বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

শরৎ প্রবাহে - -

অভ্র গুঁড়োয় মাখা আবার ফিরেছে শরৎ
সকাল, শিউলির সেই চিরন্তন গন্ধে,
কূল ভাঙা নদীর হাহাকার বুকে,
পূজো মণ্ডপের শেষ প্রান্তে
কিছু পথশিশুর মুখ
লিখে গেছে -
একরাশ কবিতা, সবটাই আবছায়া আর
প্রশ্নচিহ্নে ভরা।আমার শুভকামনার
অদৃশ্য তুলসী মালা, যথারীতি
রইলো তোমার কণ্ঠে,
হয়তো কোন
একদিন,
গোলাপের গন্ধে, হটাৎ টের পাবো তোমার
সত্তা। অতীতের পৃষ্ঠে লেখা স্মৃতিগুলো
ক্রমশঃ ঝরে চলেছে পিচের রাস্তায়,
কিছু ক্ষণের মিষ্টি আভাস
ভাসবে বায়ুমণ্ডলে,
পরে জীবনটা
দাঁড়িয়ে
রবে শিউলির গাছের মতন একাকী রাস্তার
ধারে।সকালটা খুবই ডানপিটে ঠিক
দৌড়িয়ে যাবে সন্ধ্যার টানে,
অভ্রগুলো এখন কালচে
লাল, ঠিক তোমার
সেকালের যেন
অগ্নিময়
ঠোঁট,
তুমি চিরদিনের নির্ভীক অগ্নিশিখা, আর - -
আমি যথারীতি এক মুখচোরা, ফিরে
আসা অপ্রকাশিত কবিতা।
* *
- শান্তনু সান্যাল
 

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

অফুরন্ত মুগ্ধতা - -

যে যার মতন দেখেছে, নরম রোদের সন্ধ্যার 
সাথে নেমে আসা, পাহাড়ের গায়ে কী
লেখা থাকে ঠুনকো প্রেমের
কবিতা, হয়ত তুমিও
দেখেছো আমার
চোখের
গভীরে কিছু স্বপ্ন কিংবা অশ্রু পারের নীরবতা।
সবাই দেখে নিজের মতন, বিদূষকের
কান্না আর অঝর শ্রাবণের ধারা
কোথায় যেন মিলেমিশে
ধুয়ে যায় নায়কের
বাস্তবিকতা।
ওই মোড়ে
যেখানে নিয়তির নাগরদোলা খেলে যায় পাতা
ঝরার খেলা, শহর সীমান্তে যথারীতি
আমি দাঁড়িয়ে রই বুকে বেঁধে,
মেলা শেষের নিস্তব্ধতা।
আঁধার - আলোর
ওই চিরন্তন
যুদ্ধে,
আমি বাণ শয়নে শুধুই খুঁজি তোমার হাতের - -
অনন্ত ঘুমের স্পর্শ, হারিয়ে যাওয়ার
অফুরন্ত  মুগ্ধতা।

* *
- শান্তনু সান্যাল


http://sanyalsplanet.blogspot.in/

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯

নিঃশব্দ মুহূর্তে - -

আসলে শেষ বিন্দু বলে কিছু নেই, -
ওই দিগন্তের পারে আলোর
জোয়ার চিরস্থায়ী।
শুধু সকাল
আর
সাঁঝের মাঝে উড়ে যায় জীর্ণ পাতা,
ঝরে যায় চেহারার ফিনিক,
সরে যায় নাগালের
তটভূমি, স্রোত
শুধুই তখন
মৃগতৃষ্ণা !
নদীর
বুকে কারা যেন লিখে গেছে প্রেমের
ইতিকথা, মুখচোরা যেন জলের
ধারা, লুকিয়ে আছে নিজের
মাঝে নিজেই বেচারা।
ঊষর ভূমির স্বপ্ন,
 রাত্রি শেষে,
যথারীতি
পড়ে
থাকে ঢিবির গায়ে,আকাশের নিঃশব্দ
কান্নার অশ্রুজল জড়িয়ে থাকে
ফণীমনসার গায়ে।

* *
- শান্তনু সান্যাল   

 


মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯

এতো সহজ নয় - -

না, এখনো অনেক কিছু বলা হয় নি,
শুরুতেই যেন হাঁপিয়ে যেও না,
ওই যে দিনান্তের সন্ধিক্ষণে,
এখনো আছে কিছু
ঝাপসা আলো,
আর কিছু
কাগজফুলের কবিতা, গন্ধবিহীন - -
তোমার আমার প্রেমের কিছু
অদৃশ্য গোপনীয়তা।
সময়, খুবই
অস্থির
শুধুই উড়ে যেতে চায় সুদূর বর্ষাবনে,
তাই বলি, অন্ধকার নামার আগে,
দেখে নাও ভালো করে, আমি
হৃৎপিণ্ডের মানুষ কিংবা
কোনো অজানা
দ্বীপের -
সরীসৃপ, সাঁঝ  আর সকালের মাঝে - -
চাঁদ জোছনা ছাড়াও অনেক কিছু
আছে, যেমন ধরো একরাশ
মরা পতঙ্গের সম্ভার,
আর অজস্র
ঝরে
পড়া নিশিপুষ্পের সংসার। শেষ এখনো
হয় নি, দেহের মরুভূমি চিরকালের
শূন্যতা নিয়ে বেড়ায়, আর
অন্তরে জেগে থাকে
অদৃশ্য আগ্নেয়
জগৎ,
আর ক্রমশঃ গিলে নিতে চায় অন্তবিহীন
শ্রাবণ।
* *
- শান্তনু সান্যাল 

 

 

বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৯

নিঃশব্দ ক্ষণে - -

নারী আর পুরুষের বাহিরেও এক
ভিন্ন জগৎ আছে, যেখানে
তুমি আর আমি, সব
বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে
হয় ওঠি এক
অপরের
অনুপূরক, তখন তোমার ডাগর -
চোখে অদৃশ্য আগ্নেয়গিরির
চমক, হটাৎ ঘনিয়ে
আনে অপ্রত্যাশিত
বৈশাখী ঝড়,
নিমিষে
জীবন নদীর দুই কূলে, জেগে ওঠে
অন্তহীন কোলাহল ! আকাশ
আর পৃথিবীর মাঝে
মৌন সন্ধির
আড়ালে
সৃষ্টি
তখন গড়ে চলেছে নব অপরিভাষিত
প্রাণের তাজমহল !

* *
- শান্তনু সান্যাল


রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯

চোখের মোহনায় - -

অনেক চেহারা হারিয়ে যায় অতীতের
অন্ধগলির মুখে, যেমন অসময়ের
বৃষ্টি, মিটিয়ে যায় ফুটপাথের
কোনো অজানা শিল্পীর
খড়ির রচনা।
অবাক
তুমি দেখছো আমায়, আর আমি খুঁজে
চলেছি কিছু টুকরো শব্দ, জীবনের
এই শব্দ - সন্ধানের খেলাই 
তো ডেকে আনে মৌন
সন্ধির বেলা। তুমি
আবার নতুন
ভাবে
সাজাবে, অন্তর্তমের জলসা ঘর, আমি
আবার উজাড় করে ভালোবাসবো
তোমায়, হয়ত পুনরায় জ্বলে
উঠবে ধূসর ঝাড়বাতি।
পুরাতন দেউলের
শিখরে এখনো
দেখি কিছু
আলো
আছে বাকি, যদিও সময়ের সাথে খসে
পড়েছে সোনালী ঐতিহ্য। সহজে
সব কিছু বদলায় না, ওই
আয়নাটা নীরব ভাবে
বলে যায়, এখনো
তোমার
সজল চোখের মোহনায় ভেসে ওঠে - -
ভালোবাসার অনন্ত উর্মিমালা।

* *
- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

একফালি রোদের অভিলাষ - -

উঠোনের আয়ু ফুরিয়ে গেছে কিংবা রোদের
নিজস্ব নির্বাচনের মাপদণ্ড ! বলা হয়ত
মুশকিল, কিন্তু এটাই জীবনের
বাস্তবিকতা, সময়ের
স্রোত থামে না
কোনো
ভাবে, নিঃশব্দে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এপার -
ওপারের সব কিছু, দুই কূলের ধারে
পড়ে থাকে শুধুই স্মৃতির ধূসর
খোলস আর কিছু বিস্মৃত
গানের স্বরলিপি।
জীবনের
নৌকো
আপন মনে ভেসে যায় সুদূর অতৃপ্ত সন্ধানে,
সহসা ফিরে দেখি, অনেক দূরে, এখনো
আবছা আলোয়, কে যেন দাঁড়িয়ে
আছে ঘাটের চত্বরে, চোখে
নিয়ে একরাশ স্বপ্নের
অঞ্জলি, ভাসিয়ে
দিতে চায়
মায়ার
বাঁধন নদীর গভীর বুকে। হটাৎ সব কিছু - -
যেন সহস্ত্রমুখী আরশিনগর, চারদিকে
প্রতিধ্বনিত নিজের প্রতিফলন !
আর রাত্রি শেষে নদীর
অসময়ে শুকিয়ে
যাওয়া, সব
মিলিয়ে,
পলাতক ভাবনারা, না চেয়েও পুনঃচ ফিরে
আসে দেহের ভাঙা পিঞ্জরে, উঠোনের
একফালি রোদের অভিলাষ,
সহজে কি ফুরায় ?

* *
- শান্তনু সান্যাল