সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৮

স্মৃতির সৈকতে - -

 খুঁজে পাওয়া মুশকিল সময়ের সাথে
যারা হারিয়ে গেছে কোনো এক
কাল বৈশাখীর রাতে, জানি
তুমি আজও খুঁজে বেড়াও
মুছে যাওয়া পদচিহ্ন,
যদিও তোমার
রিক্ত অঞ্চল,
বলে -
যায় কাহিনীটা ভিন্ন। আমার নোনা
জলের জলাভূমির তীরে আজও
ফুটে অজস্র ফুল, স্বপ্নগুলো
চিরন্তন জেগে থাকে,
আর চোখের
মেঘভরা
দুই কূল।রাত্রি শেষে যখন সারা শহর
ঘুমন্ত ঢেউর সাথে ভেসে যায় সুদূর
অজানা, আনন্দ লোকে, আমি
খুঁজি স্মৃতির কিছু ভাঙা
ঝিনুক গভীর
অন্তরে,
সবাই বেঁচে আছে যার যেমন আপন
সুখে।

* *
- শান্তনু সান্যাল




  


বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১৮

ডুবন্ত শহরের যাত্রী - -

নিবিড় অন্ধকারে, যখন থামলো বুড়ো
অশ্বত্থ গাছের কলরব, তখন
দেখি জীবন থেকে যেন
ছায়ার মাপ কিছু
বেশিই দীর্ঘ।
হাত
বাড়িয়ে কে যেন বলে আমি ডুবতে চাই -
না, আমি বাঁচতে চাই কিন্তু তার
মৌন চিৎকার, যথারীতি
হারিয়ে যায় ওই
সরু গলির
মোড়ে।
তাদের মান - অভিমানের ছকের খেলায়
আমি রইলাম নিরুদ্দেশ মার্জিনে,
তারা সবাই এখন ভাঙছে
গড়ছে নিজের মত
সমাজের ওই
জর্জর
কাঠামো, আমি আজও কিন্তু খুঁজে পাই -
নি, এক রাতের ঠিকানা, অবশ্যই
খসা দেয়ালের গায়ে কে যেন
লিখে গেছে আমাদের
টার্গেট দিল্লী - -
কিসের
জন্য
জানি না, হয়'ত তাদের আছে ছানিবিহীন
চক্ষু, আমি সুদূরে ঝাপসা আলোর -
পথ ছাড়া কিছুই খুঁজে পাই
নি।আস্তে আস্তে দেখি
সারা শহর
নিঃশব্দ
ভাবে ডুবে চলেছে মায়াবী রাতের অন্তহীন
অন্ধকারে - -

* *
- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

অফুরন্ত সুরভি - -

হটাৎ সব কিছু যেন গতিহীন, মৌন,
বুড়ো শিবের অশ্বত্থ গাছ, রাত্রি
ক্রমশঃ হয় উঠছে বাজ -
পাখির ডিগবাজি।
জনশূন্য ঘাটে
নৌকোর
একান্তবাস, শিউলির গন্ধে নিশীথ -
খুঁজে পুরাতন নিঃশ্বাস।অফুরন্ত
জোয়ার ভাটার খেলা যেন
চলছে পৃথিবীর আগ্নেয়
বুকে, তুমি আর
আমি এই
সন্ধিক্ষণে শুধুই এক জ্বলন্ত কর্পূরের -
আভাস।চাঁদ ডুববে যথারীতি
গহন দিগন্তে, ফুল ঝরবে
মাটির টানে, জন্ম -
মৃত্যুর শৃঙ্খলে
প্রণয়গন্ধ
যেন একগুঁয়ে, দেহ হতে প্রাণে বহে - -
যায় উন্মুক্ত ভাবে। 
* *
- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

বাস্তবিকতা - -

 সব কিছুই ফুরিয়ে যায় একদিন, ফুরিয়ে
যাওয়াটা স্বাভাবিক, কিছু স্মৃতির
মোম ছড়িয়ে থাকে টেবিলের
গায়ে, ক্রমশঃ সকাল
আত্মসাৎ করে
অন্ধকারের
সমস্ত
ভাসন্ত আবর্জনা।হটাৎ জীবন তখন হয় -
ওঠে জীবন্ত নদী, ধরে রাখতে চায়
দুই পারের ফলন্ত ভূমি, আর
বুকের দ্বার খুলে, করে
প্রবল বৃষ্টির -
আবাহন !
বৃষ্টি
আসে নিজের ইচ্ছায়, কখনো না ছুঁয়েই
উড়ে যায় সুদূর প্রান্তরে, আবার
কখনো ভাঙিয়ে যায় সব
কিছু বাড়ি - ঘর হতে
চাষ - বাস, আর
একদিন হটাৎ
উধাও !
ঠিক যেন কোনো এক প্রিয় জন, ভুলে
যায় পরিচিত ঠিকানা।ফুরিয়ে
যাওয়াটা স্বাভাবিক, বুকে
টেনে রাখাটা সত্যি
খুবই কঠিন,
তাই
বাস্তবিকতাকে অঙ্গীকার করাই জীবন।

