শনিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১২


জলতলস্থিত মায়াবী রাত

স্বপ্ন ও প্রকৃতপক্ষের অন্তর জানতে খুবই ইচ্ছে 
ছিল, তাই অপূর্ণাঙ্গ রাতে পরীক্ষামূলক 
ভাবনারা করে গেছে বিদ্রোহ, 
বহু দিনের সম্পর্ক থাকা 
সত্তেও, ভালবাসা টা
ঝুলন্ত সেতুর 
ছায়ার 
বাইরে, বেরিয়ে আসতে প্রায়ঃ এক যুগ নিল - - 
সেই স্বপ্ন থেকে বাস্তবিকতায় পৌঁছবার 
পথে, কত যে নদী, উপত্যকা, খাদ 
আগ্নেয়গিরি, ভুমিকম্পিত 
ফাটল, বিক্ষিপ্ত ঝঞ্ঝা, 
ছিল জানি না
কিন্তু তার 
সরাসরি ভাবে সমাজ, সম্প্রদায়, ধর্ম কর্ম 
সব কিছু কে পরিত্যাগ করে, অগ্নি -
পথে হেঁটে যাওয়ার অঙ্গীকার !
সুপ্ত পুরুষত্ব কে আমূল 
ভাবে জাগিয়ে গেছে, 
সে ধরণীর মত
তখন চেয়ে 
আছে,
অনাবৃত আকাশের কালো মেঘের উন্নত 
মাংসপেশির স্ফীতি, উন্মুক্ত বুকের 
আগুন চায় মহাপ্লাবনের বৃষ্টি, 
দেহ ও প্রাণের মাঝে এখন 
গুপ্ত মন্ত্রণা, প্রলয়ের 
অশনি সঙ্কেত,
স্বপ্নভঙ্গের 
পরে  সে জড়িয়ে রয়েছে অকাট্য ভাবে বুক 
হতে কটিবন্ধীয় প্রদেশে, মেঘেরা 
পৃথিবীর অনেক কাছে এসে 
বাস্তবিক সহস্ত্র গহ্বর, 
অসমতল ভূভাগ,
মরুভূমির 
উত্তাপ,
পর্যবেক্ষণ করে মেঘ বিস্ফোরণের পথে 
অগ্রগামী, পূর্ণ আবেগী বর্ষণের 
সম্ভাবনা, নিশীথ রাতে
একটানা অঝর 
বৃষ্টি - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/






শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১২


অপরাহ্নের অলস রোদ

বারান্দার ঝুলন্ত লালসাদা কাগজফুলের গাছ, 
আজ ও মনের দুয়ারে জাগিয়ে রাখে 
বিকেলের শেষ আলো, কিছু 
নিপতিত জীর্ণ পাতা 
অদ্ভুত শব্দে সরে 
যায় মেঝের 
সীমান্তে, 
যেন বায়ুর রূপে বর্তমান ঠেলে চলেছে অতীত, 
সেই সমাপিত কালের মেঘলা সাঁঝে, 
গর্বিত হৃদয় হারিয়ে ছিল, দেহ 
ও প্রাণ, অনপেখিত, হঠাৎ
জীবনে অন্তনিবেশ,
তার বিক্ষিপ্ত 
ভাবে 
টানা বুকে পরিপূর্ণতার সঙ্গে সমর্পণের আবেগ,
ভালো লেগে ছিল, যদিও সেই শীতের 
সাঁঝে অনিশ্চয়তার সাথে এগিয়ে 
যাওয়াটা ছিল পুরোপুরি তার 
সিদ্ধান্ত, কিন্তু মন সে দিন 
হয় উঠেছিল বন্য পশু,
কিছু ক্ষণের জন্যই 
হয় ত বিবেক 
গিয়েছিল 
হারায়ে, শঙ্খ ধ্বনির সঙ্গে যখন আলিঙ্গনের 
জড়তা ভাঙলো, তখন রাস্তার আলো
ঝলমলিয়ে আঁধার গিলে চলেছে, 
সেই আবছায়ায় জীবনের 
আবরণহীন মুহূর্তগুলো 
রইলো ঝরা পাতার 
রূপে, মধুমাসের 
ফিরে আসার 
আশায় !
নদীর পার্শ্বরেখা চির দিন যায় না সমান্তরালে !
এখন এই প্রান্তে রয়েছে স্মৃতির বালুচর,
ওই কুলে হয় ত ফুটে রয়েছে কদম্ব 
ফুল, কিন্তু দুই কুলের বুকে 
আছে লিপিবদ্ধ ভাঙা
গড়ার কাহিনী , 
দেয়া নেয়ার 
সংবিদা !

