শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০১১

এখনো তুমি আছো
শুন্য উপাসনার বেদি, অর্ঘ্যের ফুল উদাস
চেয়ে রইলো সারা রাত এক মুঠো আকাশ,
বিলুপ্তির পথে নক্ষত্র, নিষ্প্রভ পূর্ণ রজনীশ,
ঝিলের শান্ত লহর, জীবনের দীর্ঘ নিঃশ্বাস,
কোথায় যেন ঝরে এখনো ভালবাসার গন্ধ
কাটতে চায় না মায়ার বৃহৎ সে মোহপাশ,
ফিরে আসি প্রায়ই আমি বন্দ কপাট হইতে,
হয় ত সে পায় না সাক্ষাত্কারের অবকাশ,
তার পরিহারের অর্থ,অন্তর্মন ঝাকিয়ে তুলে
অতল গভীরে যেন খুঁজি তারে বারোমাস !
ধরা দিতে চায় না উজ্জ্বল পালকের সে পাখি,
হারিয়ে যায় অকস্মাত, জীবনের উচ্ছ্বাস !
ভরতে চেয়েছি বুকে জোছনার কিছু কণা -
খাপছাড়া স্বপ্ন, বন্য পথ,সুদূরে ওই মহাকাশ,
সীমাহীন,অশেষ, দুর্জ্ঞেয় মায়াবী এই রাত্রি 
এখনো তিমিরে ভাসে, মধুর ভোরের আভাস,
এখনো তুমি আছো যেন জীবনের আসে পাসে,
ছুঁয়ে চলেছে মন শিশির,পুষ্প, মুগ্ধ - অনায়াস,
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১১

কাচের নিয়তি
মনে আছে কি না, জানি না, সেই শৈশব কালে,
সরিয়ে হাত, আমায় বলে ছিলে কাচের, ভাঙবে !
যত্নে সাজানো সেই কাচের আলমারি তে ছিল -
স্বপ্ন কি জিজ্ঞাসা, খুঁজে দেখো, সেখানেই  থাকবে,
লিখে ছিলাম দেয়ালের জগতে অনেক কবিতা,
 রং ঝরার আগে, হয় ত এক দিন সে ভালবাসবে,
ছুঁই নি, ঘন সবুজ কচু পাতা, দেখেছি দূর হতে
বিস্ময় চোখে জল বিন্দু ,হয় ত কিছু ক্ষণ থাকবে,
তীব্রগামি রেলের কম্পন, সেতুর বুকে লিখেছে -
কোন লয়ে জীবনের গান, সে কি আবার আসবে ?
জোয়ার ঠেলে গেছে, নানান কাঠামো, নদীর তীরে
উত্সব,মৃত্যু,সাজের গহনা, ফিরে অপার ভাসবে,
কে যায় সুদূরে, নিস্তব্ধ সাঁঝের, আঁধার গায়ে ঢেকে -
চাঁদের বিথী পথ চেয়ে আছে, সে কি স্মরণ রাখবে,
কাচের নিয়তি ভেঙে যাওয়া, এক দিন সে ভাঙবে !
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১


অনন্ত আলেয়া 
তার গল্পের ভিতরে গল্প ছিল, মন্ত্রমুগ্ধ করে গেছে
প্রতি বাক্য, অজানা সম্মোহনের বিদ্যা হয় ত সে 
জানত, সেই মধুর মিষ্টি সম্ভাষণে, জানা যাই নি 
অপ্রকাশিত, বহু গোপনীয়, প্রবল স্পৃহা, ইতিমধ্যে 
জল গড়িয়ে গেছে অনেক দূরে, রাস্তা ঝলমল, সে 
ফেলে গেছে অনিবিড় বোনা, মোহের মহাজাল !
যতই করি চেষ্টা, মুক্ত্রীপথের  সন্ধান, দূরে যায় -
সরে, অন্তিম খেয়া ভেসে চলেছে পশ্চিমগামী জলে,
বিশাল বট বৃক্ষ শুধায়,ঘিরে চলেছে সঘন তিমির, 
ঘাটের বাঁস বনে এখন নিরবতা, আবেশের অন্ত, 
আগাছার জঙ্গলে খুঁজি এঁদো গলি, ক্লান্ত দেহের ওই 
অমূল্য উত্তরীয়, কখন গেছে খসে জানি না আমি, 
ধীর পদক্ষেপে উঠতে চায় জীবন, ভগ্ন দেউলের -
শৈল সিঁড়ি, সান্ধ্য প্রদীপ হয় ত নিভি নি এখন ?
-- শান্তনু সান্যাল 





সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১১


কোন কুলের ঘাট, তুমি ?
ক্রম বিকাশের শৃঙ্খলায় মানুষের পদবি
ধারণ করা সহজ ছিল, মানুষ কত দূর 
যে হলাম, নিরিবিলি তে বসে ভাববো 
আর এক দিন, মাটি, নদী, ফুল, পাখি -
সব কিছুই ত আছে, তবে কি যে অমন 
 হারিয়ে গেল, অবুঝ মন বুঝে উঠে না,
ওই গর্ভের আঁধার কাটে না, ঘিরে রয় 
দিবা নিশি, বুড়ো শিব মন্দির, মজার 
ঘেসে বহে যায় ময়লা, মরা -পচা খাল,
সেই নিয়ে মিছে মিছে, আকাশ পাতাল !
সাঁকোর কাঠ ভাঙে নি, বৈষ্ণবী, ফকির 
বিরাট বিরাট, দ্বিজ মুরবি গেছে ওপার,
প্রতিশ্রুতি ভাঙার ভয়ে দাঁড়িয়ে রইলে কি 
কিনারায় সটান, নৌকা ডুবির  পরে কে 
কোথায়,কবরের মাটি কি জ্বলন্ত শ্বশান !
--- শান্তনু সান্যাল 
  

