সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নিঃশ্বাসের গহীন গহ্বরে - -

অঝর বৃষ্টি ছিল সারা রাত, যাকে -
বলে মন খুলে ঝরে যাওয়া, 
শ্রাবণের ওই উদারতা
দেখে হঠাৎ যেন,
ভেসে উঠে
ছিল
বুকের মাঝে আতঙ্কের উড়ন্ত মেঘ,
কাজেই অনায়াসে, রাতের শেষ
প্রহরে, আমি বুকে ধরে
রাখতে চেয়েছি
তোমায়।
যখন দিগন্ত রেখায় প্রথম আলোর
ছোঁয়া - ছোঁয়া সূচনা, তখন
তুমি আমার নয়ন
কোণে ফিরে
আসা
ধোঁয়া - ধোঁয়া এক মধুর চেতনা।
কখন থেমেছে যে বৃষ্টির মুক্ত
ধারা, কখন উন্মাদিনী
নদী, জোর করে
সরিয়ে
গেছে উঠন্ত সাগরের বিক্ষিপ্ত ঢেউ,
আর করেছে আত্মসাৎ তার
অগণ্য নীল গভীরতা,
নিঃশ্বাসের গহীন
গহ্বরে, কেউ
জানে না।  


* *
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.in/
 

বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মাটির নিয়তি - -

তোমরাই গড়ো আবার তোমরাই
ফেলে আসো নদীর গাদ ভরা
তীরে, বুঝি না এ কেমন
বিনিময়ের খেলা,
তবুও ছুটে
আসি
বারেবারে ওই শিউলির গন্ধে ভরা
পথে, তোমাদের হাতেই করি
ষোল শৃঙ্গার, হয়ে ওঠি
রণ – বীরাঙ্গনা আর
করি রিপু দলের
সংহার, জানি
খুবই
কঠিন, হাড় মাংসের ওই অসুরের
দমন, যেন সহস্ত্র বীজের চার
দিকে অঙ্কুরণ, তোমরা
শুধুই করেছো
পুতুল
খেলা তাই আমি যথারীতি রয়ে - -
গেছি শুধুই  মাটির প্রতিমা,
আর খেলা শেষে, গেছি
ভেসে নদীর মলিন
স্রোতে, চির
উপেক্ষিত
অবলার রূপে, তোমরা গড়লে আমায়
অবশ্যই, কিন্তু প্রাণের প্রতিষ্ঠা
রইলো যথারীতি ভেজাল,
দূষিত, তাই আমার
নিয়তি শুধুই
মৃন্ময়ী,
অন্তহীন নীরবতার প্রতীক, শুধুই এক
মৌন প্রতিমা - -

* *
- শান্তনু সান্যাল

  

বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩

তুমি কী সেই উপাসিকা - -

শিউলির গন্ধে ভরা সকাল, যথারীতি
আজও সাঙ্ঘাতিক রূপের অনুঘটক,
বুকের গভীরে করে যায় এক
অদ্ভুত উন্মন্থন, মধুর
ঘোরে জীবন যেন
ফিরে পেতে
চায়
হারানো প্রেমের উষ্ণতা। হটাৎ তুমি
তখন শিশির ভেজা শালুকের
একরাশ গুচ্ছ, উন্মুক্ত ফুটে
আছো সুদূর মালবিকা
বনে, কোনো এক
অদূষিত
ঝিলে।
জীবন অকস্মাৎ তখন খুঁজে পেতে - -
চায় তোমার ওই চিরহরিৎ
উচ্ছলতার রহস্য।

* *
- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

বিলুপ্ত ছায়া - -

চেয়ে ছিলাম নাহক বেঁধে রাখতে তার
উচ্ছৃঙ্খল আবেগ, সে এক অরণ্য
নদী, বহে গেছে নিজের
ইচ্ছেমত, হয় ' ত
আমার বুকের
বাঁধন
ছিল কাঁচা মাটির সেতুবন্ধ, তাই সইতে
পারি নি ভাবনার জলরাশি । সে
এক প্রেম ছিল কি পিঞ্জরাবদ্ধ
রঙ্গীন পাখির ছটফটানি,
বহু বার ভেবেছি
আর ফিরে
পেয়েছি
কিছু বিবর্ণ পালকের সন্ধান । জীবনের -
অঙ্কন এতো সহজ নয়, সকালে
ছিল মিষ্টি রঙে মাখা সিক্ত
পৃষ্ঠতল, যখন ডুবলো
সন্তপ্ত সূর্য ওই পার,
গঙ্গার ধারে
ভেসে
উঠেছে ধোঁয়ার বাদল একরাশ, সান্ধ্য
আরতির মাঝে জীবন তখন খুবই
একা, খুঁজে চলেছে নিজের
হারানো ছায়া ।

