শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১১

মৃত্যুকূপের উপরে

সেই অন্ধকার গর্তে উঠানো বহু হাত
আশঁসা নিয়ে চেয়ে থাকে ঘূর্ণন -
ময় আকাশগঙ্গার জগত,
এই মৃত্যুর কূপে
জীবন
খেলে বেঁচে থাকার খেলা, সামান্য -
কিছু পয়সা, আগামী দিনের
ভালবাসা, এক মুঠো
রোদ কিনে রাখে,
মনের প্রিয়
আঁধার,
গ্রামের মেলা হতে শহরের প্রদর্শনী,
অজয় নদী হতে বুড়ি গঙ্গা,
তিমির খুঁজে বেড়ায়
আলোর কিছু
কণা,
সেই গর্তের শিশুদের  হাত চায় সূর্যের
নরম কিরণ, তারা কিশোর হতে
চায়, মনের কিশলয় ঝরিয়ে
উঠে আসতে চায় কূপের
বাইরের জগতে,
ছড়াতে -
চায় চার দিকে গুল্ম লতার  রূপে, কিছু
কুড়ি শুকিয়ে বুড়িয়ে চলেছে,
কিন্তু স্বপ্ন ! বয়েসের বাধা
মানে না, মানবেও
কেন, জীবন
কি শুধুই
শ্রেণীবদ্ধ, না, অন্ধকারের দাবি আলো,
এই বেঁচে থাকার উপায়, মৌত কা
কুয়া কে ও বাদ দিয়ে উঠে
আসে উদ্ভাসিত জীবনে,
ধরে রাখতে চায়
যতটুকু আলো
নিয়তির
আঁচলে রয়েছে ছড়ানো, বুকে টেনে রাখে
আঁধার সমস্ত উঠানো কচি হাত,

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
hope - John A. Roof

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১


উদ্ভাসিত পথের  যাত্রী 

বহিঃস্থ পরিবর্তন ছিল সহজ, প্রথম 
বর্ষায় ভিজিয়ে গেছে সম 
বিষম ধরাতল, কিন্তু
অন্তঃস্থ ভূমির  
দহন 
চিরস্থায়ী, তার সুধাময় নিগূঢ় 
ভাষায় নিহিত সম্মোহন,
ভুলিয়ে নিয়ে গেছে 
বারংবার দেহ 
ও প্রাণ, 
জানা সত্তেও যে সে এক মায়ামৃগ 
আখেটক হৃদয় ধেয়ে যায় 
দিবা নিশি, সেই প্রচ্ছায়া 
জগতে প্রস্থানের 
পথে নেই,
শুধুই চারদিকে অতৃপ্ত অভীপ্সার 
চিত্কার, অরণ্য রোদন, 
শ্বাসরোধিত স্বপ্নের
মহা ভাঙন,
এখানেই 
আত্ম পরিচয়, নিজে কে ফিরে পাওয়া !
জীবনের এই সীমান্তে দীর্ঘ 
নিদ্রার জাগরণ, 
আরশির
জবাবদিহি, প্রায়াশ্চিতের আগুনে
 নিজের বিম্বের স্বাহা, নব 
উত্থানে প্রারব্ধ 
মহাপরিবর্তনের সূত্রপাত, 
মনুশ্যতার  ক্রমিক 
বিকাশের 
পুনরাবৃতি, জীবনের হারানো মর্মের 
প্রাপ্তি, ক্রান্তিকারী চরিত্রের 
পুনর্গঠন, অগ্নিপথের 
যাত্রীদলে যোগ 
দেওয়া, 
জন্ম মৃত্যুর শৃঙ্খলা ক্রমশঃ ভেঙে 
যাওয়া, উদ্ভাসিত পথে 
মহাপ্রস্থান, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১


আকাশের পথিক 

বৃষ্টি ছায়ার পথে হয় ত ছিল নিয়তির 
শহর, হাওয়ায় শুনেছে বর্ষার 
খবর, ভিজার সাধ নিয়ে 
বসে রয়েছে জীবন 
ভর, সে যেন 
খারিজ 
রেল পথ, চেয়ে থাকে কচুরিপানার 
ভাসন্ত জগত, ফিঙের শুন্যে 
ঢেউ খেলা, কলমির 
বাতাসের সঙ্গে 
গুজব, 
সেই বন তুলসীর ঝোপে, খুঁজে মন 
লেবুফুলের গন্ধে লুক্কায়িত 
পথ, বুকের উপরে 
হেঁটে যায় শিশু 
সম দুই 
জড়িত হাত, সুদূরে বর্ষা এখন থেমেছে 
মনে হয়, দিনান্তে যেন স্যাঁতসেঁতে
ভাব, ফোনের তার একাকী !
উড়ে গেছে চড়ুই র 
ঝাঁক, সাঁঝের 
গগনে 
ভেসে চলেছে দিশাহারা রঙ্গীন ঘুড়ি -
ক্রমশঃ স্মৃতির আঁধারে 
হারিয়ে চলেছে 
নিরীহ 
ভালবাসা, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১১

