বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১১


  উপরোক্ত অভিমত

নিশ্ছল হাসির তরঙ্গে, কোথায় যেন ব্যথার ঝিলিক !
স্পষ্ট ভেঙে আশেপাশে ছিটকিয়ে পড়ে চলেছে,
ধাতু ঢালাইর মেশিন যেন জীবন, 
স্ফুলিঙ্গের ছোট ছোট কণা,
কিছু ক্ষণ স্ফুরিত হয় 
হারিয়ে গেছে 
অস্তিত্ব,
সেই সমান্তরাল রেখায় স্বপ্নের বপন ছিল কঠিন, তাই 
হৃদয়ের স্পন্দন ও দেহের উষ্মা দিয়ে গড়ে 
চলেছি নান্দনিক সংরচনা, জানি 
তার আকর্ষণের বিন্দু হলো,
বক্ররেখার ইন্দ্রজাল,
ব্যক্তিত্ব এখন 
ঝাঁঝর, 
তার হাসির কণিকায় ভরতে চাই সরাসরি ভাবে 
আঠান্ত উদ্ভাস, অন্তহীন সুরভিত আবর্তের 
প্রসুন, চিরহরিৎ বৃন্তের বুনিয়াদ !
ভালবাসার পলকা ভিত্তি,
দেখি তার দেহের 
উষ্ণ কটিবন্ধীয়
প্রদেশ, করে
অহর্নিশ 
চিত্কার ! শব্দের চিত্রলিপি, বাক্যের রং তুলিকা 
তখন অর্থহীন, ঢালাইর মেশিন এখন 
তার থাবায়, সে গড়তে চায় 
সুপুরুষ, পূর্ণ মানব,
মাংসপেশির 
উপরে 
এখন তার আধিপত্য, দিশাহারা অর্ণবপোত
কিংবা পথ হারানো বিমানের শুন্যে 
দড়াবাজি এখন আমার নিয়তি !
তার এই প্রেম কি বাসনা
মন চায় না ভাবতে,
শুধুই জীবন 
তাকে 
একান্ত ভাবে চায় বুকে টেনে রাখতে, শাশ্বত 
ভালবাসতে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
José M. Melgratti s painting  Eagle Flying




শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১

নিষ্ফল আকাশ 

জীবনের সাধ অপরিমেয়, সীমাহীন তার জগত !
ভালো কথা ! শুনেছি তুমি যে ভালবাসতে 
চাও আমায়, কিংবা মনে মনে ভাব 
জাগিয়ে বসে আছ ঠিক তুলসী 
তলার সেই সান্ধ্য প্রদীপের 
রূপে, জানি না, আসলে 
শ্রবণ  ও অনুভব 
করা এই দুটির 
মধ্যে বিরাট 
ফাঁক ---
কিন্তু ভূমিকা না বেঁধে আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই 
যে স্বপ্নের জাল বোনার আগে দৈহিক -
সম্পদ ছাড়া অনন্ত ব্যথা, দাগের 
ভিতরে দাগের শৃঙ্খলা, নিরুদ্ধ 
আবেগ, অধরা, অন্তহীন
প্রজ্বলন, বুকের মাঝে !
কি তুমি সইতে   
পারবে ?
মাটির প্রদীপ হবার আগে প্রিয় বন্ধু ঝঞ্ঝার সঙ্গে 
কিছু মুহূর্ত কাটিয়ে নিও, তুমি কি পুড়তে
পারবে চন্দ্রবিহীন রাতে আমার সাথে 
শ্বশানের ওই মহাশুন্যের মাঝে,
আত্মলীন নিরবতায়, রাত 
জাগা সুধাময় মুহূর্ত,
তুমি কি চাও 
দেখতে নির্বস্ত্র শরীর, যেমন নবজাতক শিশু 
প্রথম গর্ভের বাহিরে মুক্তির প্রাণবায়ু 
গ্রহণ করে, যেমন হরিণ শাবক 
কম্পিত পায়ে নিজে 
দাঁড়াবার চেষ্টা 
করে, তুমি 
কি সরিয়ে যেতে পারবে সেই নোংরা রক্ত গন্ধিত 
পারদর্শী গর্ভের ঝিল্লি, খুবই কঠিন বুকে 
টেনে রাখা, শিকারীদের ঘ্রাণ শক্তি 
অতি তীব্র, দেখো যদি পারো
বুকের মাঝে লুকিয়ে 
রাখতে অক্ষয়
 প্রেমের 
এই অনন্ত জ্যোতি, আমি জীবন তোমার নামে 
লিখে দিতে পারি, পরিপূর্ণ দেহ ও প্রাণের 
সঙ্গে জন্মজন্মান্তর ধরে --- 

