কোনো

দিনই

করবে না তোমায় ক্ষমা, ওই

গঙ্গার ধারে এক দিন

তুমি পুড়বে পরিচয়

হীন, ইতিহাসে

তুমি হবে

ঘৃণিত

এক

পৈচাশিক পুরোধা - -


* *

- - শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের উপলক্ষে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা  দিবসের উপলক্ষে সবাই কে অসংখ্য শুভকামনা - - কিন্তু চিন্তার বিষয় হলে যে কত আমরা নিজের ভাষা কে ভালোবাসী, শুধুই শ্লোগান এবং মিছিলের দ্বারা ভাষার অস্তিত্ব বাঁচানো কী  যায়, আসলে বাংলাদেশটাই বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য প্রশংসার পাত্র, আমি বহুভাষী প্রবাসী বাঙালী কিন্তু হিন্দী পাঠকরা আমার লেখনের মূল্য বোঝে, এই দেশের বাঙালী ইংলিশে কথা বলতে গর্ব বোধ করে, ভোটের জন্য উর্দু এবং হিন্দীর জয় গান করে, ইদানিং যত সব ভ্রষ্ট দলের পুরোধারা হিন্দীতে ভাষণ দিতে মরিয়া, ভুল ভাল বলে পরিহাসের পাত্র হয় ওঠে। আবার নিজের দেশের নাগরিক কে বহিরাগত বলে বেড়ায়, যত  সব যাত্রা দলের বিলুপ্ত শিল্পী, মঞ্চ পেলেই হল, যা মুখে আসবে বমন করে যাবে, বাংলা ছবিতে হিন্দী গানের রমরমা, উর্দু হিন্দি মিলিয়ে এমন বাংলা গানের রচনা করবে যা দেখে কবিগুরুর চোখের অশ্রু থামে না, আর নেতাগুলো ভুলভাল সরস্বতীর মন্ত্র পায়চারী করে গাইবে যত সব জোকারের দল, সম্প্রতি সার্কাসে খেলা দেখতে যাওয়ার দরকার নেই রাস্তা ঘাটে উলঙ্গ ভাষায় খেলা এবং খেলা হবে গান চলছে, ৭০ বছরে গোটা বাংলাকে উজাড় করে এখনো এদের খেলা শেষ হয় নি, বাংলা সিরিয়াল গুলোতে মা পিসি আত্মীয় স্বজন সব যেন মন্থরা কৈকয়ীর গুষ্টি। সাজ গোজে এমন বাঙালিয়ানা যে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমারা তা দেখে অজ্ঞান হয়ে যাবে,আবার মাঝে মাঝে হিন্দী গানের ফোড়ণ না দিলে চলে না, আবার মঞ্চে এসে যত সব চাটুকার শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির দোহাই দেয়। যা উজ্বল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সেটা অনুমান করা যায়, দুঃখ হয় যে এই নোংরা রাজনীতির জন্য বাঙালিদের যা দুর্দশা জানি না আমারা  কখন যে মানুষ হবো - -
বাংলা লিখুন, বাংলা পড়ুন, বাংলা বলুন বাইরে আর অন্দর মহলে, তাহলেই বাংলা ভাষা বাঁচবে পশ্চিম বাংলায় - - নিজের ভাষায় গর্ব বোধ করতে শিখুন - - নমন  সহ। 

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

ধূসর প্রান্ত - -

তুমি যতই ধরে রাখো নিজের
হৃদয় পিঞ্জরে, আমি ঠিক
জোনাকির মত উড়ে
যাবো আঙুলের
ফাঁক হতে,
মধুর
স্মৃতিগুলো যেন সজল - অঞ্জলী, অদৃশ্য ভেসে
যাবে চোখের তীরে,
তুমি নিজের
প্রতিবিম্বে
হয়ত
খুঁজবে আমার ঠিকানা আমি
তখন আয়নার বোবা ভাষা,
চেয়ে থাকবো তোমায়
তৃষ্ণার্ত মরু বুক -
নিয়ে, আমার
দিন -
পঞ্জিকা ছিল চিরদিন, মধ্য
হৃদের শুকনো গাছ,
আকাশমুখী এক
অনন্ত উচ্ছ্বাস,
নিয়তির
আগে
ছিলাম নিরুপায়, তাই জীবন
রইলো ধূসর প্রান্ত।
* *
- - শান্তনু সান্যাল



বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

খোলা হাতের তালু - -

 
এই পথের বুকে সবাই হারায় এক দিন, -
কুয়াশায় ঢাকা থাকে স্মৃতির কিছু
চিরকুট, খোলা হাতের তালু,
উড়ে যেতে চায় হলদে
প্রজাপতি, অবোধ
শিশুর মতো
আমি
চেয়ে আছি তোমার ভাঙা চশমার কাঁচ,
সেকেলের কিছু গান যেন আটকিয়ে
আছে ঝুলন্ত দড়ির গায়ে, হয়ত
ঝড়ের প্রতীক্ষায়, অতীত
যেন কৃষ্ণচূড়ার ফুল,
ঝুল-বারান্দা
হতে
আমি হাত বাড়াই, কিন্তু শাখা গুলো যায়
দূর সরে, চার দিকে গজিয়ে উঠছে
ধারালো আহ্বান, তবুও যেন
শহরটি নিঃশব্দ ঘুমে
ঘুমিয়ে আছে
নিজের
বিধ্বস্ত জগতে, জানি না বিহানের কচি -
আলোয় তুমি আবার আসবে বকুল
কুড়োতে - -

* *
- শান্তনু সান্যাল


বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

শরৎ প্রবাহে - -

অভ্র গুঁড়োয় মাখা আবার ফিরেছে শরৎ
সকাল, শিউলির সেই চিরন্তন গন্ধে,
কূল ভাঙা নদীর হাহাকার বুকে,
পূজো মণ্ডপের শেষ প্রান্তে
কিছু পথশিশুর মুখ
লিখে গেছে -
একরাশ কবিতা, সবটাই আবছায়া আর
প্রশ্নচিহ্নে ভরা।আমার শুভকামনার
অদৃশ্য তুলসী মালা, যথারীতি
রইলো তোমার কণ্ঠে,
হয়তো কোন
একদিন,
গোলাপের গন্ধে, হটাৎ টের পাবো তোমার
সত্তা। অতীতের পৃষ্ঠে লেখা স্মৃতিগুলো
ক্রমশঃ ঝরে চলেছে পিচের রাস্তায়,
কিছু ক্ষণের মিষ্টি আভাস
ভাসবে বায়ুমণ্ডলে,
পরে জীবনটা
দাঁড়িয়ে
রবে শিউলির গাছের মতন একাকী রাস্তার
ধারে।সকালটা খুবই ডানপিটে ঠিক
দৌড়িয়ে যাবে সন্ধ্যার টানে,
অভ্রগুলো এখন কালচে
লাল, ঠিক তোমার
সেকালের যেন
অগ্নিময়
ঠোঁট,
তুমি চিরদিনের নির্ভীক অগ্নিশিখা, আর - -
আমি যথারীতি এক মুখচোরা, ফিরে
আসা অপ্রকাশিত কবিতা।
* *
- শান্তনু সান্যাল