সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রূপান্তরণ - -

এখানেই উদলা সকাল গায়ে ঢাকে মেঘের
ছায়া আর ফেলে আসে শেষ রাতের
ঝকমকে মুখোশ, এখানেই তুমি
আর আমি, আবার খুঁজি
নতুন করে বেঁচে
থাকার কোন
অন্য
কারণ। কিছুই হতে পারে, যেমন ধরো তুমি
আবার হতে চাও প্রজাপতির রঙ্গীন
ডানা আর আমি শিশুর হাতের
পরশ, এখানেই অভিলাষের
ভেজা মাটি, বুকের
মাঝে লুকিয়ে
রাখে
আগামী কালের ফুলের গন্ধকোষ, এখানেই
তোমার চোখের গভীরে, আমি খুঁজে
পাই পুনর্জন্মের কিছু পদচিহ্ন।
এখানেই তোমার নিঃশ্বাসের
উষ্ণতা, ফিরিয়ে আনে
পুনরায় রুষ্ট শ্রাবণ,
এখানেই তুমি
আর
আমি হয় উঠি হটাৎ অরণ্য অনল, আকাশ
পাতাল জুড়ে তখন শুধুই অন্তহীন
ধুম্র প্লাবন ! 

* *
- শান্তনু সান্যাল
 


 

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮

হারানো জলোচ্ছ্বাস - -

কলরবের ঠিকানা আজ আর খুঁজে পাবে না,
রাজপথের যত সব বুড়ো বৃক্ষ গুলো
যথাক্রমে ধরাশায়ী, পাখিরা
আর আসে না, জলাভূমির
উপরে প্রোমোটারের
পাহারা, হয়ত
আগামী
দিনে, বিশাল মলের মাঝে ভেসে উঠবে মানুষ
নির্মিত ঝিল, ভেসে উঠবে ছায়াপথের ওই
মিথ্যে প্রতিফলন, নকল উদ্ভিদের মাঝে
রঙ্গীন মাছের আবেগশূন্য খেলা,
প্রেম - অভিলাষ সব কিছুই
থাকবে যথারীতি কিন্তু
হৃদয়ের শূন্যতা
খুঁজে পাবে
না বৃষ্টিতে ভেজা রামধনু, খুঁজে পাবে না অর্ধ
উলঙ্গ শিশুর হারানো জলোচ্ছ্বাস - -

* *
- শান্তনু সান্যাল 



  

শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮

যখন নিঝুম এই সৃষ্টি - -

সুদূর অরণ্যে পল্লববিহীন মহুয়া বনে
যখন জেগে ওঠে হটাৎ দাবানল,
তখন সুপ্ত স্বপ্নগুলো বুকের
মাঝে জাগায়  মধ্য -
রাতের জ্বলন্ত
অভিলাষ।
এই স্বপ্নগুলো নিয়েই জীবন আজ ও
কালের মাঝে বাঁচিয়ে রাখে সব
কিছু, আকাশ তখন খুবই
কাছের মানুষ, যেন
দুটি হাত বাড়িয়ে
বুকের মাঝে
টেনে
রাখতে চায় পৃথিবীর জ্বালা যন্ত্রনা, রাত
ধীরে ধীরে হয় ওঠে অন্ধ প্রলেপ,
ঢেকে দিতে চায় সমস্ত দুঃখ -
বেদনা নিবিড় আঁধারের
আড়ালে। পৃথিবী,
যথারীতি
অনন্তকালের সমর্পিতা, শেষ প্রহরের
আগে জোছনার স্রোতে ভাসিয়ে
দিতে চায় দেহ ও প্রাণের
তরণী।

* *
- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৮

স্মৃতির সৈকতে - -

 খুঁজে পাওয়া মুশকিল সময়ের সাথে
যারা হারিয়ে গেছে কোনো এক
কাল বৈশাখীর রাতে, জানি
তুমি আজও খুঁজে বেড়াও
মুছে যাওয়া পদচিহ্ন,
যদিও তোমার
রিক্ত অঞ্চল,
বলে -
যায় কাহিনীটা ভিন্ন। আমার নোনা
জলের জলাভূমির তীরে আজও
ফুটে অজস্র ফুল, স্বপ্নগুলো
চিরন্তন জেগে থাকে,
আর চোখের
মেঘভরা
দুই কূল।রাত্রি শেষে যখন সারা শহর
ঘুমন্ত ঢেউর সাথে ভেসে যায় সুদূর
অজানা, আনন্দ লোকে, আমি
খুঁজি স্মৃতির কিছু ভাঙা
ঝিনুক গভীর
অন্তরে,
সবাই বেঁচে আছে যার যেমন আপন
সুখে।

