শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১


ভাবিকথন 
দাবি ত কিছুই ছিল না তবে কেন এই 
তুমুল কোলাহল, জানতে চেয়েছি শুধুই 
জীবনের মূল্য, সত্যের অর্থোদ্ধার,যারা 
পরে আছে জয়্মুকুট,সিংহাসনে আসীন
মুখমণ্ডলে দীপ্তিময় আভা, নত জানু -
আছে কেন নিয়তির চরণে, নিরুপায় !
সত্য, প্রকাশ ও অমরত্ব প্রাপ্তির পথে -
আঁধার যদি নেমে আসে, আশ্চর্য্যর কি
বুঝে উঠি না,ওই বিজয় পতাকায় যদি 
রুধিরে লিখে থাকো জয়লাভ গাথা,
ইতিহাসে হয় ত মহান,গর্বিত যোদ্ধার
ভূমিকায় তুমি শ্রেষ্ঠ, কিন্তু নিজের 
নীতিবোধে ক্রমশঃ সশস্ত্র পরাজিত,এক 
অসহায় প্রাণী মাত্র, দুর্বল, জীর্ণ শীর্ণ 
মানুষের দেহের সেই ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন
নামিয়ে আনবে তোমায় মৃত্য লোকে 
স্বর্গের সাম্রাজ্য চায় গণনা, হিসেব, সৎ
কুরু বংশীয় মহাসভায় হয় ত তুমি 
ঋণমুক্ত, মৃত্যুর প্রাঙ্গনে কিন্তু আসক্ত !
সোপানের সহস্ত্র হাত এবং তোমার এক 
মাত্র গ্রীবা, এখানেই পরাক্রমের অন্ত,
ময়ুর সিংহাসন উড়ে যাবে সে দিন শুন্যে !
--- শান্তনু সান্যাল 
 

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১


বসে আছি একাকী 

সেই অনন্তকালের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বর্তন
প্রাণ ভরে ভালবাসতে গিয়ে দেখি -
সীসেরাঙা আকাশে কোথাও এক খণ্ড
বর্ষামুখর মেঘের হদিস নাই, অগ্রবর্তী
পদক্ষেপে গেছি মাড়িয়ে সমস্ত বিষন্নতা,
পাথর ভাঙনের শব্দ, ইঁট, সিমেন্টের
গন্ধে, ভুলে গেছি শ্রাবণের আদ্র,মিষ্টি
অনুভূতি,এখানেই ছিল হয় ত ছড়ানো
শৈশবের গল্প, কাহিনী, অনাম পুষ্পের
মাদকতা, ওই চার রাস্তার মোড়ে কে
যেন, চেয়ে থাকে উদাসীন মুখে আমায়,
খুঁজে বেড়াই চোরা গলি, মুখোমুখির -
আতঙ্কে রাত, বৈধব্য সাজ নিয়ে বসে রয়
পার্কের নিরালায়, একাকী কথা বলে -
নিজের সঙ্গে, গোনা কএক গাছের ছায়া,
খেলে অদৃশ্য শিশুর দল, সিঁড়ির উপরে পা
পিছলিয়ে পড়ে বারে বারে, সেই উঠে -
যাওয়ার সংকল্প ঘুমোতে দেয় না কোনো
ভাবে, খুঁজি অনবরত তোমার প্রেম, চাঁদ
উন্মুক্ত হাসি ভরা বিহান গাছের ফাঁকে !
এই বৃহৎ যামিনী চেয়ে ও দৃঢ়মুষ্টির স্বপ্ন 
 ভাঙতে পারে না, ভিড়ের মাঝে অবিরাম
আমি খুঁজে চলি তোমার হারানো ভালবাসা,