-- শান্তনু সান্যাল
memory balcony 

প্রতিবিধান

এই ভাবে অনেক কাছে রয়ে, বহিরাগত আচরণ !
পাশ ফিরে শুন্যে চাওয়া, চাই নি এমন  নিরুপায় 
ভালবাসা, সজল আঁখি পাতের অঞ্চলে তাই 
রাখতে চেয়েছিলাম  বাষ্পিত ওষ্ঠখানি,
যদি অধরের উষ্মা চুষে নিত মনের 
পুরাতন বেদনা, হয় ত অসময়ে 
ঝরে যেত না সদ্য মুকুলিত 
ভাবনার কুঞ্জ গলি,
অথচ মনের খুব 
কাছে টেনে 
রেখে 
ছিলাম তাকে, জানি না  কোথায় কোন বিন্দু 
বিসর্গ খসে পড়েছে জীবনের বর্ণ মালা 
হতে, ভুল বানানগুলো শুধায় 
অহর্নিশ বিফলতা, ভিড়ে 
পিছিয়ে যাওয়া,
নির্জীব 
দেহের আত্ম খনন, মনের উপগ্রহে যখন 
নীহারিকার বিস্ফোরণ, তার 
অতৃপ্ত বাসনা  জেগে উঠে 
বহু গ্রন্থীময়, বহু 
কোণে, মাঝ 
রাতে 
জীবন ঝরে যায় প্রাক বর্ষার এক পশলা 
বৃষ্টি, কিন্তু তার অন্তরস্থ বহ্নিশিখা 
ছুঁতে চায় দেহ ও প্রানের 
গভীরতা, তার 
অতীতের 
ব্যথার জন্য জীবন নিজেই এখন প্রতিবিধান,

-- শান্তনু সান্যাল 
moonlit valley by Armand Cabrera

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১২


বন্ধক 

অল্প সময়ের পরিচয়, যুগের ঘনিষ্টতা ! সম্ভব 
ছিল না, তাই শুধালাম এই ভাবে
জীবনের বিসর্জন, অবাক 
করে সে তাকিয়ে 
রইলো কিছু 
ক্ষণ, 
আমায় ও অপর পার্শ্বের মেঘ বিহীন আকাশ !
তখন বিকেলের ফেকাশে আলো তার 
অর্ধ মুখমণ্ডলে খুঁজে চলেছে কিছু 
মুহুর্তের আস্তানা, বিসর্জন !
কিসের, কিছু নিজস্ব 
থাকলে ত,আহত 
সারসের ভাঙা
পালক,
তার ব্যথিত উত্তরে ভেসে উড়ে চলেছে, জানি 
না কোথায়, নিষিক্ত নিঃশ্বাসের স্পর্শের 
অনুভূতি ভিজিয়ে গেছে অন্তর, 
নির্বাক চেয়ে রইলাম আমি,
বন্ধক জীবন অনেক 
সময় বিচ্ছিন্ন 
পড়ে থাকে 
একান্তে,
কেউ মনে রাখে না ফিরিয়ে আনতে তাকে, 
ভোরের আলোর সঙ্গী, কোনো জরুরি 
নয় পথ চেয়ে রবে, নিঝুম সাঁঝে !
এই সকাল ও সন্ধ্যার মধ্যে 
কত যুগ যায় গড়িয়ে, 
কত জন যে, তা 
মনে রাখে,
ভাবতে চায় না মন, সংক্ষিপ্ত জীবন ও দীর্ঘ 
বন্ধকীয় ভালবাসা - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




