শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

তীরের পাথর

ওই তীরের পাষাণে কিছু ক্ষণ থামতেই
পারতে শালীনতার বশিভুতে,
তরঙ্গের ভাঙনে, জীবনের প্রতীকচিহ্ন
এখনো আছে বাকি এই মুহূর্তে 
সূর্য গেছে সাগর পার ভিন্ন দেশে,
সাঁঝের অস্পষ্ট আলোয় নিঃশ্বাস
বলে যায় অনুক্ত মনের বহু অনুভূতি 
অকথিত মনোভাব, কেমন করে বোঝাই
হৃদয়ের অথৈ গভীরতার ব্যথা,
কম্পিত অধর, নিঃশব্দ যেন ঝরে যায়
শুকনো পল্লব, যদিও বাতাস বিহীন সন্ধ্যা
কোমল শাখা হতে ঝরে কি শিশির বিন্দু
চোখের পাতায় কিসের যেন আদ্রতা,  
শঙ্খবেলায় কি ঝরে আকাশের অশ্রু কণা
এই সাগরের নীলিমায় যায় মন হারিয়ে,
মনে বৃহৎ তৃষা, সামনেই সিন্ধু কিন্তু এক
ফোটার জন্য ব্যাকুল হয় বিস্তৃত মরুস্থল,
আকাশের দিকে চেয়ে কি বা আর
হবে, যখন মেঘ গেছে পথ হারায়ে, উড়ে যায়
ধু ধু শুধুই বালুর তুফান -
- শান্তনু সান্যাল

     

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১১


প্রলম্বিত অপেক্ষা


অদ্ভুত মনোভাবের শব্দকোষ
অনেক বেলায় করে যায় বিস্মিত
বাক্য হীন,ঠোঁট, নেত্র, যেন
মরুভূমির নিস্তব্ধতা
ময়ুর পালকে মোড়া সাঁঝে
গোলাপী মেঘের সিঁড়ি ভেঙে
তোমার নেমে আসা,
ওই এক ফালি চাঁদের পাসাপাসি
বহে যায় সুরুভিত আবেগের
বাতাস মন্থর বেগে,
মন যেন হেঁটে যায় মহাসাগরীয়
উচ্চ তরঙ্গে, সজল অনুভূতি
এমন মুহুর্তে মন যায় হারিয়ে
ভাবনার ধবল রেখাঙ্কিত আকাশে,
উড়ে চলেছে যুগল রাজ হংস
অনন্ত আত্মার দেশে,
এই ঝাঁকালো সন্ধ্যায় বসে আছে মন
অসমাপ্ত অপেক্ষায়,
নিষ্পলক নেত্রে চেয়ে থাকি রাতের
ঘনিয়ে আসার সে  নিরব দৃশ্য,
কে যেন পার্শ্বে নিঃশব্দ পায়ে দাড়ায়ে
রেখে গেছে নেত্র পল্লবে
কম্পিত আঙ্গুলের সেই ভীরু স্পর্শ !
নিশিগন্ধা ব্যাকুল ভাবে চেয়ে
থাকে মায়াবিনী রাতের
বন্য ক্রীড়া, নেমে চলেছে নিশাচর
বিলুপ্ত জল কুম্ভের সন্ধানে,
ওই ঝিলের গায়ে নাকি আজ রাতে
প্রণয়ের শেষ খেলা.
- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ১ জুন, ২০১১


জোছনার গায়ে  


অনুকম্পাবিহীন জগতে বহুবার
ধর্ম যোদ্ধারাই  লুন্ঠন করে গেছে  মনের 
মন্দির, দিয়ে গেছে ঘাত প্রতিঘাত 
নির্দোষের মাথায় দোষারোপ  
তালিময় বস্ত্র বন্ধু নয় কোনো জন্ম দাগ,
 প্রায়ই বসে থাকে আহত ভাবনা 
আদালতের ওই ভাঙা সিঁড়ির উপরে, 
প্রমানের কাগজ নিয়ে হাতে 
মৌসুম ফিরে চায় না সিক্ত চোখের স্বপ্ন,
 উচ্ছ আসীন সেই অভিশংসক
অনেক সময় অবিরল দিয়েছে মুক্তির 
বক্তৃতা, শুনিয়েছে ক্রান্তির কবিতা 
আঁধারে সে আবার দেখি বিক্রয়ের পথে,
দাড়িয়ে আছে অন্ধ গলির সীমান্তে 
 সেই পন্যবিনিময়ের আদিম ভুবনে !
তথাকথিত ত্রাণকর্তা সেই রাতে 
দিল মশাল আমার প্রতিবেশীর হাতে,
বারংবার শিকারে অগ্রসর সেই 
মুখোশ ধেয়েছে পঙ্গু তৃণ ভোজির পিছনে,
জঙ্গলের এই আইন মোছা যায় নি 
কোনদিন, ঘা  দিয়ে মলমের মাখামাখি,
সুযোগের শোধে সেই আঁখি দিয়েছে
বিশ্বাসঘাতকতা বহুবার বন্ধু,
তাপ্পি খুলে যাওয়ার ভয়ে ভীরু মন নিজেই 
উলঙ্গ হয়েছে  অনেক সময়, 
জীবনের বাস্তবিকতা বড়ই কঠিন,দুরূহ 
তবুও কালরাত্রি বলে স্বপ্ন মরে না কোনদিন ,
সেই অলৌকিক বিহানের সন্ধানে 
মন চায় ঘুমোতে কিছু ক্ষণ জোছনার গায়ে,
-- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