* *
- শান্তনু সান্যাল




  


বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১৮

ডুবন্ত শহরের যাত্রী - -

নিবিড় অন্ধকারে, যখন থামলো বুড়ো
অশ্বত্থ গাছের কলরব, তখন
দেখি জীবন থেকে যেন
ছায়ার মাপ কিছু
বেশিই দীর্ঘ।
হাত
বাড়িয়ে কে যেন বলে আমি ডুবতে চাই -
না, আমি বাঁচতে চাই কিন্তু তার
মৌন চিৎকার, যথারীতি
হারিয়ে যায় ওই
সরু গলির
মোড়ে।
তাদের মান - অভিমানের ছকের খেলায়
আমি রইলাম নিরুদ্দেশ মার্জিনে,
তারা সবাই এখন ভাঙছে
গড়ছে নিজের মত
সমাজের ওই
জর্জর
কাঠামো, আমি আজও কিন্তু খুঁজে পাই -
নি, এক রাতের ঠিকানা, অবশ্যই
খসা দেয়ালের গায়ে কে যেন
লিখে গেছে আমাদের
টার্গেট দিল্লী - -
কিসের
জন্য
জানি না, হয়'ত তাদের আছে ছানিবিহীন
চক্ষু, আমি সুদূরে ঝাপসা আলোর -
পথ ছাড়া কিছুই খুঁজে পাই
নি।আস্তে আস্তে দেখি
সারা শহর
নিঃশব্দ
ভাবে ডুবে চলেছে মায়াবী রাতের অন্তহীন
অন্ধকারে - -

* *
- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

অফুরন্ত সুরভি - -

হটাৎ সব কিছু যেন গতিহীন, মৌন,
বুড়ো শিবের অশ্বত্থ গাছ, রাত্রি
ক্রমশঃ হয় উঠছে বাজ -
পাখির ডিগবাজি।
জনশূন্য ঘাটে
নৌকোর
একান্তবাস, শিউলির গন্ধে নিশীথ -
খুঁজে পুরাতন নিঃশ্বাস।অফুরন্ত
জোয়ার ভাটার খেলা যেন
চলছে পৃথিবীর আগ্নেয়
বুকে, তুমি আর
আমি এই
সন্ধিক্ষণে শুধুই এক জ্বলন্ত কর্পূরের -
আভাস।চাঁদ ডুববে যথারীতি
গহন দিগন্তে, ফুল ঝরবে
মাটির টানে, জন্ম -
মৃত্যুর শৃঙ্খলে
প্রণয়গন্ধ
যেন একগুঁয়ে, দেহ হতে প্রাণে বহে - -
যায় উন্মুক্ত ভাবে। 
* *
- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

বাস্তবিকতা - -

 সব কিছুই ফুরিয়ে যায় একদিন, ফুরিয়ে
যাওয়াটা স্বাভাবিক, কিছু স্মৃতির
মোম ছড়িয়ে থাকে টেবিলের
গায়ে, ক্রমশঃ সকাল
আত্মসাৎ করে
অন্ধকারের
সমস্ত
ভাসন্ত আবর্জনা।হটাৎ জীবন তখন হয় -
ওঠে জীবন্ত নদী, ধরে রাখতে চায়
দুই পারের ফলন্ত ভূমি, আর
বুকের দ্বার খুলে, করে
প্রবল বৃষ্টির -
আবাহন !
বৃষ্টি
আসে নিজের ইচ্ছায়, কখনো না ছুঁয়েই
উড়ে যায় সুদূর প্রান্তরে, আবার
কখনো ভাঙিয়ে যায় সব
কিছু বাড়ি - ঘর হতে
চাষ - বাস, আর
একদিন হটাৎ
উধাও !
ঠিক যেন কোনো এক প্রিয় জন, ভুলে
যায় পরিচিত ঠিকানা।ফুরিয়ে
যাওয়াটা স্বাভাবিক, বুকে
টেনে রাখাটা সত্যি
খুবই কঠিন,
তাই
বাস্তবিকতাকে অঙ্গীকার করাই জীবন।

* *
- শান্তনু সান্যাল