রবিবার, ১২ জুন, ২০১১

অঙ্গীকারের রাত্রি


অঙ্গীকারের অনুষ্ঠান 
না উত্স না সমাপ্তি 
গোপন এক স্রোত প্রবাহিত 
অন্তর্মনের গভীরতায় 
অযৌগ গণনা বলে যায় 
আমি আছি ত চলে
গ্রহের আবর্তগতি,তর্ক
বিতর্কের বাহিরে নিঃশ্বাসের
দড়ি ধরে রাখে ভালবাসা,
জীবনের সৌন্দর্য্য এই শ্বাসের 
বাঁধনে রয়েছে জড়ানো, 
হৃদয়ের স্পন্দন টেনে রাখে 
পুস্প বৃন্ত,উপত্যকা,সমুদ্র 
মরু,নির্ঝর,চন্দ্র,সূর্য্য,তারক 
আকাশ গঙ্গা,আমি আছি ত 
রয়েছে দেবতা,স্বর্গের কল্পনা !    
চোখের আদ্রতা বোঝার বিবেক 
বলে আমি এখনো বেঁচে আছি,
তোমার স্নিগ্ধ আঁখির মাঝে 
আমার প্রতিবিম্ব জানায় 
পৃথিবীর আয়ু যায় নি ফুরায়ে,
 অজানা ভাবে যেন শিশুর 
 কন্টক ছুঁয়ে যাওয়া 
অনেক সময় হৃদয় চায় 
শিশু সম অনুভূতি ,
 মৌন ক্রন্দন করে মন 
আমার প্রেমের পরিভাষা সুদুর 
প্রসারী, সীমা গড়তে জানে না,
ক্ষয় ক্ষতির কোনো ভয় নেই 
কপাট বিহীন হৃদয়ের বাসা 
চিরস্থায়ী উন্মুক্ত খুলে থাকে দিবা 
নিশি,সবাই অঙ্গীভূত 
সকলই সমাবিষ্ট,
সপথ গ্রহণের রাত্রি ভেদাবেদ
 মানে না,একমাত্র শর্ত যে 
কি তোমার চোখ ভিজতে চায়
দেখে অন্যের ব্যথা 
কি তুমি অগ্নি পথে হাঁটতে পারবে
ভালবাসার জন্য অবিরাম 
কি তুমি বইতে পারো এই জীবন ক্রুস 
নিজস্ব কাঁধে অনন্যের জন্য -
বাঁচতে চাও অনন্ত জীবন,
 -- শান্তনু সান্যাল

অপ্রত্যাশিত আর্বিভাব 
 
কিরীট শীর্ষের সেই বিন্দু ছুঁয়ে  
নেমে আসে ছেঁড়া সকাল 
সেই আবছা আলোর মাচানে 
খেলে বহিষ্কৃত দেবতার শিশু  
অস্পষ্ট সিড়ির তমসায় শৈশব খুঁজে 
প্রদীপ্ত জীবনের দ্বার 
অলিখিত প্রান্ত, দক্ষিন মুখী জানালা 
বৃষ্টি ছায়ার বাতিল বন্ধ্যা 
ভূভাগ ক্রমশঃ মরুভূমির পথে,
সামন্য পড়ন্ত বেলার সূর্যের তাপ গায়ে 
ঢেকে জীবন কাটিয়ে গেল 
বনসাইর অশ্বত্থ গাছ, অপ্রত্যাশিত 
ভাবে তোমার অলিন্দে আসা 
ভরে যায় অন্ধ কূপে জোছনার ক এক 
কণা, জলীয় মাকড়সা ফিরে 
পায় হারানো আবর্তন গতি, এই সহসা 
প্রকাশিত হওয়া ছিটিয়ে যায় 
শান্তি জলের ক এক ফোঁটা,এখানেই কি 
স্ফটিক রচনার প্রক্রিয়া, মন  খুঁজে 
ভালবাসার হ্রদ, দেখতে চায় 
জীবনের পরিচ্ছিন্ন ছায়া,ভুলতে চাহে 
হৃদয় নিয়তির পরিহাস, তোমার 
অলৌকিক প্রণয়ের আর্বিভাব 
নিঃশব্দ জাগিয়ে রাখে সারা রাত মনের 
অর্ধ সুপ্ত সংবেদনা, আঁখির কোণে
সজল সকাল উঁকি দিয়ে যায় মাঝে মাঝে.
-- শান্তনু সান্যাল  





