সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১১


স্বপ্নের জগত 

স্থায়িত্ব বলে কিছুই নাই, সময় থামতে 
জানে না, আকাশ এখনো নীল 
প্রাকৃত, তথাপি সে 
পরিত্যাগ 
করে গেছে সম্মিলন, এক দশকের আগে  
নাম ফলক গেছে হয়ে অনুজ্বল, 
ধুলিকনা আচ্ছন্ন  আসক্তি ! 
কুসুমিত মৌসুম 
নিয়েছে কবে যে বিদায়,দিন লিপির জীর্ণ 
পৃষ্ঠের লিখন উড়ে গেছে হয় ত 
জীবনের তীব্র বায়ুবেগে, 
আদ্র ভাবনার -
চিরকুট অস্থির নড়ে  চলেছে, বাঁস গাছের
শীর্ষ ভাগে, চাঁদ প্রতিক্ষার নিয়ম 
মানে না, ভেসে চলেছে 
ধ্বংস স্তুপের 
মাথায়, 
উদ্বেলিত ঝিলের ধারা মনে রাখি নি তার 
চেহারা, পদ চিহ্ন মিটিয়ে গেছে 
সহজে, কিছু অসমাপ্ত -
কবিতা 
ও গোলাপের মালঞ্চ ভাসে তীরে, সে জীবনে 
দখলের প্রমাণ দিতে পারি নি, দলিল 
গেছে ভিজে বহু কাল আগে 
পাগল বর্ষার রাতে,
এখন সে এক 
অনিকেত,খুঁজে এক রাত্রির পান্থশালা,অথচ 
থামার কারণ বলতে কিছুই নাই,
মায়ার বন্ধন যে ভাঙা
খুবই মুশকিল, 
তাই বসে আছে, অন্ধকারে কাঁশ বনের ঝোপে !
একাকী দেখছে আপনমনে নীহারিকার 
বিলুপ্তি, পড়ন্ত তারকের নিয়তি 
উল্কার ভূমিসাত, শুন্যের 
ভব্যতা, জীবনের 
সত্যতা,
মৃত্যুর রহস্য, অন্তরিক্ষের বিশালতা, অপরিচিত 
নিজস্ব ছায়া, জানিত মুখোশের ভীড়
ধীরে ধীরে হারিয়ে চলেছে 
সব কিছু স্বপ্নের 
জগতে.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১


শিমুল রঙ্গী সকাল 

জানি না কোন পরিপৃক্ত মনের 
ভাবনা নিয়ে, ঝরে যায় 
উন্মেষিত শিউলি 
বৃন্ত 
এখনো নিবিড় রাতের নিরবতা 
ধরে আছে হৃদয়ের আঁধার 
জানি না কোন দেশে 
জেগে রয়েছে 
শিহরিত শরতের চাঁদ, কার মৌন
অনুচ্চারিত মর্মে, জীবনের 
ছায়া খুঁজে হারানো 
পূজা মণ্ডপের
সেই শিশু,
ভিড়ের মাঝে যেন চেয়ে রয়েছে -
অশ্রুমুখে, সরে যাওয়া 
আপনজন, সাঁঝের 
অন্তিম 
ডিঙ্গা যেন অপার বিলীনতার মুখে, 
প্রতিধ্বনিত নিরীহ, কচি 
আত্তয়াজ হেঁটে চলেছে 
বনেদী বাড়ির 
পাঁচিল
জড়ানো পথে, কুড়িয়ে রাখতে চায় 
কিছু স্বপ্নের কুঁড়ি, কিছু ছিন্ন 
বিল্ব পত্র, দিতে চায় 
অর্ঘ্য, মন্ত্র -
বিহীন, 
পুষ্পাঞ্জলির গান ধরেছে পুরোহিত,
কম্পিত হাতে সে চায় ধরে 
রাখতে বেঁচে থাকার 
বিকল্প, শিমুলরঙ্গী 
সকাল. 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১১