--- শান্তনু সান্যাল 
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১১


রাতের সীমান্তে

মাঘের ওই শিহরণ ভরা রাতে, বন্ধ
জানালার ধারে, মালতি লতার
ঠিক একটু উপরে, নিয়ন
লাইটের নীচে, মার্বল
পাথরের সেই গ্রীক
শৈলীর নারী -
প্রতিমা -
অবাক হয়ে চেয়ে রয়  শলভ ও
পতঙ্গদের বিস্ময়্কারী
আত্মঘাতী ঝাঁক,
ঠিক এমন
সময়
তার  চোখের প্রমত্ত ঢেউ ভাসাতে
চায় দেহ ও প্রাণের স্থিরতা,
ফেলে যায় অদৃশ্য কোন
বিষকন্যার মায়াবী,
ইন্দ্রজালিক -
আলো, তখন আমি আসল মানুষ খুলে
চলেছি একে একে আদর্শ, বিদ্বতার
মুখোশ, উলঙ্গ মাড়িয়ে চলেছি
দর্শনের মোটা মোটা
পৃষ্ঠা, তর্কবিদ্যার
নিগূঢ় পংক্তি,
তার উন্মুক্ত হাসি তে অমৃত ঝরে কি
বিষের বিন্দু ! সে সব জানি না,
সে এখন পূর্ণ প্রস্ফুটিত
শতদল, করে চলেছে
সুধার বিনিময়,
আমার অস্তিত্ব শুধুই এখন কাঠের পুতুল
তার আঙ্গুলের আবেগে জীবনের
আনন্দ উত্সব কিংবা
মহা মারক থাবল,
নিয়তির নিঃশব্দ
ঘড়িতে এখন
বিহান বহু
দূর, নিশীথ রাত যেন উঠে চলেছে মহুয়া গাছে,

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by :
winter night - Leslie White

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১১


 মায়া মুক্ত মানুষ - খুঁজে পাই নি,

এখানে জীবন ! প্রিজম দ্যুতির রং ছড়াতে চায়,
হৃদয়ের নিকটস্থ যেন থেক চিরদিন প্রিয়,
এই সঘন বৃষ্টির রাতে, পরস্পর 
অনিমেষ নেত্রে চাওয়া, 
আবেগের বর্ণালী
মনে হয় 
ছড়াতে চায়  আনক আলোর মিহি কণিকা, -
বর্ষায় জোনাকিদের সর্পিল ব্যালে,
উঠে চলেচ্ছে  আস্তে আস্তে  
কনক চাঁপার মগ 
ডালের উপরে,
বৃষ্টি থামার 
পরে,
জোছনার রঙ্গমঞ্চে এখন সিক্ত সুরে প্রেমের 
বৃন্দগান, ঘাড়ের উপরে তোমার 
অপ্রত্যাশিত চুম্বনের উষ্মা, 
খুলে চলেছে লোম কূপ,
নির্গত করতে চায় 
লুপ্ত সৌরভ 
ভরতে 
চায় জীবনের হারানো মাধুর্য্য, উল্লাসের 
ফিরে আসা, যেমন তথাগত ফিরে 
আসে দীর্ঘ উপসোনের পরে,
নিজের গেহে, কঙ্কালের  
দেহে সে দাঁড়িয়ে 
মুখ্য দ্বারে, 
প্রেমের 
কি এখানে অন্ত অথবা নব রূপে পুনর্জাগরণ !

--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১


অন্তঃ করণ 

আছে অনেক বান্ধ্য ভূমি, অর্ধ বিকশিত জীবন !
বহু ঝুলন্ত ঘুড়ি বাবলা গাছের শাখায়, 
আমাদের সম্পর্ক হয় ত ছিল মাত্র 
সাময়িক, সম্ভবতঃ যাকে 
অনুভব করা যায় 
কিন্তু দেখাটা 
মুশকিল, 
দেহের বাহিরে বেরিয়ে ভাবনা হারিয়ে না যায়,
জীবন এখন ও অজ্ঞাত, অনেক কিছু 
জানা বাকি, অনুভব করা ও
অশেষ,তুমি সেই গন্তব্য
 যেখানে আওয়াজ  
পৌঁছিয়ে ফিরে 
আসে যেন 
সই করে,
মন চায় সজল মেঘের অণু হতে, ওই বিবর্ণ 
পাপড়িদের সঙ্গে আছে পুরাতন সন্ধি,
প্রতিবদ্ধতা, সংবেদনার অনুবন্ধ,
মানবিক চুক্তি, আমি চাই না, 
এই প্রেমের সন্ধি বিগ্রহ, 
এটা সত্য যে এখনো 
নিঃশ্বাসের ঢেউ 
ওঠে অধীর 
ভাবে 
জানি না কার জন্যে, কিন্তু এটা ও জরুরি নয় 
কি সেই লোক তুমি, সম্মুখের এই দর্পণ,
চেয়ে থাকে এক দৃষ্ট, দিবা নিশি, সে 
পর নয় আমার অন্তঃকরণ, পদে 
প্রতি পদে করে যায় আমায়,
আবরণ বিহীন, ছুঁয়ে 
যায় মনের তল 
প্রদেশ - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Acacia Tree Fine Art Print - Michael Vigliotti
নির্বিকল্প বিন্দু 

