শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১২


অমত্র্য মানসী 

অন্তিম প্রহরে সে এখন গাঁজন ভরা প্রশান্ত নদী,
জাগরণ ও নিদ্রার মাঝে খুঁজে বিলুপ্ত 
স্বপ্নের উপত্যকা, জীবনের 
খেয়া বহে বিহানমুখী,
তার স্থির প্রেমে 
রয়েছে 
সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডের আবর্তন, শুন্যে ভাসে তার 
আবেগের ঋক্ষ, সহসা বাহুমুক্ত হয়ে 
দেখি সে জড়িয়ে আছে সমগ্র 
আকাশ নিজের দেহে, 
উঠে চলেছে যেন 
অমত্র্য লোকে, 
আমি 
নিরুপায়, থামিয়ে রাখতে চাই তার অস্তিত্ব
নিজের বুকে, কিন্তু তার চাহিদা 
অকল্পনীয়, সে এক মুক্ত 
আকাশগঙ্গার মহা 
আলোক ধারা,
প্রতি ক্ষণে 
চাহে গভীর উদ্ভাসন, অফুরন্ত উপাসনা - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

Oil Painting With Clouds by Marina Petro


শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১২


নিবন্ত মোমবাতি 

শহরের কেন্দ্রে আবার লেগেছে মেলা, মধ্যযুগীন 
নিলামের সেই চাবুকের শব্দে, জীবনের
 ক্লান্ত সন্ধ্যা করে চলেছে নর্তন,
কিছুই ত বদলায় নি 
এখানে, কেবল 
পরিভাষার 
কৌশল, 
বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়দের ভিড়ে খুঁজে পাই নি -
হারানো সুজন, যে হাত বাড়িয়ে কিনে
নিত নিবন্ত প্রদীপ, দর্শকের ওই 
তুমুল কোলাহলের মধ্যে,
কাঙ্গাল প্রেমী শুধুই 
করে গেছে 
আর্তনাদ, 
তার নিরব ক্রন্দন, কালান্তরে বানিয়েছে -
তাকে বিক্ষিপ্ত একজন, সে না কি 
আজ ও বসে থাকে অধুনা 
সিটি মলের মুখ্য দ্বারে, 
চেয়ে রয় 
একদৃষ্ট 
প্রতি আগন্তুকের চেহারা, রাত ও যেন শিশু
হারানো মা, সারাটা ক্ষণ চেয়ে রয় 
শুন্য আকাশে, বুকে নিয়ে এক 
রাশ হিমায়িত দুগ্ধ, তখন 
উড়ন্ত সেতুর উপরে 
স্বপ্ন গুলো যেন 
নগরবধূ 
দাড়িয়ে রয় গ্রাহকের আশায়, দরদী সকাল 
যে খোঁড়া ! চেয়ে ও দৌড় দিতে পারে 
না, তাই কাচের পরিধানে 
ভালবাসা বরণ করে 
নিহন্তা আঁধার,
মৃত্যুর পূর্বে 
রাত, 
অন্তিম ইচ্ছার পূর্তির আড়ালে দিয়ে যায় 
পারদর্শী তরল কি গরল, বুঝতে 
বুঝতে গলে যায় সমগ্র 
মোমবাতি - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
PAINTING BY --  Night Street - Sergei Gordeev 




বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১২


অমর লতার বাঁধনে 

ওই *বহুনিয়া মুকুলিত উপত্যকার খুব কাছে 
বহে যায় মনের পাগল নির্ঝর, প্রবাসী 
প্রজাপতির ঝাঁক, মৌন গুঞ্জন 
করে, উড়ে রয় আপন 
মনে , যেন ভিন্ন
দেশীয় গানের 
স্বরলিপি 
বোঝার চেষ্টায় মন ও প্রাণ, চেয়ে থাকে 
শীতের নীলাকাশে শঙ্খচিল, কখনো 
জলাশয়ে নিজের প্রতিচ্ছায়া, 
কল্পনা ও বাস্তবতার 
মাঝ খানে 
জীবন 
বোনে উপাদেয়, সরু স্বপ্নের রেখা, এই 
বহুরন্ধ্রীয় ধরাতলে প্রেমের অঙ্কুর 
ফুটে রয় নিয়ে আবেগের বিন্দু, 
কিশলয়ে বুকে ঝরে নিশা 
শেষে যেমন করে 
শিশিরের কণা,
তোমার 
ওই নিরব, প্রণত চোখের ছায়া, ঘনিয়ে 
আনে মায়াবী রাত, বুনো পুষ্পের 
গন্ধে ভরে ওঠে তখন 
জীবনের শুন্যতা,
শনৈঃ শনৈঃ 
তার শাকুন্তালিক রূপ ঝরতে চায় বিস্তীর্ণ 
বক্ষস্থলে, তখন দেহে দুষ্য়ান্তিক 
পৌরুষ জেগে উঠে নিয়ে 
যুগের ঘনীভূত এক 
গভীর প্রণয়,
অনন্ত, অবিরাম, চিরন্তন পথের যেন যাত্রী,
ভালবাসা তখন অমর লতা - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
* গুল্ম ফুল জাতীয় ফুল, ঝোপ ফুল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১২



স্রোতের মিলন বিন্দু 

রেশমগুটি ছিল সম্ভবতঃ সেই অনুরাগের সম্ভার 
বুকে নিয়ে সোনালী খেয়াল, উষ্ণ জলের 
ধারায় প্রেম করেছে অগ্নিস্নান, তাই 
মনের শুচিতায়  অমূর্ত প্রিয়ার 
একাধিকার, তার ইঙ্গিতে 
জীবনের খেয়া বহে 
মাঝি বিহীন,
ঘাটের চাতালে শিরীষ শীর্ষে, সাঁঝের আগমন !
অনাম পাখিদের ঝাঁক করে সমবেত
কূজন, স্বপ্নের ভাগাভাগি কিংবা 
মোহাবিষ্টের জৈবিক খেলা,
হয় ত মন্দির চূড়া 
জানে রাতের 
গুপ্ত রহস্য, 
মনের নৌকো বয়ে চলেছে আপন মনে অর্ণবমুখী,
ঘাট ছাড়িয়ে, ভুতের মত তটের ওই  অশ্বত্থ 
গাছের ছায়া ডিঙিয়ে, বহুদূর অজানা 
জোনাকিদের দ্বীপে, মহামিলনের 
সেই উচ্চতম স্রোতে শুনি -
লাগবে, না কি বিরাট 
অদৃশ্য  পাগল 
বাউলদের 
মেলা, শুন্য হাতে, উন্মুক্ত ভাবে জীবনের 
বিনিময় ! প্রেমের পরাকাষ্ঠা - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২


ইন্দ্রজালিক ভালবাসা 

আবার সেই শিকল বাঁধা সাঁঝ, রয়েছে চোখের আগে,
পুনরায় জীবন খুলতে চায় মুক্তির দ্বার, পরবাসে 
চাঁদের জোছনা হয় ত খেলে বেলি নৃত্য, 
আঁধার এখানে পথ চেয়ে আছে, 
নিয়ে রজনীগন্ধার গুচ্ছ 
হাতে, এমন ক্ষণে 
সদর দরজায় 
জানিত  
কড়া নাড়া, চন্দ্রলোকিত গন্ধে তার প্রবেশ, ঘনীভূত
প্রেমের ক্রমশঃ তরলতা দিকে গড়িয়ে যাওয়া, 
অদৃশ্য বাষ্পের বিন্দু বিন্দু নিঃশ্বাসের 
গায়ে আবেশের কবিতা লেখা,
জীবনের পথে এই সন্ধি 
ক্ষণে, হঠাৎ লুপ্ত -
প্রায় জল 
স্রোতের অপ্রত্যাশিত রূপে, প্রতীয়মান হওয়া, দেহ 
ও প্রাণে অপবর্গের ছোঁয়া, পরিবেশে তার 
গভীর প্রণয়ের পরাগ কণিকার
ছড়িয়ে পড়া, স্বপ্নের 
মোহিনী রাতের 
তন্দ্রাময় 
নিশুতি ডাক,ঘনিয়ে আনে ইন্দ্রজালিক ভালবাসা !