আগন্তুক


সুদুর ঝলসানো পাহাড়ে, সুপ্ত দাবানলের
উত্পত্তি ,হৃদয়ে যেন অনাসৃষ্টির
সূত্রপাত, ওই ফাল্গুনী রাত
উষ্ণ নিঃশ্বাস, বহে
বাস্পিত বাতাস, মধ্য নিশি, অবিরাম
মৃগ দলের আর্তনাদ, মর্মর
অশ্বত্থ পল্লব, পাখির
উড়ন্ত ছায়া,
নিশ্চল রজনীগন্ধার সুরভি ,জীবন ও
আমি কথা বলি সারা রাত ,
ধাওয়া করে যায়
অজানা
রহস্যময়ী ছায়া ,চিরদিনের সেই কাঁচা
অঙ্ক নিয়ে  হিসাব মেলানো ,
বহুত মুশকিল
কে, কোথায় ,
কেন যে নিরব ভাবে ভাবনার মিছিল
হতে নিজে কে সরিয়ে নিল
নিঃশব্দভাবে , যেন
কাচের সুন্দর
ফুলদানি
ভাঙার পরে মন বলে সব কিছুই ত
ভঙ্গুর ,অনুবন্ধের ভাঙন ও
জ্বলিত অরণ্য ,বর্ষার
পথ চেয়ে রয় না ,
হটাত কে কোথায় কোন গলি র মোড়ে,
অনাহুত মেঘের রূপে, ভিজিয়ে
যায় শেষ প্রহর ,ভরে  যায়
মরুভূমির তৃষিত
বালিয়াড়ি,
লিখে যায় প্রাচীর অম্বরে জীবনের ইতিকথা ,


-- শান্তনু সান্যাল
  http://sanyalsplanet.blogspot.com/

painting by - Leonid Afremov

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১


যদি জানা যেত 

সম্পূর্ণ জীবন যে চোখ চেয়ে রইলো 
শুন্য আকাশে, দিবা নিশি, 
রোদ ছায়া, গ্রীষ্ম 
শীত, 
কাটিয়ে গেল প্রতি মুহূর্ত,যদি জানা 
যেত, তার স্বপ্নে, জীবনের 
প্রতিবিম্ব কি 
ছিল, 
সে এক জন, আনত পিঠ নিয়ে সমানে 
অনেক কষ্টে টেনে কলেছে 
রিকশা, গত সাঁঝে
নীচে পড়ে
আর উঠতে পারি নি, যদি জানা যেত 
তার হৃদয়ে ভোরের ছবি কি 
ছিল, সে এক অন্য 
চেহারা, 
আনমনা, নিরব ভাবে রেস্তোরাঁ তে 
কাজ করে অনেক রাতে 
সারাটা জীবন শুনে 
গেছে খিস্তি 
গালাগালি, যদি জানা যেত, তার মিষ্টি 
শৈশবের কিছু গল্প কি ছিল, 
ওই বৃদ্ধ প্লেটফোর্ম 
সংখ্যা ১৩,
 মাথায় বয়ে চলেছে বোঝা, বিভিন্ন রেলের 
ঠিকানা দিয়ে থাকে, একাই রইলো 
যদি কোনো দিন জানা যেত 
তার গন্তব্য কোথায় যে 
ছিল,
শহরে সেই নামকরা ঘিঞ্জি বস্তি, পুরাতন 
শনি দেউলের কাছে, মুগলিয়া 
মসজিদের লাগোয়া,
 সেখানে দেখি 
এক উত্পীড়িত  চোখ চেয়ে রয় অবিরাম 
পথচারীর দিকে, সেই বৃদ্ধার 
ফেকাশে চোখে প্রেমের 
অর্থ কি ছিল, যদি 
জানা যেত,
বৃদ্ধাশ্রমের সেই অজানা মুখ,হারানো হাসি 
কোঁচকানো রেখাযে বাঁধানো 
জীবন, যদি জানা যেত 
তার অন্তর্মনের 
গভীরতা,
যখন তুমি জীবনে প্রথম হাঁটতে শিখেছিলে,
যদি জানা যেত নিজস্ব ছাড়া 
দুনিয়ায় আরো চেহারা 
খুঁজে কিছু স্বপ্ন, 
বেঁচে থাকার অজুহাত,এক কচি হলুদ রাঙ্গা 
সকাল, স্নেহের শিশির বিন্দু 
এক ফালি খুশি.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১