* *
- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৩

ফিরে যাওয়া - -

খুব ইচ্ছে করে ফিরে যেতে, সব কিছু -
গুটিয়ে তোমার কাছে, বিশ্বাস
করো মনের খুব গভীরে
তুমি আজও আছো
শিকড় জালের
মত অদৃশ্য কিন্তু বাস্তবিক রূপে, আর
চুষে নিতে চাও সমস্ত দুঃখ – বেদনা
সহজ ভাবে, ঠিক ভাসন্ত পদ্ম
পাতার প্রতিরূপে। এটাও
কিন্তু তিক্ত সত্য 
যে পড়ন্ত
জীবন কে পুনরায় গোছানো সহজ নয়,
বরং খুবই কঠিন, হতাৎ করে
হারানো মাটির বুকে
পুনরপি, মনের
চারা পুঁতে
যাওয়া, আর ক্রমশঃ দিনান্তে সুর্য্যমুখির
মত নুঁয়ে যাওয়া। তবুও জানি না
কেন, তুমি আজও ডাক -
দিয়ে যাও, অজানা
কোনো এক
সাগরমুখী নদীর তীর হতে, আর আজও
আমি যথারীতি হয়ে উঠি, অস্থির
তীর বাঁধা নৌকা, খুলে দিতে
চাই সমস্ত শৃঙ্খল, অদৃশ্য
তোমার প্রেমের
জলোচ্ছ্বাসে।
* *
— শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩

নিজের পরিভাষায়

নিজের পরিভাষায় মানুষের মন
বিজয় করা সব সময় সম্ভব নয়,
স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্ন দেখানো
দুইটি বিভেদ রয়েছে, চাণক্য সর্বদা
উচ্চ শিখরে থাকবে কোন জরুরি নয়,
যা সামনে রয়েছে সেটাই বাস্তবিক
বিতর্কিত দর্শন নিয়তি বদলায় না,
মিছিলের পরিনিতি নীরবতা, যাদের হাতে
কুচক্র ছিল, তারা আজ কুরুক্ষেত্রে
ধরাশায়ী, শঙ্খনাদ ও আর্তনাদ
সামান্য অন্তর, মেঘের গর্জনে
বৃষ্টির আগমন কোনো জরুরি নয়,
অশ্বত্থামার অন্ত রাজনীতির পরাকাষ্ঠা,
যারা আজ পদতলে খুঁজে ঠিকানা
কাল সিংহাসনে উঠতে পারবে না,
এমন কোন অনুবন্ধ নাই, যুগ তোমার
আমার মতান্তরের বাইরে,
আর্তনাদ উঠলে নভ, জল, স্থল
সব চুরমার হবে এক দিন
যারা মহাসম্মেলনের পুরোধা
সর্ব প্রথম হবে মৃত্যুমুখী -
সম্প্রতি যুগের মৌন ভীষ্ম পিতামহ ও
অন্ধ রাজনীতির অন্ত, অবশ্য নিকটতম।
— শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০২৩

বাঁশির সুরে

নভোনীল রাতে, দূর ভেসে আসা বাঁশির 
সুরে, জীবন নদী তটভূমি খুঁজে,
তার নয়নের বাঁকে রয়েছে 
স্বপ্নের পান্থশালা, চাঁদ 
ফাঁকি দিয়ে কিছু 
ক্ষণ হারিয়ে 
রয় 
কুঞ্জবনে, মেঘের আড়ালে সে এখন কৃষ্ণ !
আমি দিশাহারা চেয়ে রই আঁধারে,
কানন পথে জোছনার হারিয়ে 
যাওয়া, তার প্রতিশ্রুতির 
রজনীগন্ধা সবসময় 
রহস্যে  কুণ্ডলিত,
লুকিয়ে রাখে 
মনের 
ভিতরে সুগন্ধের ধারা, আমি প্রহত মৃগ -
ধেয়ে যাই, বিক্ষিপ্ত রূপে, নদী 
পাহাড়, নির্ঝর, উপত্যকা,
প্রহেলিকার পরিমণ্ডল,
কুহেলির পথ,
সতত 
দূরস্থ অনুসন্ধান, ক্রমে ক্রমে তার বিলুপ্তির 
সঙ্গে হারিয়ে যায়, অজানা বেণুর 
সঙ্গীত, সুদুর ভেসে যাওয়া 
নৌকা এখন উজানের 
পথে, দিগন্তে 
ভোরের
লালিমা সরিয়ে চলেছে চোখের তন্দ্রা - - -

- - শান্তনু সান্যাল