রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১২


প্রকৃতি ও পুরুষ 

মানুষের মন খুবই চঞ্চল, ধরে রাখতে গেলেই 
বিপদের আমন্ত্রণ, সম্পর্কের সততা কত 
খাঁটি, কত ভেজাল ! অনুভূতি ছাড়া
শুধুই কাহিনী, তাই ঘনিষ্টতার 
পূর্বেই জানিয়ে গেছি স্পষ্ট 
ভাবে নিখুঁতের
পরিভাষা, 
তার বিদ্রুপ হাসি আর বড়শির টোপের মাঝে 
অন্তর যেন মায়ক্রোইস্কপিক, 
সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, কিন্তু 
কোথায় যেন
ব্যক্তিত্ব 
হতে ছদ্ম আবরণ নিজেই খসে পড়ে,যখন 
জ্ঞান ফিরে আসে, তখন বানের
উন্মাদিত জলরাশি ভেঙে 
গড়িয়ে গেছে বহুদূর, 
ওই প্লাবিত ভূমি 
খণ্ডে শুধুই 
বিয়োজিত পচনের গন্ধ, বিতৃষ্ণার আভাস !
পলকা মুহুর্তে তার পুরুষত্বের প্রতি 
আহ্বান, দুর্বল হৃদ স্থলে নিঃশব্দ  
আঘাত, পরাভূতের 
স্বীকারোক্তি 
আদায় করা, জলে ডোবা বনস্পতির গায়ে 
রাত্রি শেষে নতুন পল্লবের গজানো,
নোংরা জলের অপসৃত হওয়া,
প্রকৃতির ও পুরুষের সেই 
আদিমযুগীন সন্ধি 
জটিল কিন্তু 
মধুর উপাদান, জলের বাহিরে উঠিয়ে দুই মুখ 
প্রাণ বায়ু গ্রহণ করে চলেছে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
ART BY DANIEL J TOWSEY 

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১২

বন্ধ জানালার পার্শ্বে

দক্ষিনমুখী জানালার ঠিক কাছেই ছিল 
মাটির পুতুল, কাচের খেলনা, দামী 
আতরদানী, পুরাতন বইর পৃষ্ঠে 
লুকানো গোলাপের কঙ্কাল !
মেঘ বাদল বিহীন 
রাতে ভাঙলো
মনের জাদুঘর, বিক্ষিপ্ত প্রতিধ্বনি, 
নিঃশব্দ আরশির ভাঙন, প্রদীপ্ত 
শিখার আকস্মিক নিভে 
যাওয়া, পরিচিত 
পদধ্বনির 
ক্রমশঃ শব্দহীনতা, রাতের সেই নিস্তব্ধতায় 
তারক বৃন্দের যেন সামূহিক নিমজ্জন,
আলোর টুকরো, রাত করে চলেছে 
সংগ্রহ, দিগন্তের আলনায় 
সাজিয়ে রাখছে
জীবন কিছু 
বিছিন্ন  মুহূর্ত, চাঁদের বিলুপ্তির সঙ্গেই আঁধার 
এখন মোহাবিষ্ট, যাযাবর প্রণয়ের 
নীল আলো নিয়ে জোনাকিরা 
উড়ে গেছে দূর অরণ্যে, 
উষ্ণ নিঃশ্বাস খুঁজে 
শিশিরের 
ঠিকানা, আহত মন প্রাণ চায় এমন সময়ে 
এক রাশ ভালবাসার সান্ত্বনা, বুকের 
মাঝে লুকিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি,
স্মৃতির জানালা কে টেনে 
বন্ধ  করা, কম্পিত 
অধরে নিয়ে 
তৃষা  অনেক কাছে আসা, এখানে জীবন চায় 
মরুদ্বীপে পুনরায় হারিয়ে যেতে - - 

--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১২

অপঠিত সংকেত লিপি

প্রতিবন্ধন কিছুই ছিল না, অনায়াসে তাই সে 
করে গেছে হস্তগত, জীবনের সেই মুক্ত 
ছন্দের কাঠামো তৈরী করতে 
গিয়ে তার আন্তরিক 
সৌন্দর্য্য গেছে 
হারিয়ে,
কতিপয় আদর্শের আবরণ ঢাকার সেই ব্যর্থ 
চেষ্টা, প্রেমের মূল স্বরূপ পরিশেষে হয় 
উঠেছে গোলকধাঁধা, আলোর 
যাত্রী গেছে হারিয়ে তামসী 
আলোড়নে, হৃদয়ের 
সেই মিলন 
বিন্দুর বাহ্য পরিধি ঘিরে এখন উদ্দীপ্ত অগ্নি 
শিখা, অদৃশ্য কিন্তু উদ্দাম জ্বলনশীল,
চোখের পরশে তার পিপাসার 
পরিপূর্ণতা, এই পরিভাষা 
এখন পুরাতন !
মান্ধাতার আমলের সেই মান্ত্রিক প্রণয়ের দিন 
উঠে গেছে বহু কাল আগে, উন্মুক্ত 
জীবন চায় স্বচ্ছন্দ ভালবাসা,
জৈবিক ভিত্তিক সমর্পণ, 
দর্শনের ছদ্ম ভাষায় 
লিপ্ত ভণ্ডামির 
জগত থেকে দূর সরে চলেছে তাদের পৃথিবী.