জলের প্রতিবিম্ব 

জীবন ও মৃত্যু মাঝে, ছিল বৃহত অনুক্রম 

আবছা কিছু রেখায়, জীবনের

কড়চা লেখা কি এতই

সহজ,

ততচ, নিয়তির সেই পানপত্র গ্রহণ করেছি,  

আমি, পারদর্শী তরল - বিষ কি 

প্রতিষেদক, গোপনীয় 

পরিচয় ছিল তার 

হৃদয়ে,

জীবন খুলেছে সে দিন নবজাতক আঁখি, যে

দিন তুমি ভালোবাসলে, চৈতন্যতা 

জানতে চেয়েছে উপগ্রহের

 রহস্য, ওই স্পর্শে ছিল 

পুনর্জন্ম বিন্দু, জীবনের তাত্পর্য, সান্দ্র -

নিম্নরেখাঙ্কিত যেন ডহর কবিতা,

পদ্ম পত্রকে যেন জলের ঢেউ 

খেলানো প্রতিবিম্ব, 

-- শান্তনু সান্যাল 
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by Shere Chamness

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১


হারিয়ে খুঁজে পাওয়া 

শাপলা শালুক ভরা সেই জলপাই রঙের 
স্থির জলে, বিকেলের আলোয়  ভাসে 
জারুল রঙ্গী ভালবাসা 
শুক্রতারা উঠে আসে বেগুনি আকাশে 
নিঃশ্বাসের উত্কলিত বলয়ে 
জীবনের অপূর্ণ কামনা 
খেলে বকুল গন্ধের সেই মন মাতানো খেলা  
অনেক অব্যক্ত কথা পড়ে রয় 
ঝরা ফুলের বুকে  
তবু ও হৃদয় এঁকে যেতে চায় বহুরঙ্গী পটভূমি, 
অশ্রুবিন্দুর তপনে ছিল কত 
যে সুপ্ত আবেশ, তার 
বন্য লতার রূপে জড়ানো সাধ, জানি ছিল না 
কোনো অপরাধ, ছাদের ভুবনে 
আঁধার নামার আগে 
জোছনার পরিধানে, জীবনের সেই স্পৃহা প্রদেশ 
জেগে উঠে ছিল, গন্ধরাজের অজানা 
চুম্বকীয় যেন সাম্রাজ্য,
সাগরের কোলাহলে হারিয়ে এসেছিল নদী, গভীর 
নিরবতা, উপেক্ষিত তীরের প্রান্তর 
অভিশাপিত একান্তবাস, 
অবসাদের পলিমাটি, তলানির স্বপ্ন, অশান্ত 
অন্তর্মনের উপত্যকা, ভাঙনের
ব্যথা, এখানেই তার পরিপূর্ণতার ছিল পূর্ণ বিরাম.

-- শান্তনু সান্যাল  
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১


নিখোঁজ হতে চায় মন 

নিশিগন্ধার বউলের সেই সুপ্ত অভিলাষ, 
গন্ধ কোষে লুকিয়ে আছে যেন 
সৃষ্টির নব কল্পনা, প্রণয়ের 
গর্ভস্থ শিশু, নীহারের
বিন্দুতে দেখেছি তোমার মুকুলিত রূপ,
শরতের নীলাঞ্চলে কিছু ভবঘুরে 
শুভ্র মেঘ, খুঁজে চলেছে মন,
উপাস্থনার ভূমি, স্নিগ্ধ 
আলোর প্রহবণে ও 
জীবনের বালুকা বেলায়, তোমার সেই 
অপ্রত্যাসিত, অপরপ রূপে পূর্ণ 
অবতরণ, ঘুমন্ত ভাবনার 
জল তরঙ্গে, 
গুপ্ত প্রবাহের পুনরাবর্তন, তটভূমির
বুকে ভেসে চলেছে স্বপ্নের কুহেলি,
সিক্ত বাতাসে যেন মধুর 
উচ্ছ্বাস, ঘনিষ্ঠ 
পরশের পরিচিত আভাস, মন চায় 
হারিয়ে যেতে অরণ্য নদীর 
তীরে, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত 
জীবন হতে বহু 
দূর তোমার চোখের অন্দর মহলে !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/