কল্প নদীর তীরে

অট্টহাস সহসা ভাঙলো
নিরবতার বুকে
হাত মিলানোর অর্থ
ছিল না মনের মিলন বন্ধু
আবেগের সৃজন অনন্ত অনাদি
বড়ই মুশকিল নিশ্চিত পথে
পাড়ি দেওয়া, পাথর প্রতিমা ও
শুন্যের মাঝে অন্তর কিছুই ত
ছিল না, পৌঁছতে সারা
জীবন গেল বৃথা,
ওই সুদূরে সূর্যের যাত্রা যাই নি
থেমে, সেই মিলন বিন্দুই
আবার ভেসে উঠেছে
সকালের রঙ্গীন আকাশ, পাখির
কলরব, তোমার ভালবাসা
অতৃপ্ত হৃদয়, অধিকাধিক পাওয়ার
মরিচিকা, অনেক কিছু
এই সরল রেখায় পেঁচ দিয়ে
তমস ঘন রাত্রি করে গেছে শুধুই
দিগ্ভ্রমিত, কিংবা কোন
অরণ্য লতা জড়িয়ে পায়ে
আটকিয়ে রেখেছে অগ্রগামী
মনের সিক্ত ভাবনা,
এই অদৃশ্য প্রাচীর যদি ভাঙতে
পারো তুমি, প্রতিশ্রুতি
রইলো পূর্ণ সমর্পণের,অনন্ত প্রেমের
স্বীকৃতি, জন্ম জন্মান্তরের
সন্ধি, মৃত্যুর বাহিরে
পথ চেয়ে থাকা যুগ যুগান্তর ধরে,
সেই কল্প নদীর ঘাটে, ঝুলন্ত
বটবৃক্ষের শিকড়ের
নীচে, থেমে রবে হৃদয়ের নৌকা,
তোমার অপেক্ষায় বন্ধু !
-- শান্তনু সান্যাল
 



   

শনিবার, ১১ জুন, ২০১১


অস্থির কোমল ভাবনা 


পরিত্যাগ করা কি এতই সরল 
শব্দ বিহীন জীবনের বহু মধুর 
অংশ, মনের মিহি তন্তুর মাঝে 
রয়েছে জড়িয়ে জল বিন্দুর রূপে, 
বৃষ্টি ছিল কি অগ্নি বন্যা বলা -
সহজ নয়, কিন্তু গেছে ভিজিয়ে 
অভ্যন্তরীণ মনের সুকনো ভূমি, 
কি যেন আছে এখনো তার দুই 
নয়নের কুলে, ডুবতে চাহে -
সাঁঝের কাজল,ভাসতে চায় 
চাঁদের প্রতিবিম্ব, ঝরতে আকুল 
অগণিত আকাশ কুসুমের দীপ্তি,

বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১১

আরশির প্রশ্ন

আরশির যক্ষ প্রশ্ন সহজ
ছিল না, এড়িয়ে গেছে মন
একান্তে বসে খুঁজেছি তার
গভীরতার অর্থ, দেখেছি
দেহের আবরণ বিহীন ছায়া
সে কোনো রূপে স্বীকার করতে
চায় নি জীবনের সত্যতা
যদি ও আজন্ম ছিল হিংস
পরজীবি, বন্য প্রাণীর প্রতিকৃতি
সেই প্রভুসত্তা করেছে
রাজত্ব বাড়িয়েছে অনল তৃষা 
বিষ বৃক্ষের নিচে ছড়িয়ে
গেছে মায়ার মৃগ জল
চোখের জলের মূল্য ছিল মাটি
চেয়ে দেখি নি করুন মুখ
ফিরিয়ে দিয়েছি মেঘের প্রীতি
ভোরের আবছা আলোর মাধুর্য্য
সাঁঝের ক্লান্ত মুখে গেছে
হারিয়ে, নিবিড় আঁধারে নিজস্ব
পদ ধ্বনির আতঙ্ক
হাসির জ্যোত্স্না বিলীনতার পায়ে
গেছে গড়িয়ে জলের সম তুল্য
সকল অহংকার
রাত্রি করে অরণ্য রোদন একাকী
মধ্য নিশীথে শুনি কাচ
ভাঙনের ঝন ঝন শব্দ  
স্বপ্ন গুলো মাঝি, বেয়ে চলেছে
কুসুমের খেয়া,দেখেও করে
অদেখার ভান, হাত বাড়িয়ে ডাকি
মাঝ দরিয়ায় একাকী, তারা ভাব শুন্য
মৌন ভাষায় কি যেন বলে যায়
চিতকার ক্রমশঃনিমজ্জিত
জানি না কোন কুলে সূর্য্য উঠেছে
কি না, সজল গহ্বরে ডুবে যায় আস্তে
আস্তে মায়াবিনী পৃথিবী ---
-- শান্তনু সান্যাল



মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

শুন্যের রঙ্গমঞ্চ

জেদী মনের প্রবল ইচ্ছা
ছুঁতে চায়  বিধ্বংসী অগ্নি প্রবাহ
ভাসতে চাহে স্বর্ণ নিষ্কাসনের পথ
হইতে অনন্ত প্রেমের ক্ষিতিজ,
অপর পার্শ্বের সেই অজানা জগত
নশ্বরতার বাহিরের পরিভাষা
গড়তে চায় হৃদয়, দাহিত দেহে
না কি ঝরে অসীম শীতল
অদৃশ্য নয়নের নীর,সেই অশ্রু
জলের লবনতায় জীবনের সত্যতা
না কি প্রতিবিম্বিত, ডানাবিহীন
অলৌকিক প্রণয়ের পাখি উড়ে
যেতে চায় আকাশপথে অবিরাম,
উল্কার সেতু, নীহারিকার সমুদ্র পারে,
যাযাবর মনের সংবেদনা  ঠাঁই
পায় না কোথাও কোনো রূপে,
খুঁজে চলেছে নিরন্তর এক অভিনব
সংসৃতি, নবীন মেঘের দেশ
অদ্বিতীয়, উড়ন্ত  প্রেমের পৃথিবী,
ভালবাসার বৃষ্টি যেখানে ঝরে
একটানা, বাদ পড়ে না মরুভূমি ও
উর্বর ভূভাগ, সেই কল্প লোকে
না কি ছদ্ম ছায়া অস্তিব হীন,
মুখোশের অর্থ ওখানে কেও জানে না,
শুন্যের সেই রঙ্গমঞ্চে শুধুই
বাস্তবিক জীবনের খেলা খেলে যায়
প্রেমের পাত্র, উল্লসিত ভাবে !
-- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ৫ জুন, ২০১১


সীমাবদ্ধ 
বহু অপূর্ণ আশা প্রত্যাশা জীবনে 
সতত ধেয়ে যায় মায়ার পিছনে 
ভোরের কচি স্বপ্ন ছিল অর্থবিহীন 
বুড়ো খেজুর বৃক্ষ যেন ছায়া ফল হীন,
শ্বাস প্রশ্বাস ও অনেক সময়ে ছিল 
দুভর, অনাগ্রহী সন্ধি দেয় নি অনুমতি, 
ভরতে চেয়ে ছিল মন জ্বলন্ত রেখাচিত্র 
শুন্যের গায়ে আঁকতে ইচ্ছুক
হৃদয়ের তুলিকা অপক্ক বয়সে গেছে 
শুকিয়ে,পড়ে রইলো ক এক খুচরো 
পয়সা, অজ্ঞাত চিত্রকরের সেই 
রহস্যময় খড়ি দিয়ে আঁকা মুখাকৃতির 
পার্শ্বে, হেঁটে গেছে যুগ পুরুষ বহুবার -
ওই গর্তভরা ফুটপাথের বুক মাড়িয়ে !
সেই অন্ধগলির মুহানায় ছিলুম
গা ঢেকে, দেখেছি নিলামের রাত্রি, 
কোলাহলের মাঝে সেই নিঃশব্দ কান্না, 
দুর্বল মাটির হাতের মিনতি ক্রমশঃ 
প্রতিমা গেছে পূর্ণ গ্রাসের মুখে, ঘাটের 
গায়ে ভেসে এসেছিল কিছু নকল অলংকার 
শরৎ সকালে খুঁজে পাই নি তোমার 
হদিস, ফিরে এসেছি ভেজা গন্ধ নিয়ে,
সেই ভাঙা আর্তনাদে জীবনের শিহরণ 
আজ ও হামাগুড়ি দিয়ে চলে,
অবশ্যই বক্ষ স্থলের প্রস্থ ভাগে কিছু 
লোম উঠেছে বহু দিন আগে, কিন্তু কি 
পৌরুষের সীমাবদ্ধতা এখানেই যায় থেমে,
--- শান্তনু সান্যাল