-- শান্তনু সান্যাল
Geometry_of _Love_paintings



বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১২


প্রতিচ্ছায়ার পরিচয় 

প্রায় সে আসে, মাঝে সাঝে, দেখা করতে  আমায়, 
এই তো সে দিন, আর্দ্র সাঁঝে, হাতে ছেঁড়া ছাতা,
পায়ে কম  দামের প্লাস্টিকের চটি,  চোখে 
মোটা কাচের চশমা, ভাঙা ফ্রেমে 
আটকানো, ঠিক কার যেন 
মায়া তে ফেলানো মন,
মুখে ছাইরঙ্গী হাসি 
নিয়ে হুট করে  সে হাজির ! শুধালাম " হঠাৎ
অনেক দিনের পরে, বোধ হয়  রাস্তা 
ভুলে - - - " ময়লা পাঞ্জাবির 
গলা ঠিক করতে করতে 
ফিকে হাসির সঙ্গে 
কি যেন 
বললেন, হয় ত এক দিন অবসরে ওই হারানো
 লিঙ্কটি খুঁজবো, তার টাক মাথার দুই 
প্রান্তের  কাঁশ বন হাওয়ায় দুলছে,
ছাতার দিকে এক দৃষ্ট চেয়ে 
বললেন " এই ত জীবন, 
তুমি তবু ও আমায় 
চিনতে দ্বিধা 
কর না, এমন কি আমাদের বাড়ির আয়না 
পর্যন্ত  ভুলে গেছে আমার চেহারা, অবাক 
হয়ে  চেয়ে রয় নবজাতক দৃষ্টিতে, 
তার ওই  চাহনিটি করে যায় 
ভীষণ ভাবে অন্তরতম 
আহত, কিন্তু 
করার কিছুই নাই " অর্ধ ভাঙা ওই নেমপ্লেট 
টাই  ধর, অনেক সময় জিজ্ঞেস করে 
আমার ঠিকানা আমার কাছে, 
তাই ঘুরে বেড়াই এখানে 
সেখানে, বলতে 
বলতে চোখের দুই কোণে বিন্দু বিন্দু বাষ্প 
জমে চলেছে,  পুরাতন গানের ঘেসা 
রেকর্ডের মতন তার অস্তিত্ব 
একই  বিন্দু একই সুরে 
যেন বারে বারে 
যায় থেমে,
মাঘের কম্পিত সকাল, গায়ে বহু ছিদ্রিত শাল !
বুকের হাড়ের উপরে জমে চলেছে, শ্বেত 
লোমের পথে  ছড়ানো তুষারের বহু 
অদৃশ্য  কণা, নিজের জীবনে 
নিজেই অপরিচিত হয়ে 
যাওয়া, এমন 
কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, আমার ছায়ার 
পরিচয় কিছুই নয়, যত দিন নিঃশ্বাস
সে প্রশ্ন করবে আমায়, জানতে 
চাইবে নিজের মূল্য, 
সার্থকতা,
আর আমি তাকে এক কাপ চা খাইয়ে কাটিয়ে 
দেবার চেষ্টায় থাকব চিরদিন - - - 

- - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting source - old-man-in-tavira-painting-portugal



মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১২



আগের জন্মের তৃষ্ণা 

পাহাড়ের গায়ে এখনো বৃষ্টি ঝরে চলেছে, সেই 
সুইসাইড পোইন্টে  মেঘেদের দুর্বলতা 
স্পষ্ট বোঝা যায়, ঠিক যেন তার
সঘন চোখের লোমের ছায়া
ঘনিয়ে আনে সাঁঝের 
সান্দ্রতা, ঝিলের 
শান্ত পৃষ্ঠতলে 
সহসা 
যেন অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা, ঝঞ্ঝার আশঙ্কা !
সে এখন খুবই কাছে সরাসরি বুকের 
মাঝে, ঝাপসা আলোয় খুঁজতে 
চায় আবেগের কস্তুরী,
মৃগনাভির সুড়ঙ্গ,
কমল নাল,
বৃষ্টির 
উত্পাত শীর্ষে,জানালার কাচে পতঙ্গের শেষ 
প্রজনন মুহূর্ত, কিছু ভাঙা পারদর্শী ডানা, 
প্রগাঢ় নিঃশ্বাসের মধ্যে প্রাক্কালীন
প্রমত্তময়  আচরণ, ঝুলে রয় 
সমস্ত সংস্কৃতি ও 
সভ্যতার 
ভেজা আবরণ, কুটোর আগুনের চতুর্দিকে 
ছড়িয়ে রয়েছে হিংস্র পায়ের ছাপ,
আঁধারে বোঝা মুশকিল, 
মানুষের পদচিহ্ন
অথবা বুনো 
প্রেমিক !
জানালার ফাঁক থেকে দেখি, ঠিক কটেজের
গেটের কিছু দুরে  বসে আছে গুলবাঘ 
দম্পতি, চোখে নিয়ে শিখাসদৃশ  
কামার্ত আলো, গ্রীবা ও 
মেরুদণ্ডে দংশিত 
ভাগে হয় ত 
মিষ্টি  
ব্যথার সংবেদন, গায়ে গলিয়ে ফতুয়া আমি 
খুলি আস্তে করে দরজা, দেখি তারা 
ঘুমিয়ে আছে  জড়িয়ে পরস্পর,  
সুন্দর ভাবে, রাত সবে 
যৌবনের দিকে,
সে এখনো 
জাগা,
ঝির ঝির বৃষ্টির সুরে গাইছে অতৃপ্ত প্রণয়ের 
গান, ডাকছে ভীষণ টানে বিধ্বংসী
ভালবাসার বান, অভিলাষে 
তার দৈহিকের সঙ্গে 
যেন মিশিয়ে 
আছে 
আত্মিক পিপাসা, শুধুই ধু ধু মরুভূমি একরাশ !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/





সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২


প্রতিপালক গাছ 

কবে যে আমার দেহ হয় গেছে প্রতিপালক গাছ, 
আমি নিজেই জানি না, অনাহূত বট বীজ 
কিংবা উড়ন্ত ভালবাসা করে গেছে 
দখল মাংসপেশী, হৃত্পিণ্ড, 
এমন কি মেরুদন্ড 
পর্যন্ত, অঙ্গ
প্রত্যঙ্গ হতে মানসিক বৃত্তে তার একছত্র রাজত্ব !
করে গেছে প্রসারিত উন্মুক্ত ভাবে শাখা 
প্রশাখা, অবরোহ মূলের মতো বুক 
থেকে নেমে বিশাল কাণ্ড হতে  
জমির পাষাণী ধরাতলে,
চুষে চলেছে যা ইচ্ছে 
খনিজ দ্রব বা 
প্রাণশক্তি, 
দেখি দিন প্রতিদিন তার আবেগের বৃন্তে ফুটে 
চলেছে শিশিরে ভেজা কিশলয়, এখন 
আমি শ্বাসরোধের অভ্যস্ত, তার 
আলিঙ্গনে জীবনের ঢেউ 
যেন গতি পায়, স্বপ্নের
বেলা ভূমি খুঁজে 
রয়, তন্দ্রিত 
রাতে 
অল্প  ক্ষণের  নিস্তব্ধ ঘুম, উন্মাদিত জাগরণ !
তখন পৃথিবী যেন একান্ত গুটিয়ে চলেছে
মায়াবী শামিয়ানা, আকাশের নীল 
স্ফুরণ, নিঃশ্বাসের সমুদ্রে উঠে 
রয়েছে নিশি পুষ্পের 
বেলোর্মী, এমন 
সময়ে 
ব্যক্তিত্ব ভেসে যেতে চায় সুদুর রংধনুরঙ্গী 
উন্মিলিত দিগন্তে  - - - 


-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
PAINTING BY -   tairl - Sailor Twain

রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১২

শল্কের স্খলন

লৌকিকতার সীমানা পেরিয়ে, অনেক মুহূর্তে 
জীবনের চাপা আদর্শ চায় মুক্তি, নামিয়ে 
রাখতে চায় নিঃশব্দ ভদ্রতার খোল, 
অস্বাভাবিক বলে কিছু নয়, 
মানুষের মানস চক্র 
বিচিত্র এক ঘড়ি,
কোন দিকে 
বাঁকবে 
বলা সহজ নয়, সাধু ও দৈত্যর ওই কাঁটার
অধিক্রমণে, ছায়া ঘনাবে কি আলো
ছড়াবে, বিশ্লেষণের বিষয় !
তাই মানুষ চেনার 
দাবি ছিল এক 
কল্পনা, 
আর  কল্পলোকে রহস্য রোমাঞ্চ ছাড়া কিছু 
ও থাকে না, থাকতে পারে না, ওই 
না থাকার মধ্যে নিজের এক 
মাধুর্য্য রয়েছে লুকানো, 
সে জন্যই জীবনের 
সুপ্ত আবেগ ! 
নবীনতা গ্রহণ করে, দর্পণের মুখোমুখি 
নিজের চরিত্র খুঁজে, ছদ্ম রূপ 
ধারণ করে, আসলে 
অন্তর্দৃষ্টির সামনে 
জীবন উলঙ্গ
পড়ে রয়, 
পরিত্যক্ত ব্যবহৃত, ঠিক বহিরাগত দামী 
আতরের রিক্ত শিশির  মত, কিংবা 
ধারের পরকীয়, দৈহিক গন্ধের  
সাথে অদৃশ্য অধরোষ্ঠের 
দংশন, বন্য নিশার
জাগরণ, 
সকালের আগে পুরাতন শল্কের স্খলন, রোদের 
প্রথম স্পর্শে, শুচি বসনের উপরে বিসর্প
ভাবে সরে যাওয়া - - - 

-- শান্তনু সান্যাল  
Seascape_oil_painting_ sorce - WP (China Manufacturer) 
PAINTING - valleys - Barbara Delligatti