শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩

অতৃপ্ত অভিলাষ - -

ওই রেশমী আঁধারে, ঠাহর করা ছিল না 

এত সহজ, ডুবন্ত ঘাটের সিঁড়ি 
ও অজানা নদীর গহ্বর, 
জীবন, শুধুই 
আন্দাজে 
গেছে এগিয়ে, তার প্রেমের গভীরতা - -
রইলো চিরদিনই অবুঝ, ভাবনার 
ওই ভাসন্ত জলীয় লতার 
ভিড়ে, তার বুকের 
মর্ম খুঁজে 
পাই নি কোনো দিন, শুধুই অনুমানিত - -
রইলো ভালবাসা, কখনো সে 
দাঁড়িয়ে হেসে চলেছে 
পুকুর পারের 
ঝোপ -
জঙ্গলে, কখনো দেখি তার খিলখিল ওই - -
উন্মুক্ত পাগল হাসির মাঝে, আমি 
শিশুর মত খুঁজেছি, ঝিনুকে 
জড়ানো জোছনার 
কিছু কণা, 
অথবা 
দৌড়িয়ে গেছি দেখতে মধ্য রাতের - - -
দ্রুতগামী ট্রেন, নিষ্পলক চোখে 
দেখেছি তার সুদূরে ক্রমশঃ 
হারিয়ে যাওয়া, ফিরে 
এসেছি বহুবার 
কুঁড়িয়ে, 
কিছু ঝরা ফুলের সিক্ত অনুভূতি, বসে - -
রয়েছি একাকী, বহুবার পথ 
চেয়েছি, শেষ প্রহরে,
কিন্তু দেখি 
নি - -
শিশির কণার অদৃশ্য বৃষ্টি, চিরদিন এক -
অতৃপ্ত অভিলাষ রইলো বুকে,
চিরদিন সে লুপ্ত রইলো 
কমল কুঞ্জে চাঁদের 
আলোর সঙ্গে 
নিমগ্ন !

* * 
- শান্তনু সান্যাল  

http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩

সুবর্ণ ফ্রেমের মাঝখানে - -

কিছুই বদলায় নি, কিছুও বদলায় না,
আয়না যথারীতি আছে নিজের
জায়গায়, নীরবতা জড়িয়ে
সারা গায়ে। ফিরে গেছে ভোলা চড়ই বহু -
বার নিজের
প্রতিবিম্ব ঠোকরিয়ে। সব কিছুই 'ত -
দেখি সাজানো আছে আগের মত,
সুবর্ণ ফ্রেমের মাঝখানে,
আসলে জীবনের
রিক্ত - স্থান
বলতে
কিছুই হয় না, হওয়া উচিতও নয়।
সময়ের সাথে ভরে যায় সব
কিছু, সে অগ্নিমুখ হক
অথবা কোমল
হৃদয়ের
আহত প্রদেশ। ক্রমশঃ ঊষর প্রান্তর
এক দিন স্বাভাবিক রূপে হয়ে
ওঠে বিরাট এক চারণ -
ভূমি। আসলে
সময়ের
চক্র ঘুরে যায় আপন লয়ে, আলো -
ও আঁধারের ওই দুই কাঁটার
মাঝে কিছুই বদলায়
না, শুধুই নিজের
ছায়া এক
দিন যায় বুড়িয়ে, আয়না সহসা তখন
মনে হয় পরকীয় মানুষ, অবাক
চেয়ে রয় মৌন উপহাসে।
আর জীবন খুঁজে
এমন সময়ে
ভাঙা, মেঝের উপরে ছড়ানো মুক্তার
হার, আর উড়ে যায় একের পরে
এক অতীতের সমস্ত ফেকাশে
মুহূর্তের অক্ষরমালা।

* *
- শান্তনু সান্যাল  








বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩

সরলরেখার বাইরে - -

 
কিছু নবীনতা চাই জীবনে, শুধুই দিবস -
রজনী, এক বিন্দু হতে অন্য বিন্দুর 
মাঝে সরলরেখা টেনে যাওয়া, 
অহর্নিশ এক 
ঘেয়ে 
বাঁধা - ধরা, ক্লান্ত যাত্রার বাইরে ও - - 
আছে অনেক কিছু, তার 
চোখের গভীরে 
লুকিয়ে 
রয় প্রায়ই অদৃশ্য স্বপ্নের বহু পরিকল্পনা,
নানান রঙের অভিলাষ, ভেসে 
উঠতে চায় অন্তর্নিহিত 
ভাবনার সৌন্দর্য্য,
অভিনব 
ভবিষ্যতের প্রতীক্ষা, দিগন্ত ছোঁয়ার -
অধীরতা - - 
- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০২৩

অন্তহীন প্রণয়ী গান - -

নিঃশ্বাসের বিনিময়, ভাবনার আদান
প্রদান, কিছু খোলা আকাশ আর
কিছু বর্ষার ভাসন্ত পূর্বাভাস,
জানি, সব কিছুর আছে
এক না এক দিন
অবসান,
তবুও হৃদয়ে ফুটে রয় অহোরাত্র এক
সুরভিত বিতান, জীবনের আছে
নিজস্ব সৈকত রেখা, কখনো
ভাঙনের পুনরাবৃত্তি
আবার অনেক
সময়ে সুদূর
হতে শুধুই ক্রমিক পরাবর্তন, ভেসে
আসে মাঝ স্রোতের চাপা ক্রন্দন,
কখনো জোনাকির দ্বীপে
আলোর সম্মেলন,
স্বপ্নের তরী
ভেসে রয় উজানের ধারায় সারাটা -
রাত, অধিকাংশ পৃথিবী যখন
ঘুমের দেশে নিরুদ্দেশ,
তখন সজাগ,
একজোড়া
 স্পন্দন, গাহে জীবনের অন্তহীন প্রণয়ী
গান - -