-- শান্তনু সান্যাল 



সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১১


গুপ্ত স্রোত

জানি ভালই ভাবে, আমার সীমা -
গণ্ডির প্রজ্বলক পাথর অচেনা নয়,
খালি পায়ে হেঁটেছি বহু বার, ওই
ছাই ভরা অরণ্যে যদি খুঁজো কোন
দিন এখনো আছে জ্বলন্ত পদ চিহ্ন,
হয় ত তুমি বুঝতে পারো নি কিংবা
বোঝার চেষ্টা কর নি, তাই চেয়ে -
আছো অমন অপলক এক দৃষ্ট চোখে,
বোধ হয় তোমার অথাহ প্রেম -
শুধুই কল্পনার তরঙ্গে ভেসে উঠতে
চায়, খেলে যাও তুমি লহরে সেই
শৈশবের খেলা,আপন মনে ভিজে -
উঠ,কভু ফেলে যাও জল স্বপ্নের দেহে,
এক মুঠো জোছনার বিনিময়ে আমি
দিতে চেয়েছি তোমায় সারাটা জীবন,
কিন্তু কোথায় যেন কার্পণ্য বাধা -
দিতে চায়, চোখের পাতায় ঢেকে
রাখো তুমি রজতনিভ গুপ্ত ভালবাসা !

-- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১১


জীবনের উত্স 
অভিশপ্ত গুহার মুখে লেখা ছিল প্রবেশ -
নিষিদ্ধ, ছেঁড়া মাকড়সার জালে দেখেছি 
ঝুলন্ত জীবন, জানি না কোথায় হতে 
দুঃসাহস,বুকের পাঁজরে ভরে গেছে বেঁচে 
থাকার মহামন্ত্র, এগিয়ে চলেছি সহজে -
আঁধার পেরিয়ে গোপন গহ্বরের ভিতরে !
আজন্ম হৃদয়একগুঁয়ে শুনে না কোনো 
তর্ক বিতর্ক,মানে না কোনো ভাবিকথন,
তারা বলেছে এই পথে নাকি শুধুই বিষ - 
বৃক্ষ,পরাশ্রয়ী বন্য লতা, ভুজঙ্গের দংশ !
কাহিনী ও বাস্তবিক চরিত্রে মাঝে ছিল 
বৃহৎ গভীর খাদ, আমি খুঁজতে চেয়েছি 
সত্যের রশ্মি পুঞ্জ, জানি না কোথায় আছে 
তোমার সুজন সমাধিস্থ কি জাগ্রত, যদি 
পাই দেখা, জিজ্ঞাসার অর্ঘ্য দেবো পায়ে,
জানতে চাইব মানব রক্তের ধর্ম, জাতি !
যদি অতৃপ্ত রয়ে যায় আত্ম পিপাসা,সরিয়ে 
ফিরব সমস্ত দর্শনের জাল, লিখে আসব 
গুহার মুখে এখানেই জীবনের উত্স !
-- শান্তনু সান্যাল 

শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১

অন্ততঃ

অন্ততঃ যুযুত্সু হয় উঠেছি আমি -
ধর্ম অধর্মের পরিভাষা তারা বুঝিয়ে
গেছে তাদের দুর্বোধ্য ভাষায়, হেলানো
মাথায় স্বীকার করে গেছি সর্ব শর্ত,
একাকী যোদ্ধার ভূমিকা সহজ ছিল কি,
বংশ রক্ষার মোহে হয়েছি সহ চক্ষু -
ধৃতরাষ্ট্র, অনন্য পথ খুঁজে পাই নি তাই,
সৎ অসতের দ্বন্দে জীবনের এই
বলিদান,তারা বলে ছিল ফিরিয়ে দেবে
সমস্ত কিছু,বাস ভূমি,অতীতের স্বর্ণিম -
যুগ,সকাল সাঁঝে সমানে দাড়িয়ে রই
হাতে নিয়ে পরিচয় পত্র, তবু তো তারা
বিশ্বাস করে না যে আমি আস্ত জীবিত !
আরশির মুখোমুখি খুঁজেছি হারানো
ঠিকানা, দিতে চেয়েছি বারংবার প্রমাণ,
মহাভারতের সকল পাত্র দেখি বেশ  
মজায় আছে,আধুনিক অট্টালিকায় বসে
অতীতের ছদ্ম ঘটনার গল্প করে -
আমি চেয়ে থাকি অস্তাচলের সূর্য্য,বুকে
নিয়ে অনন্ত কালের আঁধার, সৎপথের
পরিনিতি বয়ে চলেছি নিয়ে কাঁধে -
জানি না এই কোন নগর, কোন পথ, কি
ভাবে জানব বল, আমি যে পুরাতন
এক মিথক, কল্পিত কাহিনী, অস্তিত্বহীন !
তারা খোঁটা দেয়, অট্টহাসে বলে, ওই
যে পাগলা যিশু খুঁড়ে চলেছে অবিরাম,
পিছনের  অবোধ বাচ্চাদের দল হয়
ত কিছুই ক্ষণেই হয় উঠবে -
 রোমান যোদ্ধা, অলিন্দের বহু জানা
মুখ,অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে দেখার জন্য
সে অভূতপূর্ব দৃশ্য --
--- শান্তনু সান্যাল

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১


ঘাটের সরু পথ 
নির্বিশেষে পরাজয় আত্মসাত করা
সহজ ছিল না, অনেক সময় উপায় 
খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন, দুষ্কর -
তবু ও বাঁচতে গেলে অনিচ্ছায়ে মন 
বহু বার করে যায় আত্ম - সমর্পণ,
এখানেই জীবন নৌকার মাস্তুল যায় 
কেঁপে, কিন্তু হৃদয়ের মাঝি কোনো 
ভাবেই হার মানতে হয় না রাজি, সে 
বেয়ে যেতে চায় মুহানামুখী জলপথে,
এক  দৃষ্ট একাগ্র চিত্তে খেলে যায় -
নিয়তির খেলা,তরঙ্গের চক্রব্যুহ রচে 
মায়াবী জগত, করে ক্ষনিক বিভ্রান্ত !
অস্থায়ী মেঘেরা শেষে উড়ে যায় দূর 
অজানা দেশে, চাঁদ উঠে আসে মৌন -
শান্ত রূপে, সাজে অম্বর আবার পূর্ণ 
লাবন্যে, কার নয়নের কাজলে রাত 
এঁকে যায় স্বপ্নের কাহিনী, জোছনার 
স্পর্শ বেঁধে রাখে মন তোমার প্রেমে, 
তীরের জোনাকি হয় উঠে উজ্জ্বল - 
উড়ে যায় সকালের ডাকে বহু দূর,
ঘাটের সরু পথে ঝরে বকুল শেষে !
-- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১


অমূর্ত ভালবাসা 
বিস্মিত করে যায় লেলিহান শিখা 
বন্য আগুন সম তোমার ভালবাসা 
দাউ দাউ করে জ্বলে চলেছে, সমস্ত 
আবেগের বাঁস বন, মেঘ বরণী -
ধুম্র বলয়  উঠে  যায়  নভ মণ্ডলে,
মধুর নিঃশ্বাসে জেগে রয়  অজস্র 
নিশীথ পুষ্পের গন্ধে মাখা পরাগ -
কণিকা, উড়ে যায় স্বপ্নের পতঙ্গ 
সারি সারি, উত্সর্গের বেদিকায়ে,
আজ প্রণয়ের মহা সম্মেলন, ঝরে 
চলেছে তারকের নীলাভ আলো - 
বিন্দু বিন্দু পদ্ম পল্লবে, ভাবনার 
শিশু খেলে শিশির ভেজা হৃদয়ে,
আপনমনে গান গেয়ে যায় ওই নীল 
দীঘি, পৃথিবী অবাক চেয়ে আছে 
দুই অমূর্ত আত্মার মিলনের দৃশ্য !
-- শান্তনু সান্যাল