-- শান্তনু সান্যাল
Painting by Tony Rodriguez 

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২


প্রসারিত কম্পিত হাত 

তার দাবি, নিজের জায়গায়, বোধ হয় ঠিকই ছিল, 
আমার অঙ্গীকারে, আবেশের উদাসীনতা 
কিংবা ভীরু প্রেমের উপাদান ছিল 
কিছু অধিক, তাই সে খেলেছে 
প্রবঞ্চনার খেলা, কিন্তু 
কোথায় যেন 
তার ওই 
সীমা রেখা পার করাটা ছিল বিপজ্জনক, ইচ্ছে করে 
করুণানিধনের পথে যেন হেঁটে যাওয়া, রক্তের 
স্বাদ কালান্তরে তাকে বানিয়ে  ফেলেছে
হাঙ্গর, দিবা নিশির সন্ধান কিংবা 
মৃগতৃষ্ণা, অতিরিক্ত পাবার 
সাধ, মনের প্রান্তর করে 
গেছে নির্জন মরু 
প্রান্তর !
সুতরাং দেহ ও মনের সমাস বিগ্রহ ঘটেছে বহু বার, 
তার স্বপ্নের উপগ্রহে আমার দখল ছিল শুন্য, 
বুকে জড়িয়ে থাকার সত্তেও, সে ছিল 
মাত্র পরিকীয় ভালবাসা, কিন্তু 
পাগল পিপাসার অন্তে দেখি 
সে বসে রয়েছে একাকী 
রক্ত ক্ষরিত মন ও 
প্রাণ নিয়ে, 
নিবিড় নিশীথে, দুই কম্পিত হাত বাড়িয়ে চায় 
বিঘটিত ভালবাসা - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
paintings by Victor Bauer




দেশান্তর 

এত সহজ ছিল না জীবনের দেশান্তর, *গুরমেটি ও 
*মারা নদীর কুমির ছিল তাদের নিজের 
অদৃশ্য গহ্বরে, সহ পান্থের ছিল হয় 
ত নিজের পূর্বিতা, তাই ঝাঁপ 
দেবার আগেই ছাড়িয়ে 
নিল নিজের কোমল
হাত খানি, ভুল 
বলে এখানে 
কিছুই 
নাই, ভালবাসার ব্যথা নয় শেষ গন্তব্য, অনেক 
আপন গড়া থাকে কাল্পনিক কিংবা 
বাস্তবিক চতুঃসীমা, গণ্ডির
বাইরে পা দেওয়া খুবই 
মুশকিল, তাই ত 
নিয়তির 
হাতে 
সঁপে ভবিষ্যতের পরিণতি, একাকী পাড়ি দেওয়া,
তাদের প্রেমে ছিল কত যে সান্দ্রতা, প্রায়ঃ
মন ভাবে নিয়ে আহত দেহ, ক্লান্ত, 
বাবলা গাছের নীচে, কেউ 
কারোর জন্যে অপেক্ষা 
করে না, যারা ছিল 
একদিন প্রাণের 
বন্ধু, তারাই 
গোধুলির 
ধুলায় গেছে হারিয়ে সাঁঝ পেরিয়ে নতুন সূর্যের 
দেশে, হয় ত এখন তৃণ ভূমিতে মেঘ 
ঝরেছে নিয়ে সহস্ত্র আশার কণ,
রামধনুর রঙ্গে গেছে মিলে 
স্মৃতির তামাটে সবুজ 
ছোয়া রং, ঠিক 
পূজার থাল 
যেন 
বলে ফুল রাখার আগে যদি লেবু দিয়ে ঘসে নিতে, 
হয় ত জীবনের ধুসর প্রান্তে কিছু ক্ষণ 
বিস্মৃত গন্ধ রয়ে যেত পলকা 
ভাবে জড়িয়ে, কিছু চমক 
যদি ফিরে আসে, কিছু 
ভাবনার অর্ঘ্য যায় 
ছড়িয়ে অদৃশ্য 
প্রণয়ের 
পদতলে, অনেক সময় মন অনেক কিছু বলেও,
নিজেই শুনে, চোখের কোণের সেই 
ঝিকিমিকি জল তরঙ্গ, সে  
লুকিয়ে রাখতে চায় 
বুকের রহস্যময় 
সিন্দুকে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
( *গুরমেটি ও মারা আফ্রিকার নদীর নাম, গ্নু, জেব্রা দের 
দেশান্তরের সময় রাস্তায় পড়ে )
migration- JASON MORGAN