তখন মুক্ত হতে চায় না মন - -

দমকা হাওয়ার শিহরণে, সাগরমুখী জানালা 
খুলে গেছে নিজে নিজেই, খুব দূরে নয়,
চেয়ে আছি নীল সাগরের সেই 
উত্তাপ দেহে, জোছনার 
উন্মুক্ত ভাবে
 নেমে  
আসা, বেলোর্মির আসক্তিভরা  প্রাচীন খেলা !
প্রেম ও রোমাঞ্চপূর্ণ, মিহি সুরে তার 
আবেগময় গুঞ্জন, ফিরিয়ে 
আনতে চায় যাযাবর  
ভালবাসা, পোষ
মানানোর 
প্রক্রিয়া চলে সারা রাত, সে এখন রিং মাস্টার ! 
আগ্নেয় বাণ দিয়ে এঁকেছে অভিলাষের 
বৃত্ত, তার একাধিপত্য এখন 
নিরঙ্কুশ, ক্রমশঃ চরম 
বিন্দুর নিকটতম,
 হিংস ভাবনারা, অস্থি, মাংস পেশী, মজ্জা, স্নায়ু 
ছাড়িয়ে উঠে চলেছে মস্তিষ্ককোষে, তার 
নয়নের চাবুকে সম্মোহিত পুরুষত্ব,
যেন নিরীহ শিশু, আস্তে আস্তে
পূর্ণ ব্যক্তিত্ব যান্ত্রিক ভাবে 
এখন তার নিয়ন্ত্রণে,
শিরায় শিরায়,
দংশ করে গেছে ইন্দ্রজালিক সুধা, বিচিত্র 
সরীসৃপে তার রূপান্তর, মুগ্ধ করে 
রাখে  জীবনের ঊষর ভূভাগ,
তাই মন চায় স্বপ্ন দেখতে, 
কবিতা লিখতে, 
জলরং ছবি 
আঁকতে !
তার প্রভাবে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১২


পুনরায় সেই বিন্দু 

জীবনের সেই সন্ধিক্ষণে তুমি ছিলে অপেক্ষক কার 
জন্যে, সেটা মন চায় না জানতে, কুসুমিত 
প্রণত শাখায় হাত দিলেই, হয় ত ঝরে
যাবে, অবিকশিত স্বপ্নের লাজুক 
কুঁড়ি, শুধুই মনে আছে 
সেই প্রথম মিলনের 
দিন,  জিজ্ঞাসু 
চোখের 
কিছু 
অপ্রকাশিত কবিতা গুচ্ছ, ক্ষণিক আবেগের 
স্থিরতা, হারানো প্রাপ্তির মাঝের খুশি, 
উদ্বেলিত নিরবতার শব্দ ফিরে 
পাওয়া, নিশিগন্ধা -কন্দের 
ভেজা মাটির ভিতরে  
অধীরতা, হঠাৎ
জীবন 
সেই মুহুর্তে চেয়ে ছিল ছুঁতে উড়ন্ত রুপালি মেঘ !
জানি না কত দূর সেই বাঁকটি গেছে সরে 
এখন কি তুমি নিরাপদ এখন কি 
আমি হেঁটে চলেছি উপত্যকার 
প্রান্তে, খালি পা স্ফটিক 
শিলার কন্টকে, কে 
জানে, আবার 
হয় ত ফিরে 
এসেছি 
সেই বিন্দুর উপরে যেখানে এক দিন হারিয়ে
 গেছে জীবনের অমূল্য কিছু - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - valley - Kathryn Joseph 






আধিপত্য 

হৃদয়ের মৌন আন্দোলন, উঠে নেমে, বহে 
গেছে স্বপ্ন নদীর অস্থির জলতরঙ্গে,
অনেক কিছু বলার বাসনা 
নিয়ে সান্ধ্য তারক 
থেমে ছিল 
কিছু 
ক্ষণ পশ্চিমস্থ গগনে, দ্বার খুলতে হয় ত 
বিলম্ব হলো, মান করে ফিরে গেছে,
নিশি পুষ্পে গন্ধিত নিরীহ, ভীরু 
ভালবাসা, খুবই যত্নে রেখে -
ছিলাম তার তিন শব্দের 
চিঠিখানি, অথবা 
অপূর্ণ কবিতার 
প্রারব্ধ !
অস্বীকৃতি তে তার ছিল লুকানো মধুর 
অভিমান, ডুবন্ত সেই  তারকার 
নিস্তেজ আলোর রূপে, সে 
দেখি ক্রমশঃ গেছে 
 হারিয়ে 
নীলিমার জগতে, শুন্যে অন্যমনস্ক ভাবে 
চেয়ে সে জানিয়ে গেছে তার 
উদাসীনতা, অনভিজ্ঞতা,
অভিনয়ের বাজি, 
প্রলোভনের 
সূত্রপাত,
 জানি 
না ফেলে গেছে স্বপ্নের ভিতরে স্বপ্নের জাল, 
সে অবিরাম ধরে আছে মায়াবী 
রাতের যবনিকার রেশমি 
দড়ি, আমি শুধুই এই 
মুহুর্তে কাঠের 
পুতুল,
যেন সহস্ত্র  শতাব্দী ধরে পড়ে আছি তার আঙ্গুলের 
ডগায়, খেলে চলেছি তার দেহের কম্পনে,
জীবনের এই প্রদর্শনী - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
PAINTING  BY ANAND GOPAL ROY