পলকা আবেগ

ভালবাসায় কোনো চুক্তি ছিল না 

বাধ্যতার প্রশ্ন উঠে নি 
পলকা পানপাত্রে হাত দিতে গিয়ে 
যদি স্বপ্ন ভেঙে যায় সহসা 
হাতলের বা দোষ কি -
নিখুঁত ভাবে, সূর্য্য অস্তাচল লিখে 
গেছে আকাশে, কাঁচের আবরণে 
হাত দিও যেন সাবধানে,
 লুপ্ত ফাটলে ছিল হয় তো কিছু 
রহস্যময়ী নিঃশ্বাস, মৌন কাহিনী !
ঠুনকের শব্দে ছিল চাপা ক্রন্দন,
চোখের ওই নদীর তীরে 
এখনো দেখি গ্রীষ্মের গুটিয়ে যাওয়া 
ভীরু জলরাশি, বহে কি স্থির 
বলা বড়ই মুশকিল,কিন্তু 
ওই ঝিনুকি চোখে হারায় নি এখনো 
মুক্ত মনি, হয় তো তৃতীয় নেত্রের 
কপাট খুলে গেছে মৌসুমের 
মধ্য রাতির তন্দ্রা,
সকালের পথচারী গেছে ফিরে 
পার্কের ফাঁকা বেঞ্চে শালিকের 
বিচলিত চাওয়া, কৃষ্ণ চূড়া ঝরে 
চলেছে এক এক,বাতাসে এখনো আছে 
কিছু অদৃশ্য মধু কম্পন,
দুপরের অলস বেলায় মন কি খুলে 
চলেছে বহু শৃঙ্খল গিঁট,
কিংবা আটকানো নজরের মরিচিকা,
ফেলে চলেছে হৃদয় মিহি বোনা 
ভালবাসার জাল, বলা মুশকিল 
ঠিকই ত সাঁঝ লিখে যায় নি ik
একাধিকারের চুক্তি ----
--- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ২৮ মে, ২০১১

উড়ন্ত আবেগের মেঘ


দমকা ঝড়ের সেই তমসাবৃত রাত্রি
মন্ত্রমুগ্ধ করে গেছে জীবনের শুন্যতা,
সহসা বিস্মিত মনের আঁধার -
আকাশীয় ক্ষনিক আলোয় গেছে
পরিপূর্ণ ভরে, পুলকিত লোম ছিদ্র !
গেছে ভেঙে নদীর সর্ব পাষাণী তটবন্ধ,
অপ্রত্যাশিত রোমাঞ্চে প্রেমের আবেগ -
যেন প্রশান্ত মহাসাগরে ডুবেছে বৃহৎ
হিমশৈল,তীরের সমস্ত উপত্যকা
হটাত জল প্লাবিত, মহৎ ভাস্যভূমি !
তলদেশে যেন দীর্ঘ্য নিঃশ্বাস,
প্রবাল দ্বীপে জাগৃত রঙের খেলা,
উদ্ভাসিত হৃদয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিহীন,
বুকের নিম্ন ভাগে শীতাগ্নির উদয়
ভুমিগ্রস্ত ভাবনার কন্দে অদৃশ্য অঙ্কুরণ,
 জীবনের ছন্দে অনাম সুবাসিত গন্ধের
অতিক্রমণ, ইন্দ্রজালিক সানিদ্ধ্যে
পুংজাতীয় মকরন্দের বিস্ফোরণ -
অবাক মায়াবী রাত চেয়ে রইলো শুধু
উড়ন্ত শিমুল তুলো কিংবা আবেগের
সারি সারি রুপালি মেঘের উড়ে যাওয়া,
চাঁদের পার্শ্বে গেছে তারা মিশে,
উদভাসিত এক বিরাট বলয়ের পরিনিতি !
ঝিমন্ত চোখে এখন বিন্দু বিন্দু
শিশিরের সংগ্রহ করে থাকে -
প্রণয়ের শেষ প্রহর !
--- শান্তনু সান্যাল
 

