রবিবার, ২৪ জুন, ২০১২

সরাসরিভাবে স্বীকারোক্তি

"নিঃস্বার্থ ভালবাসার গুণগান শুনতে আর ভালো 

লাগে না, পতঙ্গ আর জীবন্ত শিখার মাঝের 
সেতু কোনো দিনই টেকসই হয় না," 
সে নিকটে এসে স্পষ্ট বুঝিয়ে 
গেছে, আবরণের 
ভিতরের 
বাস্তবিকতা, প্রবলভাবে প্রতিফলনের ডগায় নগ্ন 
বসিয়ে জানিয়ে দিয়েছে " এই প্রান্তের 
নিচের ভূমি স্বপ্নের ভূমি নয়;
বরং কাঁটা ভরা মাঠ," 
এখন সিদ্ধান্তের 
পালা 
তোমার হাতে, কাছে আসার আগে সরে যাওয়ার 
বিকল্প উন্মুক্ত, তাই যবনিকা ওঠার পূর্বে 
যত পারো নাটকের পংক্তি মুখস্থ 
করে ফেল, পরে আর কি 
সময় পাবে, জ্বলন্ত 
রঙ্গমঞ্চে পা 
দেওয়ার পরে ফিরে আসা মুশকিল, কেবল অন্তহীন
দহন, পৃথিবী হতে আকাশের পথে একাকার 
ধূম্র বৃত্ত, নিয়তির  মন্ত্র মুগ্ধতার মাঝে 
জীবনের বাজি - - 
- - শান্তনু সান্যাল 
 

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

প্রতিফলন বিহীন আয়না

জীবন্ত দহন নিয়ে দেহে সে ঝলসিয়ে যেতে 
চায়, পুরুষালি কায়া, হাড় মাংস,
লোমছিদ্র হতে আন্তরিক 
অংশের ভিতরে, 
ভাবনা 
অভাবনার মূল্য তার কাছে বৃথা অরণ্য -
রোদন, তার মনোভাবে প্রকৃত 
প্রণয় শীর্ষে, দুই দেহের 
মিলন বিন্দুর মুখে 
দাঁড়িয়ে রয় 
চরম 
অভিলাষা, ওই আদিম প্রেমের পরিভাষা;
হয় ত তথাকথিত সভ্য সমাজের 
কাছে অশ্লীলতা, নেহাত 
ভোগ লিপ্সা, কিন্তু 
কোথায় যেন 
সে বিশুদ্ধ
সত্যের করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, নামিয়ে দিতে 
চায় মুখোশের সত্তা, শরীর থেকে 
নির্গত আত্মার খোঁজ তখন 
এক বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন,
দেহের মাঝে 
পৃথিবী,
আকাশ, মহাসাগর, নীহারিকার আলো, অজ
 বীথি, নিঃশ্বাসের সেই জগতের বাহিরে 
কেবল মরিচিকা, স্পন্দনের 
সমাপ্তির পরে অভিন্ন 
শয্যাসায়ী মানুষ 
করে চাপা 
আতঙ্কিত ঘৃণা, শরীর নিয়ে যাবতীয় হিংসা 
প্রতিহিংসা, আচার বিচার সব কিছু 
অর্থহীন, প্রাণ বায়ু যখন হয়
উঠে বিলীন, তার ওই 
পারদর্শী দর্পণে
পরাবর্তন 
যায় থেমে, ভেসে উঠে উলঙ্গ শরীর চোখের ঠিক 
সামনে, সেই আবরণ বিহীন জীবন 
শুধিয়ে যায় দেহের বাস্তবতা,
খুলে খসে পড়ে স্তর প্রতি 
স্তর ছদ্ম যবনিকা,
ক্রমশঃ 
আঁধার হতে দেহ ভেসে যায় অজানা আলোর স্রোতে !
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

  
Painting by Sena Wilson 

বুধবার, ২০ জুন, ২০১২


রহস্যময়  স্পর্শ 
অবিরাম সেই বৃষ্টি ঝরার রাতে; দেখে ছিলাম 
তাকে, আকুঞ্চিত নিজের মাঝে; দাঁড়িয়ে 
আছে হৃদয় অধিশ্রয়ে, নিয়ে অনেক 
দিনের উত্তাপ বুকে; অব্যক্ত 
কিছু অভিযোগ চোখে,
সেই বিমোহিত 
মুহুর্তে;
অভাবিত ক্ষণে; জীবনের আঁকা বাঁকা পথ -
সহসা হয়ে উঠে ছিল এক সরল রেখা,
তার তির্যক চোখের আলোয়; 
অস্তিত্ব তখন ক্রুশ বিদ্ধ,
হারিয়ে চলেছে 
মৌলিকতা,
ওই আর্দ্র আঁধারে; তাকে ছোঁয়ার অভিলাষে -
জীবন গেছে বহু দূর; এক কুয়াশা ভরা 
অরণ্য পথে, লৌকিক অলৌকিক,
স্বর্গ নরক, ভালো মন্দ, সব 
কিছু বিসর্জিত করে,
শুধুই তার বিম্ব 
নিয়ে বুকে,
অনন্তকালব্যাপী; তৃষ্ণা জাগিয়ে অন্তর্তমের  
ভিতরে, সেই থেকে বিমুগ্ধকারী 
অনুসন্ধান - - -
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/





