শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩

পুষ্পিত মোড়ে হঠাৎ - -

উড়ে যাক অস্থির সমস্ত তুষার কণা

সকালের মন্থর বাতাসে, জোর 
করে আটকালে যাবে 
সব কিছুই 
গলে,
নতুবা শীত দহন নিয়ে করতলে - -
জীবন খুঁজে বেড়াবে বিলুপ্ত 
প্রেমের ঠিকানা, সব 
কিছু কি পোষ 
মানে,
আসলে মনের মিল যদি না হয়, কি 
অর্থ আছে, জোরাজুরি হাতে 
হাত মিলিয়ে দূরে 
হেঁটে যাওয়ার 
অভিলাষ,
শুধুই 
ছদ্ম অভিনয়ের ছলে পরস্পরকে - -
ধরে রাখা, আর পুষ্পিত 
মোড়ে হঠাৎ সরে 
যাওয়া - - 

* * 
- শান্তনু সান্যাল 



বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩

জীবন যায় নি শুকায়ে - -

ঝরে বিন্দু বিন্দু, প্রণয় জাফরির আলো, জীবন 
যায় নি শুকায়ে, যদিও বহু বার এসে 
ফিরে গেছে পাতা ঝরার ঋতু,
নিরীহ ভাবনার শাখা 
পুনরায় কুড়িয়ে 
পেয়েছে 
স্বপ্নের কচি পল্লব, তার চোখের স্নিগ্ধ দীপ্তির -
মাঝে আছে ত্রিভুবনের মায়া, প্রতি 
বার মহা অন্ধকার যায় 
অস্তিত্ব হারিয়ে,
জীবন 
ভেসে ওঠে বারে বারে কুয়াশাচ্ছন্ন ধরাতলে !

- শান্তনু সান্যাল 

japanese art 1
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩

বারংবার মৃত্যু - -

কথা ছিল দেখা হবে, বিধ্বস্ত দেউলের 
বয়োবৃদ্ধ অশ্বত্থ গাছের ঠিক কাছের
পরিত্যক্ত চত্বরে, অথচ সে 
আসি নি, ভেসে গেছে 
প্রতিশ্রুতির শব্দ -
গুলি, ভাটার 
শিথিল লহরে, সুদুর নদীর ওই পারে চাঁদ 
খুঁজে চলেছে হয় ত আরেকটি আস্তানা, 
অজানা পান্থনিবাসে, জানি সে 
বদলিয়ে যাবে সব কিছু
শেষ প্রহরে, উচ্ছিষ্ট
অধরে রয়ে 
যাবে কিছু ভাঙা কম্পন, লুন্ঠিত কবিতা,
ছড়ানো বিসর্গ, দূর ছিটানো চন্দ্র -
বিন্দু, তখন আমার ভুল 
বানান ভরা জীবন
খুঁজবে এক 
ব্যাকরণ, 
আবার কাটকুট করে পুনরায় মুক্ত ছন্দ 
রচনা, জানি সে কোনো দিনই 
বুঝতে পারবে না মনের 
বারংবার মৃত্যুর 
ঘটনা - - 
* * 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
pink roses - unknown painter 

 

সোমবার, ২৯ মে, ২০২৩

অন্তহীন ভাসান - -

অবশেষে সে ছুঁয়েছে গভীরতম বিন্দু -
যেন শীতের শেষে ঋতুরাজের
উড়ো চিঠি, অরণ্য গন্ধে
মাখা গোপন হৃদয়ের
লিপি । অন্তত সে
ভুলে নি সেই
উত্তর
দিকের জানালা, হারানো কোন শিহরণ
জড়িয়ে বুকে, সে  রেখে গেছে
অনুরাগের ছোঁয়া উড়ন্ত -
পর্দার গায়ে । তার
পরশে ছিল
অদ্ভুত
কুহকের ছায়া, যেন দেহ ও প্রাণে ঘিরে
আছে অদৃশ্য জগতের মায়া । জানি
না তার মুক্ত স্রোতের উৎস,
শুধুই ভেসে চলেছি
সুদূর অজানা
ভাসন্ত
দ্বীপের সমান্তরালে । চার দিকে শুধুই অথৈ
জলরাশি - -  !

