শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

চিরন্তন ধাঁধা - -

অবশ্যই, আজও মনের জানালা, উন্মুক্ত খুলে
আছে ঠিক দিগন্তের অভিমুখ, জানি না
আজও কি তুমি ভেসে যাও, ওই
উত্তাল সাগরের বুক ছুঁয়ে।
অবশ্যই বহু দিন হল
আমি শুনে নি
কড়া
নাড়ার শব্দ, জলজ পাখিদের ঝাঁক যথারীতি
উড়ে যায় দক্ষিণা আকাশে, বহুদূর - -
জানি না কোন দেশের তারা
যাত্রী, কিংবা রীতিমতো
যাযাবর, ভালই
লাগে
জানলার বাইরের জগৎ, উড়াল পুলের উপরে
উড়ো জাহাজ, আর কিছু টুকরো সাদা -
মেঘ, কিন্তু আকাশটা বড়ই যেন
ধূসর, যুগের মরচে মাখা,
শুধুই পুড়ে যাচ্ছে
জানি না
কার
অভিশাপে।সময়ের ছানি, সন্ধ্যার অপেক্ষা - -
করে না, অন্ধকার, খুবই কাছের
মানুষ, দরজা না খুলেই ঘরের 
ভেতরে নিঃশব্দে ঢুকে
পড়ে। অবশ্যই
আজও মনে
হয়
কোথায় যেন তরঙ্গিত আছে প্রেমের কূল বিহীন
সরোবর, কাজেই উদ্বেলিত করে যায় মাঝে
মাঝে, অদৃশ্য কপিঞ্জলের চিৎকার - -
আর ভেসে আসে সুদূর হতে
সজল মানসুনি সমীরণ।
ধীরে - ধীরে
নিঃশ্বাসে
আমি
খুঁজে পাই অনেক কিছু, জীবন যথারীতি হয়ে - -
ওঠে তখন প্রতিষেধক, আর ভুলে যেতে
চায় হিসেবে - নিকেশের  চিরন্তন
ধাঁধা - -

* *
- শান্তনু সান্যাল 



রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

নিঃশ্বাসের সমান্তরালে - -

পুনরায় অভিলাষের আরোহণ, সমস্ত
অন্ধকার পেরিয়ে তোমায় ছুঁতে
চায়, উন্মাদিত জোছনার
রূপে। যদিও তুমি
এখনো লুকিয়ে
আছো
মায়ার সুড়ঙ্গে, নির্বাক, অনড় নিজের
মাঝে নিজেই বিলুপ্ত। নৈশ ফুলের
গন্ধে এখন রাত, আনন্দে
যেন আত্মহারা, আর
পার্থিব দেহ পড়ে
আছে স্থির,
ফুলের
বিছানায় একাকী, প্রাণ ছুটে চলেছে - -
তোমার সন্ধানে, পৃথিবী হতে
আকাশ পথে, অবিরাম,
অন্তহীন আলোর
স্রোতে, খুব
সম্ভব - -
শেষ প্রহরের কিছু আগে, তুমি ফিরে
আসবে নিঃশ্বাসের সমান্তরালে।

* *
-  - শান্তনু সান্যাল 



রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গন্ধের ছোঁয়া - -

তোমার সীমাহীন অভিলাষ, আর নিশীথের
একটানা বৃষ্টি, দু জনের মিলন বিন্দুতে
ভেসে ওঠে শেষ রাতের ঘনীভূত
কুয়াশা, কাঁচা হলুদরঙ্গী
সকালের আলো,
জানালার
পারে
খুঁজে চলেছে কিছু অপ্রকাশিত কোণাগুলোর
কাহিনী।আনাচে কানাচে, এখনো ভেসে
আছে খুবই পরিচিত গন্ধ, অবশ্যই
হাসনুহানার সাথে মিলে মিশে,
তারা একাকার, ঝুলন্ত
ওই ফুল ওয়ালা
চাদরে
কোথায় যেন লুকিয়ে আছে সিক্ত ভাবনার
ভাঁজ ! পুরোনো খোলা আতরের শিশি
ও উদলা দেহের মাঝে সম্ভবত
আছে এক মৌন অনুবন্ধ।
গন্ধের ছোঁয়া ভাবটা
থেকেই যায়
অন্তত।
* *
- শান্তনু সান্যাল




শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৬

নিরুদ্দেশ সকাল - -

বেলাশেষের যতটুকু আলো ছিল রেখেছি
বুকের পুরাতন পাঁজরে, কে জানে
কোথায় যে জীবনে, আঁধার
ঘনিয়ে আসে।অবশ্যই
তুমি আবার আজ
স্মরণ করিয়ে
গেছো
কিছু বিলুপ্ত অনুরাগের কাহিনী, নেপথ্যে
আবার শুনি, কার যেন চাপা কান্নার
শব্দ, অঝর বৃষ্টিতে প্রাণ খুলে
জীবন এখন বিদূষকের
ভূমিকায়, নামতে
চায় নিজের
ইচ্ছায়।
তুমিও যায় ফিরে, সবাই যায় ফিরে, এই
ফিরে যাওয়াটাই হলো নগ্ন সত্য,
এখানে নালিশের সংজ্ঞা
নিছক অর্থহীন,
শুধুই জোর
করে
একে অপরে অনিচ্ছায় বেঁধে রাখা, তাই
তুমিও, যতটুকু ভালোবাসা আছে
সামলিয়ে রাখো কিছু নিজের
বুকে একান্ত ভাবে, নিজের
জন্যে, কে জানে কত
যে দীর্ঘ এই ফিরে
আসার পথ,
এখনো
রাত পোহাতে অনেক বাকি, সকালের - -
দূর দূর নেই কোনো হদিশ।

