রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১১


অগ্নি বলয়ের ওপারে 

সন্ধ্যা নামার পূর্বে কপিন্জলের ডাকে 
ঝিলের তরঙ্গ সহসা যেন অস্থির -
কিছু ক্ষণেই বোধ হয় বৃষ্টির 
ঝাঁপ ভিজিয়ে যাবে অন্তর্মনের দহন, 
মেঘেরা ভিড় করে আছে,
মালভূমির উপরে, সুদুর পাহাড়ে কি 
রাত অসময়ে ঘিরে আসে ?
তোমার এই প্রশ্নের মধ্যে আমি  দেখি 
সহসা হয় উঠেছি ক্রুর  আলফা 
নেকড়ে, সিগারেটের ধোঁয়া মুক্ত করে 
মন চেয়েছিল তোমার অস্তিত্ব 
সম্পূর্ণ ভাবে গিলে নিতে, ঘোরের -
সান্দ্রতা তখন আঠাল, তুমি 
ফেলে চলেছ টোপের অপর  টোপ -  
দুজনই নিজের জগতের স্বামী,
স্বয়ংভূ, বিশৃঙ্খল দুই উন্মুক্ত চরিত্র !
অভয়ারন্যে বর্ষা তখন চূড়ান্ত 
ভাবে ঠেলে চলেছে শুকনো নদীর -
বালু, পাথর, তীরের অশক্ত  
ঝোপ যেন নিজেই ভেসে যেতে চায়,
নুয়ে পড়ছে একের পরে এক,
তখন তুমি কিছুই শুনতে রাজি না,
আমি চাই নি বিশ্বাস কর এই 
ভাবে তোমায় উধ্বস্ত করতে, কিন্তু 
তুমি নিজেই চাও নিজেকে 
উজাড় করতে, তাই করে গেছ সেই 
মনের খুব নরম ভাগে ঘাত -
প্রতিঘাত, জাগিয়ে গেছ সুপ্ত পৌরুষ,  
সেই পান্থশালায় তোমার পৃথিবী 
অন্ধকার, কেড়ে নিয়েছি  আনুগত্য !
জানালার কাচে তোমার আগামী 
সকাল, ভিজে কাঁপছে একাকী,
আমি এখন গর্বিত পুরুষ দাঁড়িয়ে 
দর্পণের মুখে নির্লজ্জ ভাবে 
পরে চলেছি অধোবস্ত্র, তুমি খুঁজে 
চলেছ এমন সময় বিছিন্ন 
সিঁদুরের কৌটো, বিবর্ণ  কাজলদানী,
মরিচিকার পথে মমতাময়ী 
মরুদ্যান, আমি নিজগৃহে এখন আর্য 
সুপুরুষ, ভদ্র এক জন, তুমি 
শুধুই এক রাত্রির প্রহসনের অংশ -
আমার কাছে তোমার এই 
পরিচয়, যবনিকা ফেলার পরে কে 
তুমি, কে আমি, অনুবন্ধের 
খেলা তুমি নিজেই খেলতে চাইলে এখন 
বলার কিছুই নাই, মৌন অনন্ত,

-- শান্তনু সান্যাল 
painting self reflection - source unknown
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১১


পার্শ্বপথের যাত্রী 

ক্রমশঃ অন্তরণের ভাব নিয়ে তার দূরে সরে 
যাওয়া, হয় ত ইঙ্গিত করে গেছে 
বহু আগেই, টের পাই নি 
মনের কিনারা, যখন 
সে এক শীর্ণ জল -
ধারা, বৃষ্টি 
যাযাবর,
উড়ে চলেছে উদ্দেশ্যহীন এখানে সেখানে -
জানার সত্তেও যে সে আর ভালবাসে 
না, আমি খনন করেই চলেছি 
বুকে লুকানো বালির 
ধ্বসে যাওয়া 
জল কূপ,
সেই সকাল থেকে সন্ধে, নন্দন থেকে 
পুরোনো বইর পাড়া, খুঁজেছি সেই
শুকনো ফুলের শিরায়
ঘনীভূত ক একটা 
শিশির ফোঁটার 
ঠিকানা,
জন অরণ্যের মাঝে সাঁঝের আলোয়, এখন 
রঙ্গীন চিরকুট, টুকরো টুকরো 
উড়ে চলেছে ধুসর জামীরা
আকাশে, ছুঁতে চায় 
দূরগামী 
উড়োজাহাজের লাল সবুজ আলোর ফুলকি,
স্বপ্ন দেশান্তরী, নিশীথরাতে নাকি 
গান করে, নাচ করে,
মূর্চ্ছিত বুকে প্রাণ
ভরে, সাগর 
পারে,
আমি হেঁটে চলেছি একাকী ফাঁকা পথে বহু দূর,
শহর এখন অমূর্ত অবুঝ চিত্রবীথি,দর্শক
বলতে আকাশের জগত, চেয়ে 
আছে উন্মুক্ত বক্ষের
সমাধিস্তম্ভের 
দুর্বোধ্য 
লিপি.