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১


কদাচিত আমি দেখেছি !
কোঁচকানো রেখায় সে খুঁজে জীবনের
অতীত,উঁচু নিচু ধরাতলের মাঝে ফাটল,
বৃশ্চিকের পিঠ,ভগ্ন মেরুদণ্ডের চিহ্ন,
জীর্ণ পাতার কঙ্কাল, হেমন্তের শেষ দিন !
মোতিবিন্দুর চোখে আবছা সকাল, 
দূরে বহুদূরে নবজাত শিশুর সরু ক্রন্দন,
রঙ্গীন মাছের ছটফটানি, কড়া নাড়ার 
বিভ্রান্তি, ঝুলন্ত আরামকেদারা,ডুবন্ত -
সূর্যের ক্ষীণ আলো, রং হীন, ছেঁড়া ছাতা,
বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ভাগ, কালার পেন্সিল,
স্লেটে ভুল বানান, মুছে যাওয়া কাহিনী, 
ভিড় করে আসে ভালবাসা, মরিচিকার 
আভাসে মন খুঁজে পবিত্র সাঁঝের হাসি ও 
শঙ্খ ধ্বনি, ভুল ভাঙিয়ে যেতে চায় এমন 
ভাবে মন, যেন উলের বল খুলে গড়িয়ে চলেছে 
নদী, পাহাড়, উপত্যকা পার করে, শেষে 
 বেড়ালছানা হাতে, জীবনের খেলা - 
অপূর্ণ, দর্শক ক্রমশঃ উঠে চলেছে মুখ্য দ্বারে,
নয়নের ছানি চিনতে পারে না কোনো 
কিছু, ফিসফিসানি ছাড়া কানে কিছুই শোনা
যায় না, হয় ত তারা ভাঙা দর্পণ, ফেলে 
দিয়ে স্বস্থি পেয়েছে  অনেক দিন আগে !
-- শান্তনু সান্যাল 



   


শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১১

কাহিনী নয় কিন্তু
সে দিন তুমি দ্বার খুল নি, ছিলাম দাড়িয়ে
অনেক ক্ষণ, হয় ত ক্লিপ জড়ানো চটি -
ময়লা টি শার্ট, সস্তা দামের হাত ঘড়ি,
মুখ ভরা কচি দাড়ি, কুহক হীন চেহারা,
 কোথায় যেন অদৃশ্য রেখায় হাঁপিয়ে
উঠেছিলে তুমি, আমিও জোর দিতে পারি
নি, দামী আতরের শিশি যেন সে দিন
হাত খসকে পড়ে গিয়েছিল, সিঁড়ির ধাপে
বুঝেছিলাম জীবন গড়ানোর  মর্ম,
ধরতে গিয়ে দেখি সকল পাপড়ি গুলো গেছে
 ঝরে, নিশি গন্ধার বৃন্ত, প্রায় সুকনো -
ডাঁটা, বিশ্রী, দুর্গন্ধময়, আঠালো, হয় ত
পচা ধরেছিল, বহু চেষ্টায়, ফেলতে পারি নি,
বুকের অজানা বন্দিগৃহে রইলো সে
অভিশপ্ত, মুক্তির পথ খুঁজে পাই নি ভীরু হৃদয়,
পলে পলে মৃত্যুর আলিঙ্গনে এগিয়ে এসেছি
তাকে, তার এই ভাবে মরণের পদক্ষেপ -
কোথায় যেন আত্মঘাতী করে তুলে, জীবনের
দুরারোহ পথ ফুরাতে চায় না কোনো রূপে,
নিরব অবহেলনার অর্থ খুঁজে মন,তবু ও ভুলতে
চায় না আপন জন, তথা কথিত ভালবাসা !
বন্দ দ্বারের আত্মীয়তা, অনেক অব্যক্ত সম্পর্ক,
মৌন প্রতারণা, বিষাক্ত হাসির মায়া !
ক্রমশঃ পা এগিয়ে যায়, যেন কিছুই ত ঘটে নি,
সহজ ভাবনায়, জীবন ঢাকতে চায় হাত -
দু খানি রেখে, জীর্ণ জামার অদৃশ্য ছিদ্রময় জগৎ,
-- শান্তনু সান্যাল










 

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

জীবনের দ্বীপ
আলোক পথের যাত্রী ছিল সবাই, মনে
রাখি নি তাই আঁধারের ঠিকানা,
নিভলো যখন প্রদীপ্ত মশাল চার দিকে
ছিলাম আমি নিঃসঙ্গ, অজানা,
বস্ত্র হরণে দায়ী শুধুই কি এক দুঃশাসন
অট্টহাসে ছিল শামিল পূর্ণ ঘরানা,
যখন ভস্মিভূত প্রায় আমার খড়ের ঘর
হটাত পুরোধা করেছে তীব্র মানা,
নদী পার, ভালই করিয়েছ হে প্রিয় মাঝি
কোথায় রক্ত আর কোথায় ডানা,
ওই শুন্য পিঞ্জরে,ভরেছ কি নতুন ময়না
ঝাপটিয়ে যাও কি দাও প্রবল হানা,
কোন গানের অন্তরায়ে ভিজলো হৃদয়
পাগল বাউল গায়ে এক সুরটানা,
অম্বরে জেগে আছে কিছু জীবনের দ্বীপ
তরী ভাসে, সুদূরে আছে জানি মুহানা !
-- শান্তনু সান্যাল