* *
-  শান্তনু সান্যাল
   

 http://sanyalsplanet.blogspot.in/
emerging life Art by Derek McCrea

সোমবার, ২২ মে, ২০২৩

সব কিছু যেন জীবন্ত - -

সন্ধ্যার শেষ আলো যখন লোপের পথে, 
জানালার প্রান্তে একফালি রোদ 
শুধিয়ে যায় তোমার 
আসার সঙ্কেত,
হঠাৎ
সব কিছু যেন জীবন্ত, দমকা হাওয়ার  
সাথে এক অদ্ভুত পরিবেশের 
সৃষ্টি, ভুলিয়ে দিতে 
চায় সারা 
দিনের 
পরিশ্রান্তি, শুষ্ক জীবনে সতেজতার - -
আভাস তখন উল্লেখনীয়, পা 
যেন নিজে নিজেই বেড়ে 
যায় আরশির 
দিকে !
প্রতিমুহূর্তে, অপ্রত্যাশিত কড়া নাড়ার 
শব্দ অনুরণিত, ফিরে ফিরে 
আসে যেন আবেগের 
স্বরলিপি কুসুমিত 
উপত্যকার 
গা ছুঁয়ে,
ঝরে বিন্দু বিন্দু নৈশ ফুলের গন্ধ - - - 
সারা দেহ ও প্রাণে !

* * 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
art by lindas

রবিবার, ২১ মে, ২০২৩

সজল কবিতা - -

আলো - আঁধারের মাঝখানে ঝুলে রয়
নিয়তির এক সরু সীমারেখা,
অনেকটাই অদৃশ্য।ঠিক
মধ্যরাতের কিছু
ক্ষণ আগে
যখন
শিশির ঝরার শব্দ, হয়ে ওঠে মুখরিত,
আর নিশি পুষ্পের গন্ধে ভরে যায়
অন্তর্তমের গভীরতা, তখন
তোমার প্রেম করে
যেতে চায়
সমস্ত
ব্যতিক্রম পার।ওই সন্ধিক্ষণে জীবন -
হয় ওঠে যেন এক অলৌকিক
অনুভূতির আকাশগঙ্গা,
বহে যায় অন্তহীন
আলোর পথে,
আকাশ
অকস্মাৎ গুটিয়ে চলেছে নিজেকে নিজের
মাঝে।ওই বিরল মুহূর্তে, নারী ও
পুরুষের সংজ্ঞা মনে হয়
খুবই অর্থহীন, সে
এক গভীর
অন্তর -
মিলনের প্রহর, লিখে যায় ফুলের গায়ে - -
বিন্দু বিন্দু সজল কবিতা।

* *
- শান্তনু সান্যাল


শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

বিলুপ্ত তারকের পথ

হয় ত আকাশের ছিল কিছু নিজস্ব বাধ্য
বাধকতা, তারক গুলো ভেঙে
ছড়িয়ে রইল, বসুধার
ছিল আপন অগ্নি -
রেখা, ইচ্ছা
থাকা
সত্ত্বেও বুকে জড়াতে পারি নি সে
অপসৃত আলোর স্রোত, প্রতি
নিঃশ্বাসে ছিল অদৃশ্য
প্রেম, প্রতি ধাপে 
বেঁচে থাকার
অদম্য
প্রত্যাশা, জানি না কেন নিষ্ফল
রইল আত্মীয়তার কলা,
প্রত্যেক কথায় সে
বলে ভগবানের
ইচ্ছে, কিন্তু
সেই
অদৃশ্য শক্তি বলেছে কি তোমার
সঙ্গে দেখা করি যেন
মসজিদের ছায়ায়
দেউলের ওই
সোপানে,
প্রখর রোদে, হিমানী রাতে, আলো
আঁধারে, দেখা হল তোমার
সাথে বহুবার, তুমি চিনে
ও চিনতে চাও নি,
জিজ্ঞেস করেছ
রক্তের বর্ণ,
শুদ্ধ কি
অশুদ্ধ,
তোমার উজবুক প্রশ্নে আমি শুধুই 
হেসে যাই চিরদিন, উত্তর না
দিয়ে হেঁটে যাই পূর্ব মুখী 
রহস্যময়ী সেই প্রান্তরে,
সমাধিভূমি হইতে
ব্রহ্মলীন জগত,
এখানে কিছুই 
প্রমাণ ও
দলিলের কোনো দরকার নাই,বসে
থাকতে ইচ্ছে করে, এই বিজন
অচল সীমান্তে, একাকী
পরিপূর্ণ শান্তি,
জীবন
যেন খুঁজে এখানে তারকের বিলুপ্তির
কারণ ! হারানো আত্মাদের
আশ্রয়স্থল, ভালবাসার
চিরস্থায়ী গর্ভগৃহ,
নিরাকার
অনন্ত
অখণ্ড জ্যোতির মহা উদ্ভাসিত উর্মিমালা.

-- শান্তনু সান্যাল