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
source - pinoy exchange 


সিক্ত ঝরা পাতা 

না, আমি চাই নি সে দিন তোমাকে ভালোবাসতে,
শুধুই চেয়েছিলাম একান্ত পুতুল খেলা খেলতে, 
তোমার শ্যামবর্ণ দেহে কিছুই এমন ছিল 
না, যে অনায়াসে করে যেত উদ্বেলিত
প্রসুপ্ত পৌরুষ গ্রন্থী, জানি না 
কোন মুহূর্তে কেন যে 
এমন হলো, হঠাত
দেখি তুমি 
ভেসে চলেছ স্নায়ুর ভিতরে, রক্ত কণিকার রূপে, 
সন্ধে ঘিরে যখন নামল ছিঁটে ফোঁটা বৃষ্টি,
জানালার ধারে দেখি লুকিয়ে চলেছে 
অচেনা কোন এক পাখি, আমি 
চেয়ে ও জানালা দিতে 
পারি নি, কোথায় 
যেন তোমার 
নিরীহ 
চোখ, নীড় বেঁধে চলেছে তখন হৃদয়ের মাঝে,
আবার এক দিন ভিজা পাখির মত
দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছ 
দরজায়, ঘামিয়ে 
একাকার, 
মন 
হয়ে উঠলো সহজে অশ্বত্থ গাছ, ছায়াচ্ছন্ন তোমার 
শ্যামলা শরীর হয়ে উঠেছে সেই ক্ষণে 
অঙ্কুরিত নব কিশলয়, বুকের 
আশ্রয়ে তুমি তখন পূর্ণ 
নারী, সৃজনের পথে 
অগ্রগামী,
তুলনার চিত্রলেখে তুমি শীর্ষ বিন্দু, আমি খুঁজে 
চলেছি অধোবিন্দুর সমাপ্তি, সেই অক্ষের 
ধরাতলে বহু বার  তুলে নিয়েছ 
আমায়, আমি তখন ঝরা 
পাতা চেয়ে আছি 
শিশির বিন্দু.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

আলোর রুমাল

প্রণত নয়নে তার বালুকা বেলায়
অঙ্গীকারের কবিতা, প্রায়
রেখে যায় কিছু ম্লান
অস্পষ্ট শব্দের
খোল,

কুজনের রহস্য রোমাঞ্চ, সাঁঝের -
ক্লান্ত নিঃশ্বাস তুলে রাখে
তার পরিত্যক্ত
শল্কের কিছু
রঙ্গীন

টুকরো, মন চায় ফিরে পাওয়া অবেলার
 জোয়ার, দেহের জোছনা,
জীবনের আঁধার এই
মুহূর্তে চায় পূর্ণ
পরিত্রাণ,

সম্ভবত  সে এখন ঝুলন্ত নাগরদোলা,
ফেলে চলেছে আলোর রুমাল,
তারকের ভিড়ে খুঁজে
হৃদয়ে তার ভেঙে
পড়ার পথ,

চেয়ে রয় স্থির দৃষ্টে মন, বিস্তীর্ণ আকাশ !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

