রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১


মুখচাপা ভালবাসা 

হৃদয়ের সেই বন্ধ কোষে ছিল গন্ধ অশেষ !
তার দ্বিধাগ্রস্ত প্রীতি দ্বারে এসে ফিরে 
গেছে শুন্য হাতে বহুবার, কড়া
নাড়াতে হয় ত কেঁপে 
উঠেছে ভাবনার 
স্থিরতা, সে 
উদাস 
মনে, গেছে ফেলে কিছু অনাদায়ী অশ্রু বিন্দু,
ফিরে যাওয়া পদধ্বনি, সে কালান্তরে 
অনুরণন রূপে হয়ে গেছে 
পরিণিত, অহরহ 
দিবা নিশি 
তার অতৃপ্ত ভালবাসা আঁধারে দিয়ে যায় 
নিশুতি ডাক, ধরে রাখতে চায় 
ঘুমের ভুবন নিজের দখলে,
জীবন তখন শাপিত
ব্রহ্ম দৈত্য, ঝুলে 
রয় উল্টো 
অশ্বত্থ 
গাছে সারা রাত, কুটোর আগুন ধরিয়ে 
নিচে বসে রয় একান্তে এক পার্শ্বিক 
ভালবাসা, শীতের দীর্ঘ রাতে 
স্বপ্ন গুলো মনে হয় হাত 
পা গুটিয়ে ঘুমিয়ে 
পড়েছে অনেক 
ক্ষণ আগে, 
মন এখন চেয়ে আছে শাপমুক্তির স্পর্শ 
পাষাণ হতে মানুষ হবার প্রক্রিয়া,
বন্ধ, গন্ধ কোষ নিজে নিজেই 
খুলে ছড়িয়ে দিতে চায় 
সমস্ত সুরভির কণা,
ধরে রাখতে চায়
অন্তর্মন,
তার মুখচাপা 
ভালবাসা.

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
  



শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

ভালই আছি

রোশনাইর স্রোতে ভেসে চলেছে রাজপথ থেকে 
উড়ানপুলের শাখা প্রশাখা, মায়াবী আলোয় বিষ দন্ত  
গুলো ভেঙে দিয়েছে সাপুড়ে, কিছু 
ক্ষণে কাল নাগিনী জাগবে 
মায়াবাজারের রূপে, 
সাধু অসাধুর 
ঝাঁক 
জমে চলেছে ছদ্ম ক্রেতার আড়ালে -
না তুমি শুধুই নয় এই বেদির 
অঞ্জলি, এই হোমের অগ্নি 
অনবরত জ্বলনশীল,
নানান মন্ত্রে 
আসক্ত জীবনের কাহিনী যায় জ্বলে এই 
দহনে, কখনো প্রেমের ছলনা,
কখনো জঠরাগ্নির  দায়ে 
মানুষ নিজেই হতে 
চায় ভস্ম,
আঁধারে যে দেখিয়ে ছিল আলোর সন্ধান  
দেখি এক দিন সেই সুজন ফেলে 
গেছে  আবার অন্ধকারে, 
এই বারে বারে উধ্বস্ত 
হবার কাহিনী তে 
নবীনতা বলে 
কিছু নাই 
প্রথমে সীমান্ত পারে আপনজন কেড়ে নিয়েছে 
বাসভূমি, বেঁচে থাকার অন্তিম সম্বল,
দেশান্তরে যাযাবর দেহ ও 
আত্মার বিক্রয়, এক 
দখলের পরে 
পুনরায় 
দখল, সবাই যেন হাতে চাবুক নিয়ে হাঁকিয়ে 
নিয়ে যেতে চায় নিলামীর চকে,
সেই শালুক ভরা পুকুর তীরে,
সুপারি নারিকেলর 
বাগান, দোয়েল 
কোয়েলের
গান, মাছরাঙ্গার ঝাঁপ, আর শুনতে বিরক্ত 
লাগে, যা আমার নয় তাকে নিয়ে এত 
মায়া কিসের  জন্যে, যত সব কবি 
কবি ভাব, এই গিঞ্জি বস্তির 
মাথায় ত চাঁদ উঠে,
দেখে কি যে 
হবে বুঝি 
না, শরত কাল কি চৈত্রের ঝলসানি সব 
সমান, পুঁথির বাহিরের এই জীবন,
বাঁচতে চায় শুধুই বর্তমানে,
কুহাশায় ঢেকে  রাখো 
কল্পনার সুখী 
জীবন. 
-- শান্তনু সান্যাল 
Kolkata Painting by Ananta Mandal 