ART BY TIM OHLIGER 

মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১২


ডুবন্ত আঁখির তীরে - - 
সে আজ ও চেয়ে থাকে ডুবন্ত আঁখিতে; আমি 
আজ ও অভিমন্ত্রিত তার শাশ্বত
সম্মোহনে, সে এক দাগ 
বিদারণ, ঢাকতে 
গিয়ে খুলে 
যায়
বারে বারে হৃদয়ের আবরণ, সে আজ ও কাল
বৈশাখী, ধরে রাখি বুকে আমি তৃণ 
কুটির সাধারণ, তার চাহনির 
গভীরে  জীবন ভেসে 
উঠে, নিয়ে নব 
কামনা, 
আমি সান্ধ্য তারা থাকিতে চাই তার নয়নে,
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



Painting by John Cox 

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২


সুদুর কোন প্রান্তরে - -
অনেক দূরে, পৃথিবী ও শুন্যের মাঝে, দিগন্ত 
রেখার উপরে, কে নীল রঙ্গে লিখে যায় 
জীবনের নিখোঁজ কবিতা, মেঘের 
গায়ে ভেসে উঠে, কার আর্দ্র 
ভাবনার আঁখি, ঝরে 
বিন্দু বিন্দু 
সারা
রাত আকাশ, চেপে রয় বুকে দহন জ্বালা, কে 
সে চির বিরহিনী করে আপনমনে 
চিতা ভস্মের শৃঙ্গার, কার 
সুরে ভেসে রয় মৃদু 
নিশিগন্ধার 
সুরভি, 
কোন রাতজাগা পাখির ডাকে কেঁপে উঠে 
মালতী বৃন্ত, জানি না কার সন্ধানে 
উড়ে যায় ভাবনার মেঘ দল,
কার মরু অঞ্চলে চায় 
অঝর বর্ষণ, 
জীবন 
শুধুই খুঁজে যজ্ঞের বেদী, শুন্য হাতে লয়ে 
প্রণয়ী অর্ঘ্য - - 
- শান্তনু সান্যাল
painting by Jessica Libor

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২


চাণক্যের দেশের মানুষ - - 
তারা সবাই চাণক্য, উঠিয়ে ফেলে নিজের পথের কাঁটা 
অন্যের প্রাঙ্গণে, অন্যান্য নিরুদ্ধ প্রতিবেশী বাস 
করে নিরব রূপে বিষধরের পাসে, ওই 
গর্তের ভিতরে নাকি আছে 
অগণ্য মণি মাণিক,
বিষরোধক 
কে বা 
আছে যে ছুঁতে যাবে মারাত্মক খোঁচা, শুধুই অবেলার 
ক্রান্তি নিয়ে বুকে, ঘুরে ফিরে আসে মিছিলের 
পুরোধা, যখন গাছের সমস্ত কলরব 
যায় থেমে, আঁধারে বেশ গল্প 
করে, নব অনুবন্ধ করে, 
আরো বিষ ঢালে 
পড়সির বুকে,
ঘুমন্ত গর্তের বাসী জানতেই পারে না, অপ্রত্যাশিত 
দাবানল কোথায় হতে উঠলো, শুধুই 
নিয়তির অভিশাপ ভেবে, করে 
দেশান্তর সারাটা জীবন,
হয় উঠে কালান্তরে 
পথের মানুষ,
উদ্বাস্তু,
নিজের দেশে, নিজের ভূমির দলিল তারা আর খুঁজেও
পায় না - - - 
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

Painting by Leon Richet 

শনিবার, ১৬ জুন, ২০১২


বহিরাগত আপনজন 
সমস্ত গণনা, যাবতীয় ভবিষ্যদ্বাণী কিছুই কাজে 
লাগে নি, নিয়তির আগে হস্ত রেখা ছিল 
নির্বাক, যখন থামল সময় চক্র;
আপন পরের বিরোধিতার 
মাঝে অকস্মাত সে 
উধাত্ত, লুপ্ত -
প্রায় !
সেই জীবের ইষ্টিপত্র পাতায় শুধুই রয়ে গেল তার 
আবছা নাম, সময়ের সঙ্গে সেও গেছে সরে 
উপান্ত রেখার বাইরে, মৌসুমের 
পরিবর্তনের সাথে সে 
এখন স্মৃতির 
আঁধারে 
রয়েছে অবহেলিত পড়ে, মাঝে মধ্যে সে দাঁড়িয়ে 
রয়ে কাচের দরজার পারে, সব কিছু দেখে 
স্পষ্ট, হাসি খুশির ঢেউর মাঝে সে 
খুঁজে তার চেহারা, শৈশব 
থেকে অন্ত প্রহর 
পর্য্যন্ত, 
কই, সে ত কোথাও নাই, শুধু এক শুন্যতা ঘিরে 
রয়েছে চারদিকে, উত্সবের শেষে, সব 
পরিচিত হাসির মাঝে, সে তুলে 
চলেছে অদৃশ্য, মেঝের 
উপরে ছড়ানো 
কিছু 
কাচিক টুকরো, ভালবাসা কি স্বপ্নের খণ্ডিত বহু 
অংশ, বোঝা মুশকিল - - - 
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
stairs 1