শুভ রাত্রি

অপ্রতিম সান্ধ্য গগনে সে
ভেসে উঠে নীলাভ
বেগুনি রঙ্গে,
স্বপ্নের
নিরুপম বিরল তারক -
লিখে যায় মিলন
বিরহের
গান,
ফুটে উঠে রজনীগন্ধা,
তার অনুরোধে
ঝরিয়ে রয়
মৌ গন্ধ,
সারা রাত চেয়ে থাকে
গগনের উন্মুক্ত
বিস্তীর্ণ বক্ষ
এক দৃষ্ট,
রাত্রি শেষে ঝরে শিশির
কণা, বিন্দু বিন্দু
ভরে যায়
জীবনের
রিক্ত ভাবনার ধরাতল.
-- শান্তনু সান্যাল


নিশীথ রাতের রহস্য

আজ কবিতা নয়, যদি বলি কাহিনী শুনবে কি,
এই কাহিনীর কোনো শীর্ষক নাই, নামহীন !
শুধুই অনুভব করতে হবে, মনের ভিতরে, সে
এখন পাশ ফিরে চেয়ে রয়েছে আমার দিকে,
তার নিঃশ্বাসের ওঠা নামার মাঝে থেমে আছে
জীবনের কিছু অতীতের ছেঁড়া, নোংরা পৃষ্ট,
বুকে আলতো ভাবে হাত রেখে সে শুনতে চায়
সব কিছু, ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি আমি
খোলা জানালার বাইরে এক নজর দেখে বলি -
 সে দিন ও ছিল এমনি এক জবজবে রাত,
বাইরে তখন সঘন মেঘের বর্ষণ,আকাশ যেন
ভেঙে পড়তে চায়, শ্রাবণ কি ভাদ্র মনে নাই,
দেখি সন্নিধির সান্দ্রতা ঘনিয়ে চলেছে ক্রমশঃ,সে
এখন প্রায় বিজড়িত, কিছু ক্ষণের নিরবতা,
"তারপর -- বল না, কি হলো ঘুমিয়ে না কি "
হটাত মধ্য রাতে,ওই ১২ টা বা  দেড় টা হবে -
সঠিক মনে নাই,দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ, ঠক
ঠক -- সে এখন আলিঙ্গনবদ্ধ,তারপরে, কিছু
মুহূর্তের বিরতি, আমি জানতে চাইলাম কে
আছে বাইরে,নিশীথ রাতে এই ভাবে কি দরজা
খোলা উচিত, "কি উত্তর পেলে " সেটা খুব
একটা মনে নাই,কিন্তু --"কিন্তু আবার কি হলো,
দরজা খুলে ছিলে," সে এখন বাহুপাশ খুলে
দিয়েছে,মুক্ত হরিণী খুঁজে চলেছে কস্তুরীর গন্ধ,
আলো জ্বালিয়ে জানতে চায় কাহিনীর
উপসংহার, আমি যখন সৃজনের শিল্পী, রহস্য
তো আমার হাতে, শবাধার ঢেকে দিয়েছি,
বাইরে সে দিনের মতন বৃষ্টি এখন থেমে রয়েছে,
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে, আবার, তারপর
কি ঘটল,কে ছিল,কি হলো নানান প্রশ্নের মাঝে
দিনের আলো ছড়িয়ে গেছে চার দিকে, তার
কৌতুহলের মাত্রা কমী নি কোনো ভাবে,
আমি ও চাই যে রহস্যময়ী রাতের কাহিনী
যেন এই ভাবে টেনে আনুক তাকে নিকটতম !