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১১


লক্ষ্যহারা উন্মজ্জন 

ফেলানো ছেঁড়া আরামকেদারা, সামনে অলিন্দের সেই 
পরিচিত ছোট পাখি ! হয় ত টুনটুনিই হবে, 
নিয়মিত ভাবে, রোজ সকালে এসে,
পুরাতন দিনের নতুন খবর
নিয়ে উড়ে যায় নিমেষে, 
জীবনের এই প্রান্তে 
কিছু টুকরো 
সোনালী 
রোদ, অলস ভাবে পড়ে থাকে, ঠিক শ্যাম শ্বেত 
অর্ধেক খোলা অ্যালবামের জর্জর পৃষ্টে, 
খুঁজে মন এক মুঠো রঙ্গীন মেঘের 
গুঁড়ো, ভরে দিতে চায় হৃদয় 
আড়ালে দাঁড়িয়ে, নিঃশব্দ 
তার সজল নয়নের 
কোণে, সে টের
ও পায় নি 
কিংবা 
সময় হয় উঠি নি, কখন, কেমন করে উড়ে গেছে 
অনুরাগের হালকা, মিহি বারিদের তুলো,
গায়ে ছাইরঙ্গী শাল দিয়ে জীবন,
চেয়ে আছে সুদূরে উঠন্ত 
সূর্যের লাঠি নিয়ে 
কুহাশায় ধীরে 
ধীরে 
হেঁটে যাওয়া, খবর কাগজের ওই গুটানো রূপ টা
দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু যখন ওই 
অলিন্দের সীমানা পার করে 
ধপাস করে মেঝে পড়ে,
ভীরু পাখিটি আর 
কিছু ক্ষণ উড়ে 
ফিরতে চায় 
না,
জানি না সে এখন হয় ত ব্যস্ত নতুন বাসা গড়তে !
কাগজের পাক খুলতে ভয় পায় মন, প্রতি 
অক্ষরে জীবন যেন দাঁড়িয়ে আছে 
নিয়ে ক্রুসবিদ্ধ শরীর, পৃথিবী 
টা স্থির, মানুষেরা 
ঝাঁকিয়ে তার 
নৈসর্গিক 
আবর্তন কেড়ে নিয়েছে, সে এখন দিশাহারা, 
গড়িয়ে চলেছে অন্তরীক্ষে জানি না 
কোথায়, নিয়তিবিহীন পথে,
একাকী, উধ্বস্ত ---