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১১



আদ্র রাত্রি

পুনঃ জ্বলুক অনল,কাল বৈশাখীর
অসমাপ্ত রাত্রি বহিবে সকাল পর্য্যন্ত
নিবিড় অন্তরঙ্গের উপাদান
আসক্ত গ্রন্থির  উন্মুক্ততা
নৈসর্গিক ঢালু পথে বহে তরলতা,
সেই পৃথিবী সৃজনের সাঁঝে
দিয়ে ছিলুম প্রতিশ্রুতি, আজ
প্রন্তবর্তীত হয়ে উঠেছে প্রেমের রূপ
অসীম ,অপরিভাষিত এক উপাসনা,
ঢেলে গেছে জীবনের অঙ্কুর
পাষাণে দেখি তাই সজীবতার অংশ,
খুলে দাও সকল বাতায়ন, লুপ্ত
লৌহ কপাট,দেবত্বের আলোক রশ্মি !
অবিরাম কড়া নড়িয়ে যায়
দিবা নিশি, মন্থিত আত্ম পিযুষ,
সুদূর অরণ্যে, কাষ্ঠ সেতু এ আজ 
জোনাকিদের  সপথ সমারোহ,
উদ্ভাসন ক্রমশঃ উলম্বিত
আচ্ছাদন মুখী, সে এক বিহঙ্গম দৃশ্য !
বন্য কুসুমের বৃহত পুঞ্জ সুরুভি,
নেত্র
প্রণোদনা মূলনীতির বাহিরে
চিরদিন, মৌন ভাবনার মাঝে র -
স্থান তরঙ্গ ময় জলাভূমি,
স্ববিম্বে বিচলিত মৃগের তৃষা,
চাঁদের জাদু ঢেলে রয় অতিরিক্ত
সম্মোহনের জোছনা, জামিরা নিশীথ
ঝড়ের আরোহণ ক্ষনিক, নিশান্তে
এক পশলা বৃষ্টি , স্বপ্নের অঙ্কুরণ, প্রেম
জেগে থাকে যেন প্রাচীন আগ্নেয় গিরি,
-- শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১১

পুনর্লিখন

জীবন চলমান থামে না এক জায়গায়

পৃষ্ঠ বদলিয়ে নিন, নতুন পাতায়
মৌসুম লিখে গেছে নব স্মারকলিপি,
যাযাবর মেঘের ঝাপসা গন্তব্য !
কূল খুঁজে পায় না মনের চঞ্চলতা,
কারা চেয়ে আছে নদীর বক্ষস্থল
সাঁঝের নেমে আসার দৃশ্য !
কোনো দিন আগে ত দেখি নি, সে
সমস্ত মুখ কালের গালে গেছে হারিয়ে
জানি না তারা ছিল না কি নদী তীরে,
উড়ন্ত সেতু ছুঁয়ে যায় আকাশ পথে
শুনেছি বৃন্দ বিলাপ অমাবস্যার রাতে
করে থাকে ধ্বন্স স্তূপ,জীর্ণ মন্দির
ইতিহাসের পুনরাগমন নাকি
অবশ্যম্ভাবী,কখন,কি ভাবে,বলা কি
সহজ,কিন্তু ভবিষ্যৎএক রহস্যময়
প্রহেলিকা,নদীর প্রতিঘাত, তট
পরিবর্তন দুখদায়ী, এখানেই স্বপ্নের
সৃষ্টি জাগিয়ে রাখে সুপ্ত
মহত্বাকান্ক্ষিক অভিলাষার চর,উপরে
মরু ভিতরে বহে যায় লুপ্ত প্রবাহ,
গ্রহের গ্রহন ক্ষনিক অন্ধকার,
যারা পার করে গেছে ছায়াগ্রস্ত অন্তরিক্ষ
তারাই আজ স্থায়ী বাসিন্দা -
চন্দ্রলোকে, উদ্ভাসিত জগতে করে তারা
আলোকের গান, গর্ভিত প্রাণ
লিখতে চায় ইতিহাস পুনঃ পুনঃ !
প্রেরিত করে যায় মৃত সংস্কৃতি,
জাতীয় অভিমান,বেদের দুরূহ ঋচা,
জয় উদঘোষিত করে পূর্ব পুরুষের কন্ঠ,
তারা নমন মুদ্রায় করে বিজয়
আত্মসাত, বিনম্র ভাবে ঝরে আকাশ
কুসুম, পৃষ্ঠ যায় বদলিয়ে,
বাতায়নে রেখে যায় স্মৃতি গন্ধ --
-- শান্তনু সান্যাল