জীবনের দিনলিপি আবদ্ধ রয়েছে কিছু সিক্ত 
পৃষ্ঠা, সাবধানে হাত দিও মনের জগতে,
এই মাত্র শিখেছি আমি হাসতে, কিছু 
ক্ষণ থাকুক স্বপ্নের ঢুল, নিশিপুষ্প 
ফুটুক পরিপূর্ণ ভাবে, সবে 
সংজ্ঞাহীন ভাবনারা 
শিখেছে দাঁড়াতে, 
ভাববিলাসী 
সাঁঝে, 
মন চায় হতে রুপান্তরিত, তোমার শর্তে !
দেহ ও প্রাণ ছাড়িয়ে এখানে মন 
চায় যেতে সুদূরে, প্রেমের 
সেই নির্বিকল্প বিন্দু,
উপরোক্ত -
অমরতা,
চিরশান্তির ধরাতলে,নতুন জীবনের আশায় !

--- শান্তনু সান্যাল 
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 



জানি না, তার মনের জলদর্পণ 

মেঘলা দিনের আবছা সকাল, প্লেট ফর্মে 
এই গনা ক এক মানুষ, কিছু ফুলের 
বস্তা ওয়ালা, কিছু পানের চাষি,  
ছোট হল্ট, ও স্টেশানের  
এক প্রান্তে, গায়ে ডুরে 
কাটা শাড়ি তে 
তুমি দাঁড়িয়ে,
হাওয়ায়
শীতের স্পর্শ, যেন ফিরে যাবার তাড়ায় 
কেউ ভুলে গেছে তুলে রাখতে 
খোলা আতরদানী, বসন্তের 
গন্ধ বয়ে চলেছে শিমুল 
পাড়ায়, জলাভূমির 
কিনারা গুটিয়ে 
চলেছে 
নিজের সাম্রাজ্য, জানতে খুব ইচ্ছে ছিল যে সে 
দিন কোন ভাবনায় ছিলে হারায়ে, ঠিক 
তখন অতি তীব্র গামী ট্রেন, হঠাত 
স্টেশানের সম্পূর্ণ চত্বর 
কাঁপিয়ে নিমেষে 
অদৃশ্য হয়ে 
গেল, 
বাঁশ সেগুনের বন পেরিয়ে বহুদূর, তুমি 
তখন ও স্থির, কাঁধে ঝুলানো 
কাপড়ের থলি, দেখি 
চেয়ে আছ দূর 
দিগন্ত রেখা,
যেখানে 
দুই রেললাইন মিলিত হবার ভান করে, 
এই ভাবতে ভাবতে, কিছু ক্ষনেই 
কত ট্রেন গুলো পার হয়ে
 গেছে, ক্রমশঃ ভিড় 
বেড়ে চলেছে, 
তুমি মুখ 
গুজে বসে আছ বেঞ্চের এক কোণে, একাকী   
 কিছু অন্তরে যখন আমি গিয়ে 
বসলাম, তুমি টের ও পাও 
নি, ফিরে চাওয়া ত 
দুরের কথা,  
আঁচল মুখে রেখে তুমি সমানে চাপা কান্নায় 
তখন ব্যস্ত, তোমার স্পন্দনের 
আওয়াজ সে দিন স্পষ্ট 
শুনতে পেয়েছি, 
কিছু নিরব 
মুহুর্তের
পরে, আমি শুন্যতা ভাঙলাম , এই কি আপনি 
যান নি, কত লোকাল গুলো ত বেরিয়ে 
গেছে, সে পিছনে ফিরে, জলভরা 
চোখে উত্তর দিল -যার আসার 
কথা ছিল সেই যখন এলো 
না, এই শুন্য পথে যাই 
কোথায় ! আপনি ?
তার প্রশ্নের 
পূর্বেই 
জবাব যেন যেন ছিল তৈরী, অন্তরে অন্তরে 
ওই রকমই আমার কাহিনী, যার 
আমায় চাওয়ার কথা ছিল 
সে এক বার ও চেয়ে 
দেখি নি, শুধুই 
সে রয়েছে 
নিমগ্ন !
আকাশ, মেঘ, পুষ্পবীথি, ট্রেনের আসা যাওয়ার  পথে,
তার স্বপ্নের জগতে আমি সহযাত্রী হবার 
চেষ্টা করলাম কিন্তু  হতে পারিনি,
জানি না কোনো দিন তার 
চোখে আমার বিম্ব 
ভাসবে ও কি 
না, 
-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/