creator of painting -IRENE FRANKEL 

সৃজনের কাহিনী 

দেখতে চাই নি সে জীবনের ধুসর পৃষ্টে 
লেখা, বাস্তবিক কাহিনী, কুত্সিত 
লোম ভরা বুকের মধ্যখানে 
ত্বক বিহীন সাদা দাগ,
নিভিয়ে গেছে
নিজেই 
আলোর স্রোত, সে এখন বিগলিত তরলতা 
 উচ্চ তাপে আসীন একান্ত রাজমহিষী,
 জ্বলন্ত পথ হতে নেমে যেতে 
চায় সাগর ধরাতলে,
খালি পা, এলো
 কেশ,
 নির্বস্ত্র 
দেহ, বিক্ষিপ্ত ভাবে সে ভালবাসতে চায় 
পরিত্যক্ত প্রবাল দ্বীপ, আমি কাচের
শিল্পী, ঘামানো স্বপ্ন নিয়ে 
দাঁড়িয়ে আছি, অবাক 
অগ্নি কুণ্ডের
সম্মুখীন,
উঠন্ত অগ্নিশিখায় লিখতে চাই শ্রাবনের গান, 
তার উষ্ণ নিঃশ্বাসের বুদ্বুদ, চোখের 
নিঃশব্দ, মায়াবী রূপের  প্রদীপ্ত
বালু  কণা,  এঁকে চলেছে 
অমূর্ত চিত্রকলা,
সেই ক্ষনিক 
তীব্র সময়ে পৃথিবীর আবর্তন হয়ত থেমে  
 ছিল কিছু ক্ষণ, হাতের সেই 
দোলায়মান জাদু  নিমেষে 
রচে গেছে 
প্রেমের 
 অধর চিহ্নিত অভিনব সুরাপাত্র, সামলিয়ে 
রেখে আসলাম সেই উচ্চ  তপ্ত 
ধুম্রময় কৃতি, পারদর্শী 
স্বর্গ, অনন্ত বীথি 
এখন তার 
নিম্নাঞ্চলে উচ্ছলীয় রয়েছে বাষ্পিত উর্মিমালা,
ভেসে চলেছে ঝামা পাথর, হয়ত কালান্তরে 
হয়ে উঠবে সে গুলো রঙ্গীন জীবাশ্মের 
রূপ,বহুমূল্য রত্ন মালা, সৃষ্টির 
বিরল আবেশের দীপ্তি,
প্রেমের দীপশিখা,
সৃজনের 
প্রারব্ধ !

--- শান্তনু সান্যাল 
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/


মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১১


মহা বন্যার পথে 
*
অতৃপ্ত তার পিপাসা জেগে উঠে আঁধারে 
বহুবার, গিলতে চায় জীবনের 
সমস্ত আর্দ্রতা, অস্তিত্ব 
তখন শুধুই এক 
রিক্ত পাত্র,

গোচরে তখন ভেসে যায় অগ্নি লহর, 
রঙ্গীন মেঘের দল যেন তরল 
ধাতুর ধারা, এঁকে চলেছে 
অভিনব দিগন্ত, 
নিশ্বাসের
বুদ্বুদ হয় উঠে যেন কাচের বিম্বিত মণি,
তার ত্রিপার্শ্বের লাবণ্যে, জীবন 
ছুঁতে চায় পরিপূর্ণতা, 
সহসা সে কেঁপে 
উঠে নীল 

আলেয়ার রূপে, ধরে রাখে মন ও প্রাণের
অদৃশ্য কৌশিক - যোগসূত্র, নিজের 
কমনীয় হাতে, স্বনৈবদ্যের 
প্রক্রিয়া, গহন নিশীথে 
হয় উঠে স্পৃহা, 
অনুরণিত
ভাবে, 

হটাত সুপ্ত আকাশগঙ্গা মহা বন্যার পথে !
***
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১


নাগমণি 

মুখোমুখি আজ আবার  আরশির জগতে,
বাহ্য শল্ক ঝরে গেছে শীত নিদ্রার 
পরে, সে চেয়েছে দেখতে 
মুখোশবিহীন 
চেহারা,
তাই সান্দ্র অন্ধকারে রেখে এসেছি ভদ্রতা,
আসল ও নকলের পরীক্ষা শিলা, 
তার সুবর্ণ দেহে গন্ধ আছে 
কি দুর্গন্ধ, এই মুহুর্তে 
অর্থহীন, আমি 
যে কত 
খাঁটি সোনা, পদ্ম হবার সাধ কি সবার সাধ্য, 
অগ্নি পরীক্ষার ভয়ে মন এখন 
ভবঘুরে, এড়িয়ে যেতে 
চায় সম্ভাব্য জালের 
ফাঁস, খুঁজে 
বেড়ায়
চোরা গলি, তার তদন্তের ফর্দ দীর্ঘ্য যামিনী,
কৈফিয়ত উড়ন্ত নবমালিকার 
গন্ধ, আমি হতে চাই 
এখন চোখের 
জ্বালা, 
মিথ্যা কাঁদন, তার অনুগ্রহের বিশেষ পাত্র,
দুষিত জলকুম্ভ, যদিও আমি 
বিষ পুরুষ, সে জানে 
আমার বাস্তবিকতা 
ভালই ভাবে !
তবু ও 
সে এগিয়ে চলেছে ধরতে অমূল্য যেন নাগমণি.

-- শান্তনু  সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by -  Martin Johnson Heade