-- শান্তনু সান্যাল 

 





সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১১


দরজার আড়ালের শিশু 

প্রত্যাশার ফর্দ নিয়ে সে দাড়ানো, খোলা 
দরজার মুখে, মৃদু জোছনা পথ খুঁজে
পায় না, উঁকি দিয়ে চলেছে 
ভীরু ভালবাসা, তার 
প্রণয়ের জগত -
খুবই 
কঠিন, হৃদয় এখানে কেবল ছায়াচ্ছন্ন 
বস্তু, স্বপ্নের কোনো পরশ পাথর ! 
তার নথিবদ্ধ তালিকায় 
সেটা অন্তিম ক্রমে, 
দরজার 
আড়ালে লুকানো, যেন ডানপিটে শিশু,
সেই ক্রমবদ্ধ তালিকার প্রথমে 
আছে গহন অন্ধকার, 
তাই ঘরে ঢুকে 
দিয়েছে সে 
কপাট, 
সেই  ধড়াস শব্দে ফিরে গেছে জোছনা, 
ভয়ভীত চোখে ভালবাসা এখন 
অন্ধকারে খুঁজে নিরাপদ 
আশ্রয়, ঘামিয়ে 
উঠেছে 
এতক্ষণ উত্তরীয় বিহীন দেহের ঊর্ধ্বস্থ 
ভাগ, উদ্দীপ্ত আঙ্গুলের মাঝে 
অস্তিত্ব এখন বিক্ষিপ্ত 
প্রাগৈতিহাসিক
মানুষ, 
সে ভুলিয়ে দিয়েছে নিমেষে উধাত্ত শিশু !
খেলে চলেছে সে এখন বুক হতে 
সমস্ত শাখা প্রশাখার ভুবন,
পরিপূর্ণ ভাবে দেহের 
শিকড় এখন 
তার 
নিয়ন্ত্রণে, ভাঙা গড়া  শুধুই তার হাতে,
আমি জিজ্ঞাসু চোখে চেয়ে রয়েছি 
ঝকমকে ভাটার দুরে সরে 
যাওয়া অপরূপ রূপ, 
উড়ন্ত কেশের
মায়া, 
ঝঞ্ঝার ফিরে যাওয়ার পথে বসে রয়েছে 
দেখি আতঙ্কিত ভাবনার শিশু,
একাকী শীতের রাতে যেন 
খুঁজে চলেছে নিজের 
ভিতরে অজানা 
আশ্রয়স্থল, 

-- শান্তনু সান্যাল
source  - vivian c. olsen 

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১

হার মানবো না কোনো দিন

যখন তারা কেড়ে নিয়েছ খাতা কলম
পাথরে লিখে গেছি জীবনের
কাব্য, অবহেলার পথে
দাড়িয়ে স্বীকার
করেছি
প্রতিযোগিতা, যখন তারা পুড়িয়ে
গেছে আমার বাসার ছাদ,
হয় ত সে রাতে আমি
ঘুমোতে পারি নি,
কিন্তু দেখেছি
নতুন
ঘরের স্বপ্ন, দহন নিয়ে বুকে খুঁজেছি,
স্থায়ী আচ্ছাদন, তাদের তুচ্ছ
দৃষ্টি উঠিয়ে এনেছে
আমায় শীর্ষে,
হার মানি
নি
কোনো ভাবে, প্রতি মুহূর্তে জ্বলে উঠেছি
ছাইর বুক হতে অঙ্গারের রূপে,
তাদের অট্টহাসের মাঝে
সন্ধান করে গেছি
হারানো মূল্য,
জীবনের
অর্থ, 
খাঁটি সোনা হতে চেয়েছি আমি, তারা
ধূমিল করতে পারি নি অস্তিত্ব,
তাপ্পি ভরা আবরণে
সাজিয়েছি
স্বপ্নের
রেশমী সুতায় আঁকা বাঁকা রাফু, আড়ালে
যেতে চায় নি, ভিজেছি অসহায়
বৃষ্টির অঝর ধারায়, কড়া
নাড়া দেয় নি আশ্রয়
স্থলে, ভালো
ভাবে
বাঁচার জেদ আমার ছিল বন্ধু, নিয়তির
কান্না করি নি কোনো দিন, লড়ে
গেছি জীবনের সঙ্গে অনবরত,
তাদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল
মিথ্যে, প্রমাণ করে
গেছে আমার
পুরুষার্থ,
সফলতার মাপদণ্ডে হয় ত আমার স্থান
সীমিত, কিন্তু মনের প্রাঙ্গণে সে
অসাধারণ, তাদের হাসির
মাঝে এখন ঈর্ষার
ক্রন্দন, কিংবা
ভুল
ভাঙনের প্রায়াশ্চিত, কিন্তু আমি একগুঁয়ে
হার মানবো না মৃত্যু পর্য্যন্ত - - -

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/