* *
- শান্তনু সান্যাল 
  
 

 

বুধবার, ৩১ মে, ২০১৭

সরে যাওয়ার আগে - -

 সেই চিরন্তন সাপ সিঁড়ির খেলা, নিয়তির
হাতে ছক কাটা, কখনো তুমি ছিলে
পছন্দসই কয়েন গায়ে, কখনো
আমি খুঁজেছি মাটির বুকে
ঠাঁই।জীবনের গ্রাফ
কোনো দিনেই
ওঠে না
সমান ভাবে আকাশমুখী, কিছু না কিছু - -
অপূর্ণতা থেকেই যায় জীবনের সাথে।
তবুও হৃদয়ের তৃষ্ণা যেন অরণ্য
আগুন জ্বলে যায় অন্তহীন
প্রান্তরে, কখনো তুমি
গা ভাসিয়ে
গেছো
ধোঁয়াটে আকাশে, কখনো আমিও গা ঢাকা
দিয়েছি ঠিক পুংহরিণের রূপে। অস্তিত্ব
নিয়ে যত সব জ্বালা, ওই হারানো
প্রাপ্তির মাঝখানে জীবন
গড়ে যায় কত
রকমের
পাশা,
তাই সরে যাওয়ার আগে বারেবারে বুকের - -
ভিতরে একরাশ ধরে রাখা।

* *
- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭

পৃথিবী ও নারী - -

বুকের গভীরে কত কি ওঠে নামে
মরমের কথা রয়ে যায় না-বলা
জীবন খাতার ছেঁড়া পৃষ্ঠে।
সে যেন পৃথিবী কিংবা
অভিশপ্ত নারীর
অন্তরের
কাহিনী, ভরা শ্রাবণেও জ্বলে যায়
মুক্ত প্রবাহে। যখন নীলাভ
সাগরের গায়ে খেলে
অগম জোছনার
মায়া তখন
তুমি - -
খুলে রাখো হৃদয়ের গন্ধকোষ - - -
আর ঢেলে যাও যথারীতি
সৃজনের সুধা, বিন্দু -
বিন্দু, নিজেকে
বিলাও
উজাড় করে। তোমার ওই অনবরত,
মৌন অবদান যদিও রয়ে যায়
না-দেখা পরশমণির গায়ে,
তবুও তার ছায়া তীরে
গড়ে ওঠে মানুষের
 স্বার্থপর জগৎ,
আর তুমি
পড়ে
থাকো ঝিনুকের মরা খোলসের রূপে
কখনো সাগর সৈকতে, কখনো
ঠিকানাবিহীন কোনো
বৃদ্ধাশ্রমে ! জানি
না কিসের
আশায়,
তুমি চেয়ে থাকো অন্তিম প্রহরের ওই 
আবছা দিগন্ত রেখা।

* *
- শান্তনু সান্যাল


রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

মহাসাগরীয় জরিমানা - -

ওই সীমান্তে যেখানে নদীর কূল যায় হারিয়ে
উচ্চ তরঙ্গ ছুঁতে চায় উন্মুক্ত পালের
উড়ন্ত আঁচল, ওই অফুরন্ত
গভীরতায় যখন সূর্য
যায় দেশান্তরে,
তখন তুমি
করে
যাও দখল বুকের জলশূন্য ভূমি।অন্ধকার -
সহসা হয়ে ওঠে অলীক সরীসৃপ, গিলে
নিতে চায় মানব সভ্যতার মিথ্যা
খোলস, মহানগরের ওই
উড়াল পুলের নিচে
তখন উলঙ্গ
সত্যতা,
ধর্ম
ও রাজনীতির মাঝে তখন আমার অস্তিত্ব -
শুধুই নগণ্য - অজানা, তারা সবাই
নিয়নের আলোয় যেন তুলসী
পাতায় ধোয়া,  ঝগঝগ -
উজ্জ্বল, তথাকথিত
মহামানব
যেন
ষোল আনা, সচরাচর, সেই মহাসাগরীয় -
জরিমানা - -

* *
- শান্তনু সান্যাল