* *
- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩

নিষ্ফলা বনস্পতি - -

জীবন যখন অন্যদের জন্য উৎসৃষ্ট
মানুষ তখন ফাঁপা মূল বৃক্ষ,
দেহে আশ্রিত অন্যান্য
গাছের জন্য
কেবল এক উপস্থাপিত বস্তু, যাকে 
বলে বেদীর অবদান, মৌন
লোবানের  রূপে পুড়ে
যাওয়া তখন
তার নিয়তি, হাসি – ক্রন্দন অথবা
হর্ষ – বেদন, সমস্ত অনুভূতি
ধীরে ধীরে লোপের
দিকে, বিশাল -
গাছের দেহে, আর কিশলয় পাতা ধরে
না, সে তখন অসময়োচিত
নিষ্ফলা বনস্পতি
নীরব চেয়ে
রয়, পরকীয় গাছের আকাশমুখী - -
উঠে যাওয়া ! কোথায় যেন
তখন মানুষ ভুলে যায়
নিজের অস্তিত্ব,
তখন সে
ভুলে যায় নিজের অতীত, বর্তমান ও
আসন্ন মধুমাস, সে আর খুঁজে
না স্বপ্নের জলাভূমি - -

* *
- শান্তনু সান্যাল  



শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩

অতৃপ্ত অভিলাষ - -

ওই রেশমী আঁধারে, ঠাহর করা ছিল না 

এত সহজ, ডুবন্ত ঘাটের সিঁড়ি 
ও অজানা নদীর গহ্বর, 
জীবন, শুধুই 
আন্দাজে 
গেছে এগিয়ে, তার প্রেমের গভীরতা - -
রইলো চিরদিনই অবুঝ, ভাবনার 
ওই ভাসন্ত জলীয় লতার 
ভিড়ে, তার বুকের 
মর্ম খুঁজে 
পাই নি কোনো দিন, শুধুই অনুমানিত - -
রইলো ভালবাসা, কখনো সে 
দাঁড়িয়ে হেসে চলেছে 
পুকুর পারের 
ঝোপ -
জঙ্গলে, কখনো দেখি তার খিলখিল ওই - -
উন্মুক্ত পাগল হাসির মাঝে, আমি 
শিশুর মত খুঁজেছি, ঝিনুকে 
জড়ানো জোছনার 
কিছু কণা, 
অথবা 
দৌড়িয়ে গেছি দেখতে মধ্য রাতের - - -
দ্রুতগামী ট্রেন, নিষ্পলক চোখে 
দেখেছি তার সুদূরে ক্রমশঃ 
হারিয়ে যাওয়া, ফিরে 
এসেছি বহুবার 
কুঁড়িয়ে, 
কিছু ঝরা ফুলের সিক্ত অনুভূতি, বসে - -
রয়েছি একাকী, বহুবার পথ 
চেয়েছি, শেষ প্রহরে,
কিন্তু দেখি 
নি - -
শিশির কণার অদৃশ্য বৃষ্টি, চিরদিন এক -
অতৃপ্ত অভিলাষ রইলো বুকে,
চিরদিন সে লুপ্ত রইলো 
কমল কুঞ্জে চাঁদের 
আলোর সঙ্গে 
নিমগ্ন !

* * 
- শান্তনু সান্যাল  

http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩

সুবর্ণ ফ্রেমের মাঝখানে - -

কিছুই বদলায় নি, কিছুও বদলায় না,
আয়না যথারীতি আছে নিজের
জায়গায়, নীরবতা জড়িয়ে
সারা গায়ে। ফিরে গেছে ভোলা চড়ই বহু -
বার নিজের
প্রতিবিম্ব ঠোকরিয়ে। সব কিছুই 'ত -
দেখি সাজানো আছে আগের মত,
সুবর্ণ ফ্রেমের মাঝখানে,
আসলে জীবনের
রিক্ত - স্থান
বলতে
কিছুই হয় না, হওয়া উচিতও নয়।
সময়ের সাথে ভরে যায় সব
কিছু, সে অগ্নিমুখ হক
অথবা কোমল
হৃদয়ের
আহত প্রদেশ। ক্রমশঃ ঊষর প্রান্তর
এক দিন স্বাভাবিক রূপে হয়ে
ওঠে বিরাট এক চারণ -
ভূমি। আসলে
সময়ের
চক্র ঘুরে যায় আপন লয়ে, আলো -
ও আঁধারের ওই দুই কাঁটার
মাঝে কিছুই বদলায়
না, শুধুই নিজের
ছায়া এক
দিন যায় বুড়িয়ে, আয়না সহসা তখন
মনে হয় পরকীয় মানুষ, অবাক
চেয়ে রয় মৌন উপহাসে।
আর জীবন খুঁজে
এমন সময়ে
ভাঙা, মেঝের উপরে ছড়ানো মুক্তার
হার, আর উড়ে যায় একের পরে
এক অতীতের সমস্ত ফেকাশে
মুহূর্তের অক্ষরমালা।

* *
- শান্তনু সান্যাল