* *
- শান্তনু সান্যাল






রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৬

ভেতরের নিঃসঙ্গতা - -

চলো আজ হেঁটে আসি, শিকলমুক্ত পায়ে।
জনাকীর্ণ শহর হতে বহু দূর যেখানে
পাখিরা বাসা বাঁধে, আকাশটা
ভেসে ওঠে ঝিলের গায়ে।
তোমার মুখচোরা
ওই নিঃশব্দ
আবেগ,
যেন মুখরিত হতে চায় পুনরায়ে।চলো
আজ ভুলে যাই সমস্ত মনের দ্বন্দ্ব,
পাওয়া না পাওয়ার যত সব
হিসেব - নিকেশ, যখন
সব কিছুই এখানে
নিমিষের
খেলা !
তখন কি বা হবে সাজিয়ে অভিলাষের
অফুরন্ত  মেলা।যদিও চারদিকে
ভিড়ের জমাট, তবুও তুমি
কিংবা আমি, নিজের
মাঝে আছি নিজে
খুবই একেলা।

* *
- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

আঁধারের মলাটে - -

ফিরে গেছে অভিহত রাত্রি, যথারীতি আলোর
আঁশ নামিয়ে রাজপথে। নীরবতা ভেঙে
আবার শহর জেগে উঠছে, যেন
সিক্ত কাপড়ে, ঘাটের সিঁড়ি
বেয়ে উঠছে অজানা
কোনো এক
রমণী।
আবার, সব কিছু নিয়মমাফিক, নতুন দিনের
সূচনা, দেহের গন্ধ এখন আনকোরা,
তুলসী বা চন্দনের অনুভূতি।
সকাল যেন এক মহৎ
নদী, দুটি হাত
বাড়িয়ে
মুছে যায় সমস্ত মলিনতা, এখন যে যার মতন
মুক্তপথের যাত্রী, খুলে চলেছে মুখোশ হতে
শিকলের গিঁট, ওই থুত্থুড়ে পুরোহিত
হতে অসময়ের কচি বৈষ্ণবী,
সবাই যেন কাঁচা আলোয়
এখন নিখাদ সোনা।
ভালোবাসা নাকি
মেহেদির
টাটকা পাতা, না পিষলে রং ছড়ায় না কোনো
ভাবে, কিছু গোপনীয় কাহিনী নিত্যদিনের
মতোই থাক আঁধারের মলাটে, কিছু
উজ্জ্বল কিছু নিবিড় ঘোলাটে।
 
* *
- শান্তনু সান্যাল

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

সাক্ষী দিতে কেউ রাজি নয় - -

সে এখনো বহে যায় জ্বলন্ত পৃথিবীর বুকে,
এক অভিশপ্ত নদীর রূপে, যদিও
যুগ - যুগান্তর ধরে, ঝরেছি
আমি  শুধুই তার
অভিলাষে !
উন্মাদিত শ্রাবণের সাথে। তবুও সে যেন
চেয়ে রয় চির পিপাসিত নয়নে, বলে
যায় নিঃশব্দ চাহনির গভীরে,
জন্ম - জন্মান্তরের সেই
লুপ্তপ্রায় কাহিনী,
মেক্সিকোর
ওই ধ্বংসপ্রাপ্ত বেদিমঞ্চ হতে অধুনা ইরাকে,
আমি খুঁজেছি শুধুই তাকে, কখনো
নারীর চোখের করুণা ধারায়,
কখনো তার মৃত দেহে
নিরীহ শিশুর
অন্তহীন
জীবনের সন্ধান, দেখেছি তার কচি মুখের
ক্রমে ক্রমে ঝলসে যাওয়া। ওই মরু -
দেশ হতে ফিরেছি নিজের ভেজা
মাটির দেশে, ওই উঠোন
পেরিয়ে  পুরাতন
ভাঙা দেউলের
খুব কাছে
তুমি ছিলে যথারীতি ছদ্মবেশে, মুখোস  - -
পরিহিত, তাই চিনতে পারি নি বন্ধু,
খুলেছি মনের দ্বার উন্মুক্ত ভাবে,
সেটা অন্য ব্যাপার যে তুমি
আজ সাতসকালে গেছো
গভীর কুপিয়ে
আমারে।
এখন আমি খুঁজছি পাথরের শহরে একাকী
কাঁচ ভাঙনের সাক্ষী।

* *
- শান্তনু  সান্যাল