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




রিক্ত রেখাচিত্র 

ভালবাসার মূল্য জানতে খুব ইচ্ছে ছিল, 
তাই কুড়িয়ে গেলাম কিছু ঝরা 
কাগজের ফুল, পাখিদের 
রঙ্গীন পালক, ভাঙা
ঝিনুকের খোল, 
শল্কের কিছু 
আলো, 
ঘর বাঁধার হয় ত ছিল এক দিন তীব্র 
আগ্রহ, বাঁধতে পারি নি, তাই 
বাবুইপাখির পরিত্যক্ত 
নীড় দিয়ে সাজিয়েছি 
বৈঠক খানার 
রিক্ত 
দেত্তয়াল, কি হলো যদিও ভাড়াটে ঘর,
স্বপ্নগুলো মরে না কোনো দিন,
বিলুপ্তির ত প্রশ্নই উঠে না,
ওই দুরে, রেল লাইনের 
পারে, সবুজ মাঠ 
পেরিয়ে, সে 
রোজ 
ভোরে, আবছা আঁধারে দৌড়িয়ে কার 
সঙ্গে যেন মিলতে যায়, তাদের 
সম্পর্ক টা বৈধ কি অবৈধ, 
জানি না, কিন্তু সে যায় 
আপন মনে, গায়ে 
ঢেলে বহু তারক 
অলংকার,
আমি কৌতুহলে পলকহীন চেয়ে রই তার 
ললাটের প্রদীপ্ত  টিকা, গ্রীবার ঝলমল 
নীহারিকার চন্দ্রহার, সে যেন 
সব কিছু গুটিয়ে চলেছে 
দিগন্তের দিকে দ্রুত 
বেগে, ঝরিয়ে 
পথে অনেক 
শিউলির মুকুল, শিশির ভিজা স্বপ্নের কণা, 
জানি সে কথা রাখি নি, রাখতে পারে 
না, ভালবাসে কি না সেও জানি 
না, এইটুকু জানি সে আসে 
যখন সূর্য্য ঘুমিয়ে পড়ে,
নিরব, শব্দহীন, 
ভরে যায় 
শুন্য 
বুকে, আগামী দিনের জন্য নতুন রেখাচিত্র.

-- শান্তনু সান্যাল
painting by roy fuller
   


বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

মনের গহ্বরে

অপবাহিত গন্ধ নিয়ে আমি পড়ে আছি 

তোমার হৃদয়ের কাছাকাছি, যত 
ক্ষণ তুমি বুঝতে চাইবে, তত 
ক্ষণ বাসি আবেগে ছুঁয়ে 
যাবে, দেহের নতুন 
সৌরভ, তুমি 
যাবে
ভুলে সহজে উচ্ছিষ্ট বস্তুর ঘৃনা, তখন 
তুমি ও ব্যবহৃত, পুরাতন বস্ত্র 
খানি, সেই জন্যই ত খুলি 
নি মনের গ্রন্থী, কি বা 
আসে যায় নতুন 
কিংবা প্রযুক্ত, 
শুধুই 
মনের ভিতরে ছদ্ম আদর্শের সংরচনা,
তুমি ও করে যাও বিশুদ্ধতার 
নাটক, আমি ত আছি চির
দেবব্রত, অন্ধকারে 
আবরণ ও 
নিরাবরণের কোনই মানে হয় কি, তবু 
ও লজ্জার ভান করতে কিসের যে 
ক্ষতি, এখানে সৃষ্টির খেলা 
সৃজনের মঞ্চে যুগে 
যুগে একই
রূপে 
অব্যাহত, দ্বিধার কিছুই নাই যদি চাও 
পারদর্শী ভাবে যাঁচাই, নিরক্ষণ !
আলো জ্বালাতে বিলম্ব কর 
না, আমি প্রস্তুত গ্রীক 
দেবতার সেই 
পূর্ণ পুরুষ 
রূপে, 
আমি জানি তুমি আগ্রহী, কিন্তু প্রশ্ন 
একটিমাত্র, হয় ত তুমি শিরায় 
শিরায় যাত্রা করে যাবে 
সমস্ত দেহের পিঞ্জরে,
তবু কি জানতে 
পারবে 
মনের ময়নার আত্ম গোপন রহস্য ---

- - শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১১


অনন্ত কালের প্রতিক্ষা 

সহজে আজ আমি খুলে দিয়েছি গিঁট,
রহস্য উদঘাটন এখন তোমার 
হাতে, মানুষ কি বন্য জন্তু 
সাব্যস্ত কর আজ রাতে,
ওই ভাবে মোহাবিষ্ট 
জাদুর খেলায় 
যদি পারো
জিতো,
আমি পরাজিত হতে রাজি সুতরাং 
পাশা ফেলার আগে বন্যার 
আমন্ত্রণ, ঝঞ্ঝার নিপাত
দেহে মেখে রেখো 
অগ্নি চন্দন 
মিশ্রিত  
লেপ, 
তোমার অভিমানের গন্ধে রয়েছে 
নিছক কিছু ক্ষণের আবেশ,
এক রাতের সুরভি 
আমার শোষক 
প্রকোষ্ঠ 
বহুমাত্রিক, অনন্তকালের পিপাসার্ত !
ধু ধু মরুভূমি, তপ্ত বালুচর 
অর্ধেক নিবন্ত দাবানল,
চায় একটানা বৃষ্টি 
সকাল সন্ধ্যা 
অখণ্ডিত, 
আমার প্রেমের বৃত্তে ঘুরে শনির অগ্নি
বলয়, দেখো যদি পারো সাঁতরিয়ে 
এস, অপেক্ষায় রইলো জীবন !
কৌতুহলে রবে হৃদয়ের 
স্পন্দন, দেহের 
অদৃশ্য স্থির 
কম্পন,

- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


   


মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১


সে এখনো জীবিত -- 

আপন বলতে শুন্য ছাড়া কিছুই  ছিল না, 
জানা সত্তেও ওই রিক্ত স্থানে গড়েছি 
অম্বরীয় আসর, ডেকেছি 
চন্দ্র, ছায়াপথ, তারক 
উল্কা, নিহারিকা,
ধুমকেতু,
সেই মনের অন্তরীক্ষে সবাই  বসে আছে 
বিনা প্রত্যাশার সারা রাত, গাইছে 
আলোকের গান, ভরে চলেছে 
পাথরে প্রাণ, মন্ত্রমুগ্ধ 
জীবন চেয়ে 
আছে 
তাদের অনন্তকালের অমূল্য অবদান,
উপাসনান্তে জানি না, কি যে ছিল 
ভুল ভ্রান্তি, দীপ, ধুপ, অর্ঘ্য 
অঞ্জলি সব কিছুই ত 
দিলাম, নিমগ্ন 
পবিত্র 
অগ্নির পায়ে, তবু ও সে অমূর্ত রইলো 
এক ঠাঁই, কোন প্রান্তরে নাকি 
ঝরে যায় অঝর বৃষ্টি, 
মনের মরুভূমি 
ভিজে উঠে 
দেখে 
প্রাচ্য আকাশে এক ফালি স্থির শুভ্র মেঘ,
আঁচলের পরিসীমা ছিল সীমাবদ্ধ,
নিয়তির উপহার অপরিসীম,
দেওয়া নেওয়ার চুক্তির 
মাঝে ভাবনার 
শিশুরা 
হারিয়ে গেছে কবে যে, কোন জন অরণ্যে, খুঁজে 
পাই নি, হয় ত খুঁজতে ও চাই নি, অনেক 
সময় তা হয়, নিজের ছায়া ও বলে 
আগে তো দেখি নি তোমায়, 
অগ্রাহ্য করে আরশি !
প্রতিবিম্ব হটাত 
অপরিচিত,
জীবনের রোদ ছায়ার খেলায় হয় ত সে ছিল 
অল্পকালীন খেলুড়ে, সরে গেছে মেঘের 
সঙ্গে শ্রাবণের দেশে, খরার পথে 
কত জন যে ছিল সহযাত্রী 
গুণতে চাই নি হৃদয়, 
মিছে মিছে কান্না, 
যা নাই তা 
নিয়ে 
ভাবা, চিন্তা করা অর্থহীন, শুধুই বৃথা অশ্রু -
পতন, এই রঙ্গীন সাঁঝে তোমার 
উপস্থিতি, গোটা ক এক 
রজনী গন্ধার গুচ্ছ,
মুখে আলতো 
হাসির 
ঢেউ, জীবন নদী শুধায় সে এখনো মরি নি !

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

painting by  - Debra Lohrere